আজঃ বুধবার ২৪ জুলাই 20২৪
শিরোনাম

ঈদের ছুটিতেও গ্রামে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

প্রকাশিত:শনিবার ১৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৫ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

জ্যৈষ্ঠ গড়িয়ে আষাঢ়ের দিন শুরু হলেও গরম কমছে না। ঝড়সহ বৃষ্টির শঙ্কাও আছে চলতি মাসে। এর মধ্যে এ সপ্তাহে ঈদের ছুটিতেও বিদ্যুতের লোডশেডিং বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এরপরও জ্বালানি ঘাটতি এবং অপেক্ষাকৃত নাজুক সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা বা সকল গ্রাহকের কাছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া প্রায় অসম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঈদের মতো বড় ছুটির সময় সাধারণত বিদ্যুতের চাহিদা কমে। চাহিদা কম থাকায় উত্পাদন ও সরবরাহে তেমন ঘাটতি থাকে না। তবে এখন ছুটির দিনেও ঘাটতি থাকছে। গ্রামে সেই ঘাটতি আরও বেশি। ছুটির সময়ে বাণিজ্য ও শিল্পে কমে যাওয়া গ্যাস-বিদ্যুতের চাহিদা আবাসিকে দিয়ে সাধারণ লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় শিল্পে-বাণিজ্যে বেঁচে যাওয়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ দিয়ে লোডশেডিং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে দৈনিক ২৬ হাজার ৩৬৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উত্পাদন ও আমদানির সক্ষমতা রয়েছে। গত মঙ্গলবার সাবস্টেশন পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৯ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ। সরবরাহ করা হয় ১৫ হাজার ১৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। অর্থাৎ লোডশেড বা ঘাটতি ছিল ৮৬১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়নি। আর সাবস্টেশন পর্যায়ের চেয়ে গ্রাহক পর্যায়ে চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিং আরও বেশি।

পিডিবির হিসেব মতে, গত মঙ্গলবার সবচেয়ে বেশি ২৮৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে ময়মনসিংহ অঞ্চলে। কুমিল্লা ও ঢাকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। এ দিন রাজশাহী, সিলেট এবং বরিশাল অঞ্চলে কোনো লোডশেডিং হয়নি বলে পিডিবির দৈনিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অথচ এ বিভাগগুলোর ছয়টি জেলার প্রতিনিধিরা ঐ দিন জেলাগুলোর বিভিন্ন এলাকায় তিন থেকে ছয় ঘণ্টা লোডশেড হয়েছে বলে জানিয়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন গ্রাহকরাও।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি কমবেশি ঐ গত মঙ্গলবারের মতো চলছে। আসন্ন ঈদে সরকারি ছুটির সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিচালনা করার জন্য একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। রাজধানীতে বিদ্যুৎ ভবনে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চালু থাকবে। ঐ কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রামের চেয়ে রাজধানীসহ শহরাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের শীর্ষ অংশের নীতি সিদ্ধান্ত রয়েছে। ফলে শহরে তেমন না হলেও গ্রামের মানুষের লোডশেডিং থেকে এখনই মুক্তি মেলার আশা নেই।

স্থানীয় জ্বালানির পর্যাপ্ত সংস্থান না থাকায় দেশের বিদ্যুৎ উত্পাদন অনেকটাই আমদানি-নির্ভর। এখন মার্কিন ডলার এবং দেশীয় টাকারও প্রয়োজনীয় পরিমাণ জোগান নেই। তাই এলএনজি (গ্যাস) এবং জ্বালানি তেল আমদানি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার বেসরকারি বিদ্যুৎ উত্পাদনকারীদের বিপুল বিল বকেয়া পড়ে রয়েছে। এমন চিত্রটা দাঁড়িয়েছেঅর্থের অভাবে জ্বালানির সরবরাহে ঘাটতি। তাই বিদ্যুতের উত্পাদন ও বিতরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের ছুটির সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে। ফলে যত বেশি বৃষ্টি হবে বিদ্যুতের চাহিদা তত কমবে। চাহিদা কমায় লোডশেডিংও কমবে।

পিডিবি সূত্রে জানা যায়, গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উত্পাদন ক্ষমতার বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস পড়ে রয়েছে। দুইটি এলএনজি টার্মিনালও সমানতালে চালু রাখা যাচ্ছে না কারিগরি দুর্বলতা এবং জ্বালানির অভাবে।


আরও খবর



স্বরূপকাঠিতে চাচাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন ভাতিজা

প্রকাশিত:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
হযরত আলী হিরু, স্বরূপকাঠি

Image

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে জমিজমা নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষ চাচাকে ইয়াবা দিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে নিজেরাই ফেঁসে গেলেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়নের জরুরবাড়ী বাজারে।

এ ঘটনার মুলহোতা পাশ্ববর্তী বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার গ্রামের মো. হাসান (৩৭) নামের একজনকে গ্রেফতার করে রবিবার সকালে পিরোজপুর আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

মামলা সুত্রে ও ভুক্তভোগী সিদ্দিকের কাছ থেকে জানা যায়, বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার গ্রামের দোকানী সিদ্দিক তালুকদারের (৫৯) সাথে তার ভাতিজা মো. হাসান ও তাদের আত্নীয়দের জমিজমা বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। ওই মামলায় সিদ্দিকের পক্ষে রায় আসবে এটা অনুমান করেতে পেরে হাসান তার আত্নীয় স্বজনদের নিয়ে সিদ্দিককে ফাঁসাতে ষড়যন্ত্রের ছক তৈরি করেন। ছক অনুযায়ী শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে দশটার দিকে সিদ্দিক দোকান বন্ধ করে রাস্তা হেটে বাড়ি যাওয়ার সময় তাকে হাসান সহ হাসানের আত্নীয় আল আমিন (৪০), রহিম তালুকদার (৪৫), সফিকুল ইসলাম (২৮), আবুল হোসেন (২৫) ও মো. শাহিন (২৫) মিলে সিদ্দিককে একটি ব্যাটারী চালিত অটোরিকসায় তুলে নেয়। অটোতে তুলে তারা সিদ্দিকে বেদম মারপিট করে। একসময় তারা সিদ্দিককে নিয়ে বানারীপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী স্বরূপকাঠি উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়নের জরুরবাড়ী বাজারের বিজের কাছে নিয়ে আসে। সেখানে এসে তাকে অটো থেকে নামিয়ে তার কোমরে লুঙ্গিতে একটি কৌটা গুজে দিয়ে মাদক বিক্রেতা বলে ডাকচিৎকার দিয়ে লোকজনকে জড়ো করে। একপর্যায়ে হাসান তার মোবাইল দিয়ে স্বরূপকাঠি থানায় ফোন দিয়ে মাদক বিক্রেতাকে আটকের খবর জানায়।

খবর পেয়ে নেছারাবাদ থানার এস আই গোলাম হাফিজ ও এএসআই মো. ইয়াছিন ঘটনাস্থলে গিয়ে সিদ্দিককে আটক করে। এসময় তার কোমরে গুজে থাকা কৌটা তল্লাসী করে ৯০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে সিদ্দিকের দেয়া তথ্যনুযায়ী পুলিশের কিছুটা সন্দেহ হলে পুলিশ সিদ্দিকের সাথে হাসানকেও থানায় নিয়ে আসে। থানায় জিজ্ঞাসাবাদে সিদ্দিক জানায় মামলা সংক্রান্ত বিরোধের জেলে তাকে হাসান পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।

পরদিন শনিবার পুলিশ আটককৃতদের এলাকায় এবং বানারীপাড়া থানায় যোগাযোগ করে সিদ্দিকের সাথে হাসানদের বিরোধের সত্যতা খুঁজে পায়। এক পর্যায়ে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হাসান তার ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করে। পরে শনিবার রাতে এস আই মো. গোলাম হাফেজ বাদী হয়ে নেছারাবাদ থানায় ৬ জনকে নামীয় ও আরো ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। সত্য ঘটনা উদঘাটনের সংবাদ পেয়েই ঘটনার সাথে জড়িত অন্য আসামীরা আত্মগোপন করে।

এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ওসি মো. গোলাম ছরোয়ার জানান, সিদ্দিক তালুকদার ও হাসানকে আটকের পর সিদ্দিক জানায় তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। পরে আটককৃতদের এলাকায় তদন্ত করে জানতে পারি মামলা নিয়ে বিরোধের জেরে সিদ্দিক তালুকদারকে মাদক মালায় ফাঁসাতে হাসান এ নাটক তৈরি করেছিলো। এ ঘটনায় মামলা দায়ের শেষে হাসানকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রবিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত ইয়াবার নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। জব্দকৃত ইয়াবার মূল্য আনুমানিক ২৭ হাজার টাকা বলে তিনি জানান।


আরও খবর



ভারতে এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, নিহত অন্তত ১৮

প্রকাশিত:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

ভারতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৯ জন। দেশটির উত্তর প্রদেশের লখনৌ-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়েতে ডাবল-ডেকার বাসের সঙ্গে দুধের ট্যাংকারের সংঘর্ষে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

বুধবার (১০ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশের উন্নাওতে দুধবহনকারী ট্যাংকারের সাথে ডাবল-ডেকার বাসের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৮ জন নিহত এবং আরও ১৯ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে তিন নারী ও এক শিশু রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ডাবল-ডেকার বাসটি বিহার রাজ্যের সীতামারহি থেকে দিল্লির দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বাসটি বুধবার ভোরে লখনৌ-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়েতে পেছন থেকে দুধের একটি ট্যাংকারকে ধাক্কা দেয়।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে তার অফিস জানিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, বুধবার ভোর ৫টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দূরপাল্লার বাসটি মঙ্গলবার রাতে বিহার থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। ভোরবেলা লখনৌ-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময়ই বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

বেহতা মুজাওয়ার এলাকায় এসে একটি দুধের ট্যাংকারে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় বাসটি। এতে ট্যাংকার এবং বাস, দুটিই উল্টে যায় এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এদিকে দুর্ঘটনার বিষয়টি নজরে আসতেই দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। তারাই প্রথম উদ্ধারকাজ শুরু করেন। বাসের মধ্যে থেকে যাত্রীদের বের করে আনার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় বাঙ্গারমাউ এবং বেহতা মুজাওয়ার থানার পুলিশ।

উদ্ধারকারী দল বাসের জানলা ভেঙে যাত্রীদের কয়েকজনকে বের করে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। এসডিএম নম্রতা সিং জানান, কী ভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হবে। যাত্রীদের উদ্ধার করাই এখন প্রাথমিক কাজ।

তিনি বলেন, বিহার থেকে দিল্লি যাচ্ছিল বাসটি। বাসে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে, বাস চালাতে চালাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন চালক। সেই কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহত এবং আহতদের পরিচয় জানার চেষ্টাও চলছে।


আরও খবর
আজ নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মদিন!

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




কোটা বাতিলের দাবি

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশিত:শনিবার ০৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০৬ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

Image

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের আশেকপুর বাইপাস এলাকায় অবরোধ করে এই আন্দোলন করেন। এতে মহাসড়কে পুরোপুরি যানবাহন আটকে যায়। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশেই প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এ কারণে অসংখ্য মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেয়- মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা, সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে, আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার, জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে, কোটা না মেধা, মেধা মেধা, মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাই নাই ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখতে হবে। ১৮-এর পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিতে (সব গ্রেডে) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দিতে হবে এবং কোটাকে ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আখতারুজ্জামান সাজু নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, চাপিয়ে দেওয়া বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতির কবর রচনা করতে আমরা একত্রিত হয়েছি। যেকোনও বাধাকে উপেক্ষা করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। আমাদের দাবি একটাই, ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহাল করতে হবে।

কয়েকজন যাত্রী ও বাসচালক বলেন, কোটা আন্দোলনের কারণে তারা মহাসড়কে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা ধরে অবস্থান করছেন- এতে তাদের ভোগান্তি হলেও এই আন্দোলনের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন।

টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে সরে গেছেন। এখন যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।


আরও খবর



কর্মবিরতিতে অচল ঢাবি, অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

Image

কোটা বাতিলের দাবিতে একদিকে শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলন চলছে। অন্যদিকে চলছে পেনশন সংক্রান্ত প্রত্যয় স্কিম বাতিলে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টানা কর্মবিরতি। চলমান এ আন্দোলন ও কর্মবিরতিতে স্থবির হয়ে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম। একই পথে হেঁটেছে দেশের অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ও।

বন্ধ রয়েছে একাডেমিক ক্লাস-পরীক্ষা, স্থবির হয়ে পড়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। সেবা মিলছে না বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে।

সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে চলমান এ কর্মবিরতির মধ্যেই অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর পদত্যাগের দাবিও উঠেছে।    

বুধবার (৩ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদে টানা কর্মবিরতি ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে অর্থমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সম্মিলিতভাবে কর্মবিরতিতে অংশ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, কর্মচারী সমিতি, কারিগরি কর্মচারী সমিতি ও চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। একইসঙ্গে তাদের দাবি, জুলুম হিসেবে প্রত্যয় স্কিম তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে এই নীতি বাতিল করতে হবে।

সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি কর্মচারীদের নেতা মনিরুজ্জামান বলেন, অবিলম্বে এই পেনশন নীতি বাতিল করতে হবে। অন্যথায় কিভাবে অধিকার আদায় করে নিতে হয় তা আমরা জানি। অর্থমন্ত্রীকে বলতে চাই, অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। প্রধানমন্ত্রী যখন দেশকে উন্নয়নের দিক থেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তখন আপনাদের মত কুচক্রী মহল অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চান। অবিলম্বে নতুন পেনশন নীতি বাতিল করুন।

গত ৩০ জুন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ-কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। ওই দিন প্রশাসনিক ভবনের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া একাডেমিক কার্যক্রম থেকেও বিরত ছিলেন শিক্ষকরা।


আরও খবর
আরও ৩ দিনের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




বগুড়ায় নারী-শিশুসহ একই পরিবারের ৭ জন নিখোঁজ

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জেলা প্রতিনিধি

Image

বগুড়া শহরের নারুলী এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে এক পরিবারের নারী ও শিশুসহ ৭ জন চার দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।

শনিবার (৬ জুলাই) দুপুরে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওই পরিবারের প্রধান জীবন মিয়া। গত ৩ জুলাই দুপুরে বগুড়া শহরের নারুলী এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে একসঙ্গে নিখোঁজ হন তারা।

নিখোঁজ নারী ও শিশুরা হলেন, জীবন মিয়ার স্ত্রী রুমি বেগম (৩০), তার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে বৃষ্টি খাতুন (১৩), যমজ দুই ছেলে হাসান ও হোসেন (৬), শাশুড়ি ফাতেমা বেবি (৫০), শ্যালক বিক্রম আলী (১৩) ও শ্যালিকা রুনা খাতুন (১৭)।

জীবন মিয়া জানান, তিনি নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরের বাসিন্দা। তার শ্বশুরবাড়ি লালমনিরহাট জেলা সদরে। গত ১০ বছর ধরে বগুড়া শহরের নারুলী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। একই বাসায় স্ত্রী সন্তান ছাড়াও শাশুড়ি ও শ্যালক-শ্যালিকা বসবাস করতেন। তার শাশুড়ি নারুলী পুলিশ ফাঁড়িতে রান্নার কাজ করেন। আর তিনি পুরাতন ফ্রিজ কেনাবেচার দোকান পরিচালনা করেন।

জীবন মিয়া বলেন, গত ৩ জুলাই দুপুরে বাড়িতে ভাত খেতে গিয়ে দেখি বাসায় কেউ নেই। স্ত্রীর ফোন বন্ধ। শাশুড়ির ফোন বাসায় রেখে গেছেন। পরনের কাপড়চোপড় ছাড়া অন্য কিছু তারা নিয়ে যাননি। পরে লালমনিরহাটে শ্বশুরবাড়িতে খোঁজ নিয়ে সেখানেও সন্ধান পাইনি।

এ বিষয়ে নারুলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ফাতেমা বেবি লালমনিরহাট যাওয়ার কথা বলে গত ২ জুলাই ছুটি নেন। ৬ জুলাই তার ফিরে আসার কথা। ফাঁড়িতে রান্নার কাজে না আসায় তাকে ফোন করি। তখন জামাই ফোন রিসিভ করে নিখোঁজের বিষয়টি জানান। এরপর তাকে পুলিশ ফাঁড়িতে ডেকে বিস্তারিত শুনে জিডির ব্যবস্থা করা হয়। এক সঙ্গে সাতজন নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক মনে হচ্ছে।

নিউজ ট্যাগ: বগুড়া নিখোঁজ

আরও খবর