আজঃ শনিবার ১৫ জুন ২০২৪
শিরোনাম

ঈদযাত্রায় একদিন একটু কষ্ট হোক না : ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

Image

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সড়কপথে যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে করণীয় নির্ধারণ সংক্রান্ত সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাড়ি যাবে আনন্দ করে, সেখানে একদিন কষ্ট হলো, তাতে এমন কী হবে? একদিন একটু কষ্ট হোক না। 

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুরে রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ঈদ সামনে রেখে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার বিষয়টি বলা হলেও তা মানেন না মালিকপক্ষ। এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, গার্মেন্টস ছুটি দিলে হাজারো শ্রমিক রাস্তায় নেমে যায়, যানজট বাড়ে। এ সময় গাজীপুর ও চন্দ্রায় বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। এছাড়া রাজধানীর হানিফ ফ্লাইওভার যানজটের আরেকটি বড় উৎস।

ঈদের সময় রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি না করতে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, বৃষ্টির সময় এসেছে, এখন কিসের খুঁড়াখুঁড়ি? ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশনের খুঁড়াখুঁড়ির কাজ ঈদের সময় কঠোরভাবে বন্ধ রাখতে হবে।

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামতের কাজ ঈদের আগেই শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। এছাড়া নতুন করে কোথাও কোনও ধরনের খোঁড়াখুঁড়ি করে যেন জনভোগান্তি সৃষ্টি না করা হয়, সেই বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া যেন কেউ আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে তৎপর থাকতে হবে। এছাড়া, ঈদের আগে-পরে মিলিয়ে সিএনজি স্টেশন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার জন্য পদক্ষেপ নিতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে।

সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ঢাকার বাস টার্মিনালগুলোর বাইরে যেন কোনও বাস দাঁড়িয়ে না থাকতে পারে, সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনও বাস যেন অতিরিক্ত ভাড়া না আদায় করে, সেই বিষয়ে সবাইকে তৎপর থাকতে হবে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা থেকে ৫০ মিনিটের মধ্যে ঢাকায় পৌঁছে যায়, কিন্তু ফ্লাইওভারে এক ঘণ্ট-দেড় ঘণ্টা যানজটে আটকা থাকতে হয়। এটা কেন হচ্ছে? সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে কথা বলে সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেন।‌ হেলমেট ছাড়া সিএনজি স্টেশনে যেন কেউ তেল দিতে না পারে, আমি মন্ত্রীর লোক, এমপির লোক... এসব বলে যেন কেউ ছাড় না পায়। ঢাকা শহরে লক্কড়-ঝক্কড় বাস দেখতে ভালো লাগে না। ফিটনেসবিহীন কোনও বাস যেন চলতে না পারে, এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

সভায় যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে

সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রধান সড়কের পাশে যেন কোরবানির হাট না বসে। এছাড়া বিআরটিএ, পুলিশ কমিশনার, সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সওজ অধিদপ্তর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে যাত্রী সাধারণের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা।

পাশাপাশি দেশের সব বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং সড়কপথে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, পকেটমার, মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। লক্কড়-ঝক্কড়, ফিটনেস বিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধ করা, ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত মালামাল-যাত্রী পরিবহন না করা, নসিমন, করিমন, ইজিবাইক, থ্রি-হুইলার জাতীয় গাড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচল বন্ধ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। অন্যদিকে বিআরটিসির স্পেশাল ঈদ সার্ভিস, সিএনজি ফিলিং স্টেশন সার্বক্ষণিক খোলা রাখা, গার্মেন্টসসহ সব শিল্প, কল-কারখানার কর্মীদের পর্যায়ক্রমে ছুটির ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত।

ঈদের দিনসহ এর আগের ৩ দিন ও পরের ৩ দিন মহাসড়কে পশুবাহী গাড়ি ছাড়া ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখা। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য-দ্রব্য, পচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ওষুধ, সার এবং জ্বালানি বহনকারী যানবাহন আওতামুক্ত রাখা।

সভায় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নুর মোহাম্মদ মজুমদার, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরীসহ সড়ক ও জনপথ বিভাগ, হাইওয়ে পুলিশ, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা।


আরও খবর



লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জীবন ধারা ডেস্ক

Image

লবঙ্গ সর্দি-কাশির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। শরীরের যত্নের পাশাপাশি রান্নায়ও স্বাদ বৃদ্ধিতে লবঙ্গের জুড়ি নেই। তবে মাত্রাতিরিক্ত লবঙ্গ খাওয়াতেও রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। চলুন, জেনে নিই লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতার নানা দিক।

লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতা

লবঙ্গ দাঁতের ব্যথা ও মাড়ির ক্ষয় নিরাময়ে বেশ কার্যকর। লবঙ্গের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান শরীরে কিছু বিক্রিয়া করে নিমেষে দাঁতের যন্ত্রণা কমিয়ে দেয়।

যাত্রাপথে বমি বমি ভাব দূর করতে মুখে লবঙ্গ দিয়ে রাখা যেতে পারে। এটি মুখে সুগন্ধি তৈরি করে বমি বন্ধে বেশ কাজ করে। বমির ভাব দূর করতে মুখে লবঙ্গ নিয়ে চুষতে পারেন অন্তঃসত্ত্বা নারীরাও।

সর্দি-কাশি ও ঠান্ডা প্রতিরোধে লবঙ্গকে মহৌষধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এটি চিবিয়ে রস গিলে খেলে বা লবঙ্গ মুখে রেখে চুষলে ঠান্ডা লাগা, অ্যাজমা, সর্দি, কফ, গলা ফুলে ওঠা আর শ্বাসকষ্টে বেশ সুফল পাওয়া যায়।

সাইনোসাইটিস রোগীদের চিকিৎসায় ওষুধ হিসেবে লবঙ্গ ব্যবহার করেন অনেকে। সাইনাসের কষ্ট কমাতে লবঙ্গের বিশেষ উপাদান ইগুয়েনাল সাহায্য করে।

মাথাব্যথা ও মাথা যন্ত্রণা কমাতে লবঙ্গের জুড়ি নেই।

পেট ফাঁপা ও পেটের অসুখ নিরাময়ে লবঙ্গ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ উপাদান এনজাইম বৃদ্ধি করে পেটব্যথা, অজীর্ণ, বদহজম, খিদে না হওয়া, পেটের গ্যাস ও বায়ু এমনকি কলেরা বা আন্ত্রিক রোগ নিরাময় করে।

প্রচণ্ড স্ট্রেস ও উৎকণ্ঠা কমাতে এক টুকরো লবঙ্গ মুখে ফেলে চুষে খেয়ে ফেলুন। এমনকি লবঙ্গের চা পানেও মেজাজ ফুরফুরে হয়ে উঠবে।

ব্রণের চিকিৎসায় লবঙ্গের ব্যবহার বেশ পুরোনো। লবঙ্গের পেস্ট ব্রণের ওপর দিয়ে রাখলে দাগ চলে যায়।

লবঙ্গ শরীরের ক্ষতিকর উপাদানগুলো বের করে রক্তকে পরিশোধন করতে বেশ ভূমিকা রাখে।

পিপাসায় বারবার পানি পানের বিড়ম্বনা এড়াতে সকালে ও বিকেলে লবঙ্গ খাওয়া যেতে পারে। এতে পিপাসাজনিত রোগ দূর হবে।

পেটের রোগ বা জ্বরসহ নানা রোগে আক্রান্তের ফলে খাবারে অরুচি দেখা দিলে লবঙ্গ গুঁড়া করে সকালে খালি পেটে এবং দুপুরে খাবারের পরে খেলে রুচি ফিরে আসবে।

লবঙ্গ খেলে হজম ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রক্তপ্রবাহেরও উন্নতি ঘটে।

লবঙ্গ ক্যান্সার, কলেরা, শরীর ব্যথা ও যকৃতের সমস্যা থেকে শরীরকে রক্ষা করে। লবঙ্গের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিজ যে কোনো জীবাণুকে মারতে ভূমিকা রাখে।

নিয়মিত লবঙ্গ খেলে সহজেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যায়। লংয়ের রস শরীরে ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে এবং কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তে শকর্রার মাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা কমে যায়।

মাড়ির সমস্যা ও মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে লবঙ্গ বেশ কার্যকর। লংয়ের মুকুল (মাথার অংশ) ওরালপ্যাথোজেনের বৃদ্ধি রোধ করে মুখকে কেসকল রোগের হাত থেকে রক্ষা করে। দুর্গন্ধ দূর করতে প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর সময় দুটি লবঙ্গ মুখে দিয়ে চিবিয়ে ঘুমাতে হবে।

লবঙ্গে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান রয়েছে, যা আর্থ্রাইটিসের প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে। প্রসঙ্গত, জয়েন্টপেইন কমানোর পাশাপাশি হাঁটুতে, পেশির ব্যথা, পিঠে বা হাড়ের ব্যথা কমাতে এই ঘরোয়া ওষুধ বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

লবঙ্গে থাকা ভিটামিন কে এবং ই, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটাই শক্তিশালী করে যে শরীরে উপস্থিত ভাইরাস সব মারা যায়। ফলে ভাইরাল ফিবারের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না।

আসলে লবঙ্গে উপস্থিত ভোলাটাইল অয়েল শরীরে উপস্থিত টক্সিক উপাদান বের করে দেয়। সেই সঙ্গে জীবাণুও মেরে ফেলে। ফলে সংক্রমণজনিত কষ্ট কমতে মোটেও সময় লাগে না।

লবঙ্গে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে প্রবেশ করার পর দেহের মধ্যে উপস্থিত টক্সিক উপাদান বের করে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শুধু লিভার নয়, শরীরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

ঠান্ডায় শরীরের কোনো অংশ ফুলে উঠলে লবঙ্গ খেতে পারেন। এতে শরীরের ফোলা কমে যাবে।

শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানিতে আক্রান্ত রোগীরাও লবঙ্গ চিবিয়ে রস খেলে আরাম পাবেন।

লবঙ্গে উপস্থিত ফেনোলিক কম্পাউন্ড-ইউজিনল এবং ইউজিনল ডেরিভাটিভস শরীরে প্রবেশ করার পর বোন ডেনসিটির (হাড়ে ঘনত্ব) উন্নতি ঘটে। এটি হাড়ের ভেতরের নানাবিধ মিনারেলের ঘাটতিও পূরণ করে। ফলে হাড়ের সমস্যাজনিত যে কোনো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।

লবঙ্গ ব্রেস্ট ক্যান্সার ও ওভারিয়ান ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

লবঙ্গ খাওয়ার অপকারিতা

উপকারিতা পেতে বেশি বেশি লবঙ্গ খাওয়া অনুচিত। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেকেই অকারণে মুখে লবঙ্গ দিয়ে রাখেন, যা উপকারের চেয়ে অপকারই ডেকে আনতে পারে। যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা কম, তারা কখনোই বেশি পরিমাণে লবঙ্গ খাবেন না। কেননা, এটি হাইপারগ্লাইসিমিয়ার কারণ হতে পারে।

আবার যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও লবঙ্গ খাওয়ায় র‌্যাশ বা চুলকানির সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে লবঙ্গ খাওয়া থেকে বিরত থাকাই মঙ্গলজনক।

নিউজ ট্যাগ: লবঙ্গ চা লবঙ্গ

আরও খবর



ত্রিশালে গর্ত থেকে একই পরিবারের তিন মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

Image

ময়মনসিংহের ত্রিশালে একটি গর্ত থেকে মাটি চাপা অবস্থায় পরিচয়হীন এক নারী ও দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের কাকচর নয়াপাড়া নামক স্থানের হাইঞ্জা মোড়লের বাড়ির মসজিদের সামনের একটি পতিত জমির আইল ঘেঁষা গর্ত থেকে লাশ তিনটি উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহের পিবিআই, র‍্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, দুপুর ১টার দিকে কুকুর অজ্ঞাত শিশুর পায়ের অংশবিশেষ নিয়ে ছুটাছুটি করছিল। এটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে লোকজন এসে দেখে একটি গর্তে আরও দুটি মরদেহ রয়েছে। যা পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দুপুর ৩টার দিকে ত্রিশাল থানা পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বিকাল ৩টার দিকে ত্রিশালের রামপুর ইউনিয়নের কাকচরে তিনটি লাশ পাওয়া গেছে। এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীর সহায়তায় এক নারী ও দুই শিশুর গলিত লাশ উদ্ধার করে।

রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আপেল মাহমুদ বলেন, মরদেহগুলো পঁচে দুর্গন্ধ হয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে সপ্তাহ খানেকেরও বেশি সময় আগে তাদেরকে কেউ হত্যা করে পুঁতে রেখেছে। আপাতত মনে হচ্ছে এদের অন্য কোন এলাকা থেকে এনে এখানে পুঁতে রাখা হয়েছে।


আরও খবর



স্মার্ট স্কুল বাস পরিচালনায় বিআরটিসির সঙ্গে জিপিএইচের সমঝোতা চুক্তি

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৭ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৭ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রাহুল সরকার, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Image

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের স্মার্ট স্কুল বাস পরিচালনায় বিআরটিসি ও জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। আগামী দুই বছর স্মার্ট স্কুল বাস এর স্পন্সর হিসাবে থাকছে জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড। এই দুই বছরে তারা ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা অনুদান দিবেন। যা থেকে বাসের ড্রাইভার স্টাফদের বেতন ছাড়াও জ্বালানী খরচসহ বাসগুলোর সকল ধরনের মেইনটেনেন্স খরচ বহন করা হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে ১০টি স্মার্ট স্কুল বাস পরিচালনায় এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয় ।

এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাদি উর রহিম জাদিদ, জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের উপদেষ্টা কর্নেল (অব.) মো: শওকত ওসমান ও উপদেষ্টা মোহাম্মদ ওসমান গনি (মিডিয়া), চট্টগ্রা। বিআরটিসি ম্যানেজার মো. জুলফিকার আলী, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনারগণ, স্মার্ট স্কুল বাস মনিটরিং টিমের নুরুল আজিম রনি, টেকনলজি পার্টনার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।

 সমঝোতা স্মারকে বিআরটিসি সাবডিপোর ম্যানেজার জুলফিকার আলী এবং জিপিএইচ ইস্পাতের উপদেষ্টা শওকত ওসমান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মো: ফখরুজ্জামান বলেন, এসব বাসে নগরীর পাঁচটি সড়কে ছাত্র-ছাত্রীরা যাতায়াত করতে পারবেন । বাসগুলোতে স্মার্ট টেকনোলজি, জিপিএস ট্যাকার, ক্যামেরা, এআই ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের স্কুল যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাসে ওঠা-নামার সময় অভিভাবকের ফোনে স্বয়ংক্রিয় এসএমএস প্রদান, বাসে শিক্ষার্থীদের অবস্থান মনিটরিং এবং স্বল্প খরচে স্কুল কলেজে যাওয়া আসা নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামীতে চাহিদা অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে বাসের সংখ্যাও বাড়ানো হবে

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে সমৃদ্ধ নগর, উন্নত গ্রাম, প্রযুক্তির ছোঁয়ায় স্মার্ট চট্টগ্রাম- স্লোগান সামনে নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রাম কর্তৃক পরিচালিত দেশের জেলাগুলোর উদ্ভাবনী কার্যক্রমভিত্তিক প্রতিযোগিতা স্মার্ট ডিস্ট্রিক্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ-২০২৩ এর আওতায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের স্মার্ট স্কুলবাস নামক উদ্ভাবনী উদ্যোগটি প্রথম পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ১০টি দ্বিতল স্কুল বাস ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে নগরীতে চলাচল করছে। আধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত এ সকল স্মার্ট স্কুল বাসে যে কোন স্কুলের শিক্ষার্থীরা নাম মাত্র ৫  টাকা ভাড়ায় যে কোন দূরত্বে চলাচল করতে পারেন। জিপিএস ট্র্যাকার, জিআইএস প্রযুক্তি, আইপি ক্যামেরা ছাড়াও এ বাসে ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইস আছে। যেখানে শিক্ষার্থীরা কার্ড চাপ দিলেই অভিভাবকদের মোবাইলে চলে যাচ্ছে খুদে বার্তা। ফলে অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে পারছেন।

নিউজ ট্যাগ: চট্টগ্রাম

আরও খবর



পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় ৬ কিলোমিটার যানজট

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
সাকিব আহম্মেদ, মুন্সিগঞ্জ

Image

ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন দক্ষিণবঙ্গের মানুষ। ঘরমুখী যাত্রীর ভিড়ে আজ (১৪ জুন) শুক্রবার ভোর থেকে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় লম্বা যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মাওয়ার পদ্মা সেতু টোল প্লাজা থেকে শুরু করে শ্রীনগর উপজেলার ফেরিঘাট এলাকা পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার রাস্তায় ছোট বড় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখী যাত্রীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকে পদ্মা সেতু মাওয়া টোল ঘর থেকে শ্রীনগর উপজেলার ফেরিঘাট পর্যন্ত ছোট বড় যানবাহনের দীর্ঘ সারি লেগে আছে।

পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ বলছেন, এবার ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সাতটি টোল বুথে যানবাহনের টোল আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া ঈদে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বাড়িয়েছেন সেতু নিরাপত্তাকর্মীরা। তবে রাজধানী থেকে যানবাহনের তীব্র চাপে দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে।

তবে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষজনের অভিযোগ, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে যানবাহনের টোল আদায় কার্যক্রম ধীর গতিতে চলায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে গাড়িচালক ও যাত্রীদের। তাদের দাবি দ্রুত টোল আদায় ও বুথ সংখ্যা বাড়ালে যাত্রী ভোগান্তি কমবে।

এদিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় এড়াতে ও ওভারটেকিং বন্ধে স্পিড গানের মাধ্যমে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছেন হাইওয়ে পুলিশ।

তবে এখন পর্যন্ত কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছেন পদ্মা সেতু উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান।


আরও খবর



কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় : সিপিডি

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৭ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৭ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

Image

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার সমালোচনা করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। তারা বলছে, আয়করের সর্বোচ্চ হার যেখানে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করা হলো, সেখানে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এটা নৈতিক ও অর্থনৈতিক, কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা নিয়মিত কর দেন, এটার মাধ্যমে তাদের তিরস্কার করা হচ্ছে।

শুক্রবার (৭ জুন) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বাজেট ২০২৪-২৫ সিপিডির পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে এ বিষয় তুলে ধরা হয়।

সিপিডির পর্যালোচনা তুলে ধরে এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বিনা প্রশ্নে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সৎ করদাতাদের প্রতি চরম অন্যায়। এটি নৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনায় অগ্রহণযোগ্য।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেটে এনবিআরের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা, মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো অর্জন করা সম্ভব হবে না। বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তাও অর্জন করা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগের প্রাক্কলন উচ্চাভিলাষী। এক্ষেত্রে বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে ব্যাংক ঋণের প্রতি নির্ভরতার কারণে বেসরকারি খাত প্রয়োজনীয় ঋণ পাবে কি না, তা চিন্তার বিষয়।

সিপিডির পর্যালোচনায় বলা হয়, এই অর্থবছরের বাজেট চলমান অর্থনৈতিক সংকট দূর করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দরিদ্র ও নির্ধারিত মানুষকে স্বস্তি দিতে বাজেটে নেওয়া পদক্ষেপ অপর্যাপ্ত ও দুর্বল। সংকট সমাধানে বাজেটে বিশেষ কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ।


আরও খবর