আজঃ বুধবার ২৪ জুলাই 20২৪
শিরোনাম

‘ফ্লাগ গার্ল’ প্রিয়তার সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক

প্রকাশিত:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিনোদন ডেস্ক

Image

মিস কালচার ওয়ার্ল্ডওয়াইড জয়ী বাংলাদেশের ফ্ল্যাগ গার্ল প্রিয়তা ইফতেখার অস্ট্রেলিয়ার খ্যাতনামা ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনি (ইউটিএস) থেকে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। মাস্টার অব স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনে (এক্সটেনশন) পড়েছেন তিনি। যোগাযোগের ক্ষেত্রে যারা ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে চান তাদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এটি। ডিজিটাল যুগে গবেষণা, মূল্যায়ন এবং নৈতিক তথ্য বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে উন্নত পাবলিক কমিউনিকেশন অনুশীলন করানো হয় এতে। এ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে অধ্যয়নের পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ করার অনুমতি রয়েছে।

প্রিয়তা ইফতেখার বলেন, এ নিয়ে দ্বিতীয়বার মাস্টার্স করলাম। স্নাতকোত্তর একাডেমিক এক্সিলেন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কলারশিপ পেয়ে ২০২২ সালের আগস্টে স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনে মাস্টার্স শুরু করি। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অর্থায়ন করেছে ইউটিএস কর্তৃপক্ষ। পরিবারে আমিই প্রথম কোনও বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্নাতকোত্তর বিদেশি ডিগ্রি অর্জন করেছি।

প্রিয়তার পরিবার থাকেন অস্ট্রেলিয়ায়। ইউটিএস-এ অধ্যয়নের সুবাদে অস্ট্রেলিয়ায় আসতে ও পরিবারের কাছাকাছি থাকতে পেরেছেন তিনি। তার কথায়, আমার বাবা-মা উভয়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে স্নাতক করেন। তবে তারা সমাবর্তন মিস করেছেন। তাই মা কোনও স্নাতকের ছবি দেখলেই ভাবতেন, আমাকে সমাবর্তনের গাউন পরা দেখে যেতে পারবেন কিনা।

প্রিয়তার মা জীবদ্দশায় মেয়ের সেই অর্জন দেখে যেতে পারেননি। তার বাবা-মা দুই জনই মারা গেছেন। তাদের স্মৃতি বহনের পরিকল্পনা থেকে ইউটিএস-এর সমাবর্তনে বিশেষ একটি শাড়ি পরে প্রিয়তা। ২০০৫ সালে তার মাকে তার বাবা এটি উপহার দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, এই শাড়িতে কালো, সাদা, সবুজ ও লাল প্যাটার্ন রয়েছে, যা যুদ্ধ ও গণহত্যার বার্তা তুলে ধরে। এর রঙ বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিন উভয় দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। গণহত্যার প্রতিবাদ এবং শান্তির আহ্বানে বিশ্বব্যাপী আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম হতে এই শাড়ি পরেন তিনি। এতে একইসঙ্গে ১৯৭১ ও ২০২৪ দুটি ভিন্ন সময়ের গল্প ফুটে উঠেছে।

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সিডনি শহরে অবস্থিত ইউটিএস দেশটির সরকারের অর্থায়নে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনি মূলত ব্যবহারিক ও শিল্প-সংযুক্ত শিক্ষার ওপর কাজ করে। কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিংস ২০২৪ অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় নবম এবং বিশ্বে ৮৮তম স্থানে রয়েছে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকতার অগ্রদূত নূরজাহান বেগমের নাতনি প্রিয়তা ইফতেখার। তার নানা কচিকাঁচার মেলার প্রতিষ্ঠাতা রোকনুজ্জামান খান (দাদাভাই)। ২০০৮ সালে দ্য ফ্ল্যাগ গার্ল নামের একটি নেটওয়ার্ক গড়েন তিনি। এর মাধ্যমে ভ্রমণ বিষয়ে নারীদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের ভ্রমণপিপাসুরা এই নেটওয়ার্কের সদস্য।

শ্রীলঙ্কায় প্রথম বিদেশ ভ্রমণে গিয়েছিলেন প্রিয়তা। ইতোমধ্যে বিশ্বের ২০০রও বেশি শহরে বেড়ানো হয়েছে তার। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। তার ঝুলিতে রয়েছে জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত মিস কালচার ওয়ার্ল্ডওয়াইড প্রতিযোগিতায় মুকুট জয়, মালয়েশিয়ায় মিস ট্যুরিজম ওয়ার্ল্ড, মিস ল্যান্ডস্কেপস ইন্টারন্যাশনাল ও মিস মাল্টিন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতা।


আরও খবর



বাগেরহাটে অস্ত্র ও গুলিসহ ৩০ মামলার আসামী গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বাগেরহাট প্রতিনিধি

Image

বাগেরহাটের ফকিরহাটে পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রসহ ৩০ মামলার আসামী আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য মোঃ ইমরান শেখকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৪ জুন) রাতে ফকিরহাট উপজেলার লখপুর ইউনিয়নের ছোটখাজুরা নিকারী পাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় পিস্তল, ছয় রাউন্ড রাইফেলের গুলি এবং বেশ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

ইমরান ফকিরহাট উপজেলার লখপুর ইউনিয়নের ছোটখাজুরা নিকারীপাড়া গ্রামের হযরত আলীর ছেলে।

এ ঘটনায় ফকিরহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ইমরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও দস্যুতাসহ নানা অপরাধে মোট ৩০টি মামলা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেসব্রিফিং এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: রাসেলুর রহমান।

তিনি জানান, গ্রেপ্তার ইমরান একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। সে পেশাদার ডাকাত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ৩০টি মামলা রয়েছে। মামলা দায়ের শেষে এদিন দুপুরে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তার সাথে জড়িত অন্যদেরও আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

প্রেস ব্রিফিং এ ফকিরহাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো: রবিউল ইসলাম শামিম, জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল আক্তার, ফকিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল আলমসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজ ট্যাগ: বাগেরহাট পুলিশ

আরও খবর



কোটা আন্দোলন

ঢামেকে আহত ২৯৭, মাথায় আঘাত ১৭০ জনের

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ঢামেক প্রতিবেদক

Image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোটা বিরোধী ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় দুপুর থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৯৭ জন। এদের মধ্যে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিউরোসার্জারির ৯৮ নাম্বার ওয়ার্ডের জরুরি কক্ষে  চিকিৎসা নিয়েছেন ১৭০ জন। যাদের সবারই মাথায় আঘাত ছিল।

সোমবার (১৫ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে জরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বরত মো. মিজান জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় দুপুরের পর থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ২৯৭ জনকে চিকিৎসার জন্য টিকিট দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে চিকিৎসকদের নির্দেশনায় ১২ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের আলাদা ভর্তি ফাইল তৈরি করা হয়েছে।

হাসপাতাল থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত যত সংখ্যক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে, এদের মধ্যে অধিকাংশই মাথায় আঘাত ছিল। এ আঘাত হতে পারে নিক্ষিপ্ত ইটের আঘাত পাশাপাশি সরাসরি কোনো কিছু দিয়ে মাথায় বাড়ি দেওয়ার আঘাত।

এ ১৭০ জনের মধ্যে মাথায় সেলাই দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকজনের। তবে কয়েকজনের সেলাই লাগলেও তারা গুরুতর নয় পাশাপাশি ভর্তি প্রয়োজন হয় নাই।

এছাড়া আরও অনেক আহতকে জরুরি বিভাগের ইমার্জেন্সি ও ৪ নাম্বার কক্ষে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। যাদের মাথায় আঘাত নেই কিন্তু শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত ছিল। এদের মধ্যেও দুই একজনের শরীরে সেলাই দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে পুরাতন ভবনের তৃতীয় তলায় নাক কান গলা বিভাগে সংঘর্ষের ঘটনায় অনেকেই চিকিৎসা নিয়েছে পাশাপাশি চক্ষু বিভাগে দুই জন শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী হলো ঢাবির বঙ্গবন্ধু হলের আলী আকবর (২২)।


আরও খবর
মেট্রোরেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




সিএমপির ৩২তম কমিশনার হিসেবে যোগদান করলেন মো: সাইফুল ইসলাম

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রাহুল সরকার, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Image

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ৩২তম কমিশনার হিসেবে যোগদান করলেন উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মোঃ সাইফুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেন। এসময় সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ নবনিযুক্ত সিএমপি কমিশনারকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন। পরে দামপাড়াস্থ সিএমপি সদরদপ্তরে পুলিশের একটি চৌকশ দল সশস্ত্র সালাম প্রদান করেন।

সিএমপির দামপাড়াস্থ পুলিশ লাইন্সের জনক চত্বরে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এসময় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) আ স ম মাহাতাব উদ্দিন; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) আবদুল মান্নান মিয়া; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ মাসুদ আহাম্মদ; উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মোঃ আব্দুল ওয়ারীশ এবং সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিদায়ী সিএমপির কমিশনার অতিরিক্ত আইজিপি কৃষ্ণ পদ রায়কে ২০২২ সালের ৩০ জুন সিএমপি কমিশনার হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ পুলিশ-১ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে পদায়ন করা হয়েছিল। তবে পদোন্নতি হওয়ায় গত বুধবার (৩ জুলাই) সিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে বিদায়ী পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়কে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানো হয়।

উল্লেখ্য, নবনিযুক্ত সিএমপি কমিশনার মো: সাইফুল ইসলাম পাবনার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তিনি ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।  তিনি ২০০১ সালে ২০তম বিসিএস মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। সিএমপিতে যোগদানের পূর্বে তিনি এমআরটি পুলিশের ডিআইজি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়াও তিনি বরিশাল ও বরগুনা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।


আরও খবর



৩ ঘণ্টায় ঢাকায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী

প্রকাশিত:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা রাজধানীজুড়ে ঝুম বৃষ্টি হয়েছে। এই তিন ঘণ্টায় ঢাকায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।

টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর মগবাজার ওয়্যারলেস গেট, বেইলি রোড, সিদ্ধেশ্বরী, মৌচাক, মালিবাগ মোড়, শান্তিনগর মোড়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এসব এলাকার অলিগলিতে হাঁটুসমান পানি।

শান্তিনগর, মৌচাক এলাকার প্রধান সড়কে রয়েছে কোমরসমান পানি। ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষজন।

আজ সাপ্তাহিক সরকারি ছুটির দিন হলেও বেসরকারি চাকরিজীবী কিংবা খেটে খাওয়া মানুষ যারা জীবিকার টানে ঘরের বাইরে বের হয়েছেন তারা পড়েছেন সবচেয়ে বিপাকে। বৃষ্টির কারণে সড়কে যানবাহন কমই দেখা গেছে।

রাজধানীর ওয়ারলেস গেটের বাসিন্দা মুজাহিদ বলেন, হাঁটুসমান পানির ওপর দিয়ে মেইন রোডে এসেছি বাচ্চার জন্য ওষুধ নিতে। রাস্তায় ভয়াবহ অবস্থা। এই পানি কখন নামবে জানি না। নোংরা পানিতে পা চুলকাচ্ছে।

রিকশাচালক শাহেদ হাসান বলেন, কোমরসমান পানি থেকে রিকশাটা নিয়ে কোনোমতে মগবাজার এসেছি। ওইদিকে ভাড়া নিয়ে যাওয়া যায় না। বৃষ্টিতে মানুষ নেই, দু-একটা ভাড়া পেলেও হাঁটুপানি দিয়ে রিকশা চালাতে পারি না। শরীর আর পা চলে না।

ওয়ারলেস রেলগেট মোড়ের চা দোকানি আসেম মাহমুদ বলেন, আমরা নিম্নআয়ের মানুষ, কোনোমতে ছাউনির ভেতর বসে আছি। দুই ঘণ্টা ধরে পানি ছিল, এখন কিছুটা কমেছে। সকাল থেকে কাস্টমার নেই। বেচাবিক্রি নেই।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় এখন সারাদেশে যে কোনো মুহূর্তে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার ভারী বর্ষণের সতর্কবাণী দিয়েছিল আবহাওয়া অফিস। দেশের পাঁচ বিভাগে ভারী বর্ষণের সঙ্গে দুই বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের শঙ্কার কথা জানায় সংস্থাটি।


আরও খবর



কাঁচা রাস্তায় দুর্ভোগ চরমে, ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
শাওন মিয়া (জাজিরা) শরীয়তপুর

Image

দের কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। শুকনো মৌসুমে ধুলোবালু আর বর্ষায় কর্দমাক্ত। দীর্ঘদিন বেহাল রাস্তা সংস্কার না করায় ক্ষোভে ধানের চারা লাগিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন শরীয়তপুরের জাজিরার পুর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের মোহর আলী হাজী কান্দির এলাকাবাসী।

শনিবার (৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার পূর্বনাওডোবা ইউনিয়নের মোহর আলী হাজী কান্দির এলাকাবাসী এ অভিনব প্রতিবাদ জানান।

স্থানীয়রা জানান, রাস্তাটি প্রায় ১২ থেকে ১৫টি গ্রামের ৩০ হাজার লোকের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। বর্ষার সময় রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তবে এবছর পাশের শুক্কুর হাওলাদার কান্দি গ্রামে একটি কালভার্টের কাজের সরঞ্জামাদি ও মাটি মাহিন্দ্রা (ট্রাক্টর) গাড়ির মাধ্যমে বহন করায় রাস্তাটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানালেও তারা কোনো উদ্যোগ নেননি। তাই রাস্তায় ধানের চারা লাগিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী শাহজাহান মাদবর আজকের দর্পণকে বলেন, রাস্তাটি ঠিক করার জন্য মেম্বার ও চেয়ারম্যানকে বারবার জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। সামান্য বৃষ্টি হলে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। অথচ একটি কালভার্টের মাটি মাহিন্দ্রা গাড়ি (ট্রাক্টর) দিয়ে নিচ্ছেন। তাতে রাস্তাটি গর্ত হয়ে পানি জমে একাকার হয়ে যাচ্ছে সে দিকে তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। সেজন্য আমরা এলাকাবাসী রাস্তায় ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছি।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা চুন্নু হাওলাদার অভিযোগ করে আজকের দর্পণকে বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের অত্র অঞ্চলের মানুষ অবহেলিত। আদি যুগের মত মাথায় করে বস্তা নিয়ে কাজিরহাটে যেতে হয়। যেনো আমাদের দেখার কেউ নেই।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বহুদিন ধরে ক্ষমতায় আছেন। আমাদের স্থানীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নজরেই আসে না যে জনগনের দুর্ভোগ কোথায়। জনগনের জন্য সরকার, জনগনের ভোটে সরকার। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার পরেও আমরা অবহেলিত। সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে আহবান করি তারা যেনো আমাদের এই এলাকাবসীর স্বার্থে অতিদ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করে দেন।

মোহর আলী হাজী কান্দির বাসিন্দা রাশিদা নামের এক গৃহিণী ক্ষোভ প্রকাশ করে আজকের দর্পণকে বলেন, এক মাসের বাচ্চা নিয়ে টিকা দেওয়ার জন্য বের হয়েছিলাম। বাচ্চাকে নিয়ে বাড়ির সামনের রাস্তায় আসার পরেই কাদায় পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছি দুজনেই। এখান দিয়ে যে মাহিন্দ গাড়ি গুলো চলে তাদের না চলার অনুরোধ জানাই। নয়তো আমরা পরবর্তীতে গাড়ির সামনে দাঁড়াবো।

পার্শ্ববর্তী এলাকার মোড়ল বাসিন্দা শাহিদা বেগম জানান, আমাদের পোলাপান পড়তে যাইতে পারে না সময় মত। আজকে আমার মেয়ে রাস্তার কাদায় পড়ে মাথায় আঘাত পেয়েছে। আমরা চাইলেও গাড়িতে করে যাইতে পাড়ি না। ১ কিলোমিটার রাস্তা কাদা দিয়ে হেটে যাওয়া লাগে।

পূর্ব নাওডোবা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তার, হাসিফা ও সোহাগী আক্তার শোভার সাথে কথা হলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে আজকের দর্পণকে বলেন, প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসা করতে কষ্ট হয়। জুতা খুলে হাতে নিয়ে এ রাস্তায় চলাচল করতে হয়। এতে কাদা লেগে জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। রাস্তাটি পাকা হলে আমাদের জন্য অনেক সুবিধা হতো বলেন তারা।

এ বিষয়ে পূর্বনাওডোবা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলতাফ খান আজকের দর্পণকে বলেন, রাস্তাটি এমন বেহাল হয়েছে সে বিষয়ে আমকে কেউ কিছু বলেনি। তবে রাস্তাটির সামনেই একটি কালভার্টের কাজ চলছে। সেখানে ট্রাক্টর দিয়ে মালামাল নেওয়ায় হয়তো রাস্তাটির বেহাল দশা হয়েছে। তবে রাস্তায় ধান লাগানোর বিষয়টি সম্পর্কে আমি জানি না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাদিয়া ইসলাম লুনা বলেন, স্থানীয় কেউ বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আমাকে জানায়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।


আরও খবর