আজঃ বুধবার ২৪ জুলাই 20২৪
শিরোনাম

ঘুমের মধ্যে দম আটকে যাওয়া কীসের লক্ষণ

প্রকাশিত:শুক্রবার ৩১ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ৩১ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জীবন ধারা ডেস্ক

Image

সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে রাতে একটু ঘুমাতে গেলেন, কিন্তু দম আটকে যাওয়ার কারণে আচমকাই জেগে উঠতে হয়। এই সমস্যা অনেকের হয়ে থাকে। কিংবা রাতে লম্বা ঘুম দেয়ার পর বিকেল নামতেই ঝিমুনি। এই সমস্যাগুলো দেখা দিলে হেলাফেলা করা যাবে না। এগুলো স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ। স্লিপ অ্যাপনিয়ার প্রভাবে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বিস্তারিত বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে স্লিপ অ্যাপনিয়া নিয়ে।

স্লিপ অ্যাপনিয়া: স্লিপ অ্যাপনিয়ায় হচ্ছে ঘুমানোর সময় শ্বাসনালি কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া। শ্বাসনালি যতক্ষণ বন্ধ থাকে, রোগী নিশ্বাস নিতে পারেন না। এতে বাইরে থেকে বাতাসের মাধ্যমে অক্সিজেন শরীরে প্রবেশ করতে পারে না। এতে মস্তিষ্ক, হার্ট বা অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দিনের পর দিন কিছু সময়ের জন্য অক্সিজেনের ঘাটতির ফলে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। যার প্রভাবে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সচল রাখতে অক্সিজেন খাদ্যের মতো কাজ করে। যখন অক্সিজেনের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তখন মস্তিষ্ক সিগন্যাল দিয়ে রোগীকে জাগিয়ে তোলে, যেন তিনি নিশ্বাস নেন এবং তখন সংকুচিত শ্বাসনালি খুলে যায়। এভাবে স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত রোগী বার বার জেগে ওঠেন। বার বার ঘুম ভাঙার কারণে তারা ক্লান্ত থাকেন, ফলে দিনের বেলায় ঝিমুতে থাকেন।

লক্ষণ: জাতীয় নাক কান গলা ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ স্লিপ অ্যাপনিয়ার এমন কিছু লক্ষণের কথা জানিয়েছেন।

স্লিপ অ্যাপনিয়ার কারণে আক্রান্ত ব্যক্তি অস্বাভাবিক নাক ডাকেন। দেখা যায়, তারা কখনো খুব জোড়ে ডাকছেন, আবার থেমে যাচ্ছে, তারপর আবার ভিন্ন স্বরে নাক ডাকছেন।

প্রায় সময় ঘুমের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার অনুভূতি হয়। বিশেষ করে চিত হয়ে ঘুমানোর সময় শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। ঘুমের মধ্যে ঝাঁকুনি দিয়ে জেগে ওঠেন এবং কিছু সময়ের জন্য হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়।

অনেক সময় ঘুমানোর পরও ক্লান্ত লাগে, কাজ করতে গিয়ে বা গাড়ি চালাতে গিয়ে হুট করে ঘুমিয়ে পড়েন।

মেজাজ খিটখিটে থাকে। কারও সাথে কথা বলতে ভালো লাগে না, অবসাদগ্রস্ত লাগে। কাজে মনোযোগ দিতে পারেন না।

ওষুধ খেয়েও রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকছে না।

করণীয়: প্রাথমিক পর্যায়ের স্লিপ অ্যাপনিয়া ধরা পড়লে সেটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘদিনেও চিকিৎসা না করলে সমস্যা জটিল আকার নিতে পারে। এতে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা ও ডিপ্রেশনের ঝুঁকি বেড়ে যাবে; যার প্রভাবে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যা খুব বেশি হলে চিকিৎসক রোগীকে কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেশার বা সি প্যাপ নামে একটি যন্ত্রের সাহায্য নিতে বলেন। এই যন্ত্রটি অনেকটা বক্সের মতো এবং এর সঙ্গে মোটা পাইপের সংযোগ দিয়ে একটি মাস্ক বসানো থাকে। রোগীকে প্রতিবার ঘুমের সময় এই মাস্কটি পরতে হয়। এই যন্ত্রটি মূলত ঘুমের মধ্যে রোগীর শ্বাসনালি খোলা রাখতে সাহায্য করে এবং অক্সিজেনের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখে। ফলে শরীরের অঙ্গগুলোকে আর অক্সিজেনের ঘাটতিতে ভুগতে হয় না। এতে অনেক জটিল রোগের নিরাময় সম্ভব হয়।

তবে যারা সি-প্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন না, তাদেরকে বিকল্প চিকিৎসা নিতে হয়। যেমন, গলার টনসিল বা নাকের পেশি বড় হয়ে গেলে তা অপারেশন করা। ম্যান্ডিবুলার অ্যাডভান্সমেন্ট ডিভাইস-ম্যাড ব্যবহার। এটি মুখের নীচের চোয়ালকে সামনে এগিয়ে রাখতে দাঁতের চারপাশে বসানো এক ধরনের যন্ত্র, যা শ্বাসনালি খোলা রাখতে সাহায্য করে।

লেজার অপারেশনের মাধ্যমে শ্বাসনালীর পরিধি বড় করাও একটি প্রক্রিয়া। এছাড়া জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলেও স্লিপ অ্যাপনিয়া অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। যেমন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, ডায়াবেটিস/রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান ও মদপান পরিহার, কাত হয়ে ঘুমানো।

নিউজ ট্যাগ: স্লিপ অ্যাপনিয়া

আরও খবর



নির্বাচনে আমি থাকছি, আর আমিই জিতবো: বাইডেন

প্রকাশিত:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

চলতি বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে যেতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ওপর এক রকমের চাপ ছিল। তবে সেই চাপ দূরে ঠেলে বাইডেন দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচনে তিনি থাকছেন।

এই নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার ডেট্রয়েটে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্পকে নানাভাবে ঘায়েল করার চেষ্টা করেন বাইডেন। ট্রাম্প একজন নারীকে ধর্ষণ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। 

জনসভায় উপস্থিত সবার উদ্দেশে বাইডেন বলেন, আপনাদের মতো ১ কোটি ৪০ লাখ ডেমোক্রেট প্রাইমারিতে আমাকে ভোট দিয়েছেন। আপনারাই আমাকে মনোনীত করেছেন, অন্য কেউ না। প্রেস নয়, পন্ডিত নয়, অভ্যন্তরীণ কোনো শক্তি নয়, দাতারা নয়... আপনারা ভোটাররা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, অন্য কেউ নয়, আর আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি না। 

ডেট্রয়েট হাই স্কুলে দেওয়া বক্তব্যে এসব বলেন বাইডেন। বাইডেনকে নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য ডেমোক্র্যাট আইন প্রণেতা এবং দাতাদের দিক থেকে চাপ বাড়ছিল। তবে এই জনসভায় দেখা গেল বাইডেনকে নির্বাচনী দৌড়ে চেয়ে মানুষকে স্লোগান দিতে।   

প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আক্রমণ করে বেশ কিছু কথা বলেন বাইডেন। নানা প্রসঙ্গে ট্রাম্পকে নিয়ে কথা বলেন তিনি। বাইডেন ট্রাম্পকে দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী বলেও আখ্যায়িত করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দেউলিয়া হওয়ার জন্য ৬ বার ফাইল করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন বাইডেন।  


আরও খবর
আজ নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মদিন!

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




জনদুর্ভোগ তৈরি থেকে বিরত থাকুন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে ২০১৮ সালে কোটা বাতিল-সংক্রান্ত সরকারের পরিপত্র বলবৎ আছে উল্লেখ করে জনদুর্ভোগ তৈরি থেকে আন্দোলনকারীদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

আজ বুধবার দুপুরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এ আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

নিজ ফেসবুক পেজে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সর্বোচ্চ আদালত শুধু স্থিতাবস্থার আদেশ দেননি। শুধু স্থিতাবস্থার আদেশ দিলে কোটা বিষয়ে সরকারের পরিপত্র বাতিল করে উচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছিল সেটি বলবৎ থাকত।

তিনি বলেন, খেয়াল করতে হবে, সর্বোচ্চ আদালত কোটার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আদেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ কোটা বিষয়ে সরকারের জারি করা পরিপত্র এখন আবার বলবৎ হলো। ফলে এ মুহূর্তে জনদুর্ভোগ তৈরি হয়, এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা উচিত।


আরও খবর
মেট্রোরেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




খাবারে ঘুমের ঔষুধ মিশিয়ে একাধিক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

প্রকাশিত:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রেদওয়ানুল হক মিলন, ঠাকুরগাঁও

Image

ঠাকুরগাঁওয়ের জুসের সঙ্গে চেতনানাশক ঔষুধ খাইয়ে এক মাদরাসা সভাপতির বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

সোমবার (৮ জুলাই) রাতে জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের ভরনিয়া গ্রামে ভরনিয়া দারুল হাদীস ওয়াদ দাওয়াহ্ আস-সালাফিয়্যা মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতির আব্দুল করিম মুঠোফোনের সুইচ অফ করে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। তিনি দীর্ঘ দিন থেকেই প্রতিষ্ঠানটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

জানা গেছে, স্থানীয়দের আর্থিক সহযোগিতায় রাণীশংকৈল উপজেলার ভরনিয়া গ্রামে ভরনিয়া দারুল হাদীস ওয়াদ দাওয়াহ্ আস-সালাফিয়্যা মাদরাসাটি ২০১১ সালে গড়ে উঠে। মাদরাসাটির দুইটি শাখা রয়েছে। একটি ছাত্রীদের জন্য আবাসিক এবং অপরটি ছাত্রদের জন্য অনাবাসিক। আবাসিকে ১৫-১৬ জন কিশোরী রাতযাপন করে। মাদরাসার সভাপতি আব্দুল করিম রাতের বেলা প্রায় সময় আবাসিকে যাতায়াত করতেন এবং মেয়েদের জুস খাওয়াতেন। জুসে মেশানো থাকতো চেতনানাশক ওষুধ। আর সেই ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ছাত্রীদের ধর্ষণ করতেন তিনি। ৪ জুলাই সব ছাত্রীদের ছুটি দেওয়া হলেও তিনজন ছাত্রীকে সভাপতির নির্দেশে ছুটি দেওয়া হয়নি। মাদরাসার সভাপতি আব্দুল করিম ওই রাতে গিয়ে ওই তিন কিশোরীকে ঘুমের ওষুধ মেশানো জুস খাওয়ান। কিশোরীরা ঘুমিয়ে গেলে গভীর রাতে মাদরাসার ভেতরে প্রবেশ করে এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি পরদিন জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ জানান এবং আব্দুল করিমের বাড়ি ঘেরাও করেন।

ওই মাদরাসার শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতি বৃহস্পতিবার অনেক ছাত্রী বাড়ি চলে গেলেও ৪/৫ জন ছাত্রী মাদরাসায় রাত্রিযাপন করেন। আর এই সুযোগে ছাত্রীদের জন্য ফল, জুসসহ অন্যান্য খাবার নিয়ে আসতেন সভাপতি। কৌশলে তাদের খাওয়াতেন তিনি। খাবারে চেতনানাশক ঔষুধ মেশানো থাকায় থাকায় শিক্ষার্থীরা গভীর ঘুমে পড়েন। এ সুযোগে একরুম থেকে অন্যরুমে মই দিয়ে চলে যেতেন ছাত্রীদের রুমে। এরপর অচেতন ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হন তিনি।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক ছাত্রী বলেন, সেদিন রাতে আমার গলায় ব্যথা থাকায় জুস খায়নি। আমি স্বাভাবিক ভাবে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু গভীর রাতে ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য লাইট জ্বালাতেই দেখি সভাপতি আব্দুল করিম বিবস্ত্র অবস্থায় রুমে ভিতরে অবস্থান করছেন। এরপরে তিনি আমাকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে এ কথা কাউকে যেন না বলি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মইন উদ্দীন কাবুল বলেন, বিষয়টি জানাজানি হলে আমরা এক শিক্ষককে ঘটনাটি তদন্তে ছাত্রী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলতে বলি। তাদের সঙ্গে কথা বললে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তারা সভাপতির বিচার চেয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মাদরাসার সভাপতি আব্দুল করিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে ধর্মগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জানান, খবর পেয়ে আমি মাদরাসা পরিদর্শন করি। সেখানে গিয়ে জানতে পারি মাদ্রাসার সভাপতি আব্দুর করিম ফলের রসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে একজন ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন। তিনি এর আগেও এ রকম ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানা গেছে। ওই ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।

মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মানান বলেন, তাৎক্ষণিক গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাই। এ ঘটনার পর থেকে সভাপতি উধাও হয়ে গেছেন।

রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রকিবুল হাসান বলেন, মাদরাসার সভাপতি আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়ন্ত কুমার সাহা বলেন, এ ঘটনায় এক ছাত্রীর অভিভাবক থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছে। আসামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


আরও খবর



সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, যান চলাচল বন্ধ

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখার দাবিতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে সড়ক অবরোধ করেছেন ঢাকা কলেজ ও এর আশেপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

রোববার (৭ জুলাই) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে নীলক্ষেত থেকে মিছিল নিয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে অবস্থান নেন তারা। এর ফলে সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ ইসলাম বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেছেন। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার কোটা পদ্ধতি বাতিল ও ২০১৮ সালের মেধাভিত্তিক নিয়োগের সরকারি পরিপত্র বহালের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রোববার বিকাল ৩টায় সারাদেশে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি ঘোষণা করেন।


আরও খবর
মেট্রোরেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




কুড়িগ্রামে ভয়াবহ বন্যা, ২ লাখ মানুষ পানিবন্দী

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মোঃ মাসুদ রানা, কুড়িগ্রাম

Image

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। টানা ৬ দিন স্থায়ী বন্যায় মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বিশেষ করে ধরলা ও ব্রহ্মপূত্র নদী তীরবর্তী মানুষের কষ্টের শেষ নেই। এখানকার হাজার হাজার বন্যা কবলিত মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের আজ রোববার সকাল ৯টায় পাওয়া তথ্য মতে, ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টের পানি কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি।

তথ্য অনুযায়ী, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ২৬.৫৮ সেন্টিমিটার, ধরলা ২৬.৩৬ সেন্টিমিটার, দুধকুমার ৩০.১১ সেন্টিমিটার ও তিস্তা নদীর পানি ২৯.২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলার ৯টি উপজেলার দুটি পৌরসভাসহ প্রায় ৬০টি ইউনিয়নের দুই লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। প্রাথমিকভাবে মানুষ যেসব উঁচু স্থানে গবাদিপশু রেখেছেন গত দুদিন ধরে সেসব স্থানে পানি ওঠায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। জীবন বাঁচাতে অনেকে নিজস্ব নৌকা, উঁচু রাস্তা, ফ্লাড শেল্টার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উঁচু ভূমিতে কিংবা আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে দুধকুমার নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এতে নতুন করে আরও প্রায় ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মিয়াপাড়া এলাকার পুরাতন বেড়িবাঁধটির দুটি স্থানে প্রায় ১শ মিটার এলাকা ভেঙে যায়। ফলে ভাঙা অংশ দিয়ে প্রবল স্রোতে প্রবেশ করে একের পর এক গ্রাম প্লাবিত হতে থাকে। পানি আরও বৃদ্ধি পেলে নাগেশ্বরী পৌর শহর পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাঁধ ভাঙায় এরইমধ্যে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মিয়া পাড়া, মালিয়ানি, সেনপাড়া, তেলিয়ানী, পাটেশ্বরী, বোয়ালেরডারা, অন্তাইপাড়, ধনিটারী, বিধবাটারী, বড়মানী, বামনডাঙ্গা, নাগেশ্বরী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের সাঞ্জুয়ার ভিটা, ভুষিটারী, ফকিরটারী গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিব্বির আহমেদ জানান, বাঁধ ভাঙার বিষয়টি আমি জেনেছি, সরেজমিন পরিদর্শন ছাড়া কিছু বলা যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুর-এ-মুর্শেদ, ইউনিয়ন পর্যায়ে ৮৩টি মেডিকেল টিম বন্যা কবলিত এলাকায় কাজ করছে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৬৬০ হেক্টর ফসলি জমি, বীজতলা ও শাকসবজি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া যাবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নবেজ উদ্দিন সরকার জানান, ২৬৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হওয়ায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, দুধকুমার নদীর তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ চলমান আছে। সেগুলো বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভাঙার কোনো খবর তাদের কাছে নেই।


আরও খবর