আজঃ বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

গোপনে অন্যত্র বিয়ে, প্রেমিকের বাসায় প্রেমিকার আত্মহত্যা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

প্রেমিকাকে না জানিয়ে বিয়ে করায় প্রেমিকের বাসায় গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে প্রেমিকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

বুধবার (০৫ অক্টোবর) দুপুরে আশুলিয়ার ডেন্ডাবর এলাকায় প্রেমিকের ফ্ল্যাটে গিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই শিক্ষার্থী। প্রেমিককে আটক করে থানায় এনেছে আশুলিয়া থানা-পুলিশ।

আটক প্রেমিক হলেন—ঢাকার দোহার থানার রাধানগর গ্রামের মো. ওমর আলীর ছেলে মো. ফিরোজ আলম (৩১)। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় মেডিকেল অফিসার হিসেবে তিনি কাজ করতেন। গত ৬ মাস আগে আরেক চিকিৎসককে বিয়ে করেন তিনি।

পুলিশ জানায়, প্রেমিক বিয়ে করেছে জানতে পেরে তার ফ্ল্যাটে গিয়ে হাজির হন প্রেমিকা। মীমকে ঘরে রেখেই বারান্দায় স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতে যান ফিরোজ। পরে বারান্দার দরজা ঘরের ভেতর থেকে আটকে নিজের ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে পড়েন মীম। বারান্দা থেকে ফিরোজ এ ঘটনা দেখতে থাকেন। সে চিৎকার চেঁচামেচি করলেও মীম থামেনি। পরে ফোনে পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে এবং প্রেমিককে বারান্দা থেকে বের করে।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসক প্রেমিককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থীর ভাই বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার দায়ে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন। মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।


আরও খবর



লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে যুবক নিহত

প্রকাশিত:বুধবার ২৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৬ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জেলা প্রতিনিধি

Image

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের লোহাকুচি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নূরুল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার (২৬ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে লোহাকুচি সীমান্তের মালগাড়া নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে মরদেহ ভারতে নিয়ে যায় বিএসএফ।

লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোফাজ্জল হোসেন আকন্দ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। নিহত নূরুল ইসলাম উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের দুলালী গ্রামের মৃত মইনউদ্দিনের ছেলে।

জানা যায়, বুধবার ভোরে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীদের সহায়তায় নূরুল ইসলামসহ ৫-৬ জন সীমান্তের ৯১৯ নম্বর মেইন পিলার দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। গরু নিয়ে ফেরার পথে কোচবিহার জেলার ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ওয়েস্ট ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এসময় নূরুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। তবে তার বাকি সঙ্গীরা পালিয়ে যান। পরে নূরুল ইসলামের মরদেহ ভারতে নিয়ে যায় বিএসএফ সদস্যরা। লাশ ফেরত আনতে পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।


আরও খবর



জাতীয় রপ্তানি ট্রফি পেল ৭৭ প্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

Image

২০২১-২২ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখায় এবার ৭৭ প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় রপ্তানি পদক দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭৬ প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় রপ্তানি পদক এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রপ্তানি ট্রফি দেয় সরকার। রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিদের হাতে এ ট্রফি ও সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে সব খাত মিলিয়ে সর্বোচ্চ রপ্তানি আয় অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রপ্তানি ট্রফি শিরোনামে ১টি বিশেষ ট্রফির (স্বর্ণ) পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে মোট ২৯টি স্বর্ণ, ২৭টি রৌপ্য এবং ২১টি ব্রোঞ্জ ট্রফি দেওয়া হয়। এর মধ্যে রপ্তানিতে ২০২১২২ অর্থবছরে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রপ্তানি ট্রফি পেয়েছে হামীম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান রিফাত গার্মেন্টস লিমিটেড। হামীম গ্রুপের পরিচালক সাজিদ আজাদের হাতে এ ট্রফি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। তৈরি পোশাক খাতের এ প্রতিষ্ঠান ২০১৮১৯ এবং ২০২০২১ অর্থবছরের রপ্তানির জন্যও বঙ্গবন্ধু রপ্তানি ট্রফি পেয়েছিল।

এবার বিভিন্ন পণ্য ও খাতভিত্তিক জাতীয় রপ্তানি ট্রফি পাওয়াদের মধ্যে হামীম গ্রুপের আরও দুই প্রতিষ্ঠান অ্যাপারেলে গ্যালারি তৈরি পোশাক (ওভেট) ক্যাটাগরিতে রৌপ্য ট্রফি এবং হামীম ডেনিম লিমিটেড টেক্সটাইল ফেব্রিক্সে রৌপ্য ট্রফি ট্রফি পেয়েছে।

জাতীয় রপ্তানি ট্রফির আওতায় তৈরি পোশাকের ওভেন ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদক উইন্ডি অ্যাপারেলস এবং ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে চিটাগাং এশিয়ান অ্যাপারেলস। নিটওয়্যার ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদক পায় লিবার্টি নীটওয়্যার। রৌপ্য ডিভাইন ইন্টিমেটস এবং ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে ফ্লামিংগো ফ্যাশন। সব ধরনের সুতা ক্যাটাগরিতে স্বর্ণ বাদশা টেক্সটাইলস, রৌপ্য স্কয়ার টেক্সটাইল এবং ব্রোঞ্জপদক পায় কামাল ইয়ার্ন।

টেক্সটাইল ফেব্রিক্সে হামীম ডেনিম লিমিটেডের রৌপ্য পদকের পাশাপাশি স্বর্ণপদক নাইস ডেনিম মিলস এবং ব্রোঞ্জ পেয়েছে ফোর এইচ ডাইং এ্যান্ড প্রিন্টিং। হোম ও স্পেশালাইজড টেক্সটাইল খাতে স্বর্ণ জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিক্স, রৌপ্য মমটেক্স এক্সপো এবং ব্রোঞ্জ পদক এসিএস টেক্সটাইলস (বাংলাদেশ)। টেরিটাওয়েলে স্বর্ণ নোমান টেরিটাওয়েল মিলস এবং রৌপ্যপদক পায় এসিএস টাওয়েল। হিমায়িত খাদ্য খাতে স্বর্ণ ছবি ফিস প্রসেসিং ইন্ডাষ্ট্রিজ, রৌপ্য প্রিয়াম ফিস এক্সপোর্ট এবং ব্রোঞ্জপদক পায় এমইউ সী ফুডস।

কাঁচা পাট খাতে স্বর্ণ পপুলার জুট এক্সচেঞ্জ, রৌপ্য তাসফিয়া জুট ট্রেডিং এবং ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে মেসার্স ইন্টারন্যাশনাল জুট ট্রেডার্স। পাটজাত দ্রব্যে স্বর্ণ জনতা জুট মিলস এবং রৌপ্যপদক পেয়েছে আকিজ জুট মিলস। চামড়াজাত পণ্যে স্বর্ণপদক পিকার্ড বাংলাদেশ এবং রৌপ্য পায় এবিসি ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ। ফুটওয়্যার খাতে স্বর্ণ বে-ফুটওয়্যার, রৌপ্য এডিসন ফুটওয়্যার এবং ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে এফবি ফুটওয়্যার।

কৃষিজ পণ্যে (তামাক ব্যতীত) স্বর্ণপদক ইনডিগো কর্পোরেশন, রৌপ্য মনসুর জেনারেল ট্রেডিং এবং ব্রোঞ্জপদক পায় সিএসএস ইন্টারন্যাশনাল। কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যে (তামাকজাত পণ্য ব্যতীত) স্বর্ণ হবিগঞ্জ এগ্রো, রৌপ্য প্রাণ ডেইরি এবং ব্রোঞ্জপদক পায় প্রাণ ফুডস। হস্তশিল্পজাত পণ্য খাতে স্বর্ণপদক কারুপণ্য রংপুর, রৌপ্য বিডি ক্রিয়েশন এবং ব্রোঞ্জ পায় ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টস।

মেলামাইন খাতে স্বর্ণপদক পায় ডিউরেবল প্লাস্টিক। প্লাস্টিক পণ্য খাতে স্বর্ণ অলপ্লাষ্ট বাংলাদেশ, রৌপ্য আকিজ বায়াক্স ফিল্মস এবং ব্রোঞ্জপদ পায় বঙ্গ প্লাস্টিক ইন্টারন্যাশনাল। সিরামিকসামগ্রী খাতে স্বর্ণ শাইনপুকুর সিরামিকস, রৌপ্য আর্টিসান সিরামিকস এবং ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে প্রতীক সিরামিকস। হালকা প্রকৌশল খাতে স্বর্ণ এম এন্ড ইউ সাইকেলস, রৌপ্য মেঘনা বাংলাদেশ এবং ব্রোঞ্জপদক পায় রংপুর মেটাল ইন্ডাষ্ট্রিজ। ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস পণ্য খাতে স্বর্ণ ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ এবং  রৌপ্যপদক পেয়েছে বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ।

অন্যান্য শিল্পজাত পণ্য খাতে স্বর্ণপদক মেরিন সেফটি সিস্টেম, রৌপ্য এশিয়া মেটাল মেরিন সার্ভিস এবং ব্রোঞ্জপদক তাসনিম কেমিক্যাল কমপ্লেক্স। ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যে স্বর্ণপদক পায় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, রৌপ্য ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস ও ব্রোঞ্জপদক স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।

কম্পিউটার সফটওয়্যার ক্যাটাগরিতে স্বর্ণ সার্ভিস ইঞ্জিন এবং রৌপ্যপদক পায় গোল্ডেন হার্ভেস্ট ইনফোটেক। ইপিজেডভুক্ত বাংলাদেশি মালিকানাধীন তৈরি পোশাক ক্যাটাগরিতে স্বর্ণ ইউনিভার্সেল জিন্স, রৌপ্য প্যাসিফিক জিন্স এবং ব্রোঞ্জপদক পায় শাশা ডেনিমস। ইপিজেডভুক্ত বাংলাদেশি মালিকানাধীন অন্যান্য পণ্য ক্যাটাগরিতে স্বর্ণ স্টার প্যাকেজিং এন্ড এক্সেসরিজ, রৌপ্য পদ্মা স্পিনিং এন্ড কম্পোজিট এবং ব্রোঞ্জপদক পায় ফারদিন এক্সেসরিজ।

প্যাকেজিং ও এক্সেসরিজ পণ্য খাতে স্বর্ণপদক পায় এম অ্যান্ড ইউ প্যাকেজিং, রৌপ্য মনট্রিমস লিমিটেড এবং ব্রোঞ্জ ইউনিগ্লোরি প্যাকেজিং ইন্ডাষ্ট্রিজ। অন্যান্য প্রাথমিক পণ্যে স্বর্ণপদক পায় হেয়ার স্টাইল ফ্যাক্টরী, রৌপ্য রায় ট্রেড ইন্টারন্যাশানল এবং রৌপ্যপদক পেয়েছে ইকো ফ্রেশ ইন্টারন্যাশনাল। অন্যান্য সেবা খাতে স্বর্ণ এক্সপো ফ্রেইট এবং রৌপ্যপদক পায় মীর টেলিকম। নারী উদ্যোক্তা খাতে স্বর্ণ পাইওনিয়র নিটওয়ার্স, রৌপ্য বীকন নীটওয়্যার এবং ব্রোঞ্জপদক পায় ইব্রাহিম নিট গার্মেন্টস।


আরও খবর



টানা বৃষ্টিতে রাজধানীতে জলাবদ্ধতা, পথে পথে নানা দুর্ভোগ

প্রকাশিত:বুধবার ২৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৬ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা বৃষ্টিতে অলিগলি ও প্রধান সড়কে পানি জমতে দেখা গেছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে।

বুধবার (২৬ জুন) সরেজমিনে রাজধানীর শান্তিনগর, মৌচাক, মালিবাগ মোড়, বেইলি রোড, সিদ্ধেশ্বরী রোড ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে এসব এলাকার রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে পথচারীদের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় স্কুলফেরত শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে রিকশাচালক, অফিসগামী যাত্রী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। এমন অবস্থায় যানবাহনে গণপরিবহন ও রিকশা সিএনজির সংকট দেখা গেছে। কেউ ছাতা কেউবা রেইনকোট পরে গন্তব্যে যাচ্ছেন।

শান্তিনগর মোড়ে মায়ের হাত ধরে রাস্তা পার হচ্ছিলেন ভিকারুননিসা স্কুলের শিক্ষার্থী সাইমা সুলতানা। তারা বলেন, এই এলাকায় বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। স্কুল আসা যাওয়ার কষ্ট হয়। সকালবেলা ভালোভাবে স্কুলে গেলেও লাগাতার বৃষ্টিতে বাসায় পৌঁছাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এখানে কোনো রিকশা পাচ্ছি না। রাস্তায় ময়লা পানির মধ্যে জুতা পায়ে হেঁটে যেতে হচ্ছে।

মালিবাগ মোড়ে কথা হয় পথচারী আব্দুল আজিজের সঙ্গে। তিনি জানান, হাতে জুতা নিয়েও হাঁটতে পারছি না। রাস্তায় হাঁটু সমান পানি। সবসময় এই এলাকায় যাতায়াত করি। এক ঘণ্টার বেশি বৃষ্টি হলেই আমাদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। প্রতি বছর বর্ষা এলেই এই এলাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বাসা মৌচাক হওয়ায় চারপাশে যেদিকে যাই পানি জমে থাকে।

এদিকে মৌচাক মোড়ে দাঁড়িয়ে রাস্তায় যানবাহনের সংকটের কথা জনান আসলাম উদ্দীন। তিনি বলেন, পল্টন যাব, বাস আসছে না অনেক্ষণ ধরে। একটা বাস এলেও ধাক্কাধাক্কি করেও উঠতে পারিনি। রিকশা ও সিএনজি ভাড়া বেশি। আবার রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে হেঁটেও যেতে পারছি না।

জানা গেছে, সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ সারাদিন ঢাকায় গরমের অস্বস্তি থাকবে না। আকাশ মেঘলা থাকবে।


আরও খবর



মধ্যরাতে যেভাবে আন্দোলন ছড়াল সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তপ্ত হয় ওঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ (ঢাবি) দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। ফলে শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলগুলো থেকে মিছিল নিয়ে রাজপথে নেমে এসে তাদের বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন।

এ সময় তারা, তুমি কে আমি কে, রাজাকার-রাজাকার, কে বলেছে কে বলেছে, সরকার-সরকার, রাজাকার আসছে, রাজপথ কাঁপছে, চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার-সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

রোববার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার পর থেকে একে একে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ ক্যাম্পাস ও রাজপথে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

ঘটনার সূত্রপাত রোববার (১৪ জুলাই) বিকেলে গণভবনে চীন সফর উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে। গত কয়েক দিন ধরে কোটাবিরোধী আন্দোলনে রাজপথ উত্তাল করে রেখেছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ কেন? তাদের নাতিপুতিরা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে? এটা আমার দেশবাসীর কাছে প্রশ্ন। তাদের অপরাধটা কী? নিজের জীবন বাজি রেখে, নিজের পরিবার সব ফেলে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে, দিন-রাত খেয়ে না খেয়ে, কাদামাটি পেরিয়ে, ঝড়বৃষ্টি সব মোকাবিলা করে যুদ্ধ করে বিজয় এনে দিয়েছে। বিজয় এনে দিয়েছে বলেই তো আজ সবাই উচ্চপদে আসীন। আজ গলা বাড়িয়ে কথা বলতে পারছে। তা না হলে পাকিস্তানিদের বুটের লাথি খেয়ে থাকতে হতো।

প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য অবমাননাকর দাবি করে মধ্যরাতে একযোগে প্রতিবাদে নামেন দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা বলেন, এত দিন তারা কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্য তাদের ব্যথিত করেছে। সমাধানের কোনো পথ বাতলে না দিয়ে উল্টো তিনি তাদের রাজাকারের বাচ্চা বলে সম্বোধন করেছেন। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল থেকে বের হয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা তুমি কে আমি কে, রাজাকার-রাজাকার, এই বাংলার মাটি, রাজাকারের ঘাঁটি ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

এক সময় খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, ঢাবির মাস্টারদা সূর্যসেন, বিজয় একাত্তর ও মুহসিন হলের শিক্ষার্থীদের গেটে তালা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। পরে তাদের ছাড়িয়ে নিতে অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরা বিজয় একাত্তর হলের সামনে জড়ো হন। রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে বেগম রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা গেটের তালা ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

পরে সম্মিলিত মিছিল নিয়ে হাজী মুহম্মদ মুহসিন হল, সূর্যসেন হল, বিজয় একাত্তর হল, জিয়াউর রহমান হল, বঙ্গবন্ধু হল, জসিম উদ্দীন হল, শহীদুল্লাহ হল, জগন্নাথ হল, এফএইচ হল, একুশে হল এবং রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা জড়ো হন টিএসসিতে।

এ সময় তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, রাষ্ট্র কারও বাপের না, চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার, আমার স্বাধীন বাংলায়, একের কথা চলে না, তুমি কে আমি কে, বাঙালি-বাঙালি, লাখো শহীদের রক্তে কেনা, দেশটা কারও বাপের না ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলার জেরে রোববার রাত ১১টার দিকে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, আজ সংবাদ সম্মেলনে কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য আমাদের রক্তে আগুন ধরিয়েছে। যখন কারও রক্তে দাগ লাগানো হয়, তখন কেউ ঘরে বসে থাকতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী যদি তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন, তাহলে আমরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।

রাত দেড়টার দিকে অবস্থান কর্মসূচি শেষে তারা নিজ নিজ হলে ফিরে যান।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

একই বক্তব্যের প্রতিবাদে রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েরা হল থেকে বেরিয়ে তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেন। 

এ সময় শিক্ষার্থীরা তুমি কে আমি কে, রাজাকার-রাজাকার, কে বলেছে কে বলেছে, সরকার-সরকার স্লোগান দিতে থাকেন।

ইডেন কলেজ

ঢাকা, জবি, রাবির পাশাপাশি কোটা সংস্কারের দাবিতে মধ্যরাতে ইডেন মহিলা কলেজে কোটা বিরোধীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। রোববার (১৪ জুলাই) রাত ১২টার দিকে ছাত্রীরা ক্যাম্পাসে মিছিল বের করেন। প্রায় একই সময়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলসহ প্রত্যেকটি হলের শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন।

অপরদিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা তাতীবাজার মোড় অবরোধ করেছেন। রোববার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে মিছিল নিয়ে এসে তারা ওই সড়কে অবস্থান নেন।

এর আগে রাত পৌনে ১১টার দিকে ছাত্রীরা হল থেকে এবং আশেপাশে মেসে থাকা ছেরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে জড়ো হন।

উল্লেখ্য, দুপুরে রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া স্মারকলিপিতে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা। এ সময়ের মধ্যে সরকার যদি কোনো সিদ্ধান্তে না যায় তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে কোটাবিরোধী আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

রোববার (১৪ জুলাই) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে রাষ্ট্রপতিকে স্মারকলিপি দিয়ে বঙ্গভবন থেকে বের হয়ে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু চত্বরে এসে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

এ সময় রাজধানীর শাহবাগ থানায় কোটাবিরোধীদের নামে করা মামলা প্রত্যাহারে পূর্বে দেওয়া আল্টিমেটামের ২৪ ঘণ্টার সঙ্গে আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়ে দেন তিনি।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

গতকাল রাত ১১টার দিকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে স্লোগান দিতে দিতে রাস্তায় নেমে আসেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন হল শেখ লুৎফর রহমান হল থেকে মিছিল নিয়ে বের হন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার, এই বাংলার মাটি-রাজাকারের ঘাঁটি, শেরেবাংলার মাটি, রাজাকারের ঘাঁটি-ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভে হামলা করেছে ছাত্রলীগ। রোববার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা।

এর আগে রাত নয়টার দিকে বিভিন্ন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা, তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার, চাইতে গেলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার ইত্যাদি স্লোগান দিইয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে তারা বিভিন্ন হল থেকে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ক্যাম্পাসের বটতলায় জড়ো হতে থাকেন।

এসময় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে দুজন আন্দোলনকারীকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই খবর জানাজানি হলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁদের মুক্ত করার জন্য বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা হলের সামনে অবস্থান নেন।

এ সময় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে নিয়ে বৈঠকে বসেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ নাজমুল হাসান তালুকদার। তখনো শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন হলের সামনে ও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছিলেন। পরে রাত দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি রাত সোয়া দুইটার দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সামনে এলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দেন এবং মুখোমুখি অবস্থান নেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর কবিরসহ কয়েকজন শিক্ষক দুই পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের জামায়াত-শিবির আখ্যা দেন ও নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে গালাগাল করেন।

এক পর্যায়ে রাত পৌনে তিনটার দিকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ৪৬ ব্যাচের ছাত্র প্রাচুর্যসহ বেশ কয়েকজন হামলা করছেন। হামলায় আহসান লাবিব নামের একজন আন্দোলনকারী ও একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ নাজমুল হাসান তালুকদার ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উসকে দিয়েছেন।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের অর্থসম্পাদক ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ নেতা তৌহিদুল আলম বলেন, আন্দোলনকারীরা আমাদের হলের সামনে এসে কোটা আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও ছাত্রলীগকে অবমাননা করে স্লোগান দিচ্ছিল। তখন আমরা একটা শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে যেতে চাইলে তারা বাধা দেন এবং গালিগালাজ করেন। তাদের কোনো হামলা করিনি, যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েছি। আমরা হলে ফিরে যাওয়ার সময় তারা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।

এদিকে সোমবার (১৫ জুলাই) বেলা ১১টায় সহউপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন, এমন আশ্বাস পেয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ভোর সাড়ে চারটার দিকে নিজ নিজ হলে ফিরে যেতে থাকেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রধানমন্ত্রীর একই বক্তব্যের প্রতিবাদে রাত ১১টার পর থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল থেকে স্লোগান দিতে শুরু করেন ছাত্ররা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হল, কাজী নজরুল ইসলাম হল এবং নারী ছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত শেখ হাসিনা হল থেকে ভেসে আসে স্লোগানের শব্দ।

তুমি কে আমি কে, রাজাকার-রাজাকার, কীসের তোমার অধিকার, তুমি একটা রাজাকার ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত ছিল ক্যাম্পাসের হলগুলো। রাত ১২টার দিকে ক্যাম্পাসের মূল গেটে মিছিল করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 

নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাইফুল গণমাধ্যমকে বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত মোটেই যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। একটি বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের ঢালাওভাবে রাজাকারের নাতি-নাতনি বলে সম্বোধন করেছেন। একটা ঘৃণিত শব্দ এখন অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরাধিকারীদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অনতিবিলম্বে কোটার যৌক্তিক সংস্কার দাবি করছি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

এদিন রাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা আন্দোলনকারীরাও। বিভিন্ন হল ও কটেজ থেকে মিছিল করতে করতে বেরিয়ে হাজারো শিক্ষার্থী জড়ো হন বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে। এ সময় চাইলাম অধিকার, হইলাম রাজাকার, তুমি কে, আমি কে-রাজাকার, রাজাকার-এমন বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে৷

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মিছিল বের করেন আন্দোলনরত কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরা। রাত ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুজ্জোহা চত্বরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন হল প্রদক্ষিণ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনের ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

রোববার (১৫ জুলাই) রাতে জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ মিলিত হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে পুনরায় জিয়া মোড়ে এসে বিক্ষোভের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করেন।

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

রাত সাড়ে ১১টা থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো থেকে স্লোগান দিতে শুরু করেন ছাত্ররা। বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শহীদ মুখতার ইলাহি হল থেকে ভেসে আসে স্লোগানের শব্দ। এ সময় মিছিল বের করে মিছিলটি রংপুরের মর্ডান মোড়, দর্শনা, লালবাগ হয়ে আবারও পার্ক মোড় হয়ে আবারও মর্ডান মোড়ে গিয়ে অবস্থান করেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় মিছিল থেকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। এর মধ্যে তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার, কীসের তোমার অধিকার, তুমি একটা রাজাকার ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত ছিল। 

শাবিপ্রবিতে মুখোমুখি অবস্থানে ছাত্রলীগ ও আন্দোলনকারীরা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে শিক্ষার্থীদের তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার স্লোগানে মাঝরাতে উত্তাল হয়ে উঠেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাস। বিপরীতে তুমি কে আমি কে, বাঙালি বাঙালি পাল্টা স্লোগান দিয়ে মিছিল বের করেন শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

রোববার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও অ্যাকাডেমিক ভবন ডিএর সামনে মুখোমুখি অবস্থান নেয় দুই পক্ষ। এ সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে ভুয়া, ভুয়া স্লোগান দিতে দেখা যায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের।

প্রসঙ্গত, চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনিরা চাকরি পাবে না কি রাজাকের নাতি-নাতনিরা চাকরি পাবে? তারই প্রতিবাদে রাতেই রাজপথে নেমে আসেন শিক্ষার্থীরা।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাবিসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভে মধ্যরাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। রোববার (১৪ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করেন। এ সময় তারা কোটা বিরোধী স্লোগান দেন।

প্রথমে বঙ্গবন্ধু হল ও শেরে বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা স্লোগান শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা মিছিল নিয়ে হল থেকে বের হয়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে চলে আসেন। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে স্লোগান দিতে দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ডে এসে মিছিলটি শেষ করেন।

এদিকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ও শেখ হাসিনা হলের ছাত্রীরা হলের ভেতরে মিছিল বের করেন। মিছিলটি হলের ভেতরেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়।

শেরে বাংলা হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছি। আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিলে আমরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাব।


আরও খবর
যে কারণে চাকরি ছাড়লেন জাবি শিক্ষক

বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪




চাচাতো বোনকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ ছাত্রলীগের নেতার বিরুদ্ধে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
উপজেলা প্রতিনিধি

Image

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ হাওলাদারের বিরুদ্ধে চাচাতো বোন লোপা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৩ জুলাই) বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজ হাওলাদার ও তার বড় ভাই রাকিবুল আলমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মা জেসমিন বেগম।

ছাত্রলীগের নেতা রিয়াজ হাওলাদার দাড়িয়াল ইউনিয়নের কালেঙ্গা গ্রামের আব্দুল মান্নান হাওলাদারের ছেলে। নিহত লোপা আক্তার নাসির হাওলাদার ও জেসমিন বেগম দম্পতির মেয়ে। লোপা ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজের চাচাতো বোন।

জানা গেছে, নাসির হাওলাদারের মেয়ে লোপা আক্তার দাড়িয়াল ইউনিয়নের আলহাজ হজরত আলী ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। লোপার বাবা নাসির হাওলাদার ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজ হাওলাদারের চাচা।

লোপা আক্তারের মা জেসমিন অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে লোপা আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তাব দিয়ে আসছিল রিয়াজ। লোপা গত ২২ জুন রাতে ঘরের সামনের রুমে একা ঘুমাতে যায়। আমি রাত সাড়ে ৪টায় ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামাজ পড়তে আমার মেয়েকে ডাকতে যাই। গিয়ে দেখি আমার মেয়ে ফ্লোরে হাঁটু গেড়ে বসা অবস্থায় জানলার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলে আছে।

এ সময় আমি চিৎকার করলে আমার ছেলে মেহেদী ও পাশের ঘর থেকে রিয়াজ ও তার ভাই রাকিবুল এসে লোপার ঝুলন্ত লাশ জানলার গ্রিল থেকে নিচে নামায়। এ সময় আমাকে চিৎকার দিতে না করে রিয়াজ। এ সময় রিয়াজ বলে যা হওয়ার তা হয়েই গেছে। লোপা তো আর ফিরে আসবে না।

মানুষ যদি জানে লোপা আত্মহত্যা করেছে তাহলে মান-সম্মান নষ্ট হবে। আমি তখন আতঙ্কিত হয়ে যাই। তখন রিয়াজ ও তার ভাই রাকিবুল বলে লোপা হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে এ কথা সবাইকে বলবেন। সকাল হলে সবাইকে বলি হার্টস্ট্রোক করে লোপা মৃত্যুবরণ করেছে। পরে লোপার লাশ বাড়িতে দাফন করি। এরপর আমি কিছুদিন অসুস্থ অবস্থায় থাকি। স্বাভাবিক হলে বুঝতে পারি আমার মেয়ে লোপাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। পরে আমি বরিশাল আদালতে একটি মামলা দায়ের করি।

এ বিষয়ে জানতে দাড়িয়াল ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ হাওলাদারকে বারবার ফোন করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

বাকেরগঞ্জ থানা ওসি আফজাল হোসেন বলেন, দাড়িয়াল ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ হাওলাদারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার বিষয়ে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত আদালত থেকে কোনো কপি থানায় এসে পৌঁছায়নি।


আরও খবর