আজঃ শনিবার ১৫ জুন ২০২৪
শিরোনাম

ঈদের আগে এলো না জিম্মি নাবিকদের মুক্তির প্রহর

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ এপ্রিল ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৭ এপ্রিল ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ঈদের দিনও কাটাতে হবে জাহাজেই জিম্মি অবস্থায়। বিষণ্নতা, অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা তাই আরও জেঁকে বসেছে জিম্মি নাবিক ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। উল্লেখ্য ভারত মহাসাগরে গত ১২ মার্চ জলদস্যুদের কবলে পড়া বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর ২৩ নাবিকের ঈদের আগেও মুক্তি মিলছে না। এ পরিস্থিতিতে জিম্মি পরিবারের সদস্যরা কাঁদছেন স্বজনদের ঈদের আগেও ফিরে না পেয়ে। আর জিম্মিরা মন খারাপ করে আছেন এক মাসেও মুক্তি না পেয়ে।

জিম্মি নাবিক ও স্বজনদের মন খারাপ করা ঈদের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে, এমনটি চায়নি এমভি আব্দুল্লাহর মালিকপক্ষ। নাবিকদের জিম্মিদশা শুরুর ৯ দিন পর জলদস্যুরা যোগাযোগ শুরু করার পর থেকেই মালিকপক্ষ ঈদের আগেই এ-সংক্রান্ত আলোচনা শেষ করার আশা নিয়ে তৎপর হয়েছিল। বিভিন্ন সময় জাহাজ মালিকপক্ষ এবং সরকারপক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ গতকাল শনিবারও চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ পুনরায় বলেন, এম ভি আব্দুল্লাহ উদ্ধারে আলোচনার বেশ অগগ্রতি হয়েছে।

রাষ্ট্র এবং জাহাজ মালিকপক্ষ আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলে জানালেও তা কতদূর হয়েছে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট কিছুই জানানো হচ্ছে না। জাহাজ মালিকপক্ষ জানাচ্ছে, মুক্তিপণের টাকা দিয়ে নাবিক ও জাহাজ মুক্তি করতে হবে। কিন্তু মুক্তিপণ কত? কোথায়, কীভাবে তা দিতে হবে? এ ধরনের প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর মিলছে না। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। ফলে একধরনের তথ্য ঘাটতির মধ্যে রয়েছেন এমভি আব্দুল্লাহর ২৩ নাবিকের পারিবারিক সদস্যরা

তবে ঈদের আগে নাবিকসহ জাহাজ মুক্ত হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে কেএসআরএম গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম বলেন, ঈদের আগে নাবিকসহ জাহাজটি মুক্ত হচ্ছে না। এটা প্রায় নিশ্চিত। তবে ঈদের পরপরই দ্রুত সময়ের মধ্যে মুক্তি পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা আছে। সেই লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে কোম্পানি।

এখন আলোচনা কত দূর গিয়ে আটকে গেছে? যার কারণে ঈদের আগেই মুক্তি মিলছে না? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আলোচনা আটকে নেই। থেমে যায়নি। চলছে। বেশ অগ্রগতিও ঘটেছে। কিন্তু এখানে অনেকগুলো ধাপ পার হতে হচ্ছে। তাই সময় লাগছে। তিনি বলেন, জাহাজে নাবিকরা ভালো আছে। কিছুটা পানির সংকট থাকলেও তা ক্যাপ্টেন রেশনিং পদ্ধতিতে ব্যবস্থা করে নিচ্ছেন। নাবিকদের সঙ্গে পরিবার ও জাহাজ মালিকপক্ষের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে।

সাধারণ সময়ে নাবিকরা জাহাজ নিয়ে ঈদের সময়ে গভীর সমুদ্রে থাকলে ঈদের নামাজ কীভাবে পড়েন? এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশে কর্মরত ক্যাপ্টেন নূর মোহাম্মদ বলেন, গভীর সমুদ্রে নামাজ কসর পড়লে হয়। নাবিকরা সেভাবেই পড়েন। তবে ঈদের সময়ে সাধারণত নিজেদের মধ্যে একজন খুতবা পড়েন এবং জামায়াতে নামাজ আদায় করেন। জাহাজের সহকর্মীরা কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। আর সুযোগ থাকলে পার্টির আয়োজন হয়। জিম্মি জাহাজে বন্দি নাবিকদের ঈদ কেমন হতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জলদস্যুরা সদয় হয়ে যদি তাদের ঈদের নামাজ পড়তে দেয়, তাহলে তো ভালো কথা। তবে জিম্মি অবস্থায় জাহাজে তো পার্টি করার সুযোগ নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে না। নিজেরা কোলাকুলি করে আনন্দ ভাগাভাগি হয়তো করতে পারবেন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে তাদের মুক্তিই আমাদের কাছে প্রধান বিষয়।

জিম্মি নাবিকদের একজনের পরিবারের সদস্য জানিয়েছেন, এখন দুই-তিন দিন পরপরই নাবিকরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন। তারা ভালো আছেন। জলদস্যুরা সশস্ত্র পাহারা দিচ্ছে। নাবিকরা নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। গত কয়েক দিনের মধ্যে জাহাজটির নোঙর আর তোলা হয়নি। একই স্থানে আছে। তিনি বলেন, নাবিকরা বুঝতে পারছেন, মালিকপক্ষ জলদস্যুদের সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে অর্থ লেনদেন শেষ না হওয়া পর্যন্ত মুক্তি মিলবে না সেটাও তারা বোঝেন। তাই মানসিকভাবে শক্ত থেকে জিম্মিজীবন শেষ করার প্রহর গুনছেন তারা।


আরও খবর



আজকের তরুণরাই আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের কারিগর: চবি উপাচার্য

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৪ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রাহুল সরকার, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Image

চিটাগং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ এন্ড হায়ার স্টাডি সোসাইটির (সিইউআরএইচএস) উদ্যোগে একটি নতুন আগামী শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হলো টেডএক্স চিটাগাং ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক বক্তৃতা।

মঙ্গলবার সকালে চবি মেরিন সায়েন্সেস এন্ড ফিশারিজ অনুষদের অডিটরিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আবু তাহের। অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেব বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ঠ বিজ্ঞানী ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. হাসিনা খান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর বেনু কুমার দে, চবি মেরিন সায়েন্সেস এন্ড ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম ও আবুল খায়ের গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার এ এন এম ওয়াজেদ আলী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিইউআরএইচএস এর মডারেটর ও চবি জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের প্রফেসর ড. আদনান মান্নান, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিইউআরএইচএস এর উপদেষ্টা এবং চবি ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. অলক পাল এবং সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ শরীফ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লিড অর্গানাইজার এবং কিউরেটর নুসরাত আফরিন এবং সিলভিয়া নাজনীন। অনুষ্ঠানে তিন শতাধিক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব অংশগ্রহণ করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে টেডএক্স চিটাগাং ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক বক্তৃতার আয়োজন করায় চিটাগং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ এন্ড হায়ার স্টাডি সোসাইটির নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান চবি উপাচার্য। তিনি বলেন, দেশের বিখ্যাত ব্যাক্তিদের নিয়ে আন্তর্জাতিক বক্তৃতার আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের তরুণ শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে স্ব স্ব ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে সরাসরি অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য শোনার সুযোগ পায়। যা থেকে তরুণরা নিজেদের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা পাবে।

তিনি আরও বলেন, আজকের তরুণরাই আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের কারিগর। দেশের দিকপালদের বর্ণাঢ্য জীবনাদর্শ অনুসরণ করে তরুণরা যুগোপযোগী আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে নতুন নতুন আইডিয়া উদ্ভাবনের মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি প্রয়োগ করে মানব কল্যাণে ছড়িয়ে দিয়ে দেশ-জাতির উন্নয়ন-অগ্রগতিতে অগ্রণী ভুমিকা রাখতে হবে।

টেডএক্স চিটাগাং ইউনিভার্সিটি অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের এবং দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনপ্রিয় আটজন দিকপাল বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে বক্তৃতার আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপি অনুষ্ঠানে নিজেদের জীবনের স্মৃতিচারণ করে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, শিক্ষক এবং উদ্ভাবক প্রফেসর ড. হাসিনা খান, বিশিষ্ট মিডিয়া কর্মী ও বিতার্কিক ডাঃ আবদুন নুর তুষার, প্রখ্যাত গীতিকার ও কর্পোরেট প্রফেসনাল আসিফ ইকবাল, প্রখ্যাত শিশু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ বাসনা মুহুরী, প্রখ্যাত লেখক, ঔপন্যাসিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক, প্রখ্যাত পরিবেশ এক্টিভিস্ট চবি প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ মনজুরুল কিবরীয়া, এভারেস্ট পর্বত আরোহী ডাঃ বাবর আলী এবং মডেল, অভিনেতা, উদ্যোক্তা ও আইনজীবি জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে বক্তারা উদ্ভাবনী ধারণার অনুপ্রেরণামূলক গল্প এবং সৃজনশীল আলোচনা করেন। এ বৈচিত্র্যময় কথোপকথনে বিজ্ঞানের আলোচনা থেকে শুরু করে বিনোদন জগতের বিষয় উঠে আসে। একটি নতুন আগামী প্রতিপাদ্যে বিজ্ঞান, গবেষণা, পরিবেশ, অটিজম, বাকস্বাধীনতা, সঙ্গীত, সাহিত্য, পর্বত আরোহণ, নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন বক্তারা।

চিটাগাং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ এন্ড হায়ার স্টাডি সোসাইটির ডেপুটি মডারেটর ড. সুমন গাঙ্গুলি, ড. শাহনেওয়াজ চৌধুরী, ড. মোঃ মাহবুব হাসান, ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষক ড. অনুপম দাশ গুপ্ত এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ড. ফারজানা ইয়াসমিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কাবেরী দাশ, টেড-এক্স এর আতকিয়া সুবাত ও আল আমিন উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজনের মূল পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলো আমা কফি। পাশাপাশি সহযোগিতায় ছিলো এমবিএ এসোসিয়েশন চিটাগং ইউনিভার্সিটি, কনফিডেন্স সল্ট, স্টেলার ও হাবিব তাজকিরাজ। বেভারেজ পার্টনার হিসেবে ছিলো পুষ্টি, হোয়াইট রেবিট, লোণস্টার স্টেক হাউজ, চিলক্স। সহযোগিতায় একাডেমিক পার্টনার হিসেবে ছিলো দি ইংলিশ একাডেমী এবং ক্রিয়েটিভ আইটি ইন্সটিটিউট, হেলথকেয়ার পার্টনার হিসেবে এসপেরিয়া হেলথকেয়ার, ট্রাভেল পার্টনার হিসেবে ইউএস বাংলা এয়ারওয়েজ। এছাড়া মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিলো সময় টিভি, চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস এবং দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে চিটাগং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ অ্যান্ড হায়ার স্ট্যাডি সোসাইটি (সিইউআরএইচএস) গবেষণা ও উচ্চশিক্ষামূলক বিভিন্ন সেশন, সেমিনার, কর্মশালা, প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার জন্য জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্যক্তিত্বদের সাথে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছে সংগঠনটি। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের টেডএক্স চিটাগং ইউনিভার্সিটির আয়োজন করা হয়। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একধাপ এগিয়ে নেওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করে।


আরও খবর



খুলনায় মোটরসাইকেল-ভ্যান সংঘর্ষ, নিহত ৩

প্রকাশিত:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
খুলনা প্রতিনিধি

Image

খুলনার পাইকগাছায় মোটরসাইকেল ও ভ্যানের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (৫ জুন) উপজেলার শিববাটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় জানা গেছে। তিনি হলেন ভ্যানচালক ইসমাইল (৬০)। অন্যদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পাইকগাছা থানার ওসি ওবায়দুর রহমান।

তিনি বলেন, খালি ভ্যানটি কয়রা থেকে পাইকগাছায় যাচ্ছিল। পথে উপজেলার শিববাটি এলাকায় বিপরীতমুখী একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের সঙ্গে ওই ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। এতে সড়কে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই ভ্যানচালক ও দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়।

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত মোটরসাইকেল ও ভ্যান জব্দ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতদের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।


আরও খবর



নির্বাচনি সহিংসতায় যুবক নিহত: চেয়ারম্যানসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৭ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৭ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

Image

গোপালগ‌ঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ওসিকুর ভূঁইয়া (২৭) নামের এক যুবক নিহতের ঘটনায় বিজয়ী চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান ভূঁইয়াসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্প‌তিবার রাতে নিহতের বোন পারুল বেগম বাদী হয়ে এ হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আজ শুক্রবার গোপালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনিচুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ওসি বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরবর্তী সহিংসতায় বিজয়ী প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূঁইয়ার সমর্থকের গুলিতে পরাজিত প্রার্থী বি এম লিয়াকত আলীর সমর্থক মো. ওসিকুর ভূঁইয়া নিহত হন। এ ঘটনায় কামরুজ্জামান ভূঁইয়াসহ ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও ৫০ জনকে আসামি করে নিহতের বোন একটি হত্যা মামলা করেন। তবে এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

অন্যদিকে, হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আগামী রবিবার গোপালগঞ্জ ডিসি অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন বি এম লিয়াকত আলী।


আরও খবর



আজীম এমপির লাশ মেলেনি, খুঁজছে ভারতের পুলিশ

প্রকাশিত:বুধবার ২২ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২২ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
কূটনৈতিক প্রতিবেদক

Image

ভারতে চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিখোঁজ ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের মরদেহ উদ্ধার হয়নি বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। তার মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২২ মে) বিকেলে নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেনস থেকে বেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের আইজি সিআইডি অখিলেশ চতুর্বেদী জানান, বাংলাদেশের এমপি আনোয়ারুল আজীম ব্যক্তিগত সফরে এসে এখান থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। ১৮ মে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। সংসদ সদস্যের পরিচিত গোপাল বিশ্বাস এই অভিযোগ দায়ের করেন এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আমরা তদন্ত শুরু করি।

তিনি বলেন, এর জন্য ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট থেকে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। এরপর গত ২০ মে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই কেসটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার একটি নির্দেশ আসে। এরপর আজ ২২ তারিখে আমাদের কাছে একটি তথ্য আসে যে, তাকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। এরপরে আমাদের পুলিশ এই ফ্ল্যাটটিকে শনাক্তকরণ করে। কারণ এখানেই তাকে শেষবার দেখা গিয়েছিল। পরবর্তী বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে আরও তদন্ত চলছে। সিআইডি এই তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজি সিআইডি জানান, এখন পর্যন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়নি। আমরা কেসের তদন্ত শুরু করেছি। আমাদের কাছে যা তথ্য রয়েছে, তাতে ১৩ তারিখে তিনি এই ভবনে ঢুকেছিলেন। তবে এর আগে এসেছিলেন কি না সেটি আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন। যদিও বিষয়টি এখনো তদন্তসাপেক্ষ।

মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়েছে বলে যে খবর ছড়িয়েছে সে ব্যাপারে তিনি বলেন, এটি এখনই বলা সম্ভব নয়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফটোগ্রাফি সব টিমেকে এই তদন্তে ইনভাইট করা হয়েছে। তারা খতিয়ে দেখছেন।

অখিলেশ চতুর্বেদী আরও জানান, যে ফ্ল্যাটটিতে ওই সংসদ সদ্য এসে উঠেছিলেন, সেটি সন্দীপ রায় নামে এক ব্যক্তির। তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবগারি দপ্তরে কাজ করেন। তিনি ভাড়া দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা (প্রবাসী বাংলাদেশি) আখতারুজ্জামান নামে এক ব্যক্তিকে।


আরও খবর



আদালতে লোহার খাঁচায় থাকা অত্যন্ত অপমানজনক: ড. ইউনূস

প্রকাশিত:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

আদালতে শুনানি চলাকালে একজন নিরপরাধ নাগরিকের লোহার খাঁচার ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়টি অত্যন্ত অপমানজনক বলে মন্তব্য করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে সবাই মিলে একটু আওয়াজ তুলুন, যাতে বিষয়টা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। একটা সভ্য দেশে কেন এ রকম হতে যাবে!  আদালতে শুনানিকালে কেন একজন নাগরিককে খাঁচার ভেতরে পশুর মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। যেখানে এখনও বিচার শুরুই হয়নি, যেখানে অপরাধী সাব্যস্ত হওয়ার কোনো সুযোগই হয়নি। নিরপরাধ নাগরিককে কেন খাঁচার ভেতরে থাকতে হবে এ প্রশ্নটা তুললাম।

আজ বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।

ড. ইউনূস বলেন, আমি আগেও প্রশ্নটা তুলেছি, আবারও সবার জন্য তুলছি। আমার বিষয় না, যেকোনো আসামি; যার বিরুদ্ধে একটা করতে যাচ্ছে, তাকে খাঁচায় নিয়ে যাওয়া। আমি যতটুকু জানি, যত দিন আসামি অপরাধী প্রমাণিত না হচ্ছে, তত দিন তিনি নির্দোষ-নিরপরাধ। একজন নিরপরাধ নাগরিককে একটা লোহার খাঁচার ভেতরে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে আদালতে শুনানি চলাকালে, এটা আমার কাছে অত্যন্ত অপমানজনক। অত্যন্ত গর্হিত কাজ বলে মনে হয়েছে।

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, অনেক হয়রানির মধ্যে আছি। সেটারই অংশ, এটা চলতে থাকবে।

আজকে সারাক্ষণ খাঁচার মধ্যে ছিলাম, আমরা সবাই মিলে ছিলাম। যদিও আমাকে বলা হয়েছিল যে, আপনি থাকেন। আমি বললাম, সবাই যাচ্ছে, আমিও সঙ্গে থাকি। সারাক্ষণই খাঁচার ভেতরে ছিলাম। যোগ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।


আরও খবর