আজঃ মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

এবারের ঈদ দেশের মানুষের জন্য একটা কষ্টের দিন: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত:সোমবার ১৭ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৭ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

মুদ্রাস্ফীতির কারণে ঈদ উদযাপন সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টের ও কঠিন হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (১৭ জুন) সকালে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের পর দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি তাঁতিপাড়া এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন বিএনপি মহাসচিব। এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুরো দেশবাসীকে এ শুভেচ্ছা জানান তিনি।

এ সময় তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশ ও সারাবিশ্বের মুসলমানদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক। আমি বিশ্ব মুসলিমের অব্যাহত সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করি। এই ঈদুল আজহা আমাদের ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত করে। এদিন আমরা পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে আমাদের মধ্যে যে সমস্ত অশুভবোধ আছে তা ত্যাগ করি। একই সঙ্গে আমাদের জীবনকে যেন সুন্দর, সৎ ও পবিত্রতার বোধে রাখতে পারি সে প্রার্থনা করি।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ঈদুল আজহা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ আজকের সমস্ত দেশেই যেভাবে দুর্নীতি আগ্রাসী হয়ে একটা ব্যাধি হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এটা আমরা মনে করি আজ ঈদুল আজহা ত্যাগের মাধ্যমে যারা দুর্নীতিতে নিমজ্জিত আছেন তারা তা ত্যাগ করবেন। তাদের সমস্ত অশুভ আকাঙ্ক্ষা বাদ দেবেন। একই সঙ্গে জনগণের জন্য মানুষের কল্যাণে তারা কাজ করবেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এবার ঈদ বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটা কষ্টের দিন। এ জন্যই যে এখন যারা পশু কোরবানি করেন তারা পশুকে যে ক্রয় করতে হয় সেখানেও তারা একটা বড় রকমের মুদ্রাস্ফীতিতে আক্রান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ যারা কোরবানি দিতে পারে না তারা বিভিন্নভাবে কোরবানির গোশত সংগ্রহ করে। তাদের পক্ষে তা রান্না করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ রান্নার যে সমস্ত মসলা ও অন্যান্য উপকরণ দরকার হয়, এটা তাদের পক্ষে সংগ্রহ করা খুব জটিল এবং কঠিন।

এ অবস্থার জন্য সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজ দ্রব্যমূল্যের দাম যেভাবে বেড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন একেবারে অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। এ কারণে ঈদুল আজহা সাধারণ মানুষের জন্য আনন্দের বার্তা নিয়ে আসেনি। এসব কারণে মানুষ ঈদ আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছে না।

বিএনপি সেন্টমার্টিন নিয়ে যে সমস্ত কথা বলছে তা গুজব ছড়ানো হয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্যের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা সবসময় (গণমাধ্যমকর্মী) ওবায়দুল কাদের সাহেবের রেফারেন্স দিয়ে কথা বলেন তো, এটা আমি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করি না। এজন্য পছন্দ করি না যে ওবায়দুল কাদের সাহেবের কথার জবাব দিতে আমার রুচিতে বাধে। যারা রাজনীতি করছেন ক্ষমতায় আছেন যদি সত্যকে উপলব্ধি না করেন, তারা যদি দেশের সমস্যা, গণমানুষের যে আকাঙ্ক্ষা বুঝতে না পারেন, তাহলে তারা কীভাবে শাসক হবেন? এবং আমরা দেখেছি গত দেড় যুগ ধরে এ দখলদার আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের সব আকাঙ্ক্ষাগুলোকে পদদলিত করে দিয়েছে। জনগণের অধিকারগুলোকে ভোটের অধিকারগুলোকে পদদলিত করে দিয়েছে। গণতান্ত্রিক অধিকারগুলোকে পদলিত করে তারা আজকে জোর করে শাসন ব্যবস্থা জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। শুধু তাদের কথার উত্তর দিতে আমাদের ইচ্ছে করে না এ জন্যই জনগণ এখন তাদের পছন্দ করে না। তারা (আওয়ামী লীগ) এটুকু উপলব্ধি করে না যে জনগণ এখন তাদের ঘৃণা করতে শুরু করেছে। কারণ তারা এখন শুধু মিথ্যে কথা বলে, প্রতারণা করে জোর করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে আছে। এজন্যই আওয়ামী লীগ সরকারকে আমরা গুরুত্ব দেই না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, মিয়ানমার ও সেন্টমার্টিনের বর্তমান ইস্যু আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যে যাই বলুক এটাই সত্য যে সেখানে গোলাগুলি হচ্ছে। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের সমস্ত জাহাজগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এই সত্যকে তারা (আওয়ামী লীগ) অস্বীকার করবে কীভাবে। তাদের বিজিবির প্রধান সেখানে যাচ্ছে বারবার। সেনাবাহিনীর প্রধান বারবার বলছেন যে আমরা সতর্ক আছি। তাহলে আমরা (বিএনপি) গুজব ছড়ালাম কোথায়?। এটাতো বাস্তবতা যে সেন্টমার্টিনের সঙ্গে মিয়ানমারের ঘটনাবলির একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। সেই সমস্যার কারণে সেন্টমার্টিনে জাহাজ যেতে পারছে না, খাদ্য যেতে পারছে না। সেখানকার যারা অধিবাসী তারা অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিন পার করছে। তারা নিরাপত্তার অভাববোধ করছে। সেই জিনিসটা (আওয়ামী লীগ) স্বীকার না করে। তারা এই সমস্ত কথা বলছে যেসব কথা ভিত্তিহীন বানোয়াট এজন্যই এ সমস্ত কথা আমরা গুরুত্ব দেই না।

এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন, জেলা যুবদলের সভাপতি মেহেবুল্লাহ আবু নূর চৌধুরীসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



বিশ্রামে থাকতে হবে মির্জা ফখরুলকে

প্রকাশিত:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এর আগে গত বুধবার হৃদরোগের সমস্যায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন তিনি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালে ভর্তির পর মির্জা ফখরুলের হার্টের এনজিওগ্রাম করা হয়। এনজিওগ্রামের রিপোর্ট ভালো আসে। একরাত হাসপাতালে থেকে বৃহস্পতিবার সকালে বাসায় ফেরেন বিএনপি মহাসচিব। রোববারও তার এনজিওম গ্রাম করা হয়েছে। রিপোর্ট ভালো। তবে পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। বর্তমানে বাসায় বিশ্রামে রয়েছেন মির্জা ফখরুল।

এদিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন ও খালেদা জিয়া এখনো সিসিইউ সংবলিত কেবিনে চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন রোববার বিকেলে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, মেডিকেল বোর্ডের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) চিকিৎসা চলছে। মেডিকেল বোর্ড বিদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নেত্রীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি-অবনতি সব পর্যালোচনা করেই চিকিৎসা দিচ্ছেন। তার স্বাস্থ্যের বিভিন্ন পরীক্ষা চলছে। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা এখন দিনে দুই দফা বৈঠক করে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন এবং সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন।

এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো। নতুনভাবে দুই একদিনের মধ্যে আবারও কর্মসূচি ঘোষণার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে আগামীকাল সোমবার রাতে দলের নীতি-নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কর্মসূচি চূড়ান্ত হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।


আরও খবর



চট্টগ্রামে থানার হাজতে আসামির আত্মহত্যা

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
উপজেলা প্রতিনিধি

Image

চট্টগ্রাম চান্দগাঁও থানার হাজতে ডাকাতি ও ছিনতায় মামলায় গ্রেপ্তারের ৬ ঘণ্টার মধ্য মো. জুয়েল (২২) নামে এক আসামীর আত্মহত্যা করেছে। তিনি চান্দগাঁও খেজুরতলা এলাকার মৃত আব্দুল মালেক প্রকাশ আব্দুল মাবুদের ছেলে।

বুধবার (৩ জুলাই) ভোর ৬টা ২৫ মিনিটের দিকে নগরের চান্দগাঁও থানার হাজতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, পরোয়ানা মূলে আসামি জুয়েলকে মঙ্গলবার (২ জুলাই) রাত ১২টার দিকে নগরের কোতোয়ালী থানার পাথরঘাটা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর চান্দগাঁও থানার হাজতে আত্মহত্যা করেছে। ।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে ভোর ৬টা ২৫ মিনিটে আসামি মো. জুয়েল নিজের পরনের শার্ট খুলে হাজতের ভেতরের দেয়ালের উপরের ভেন্টিলেটরের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি এবং অস্ত্র আইনে মোট ৭টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় আমরা জিডি করেছি। ম্যাজিস্ট্রেট এসে সুরতহাল করে লাশের পোস্টমর্টেমের জন্য মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

নিউজ ট্যাগ: চট্টগ্রাম

আরও খবর



লক্ষ্মীপুরে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

Image

লক্ষ্মীপুরে পারিবারিক কলহের জের ধরে গৃহবধূ সালমা আক্তারকে মারধরের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী কামরুল হাসান সুমনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বামী কামরুলকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সকালে সদর হাসপাতাল থেকে তাকে আটক করা হয়।

বুধবার (৩ জুলাই) দিবাগত রাত ৩ টার দিকে সালমাকে মারধর ও পরে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। কামরুলের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে পারিবারিক কলহ থেকেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে পরিবার ও স্থানীয় লোকজন।

সালমা সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের টুমচর গ্রামের আলমগীর হোসেনের মেয়ে। কামরুল একই এলাকার মো. খোকনের ছেলে। তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।

সালমার স্বজনরা জানায়, প্রায় ৪ বছর আগে প্রেম করে কামরুল ও সালমা বিয়ে করে। তাদের বিবাহিত জীবন ভালোই চলছিল। এরমধ্যে গত ৬ মাস আগে টিকটকের মাধ্যমে পরিচিত অন্য এক মেয়েকে কামরুল বিয়ে করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে সালমার সঙ্গে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। এতে কামরুল তাকে নানানভাবে অত্যাচার করতো। বিষয়টি সালমা তার পরিবারকেও জানায়।

তার পরিবারের অভিযোগ, দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে কলহের জের ধরেই কামরুল সালমাকে মারধর করে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

টুমচর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মাকছুদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমি হাসপাতাল যাই। সেখানে সালমার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। পরিবারের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ অভিযুক্ত কামরুলকে আটক করে নিয়ে গেছে।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, সালমার পরিবারের অভিযোগে কামরুলকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তদন্ত করে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজ ট্যাগ: লক্ষ্মীপুর

আরও খবর



যুক্তরাজ্যে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসেই ‘তাপপ্রবাহের’ সতর্কতা!

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

মঙ্গলবার (১৮ জুন) সকালে এই প্রতিবেদন লেখার সময় ঢাকার তাপমাত্রা দেখাচ্ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি নিঃসন্দেহে উষ্ণ আবহাওয়া হলেও গত এপ্রিল-মে মাসের তাপপ্রবাহের তুলনায় যেন কিছুই না। ওই সময় দেশের বিভিন্ন অংশ নিয়মিত ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল। খোদ রাজধানীতেও ৩৭-৩৮ ডিগ্রি ছিল রোজকার তাপমাত্রা।

সেই অভাবনীয় তাপ সহ্য করা মানুষদের সামনে যদি বলা হয়, ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস মানে ভয়ানক গরম, তাহলে হাসি তো আসতেই পারে! কারণ এ দেশে অনেকের এয়ারকন্ডিশনের (এসি) তাপমাত্রাই থাকে ২৪-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ, যুক্তরাজ্যে তার থেকে মাত্র এক ডিগ্রি বেশি তাপমাত্রাকে বলা হচ্ছে ভয়ংকর তাপপ্রবাহ!

গত সপ্তাহে আবহাওয়া সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিররের শিরোনাম ছিল, ইউকে ওয়েদার: ফোরটি এইট আওয়ার টোয়েন্টি সিক্স ডিগ্রি সেলসিয়াস হিটওয়েভ টু হিট অ্যান্ড ফাইভ ইংলিশ সিটিস উইল বি দ্য হটেস্ট। অর্থাৎ যুক্তরাজ্যে ৪৮ ঘণ্টাব্যাপী ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তাপপ্রবাহ আঘাত হানবে এবং ইংল্যান্ডের পাঁচটি শহর থাকবে সবচেয়ে উষ্ণ।

খবরে বলা হয়, জুন মাসের শেষের দিকে যুক্তরাজ্যে একটি তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ওই সময় তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের দিকে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়ার এই পূর্বাভাস সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন অনেকেই, বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষজন। সেখানে উঠে এসেছে মজার মজার সব মন্তব্য।

একজন লিখেছেন, ভারতে এটি (২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এসির তাপমাত্রা। আরেকজন বলেছেন, আমার এসির তাপমাত্রা এখন যুক্তরাজ্যের তাপপ্রবাহের স্তরে রয়েছে। তৃতীয় এক ব্যক্তি লিখেছেন, কারও তাপপ্রবাহ, কারও ঘরের তাপমাত্রা।

দুই অঞ্চলের আবহাওয়ার এমন পার্থক্যের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন কেউ কেউ। যুক্তরাজ্যের শীতপ্রধান আবহাওয়ার কথা উল্লেখ করে এক ব্যক্তি লিখেছেন, সেখানে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে আরামদায়ক উষ্ণতা অনুভূত হবে, কিন্তু ভারতে প্রচণ্ড ঠান্ডা মনে হতে পারে। একইভাবে, ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ভারতে যেমন আনন্দদায়ক, তা যুক্তরাজ্যে একেবারেই অসহনীয়।


আরও খবর



কলড্রপ নিয়ে ১ জুলাই থেকে অ্যাকশন: প্রতিমন্ত্রী পলক

প্রকাশিত:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেছেন, কল ড্রপ এখন একটি নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে অসন্তোষের শেষ নেই। আমরা আগামী জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকেই অ্যাকশনে যাব। কল ড্রপের বিষয়ে কোনো মোবাইল অপারেটর ছাড় পাবে না।

রোববার (৩০ জুন) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আয়োজিত মোবাইল অপারেটরদের সেবার মান সংক্রান্ত বৈঠকে তিনি এমন নির্দেশনা দেন।

পলক বলেন, গ্রাহক পর্যায়ে কল ড্রপের হার কমিয়ে আনার জন্যই আজকে আমরা বৈঠকে বসেছি। সরকার মোবাইল অপারেটরদের যেসব সুবিধা দিয়েছে তার বিপরীতে গ্রাহকরা প্রতিশ্রুত সেবা পাচ্ছেন কি না সেটিই বড় বিষয়। সম্প্রতি বিটিআরসি কল ড্রপ নিয়ে যে পরীক্ষাগুলো করেছে সে রিপোর্ট অনুসারে কোয়ালিটি অব সার্ভিস খুব সন্তোষজনক নয়। মোবাইল ফোন এখন জীবনের একটা অংশ হয়ে গেছে। কিন্তু আমরা দেখছি যে, আমাদের গ্রাহকেরা অনেক ক্ষেত্রেই তাদের সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট নন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে কলড্রপ নিয়ে অপারেটরগুলো থেকে যে তথ্য দিক না কেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না গ্রাহক এবং সাংবাদিকদের কাছ থেকে একটা উল্লেখযোগ্য চিত্র না পাব বা রিক্যাকশন না পাব ততক্ষণ পর্যন্ত শুধু কাগজে-কলমে বা ডিজিটাল উপস্থাপনায় আমি ব্যক্তিগতভাবে সন্তুষ্ট হব না।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের (মোবাইল অপারেটরদের) পরিষ্কার বার্তাটি দেওয়ার জন্য আজ আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমরা একটি স্মার্ট টেলিকম ইকোসিস্টেম বাংলাদেশকে উপহার দিতে চাই। কলড্রপের জন্য গ্রাহকের যে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা সেটা আমরা আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে যাব। যেহেতু আমরা আরও কঠোর অবস্থানে যাব, ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা সেটা যেন করা হয়। সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণটাই আমরা দেওয়ার চেষ্টা করব, যাতে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরগুলো একটা চাপে থাকে যে, তারা যদি সেবা না দেয় তাহলে তাদের আর্থিকভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

পলক আরও বলেন, আমরা মনিটরিং এবং অডিট নিয়মিত করব। বেঞ্চমার্ক যাই থাকুক, কলড্রপ রেট কাগজে-কলমে যাই থাকুক, আমাদের গ্রাহকের সন্তুষ্টির ওপর জোর দেব। ফাইভজি রোল আউটেরও একটা নির্দিষ্ট টার্গেট বিটিআরসি এবং চারটি মোবাইল অপারেটরকে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এয়ারপোর্ট, সি পোর্ট এবং কিছু বিজনেস ডিস্ট্রিক্টস, কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক-শিল্পাঞ্চলে ফাইভজি রোল আউট করা। তারপর গ্র্যাজুয়ালি রোল আউট করা। আমাদের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টের থার্ড টার্মিনাল অক্টোবরে উদ্বোধন হতে পারে। অক্টোবরকে টার্গেট করে চারটি মোবাইল অপারেটরকে একটা চ্যালেঞ্জ দিতে চাই, যেন অক্টোবরের ৩০ তারিখের মধ্যে ফাইভজি ওখানে নিশ্চিত করতে পারে। পাশাপাশি গুলশান, বনানী, মতিঝিল, আগারগাঁও এলাকায় ফাইভজি এনাবল অনেক স্মার্টফোন ব্যবহার করা হয় বেশি। আমার বিশ্বাস এখানেও মনোযোগ দেবে।

অনুষ্ঠানে বিটিআরসি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদসহ গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি এবং টেলিটক অপারেটরদের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর