আজঃ বুধবার ২৫ মে ২০২২
শিরোনাম

দূষণের কবলে হালদা নদী, ঝুঁকিতে মৎস্য প্রজনন

প্রকাশিত:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | ৪০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

চরমভাবে দূষণের শিকার হচ্ছে এশিয়ার একমাত্র মিঠা পানির প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী। প্রতিবছর কার্প জাতীয় রুই, কাতল, মৃগেল, কালি বাউশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মা মাছ ডিম ছাড়ে এ নদীতে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছে, দূষণ অব্যাহত থাকলে শিগগিরই প্রাণ হারাবে হালদা নদী, হ্রাস পাবে মৎস্য প্রজনন।

২০২০ সালে রুই জাতীয় মাছের মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে খ্যাত এ নদীকে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। ফলে হালদার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় ও মানিকছড়ি উপজেলা, চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি, রাউজান, হাটহাজারী উপজেলা এবং পাঁচলাইশ থানার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হালদা নদী এবং নদী তীরবর্তী ৯৩ হাজার ৬১২টি দাগের ২৩ হাজার ৪২২ একর সীমানার হেরিটেজ এলাকায় ১২টি শর্ত আরোপ করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন সচেতনতা ও বিভিন্ন সময় অভিযান চালালেও অনেক জায়গায় মানা হচ্ছে না এসব শর্ত। নদীর পাড়ে অবস্থিত বিভিন্ন বাজার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তদারকির অভাবে দূষিত হচ্ছে এই প্রাকৃতিক সম্পদ।

সরেজমিন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি নারায়ণহাটে নদীর পাড়ে দেখা মেলে ময়লার ভাগাড়ের। বাজারের ময়লা আবর্জনার স্তূপ করে রাখার ফলে বৃষ্টি হলে তা পানির সঙ্গে গড়িয়ে মিশে যাচ্ছে নদীতে। এর ফলে প্রতিনিয়ত দূষণের কবলে পড়ছে এই মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রটি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল নবী বলেন, স্থানীয় বাজারের মানুষ, মুরগির দোকানের উৎকৃষ্টসহ ময়লাগুলো ফেলে থাকে। আমার দোকান এই ময়লার স্তুপের পাশে হওয়াতে দোকানে অবস্থান করা অসহনীয় হয়ে পড়েছে। অনেকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও কেউ মানছে না তা। গিয়াস উদ্দিন নামে এক পথচারী জানান, প্রতিদিন সকালে বাজার পরিষ্কার করার পর বর্জ্যগুলো এখানে এনে ফেলে যায়। বাজারের বিষাক্ত বর্জ্য পানির সাথে মিশে আশে-পাশের পরিবেশ ও পানি দূষিত হয়ে উৎকট দুর্গন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে। উৎকট দুর্গন্ধের কারণে এ সময় শীতলক্ষ্যার তীরে দাঁড়িয়ে থাকাই দুরূহ হয়ে পড়েছে। নাকে রুমাল চেপে ধরে খেয়া পারাপার হতে হচ্ছে।

নারাণহাট বাজার ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি মাস্টার আবু তাহের চৌধুরীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরা এ বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম তারা কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আমাদের কিছু করার নেই। নারায়ণহাট বাজারের ইজারাদার মাস্টার মাহবুবুল আলাম বলেন, আমরা চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছি এটার জন্য আলাদা জায়গা ব্যবস্থা করছি সেখানে থেকে সরিয়ে অন্যত্রায় ফেলার ব্যবস্থা করব।

নারায়নহাট ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর মাহমুদ চৌধুরী জানান, আমি উপজেলার সমন্বয় সভায় প্রথম মিটিংয়ে এটি উপস্থাপন করেছি এবং ইউএনও সাহেবকে জানিয়েছি আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করছি আশা করছি দ্রুত সময়ে আলাদা একটি ময়লার ডাম্পিং এর ব্যবস্থা করবো।

এ বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহিনুল হাসান বলেন, আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দিয়েছি। উনি আমাদের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত সময়ে এটি পরিষ্কার করে ময়লা ফেলার একটি ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করবে।

নিউজ ট্যাগ: হালদা নদী

আরও খবর



সহিংসতার মধ্যেও শ্রীলঙ্কায় যেতে চায় অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১১ মে ২০২২ | ৩৯০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

শ্রীলঙ্কায় চলমান সহিংসতায় নিবিড় পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড। তবে এই সহিংসতার মধ্যেও শ্রীলঙ্কা সফরের ব্যাপারে পূর্ণ আশাবাদী তারা। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বাস, পূর্ব নির্ধারিত সূচিতেই হবে তাদের শ্রীলঙ্কা সফর। সোমবার (৯ মে) রাতে বিক্ষোভকারীদের হামলার পর পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকশে। গত কয়েক মাস ধরেই অর্থনৈতিক মন্দার কারণে অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে শ্রীলঙ্কায়। এরই মধ্যে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে তারা।

রাজাপাকশের পদত্যাগের পর সরকারি সমর্থকরা বিক্ষোভকারীদের ওপর পাল্টা হামলা করেন। যার ফলে সারা দেশে কারফিউ জারি করে রাজধানী কলম্বোয় আর্মি মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, এই সহিংসতায় এরই মধ্যে চারজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এমতাবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, অস্ট্রেলিয়া দল সফরের জন্য রাজি হবে তো? কেননা এর আগে নিরাপত্তার কারণে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সফরসহ বেশ কয়েকটি ভিন্ন সফর বাতিল ও স্থগিতের নজির রয়েছে তাদের।

তবে এবার ভিন্ন অবস্থানে অসিরা। শ্রীলঙ্কায় এখন সহিংসতা চললেও, সফরের ব্যাপারে আশাবাদী তারা। আগামী ৭ জুন থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত শ্রীলঙ্কায় তিন টি-টোয়েন্টি, পাঁচ ওয়ানডে ও দুই টেস্ট খেলার কথা রয়েছে অসিদের। শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য এরই মধ্যে ভিন্ন সিরিজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। এই সফরে কলম্বোয় ১৬ দিন থাকতে হবে অস্ট্রেলিয়া দলকে। আর মূলত কলম্বোতেই চলছে মূল সহিংসতা। তবু সফরের ব্যাপারে আশাবাদী বোর্ডের কর্মকর্তারা।

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকেটডটকমডটএইউ তাদের প্রতিবেদনে জানাচ্ছে, গত মাসে অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই শ্রীলঙ্কা সফর করেছিলেন বোর্ডের নিরাপত্তা প্রধান স্টুয়ার্ট বেইলি। তার কাছে শ্রীলঙ্কাকে সফরের জন্য নিরাপদই মনে হয়েছে। তবে এখন নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়ায় শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি সামনে এলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে তারা। তাই এ সফরের ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়া আশাবাদী হলেও, একপ্রকার অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

শ্রীলঙ্কা সফরে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড: অ্যারন ফিঞ্চ (অধিনায়ক), শন অ্যাবট, অ্যাশটন অ্যাগার, জশ হ্যাজলউড, জশ ইংলিস (উইকেটরক্ষক), মিচেল মার্শ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ঝাই রিচার্ডসন, কেইন রিচার্ডসন, স্টিভেন স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, মার্কাস স্টয়নিস, মিচেল সুয়েপসন, ডেভিড ওয়ার্নার ও ম্যাথু ওয়েড (উইকেটরক্ষক)।

শ্রীলঙ্কা সফরে অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে স্কোয়াড: অ্যারন ফিঞ্চ (অধিনায়ক), অ্যাশটন অ্যাগার, অ্যালেক্স ক্যারে (উইকেটরক্ষক), প্যাট কামিন্স, ক্যামেরন গ্রিন, জশ হ্যাজলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস (উইকেটরক্ষক), মার্নাস লাবুশেন, মিচেল মার্শ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, স্টিভেন স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, মার্কাস স্টয়নিস, মিচেল সুয়েপসন ও ডেভিড ওয়ার্নার।

শ্রীলঙ্কা সফরে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট স্কোয়াড: প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), অ্যাশটন অ্যাগার, স্কট বোল্যান্ড, অ্যালেক্স ক্যারে, ক্যামেরন গ্রিন, জশ হ্যাজলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস (উইকেটরক্ষক), উসমান খাজা, মার্নাস লাবুশেন, নাথান লিয়ন, মিচেল মার্শ, স্টিভেন স্মিথ (সহ-অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, মিচেল সুয়েপসন ও ডেভিড ওয়ার্নার।


আরও খবর



রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আজ ১৬১তম জন্মবার্ষিকী

প্রকাশিত:রবিবার ০৮ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৮ মে ২০২২ | ৪৭০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আজ ২৫ বৈশাখ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্মবার্ষিকী। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের (৭ মে ১৮৬১ খিষ্টাব্দ) এ দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা সাহিত্যের অনন্য ব্যক্তিত্ব ও কালজয়ী এ কবি।

মানবতার সংকট ও রবীন্দ্রনাথ স্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে এ বছর জাতীয় পর্যায়ে বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকী উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে সরকার।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বসাহিত্যের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ প্রতিভাদের একজন। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে যার অবদান অসামান্য। তার হাত ধরেই বাংলা সাহিত্য পায় নতুন রূপ। ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মননশীলতা দিয়ে বিশ্ব অঙ্গনে বিরল সম্মান আর্জন করেন তিনি।

বাল্যকালে প্রথাগত বিদ্যালয়-শিক্ষা তিনি গ্রহণ করেননি; গৃহশিক্ষক রেখে বাড়িতেই তার শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা-এ তার অভিলাষ কবিতাটি প্রকাশিত হয়। এটিই ছিল তার প্রথম প্রকাশিত রচনা।

১৮৭৮ সালে মাত্র সতেরো বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ প্রথমবার ইংল্যান্ডে যান। ১৮৮৩ সালে মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে তার বিবাহ হয়। ১৮৯০ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গের শিলাইদহের জমিদারি এস্টেটে বসবাস শুরু করেন। ১৯০১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯০২ সালে তার পত্নীবিয়োগ হয়।

১৯০৫ সালে তিনি বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করে। কিন্তু ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি সেই উপাধি ত্যাগ করেন।

১৯২১ সালে গ্রামোন্নয়নের জন্য তিনি শ্রীনিকেতন নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘজীবনে তিনি বহুবার বিদেশ ভ্রমণ করেন এবং সমগ্র বিশ্বে বিশ্বভ্রাতৃত্বের বাণী প্রচার করেন। ১৯৪১ সালে দীর্ঘ রোগভোগের পর কলকাতার পৈত্রিক বাসভবনেই তার মৃত্যু হয়।

রবীন্দ্রনাথের কাব্যসাহিত্যের বৈশিষ্ট্য ভাবগভীরতা, গীতিধর্মিতা চিত্ররূপময়তা, অধ্যাত্মচেতনা, ঐতিহ্যপ্রীতি, প্রকৃতিপ্রেম, মানবপ্রেম, স্বদেশপ্রেম, বিশ্বপ্রেম, রোম্যান্টিক সৌন্দর্যচেতনা, ভাব, ভাষা, ছন্দ ও আঙ্গিকের বৈচিত্র্য, বাস্তবচেতনা ও প্রগতিচেতনা। রবীন্দ্রনাথের গদ্যভাষাও কাব্যিক।

ভারতের ধ্রুপদি ও লৌকিক সংস্কৃতি এবং পাশ্চাত্য বিজ্ঞানচেতনা ও শিল্পদর্শন তার রচনায় গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। কথাসাহিত্য ও প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে নিজ মতামত প্রকাশ করেছিলেন। সমাজকল্যাণের উপায় হিসেবে তিনি গ্রামোন্নয়ন ও গ্রামের দরিদ্র জনসাধারণকে শিক্ষিত করে তোলার পক্ষে মতপ্রকাশ করেন।

পাশাপাশি সামাজিক ভেদাভেদ, অস্পৃশ্যতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধেও তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন- রবীন্দ্রনাথের দর্শনচেতনায় ঈশ্বরের মূল হিসেবে মানব সংসারকেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে; রবীন্দ্রনাথ দেববিগ্রহের পরিবর্তে কর্মী অর্থাৎ মানুষ ঈশ্বরের পূজার কথা বলেছিলেন। সংগীত ও নৃত্যকে তিনি শিক্ষার অপরিহার্য অঙ্গ মনে করতেন।

রবীন্দ্রনাথের গান তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি। তার রচিত আমার সোনার বাংলাজনগণমন-অধিনায়ক জয় হে গানদুটি যথাক্রমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীত। এছাড়া শ্রীলঙ্কার জাতীয় সঙ্গীতের কথাও তার গানের অনুবাদ।


আরও খবর



সবাই ভাবত খারাপ কাজ করি: এনা সাহা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৬ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৬ এপ্রিল ২০২২ | ৪৯০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

টলিউডের তরুণ অভিনেত্রী এনা সাহা। ছোটবেলা থেকেই শুরু করেছিলেন অভিনয়। বড় হওয়ার পর বেশ কয়েকটি সফল সিনেমায় কাজ করেছেন। কিছুদিন আগে শুরু করেছেন প্রযোজনাও। অল্প বয়সেই তিনি নিজেকে নানাবিধ পরিচয়ে মেলে ধরছেন। এনার বর্তমান অবস্থা দেখে অনুপ্রাণিত আরও অনেকে। কিন্তু তার ফেলে আসা দিনগুলো সহজ ছিল না। যখন অভিনয় শুরু করেছিলেন, তখন অনেকেই ভাবত তিনি খারাপ কাজ করেন। এজন্য তার সঙ্গে মিশতে চাইত না।

সম্প্রতি দিদি নাম্বার ওয়ান অনুষ্ঠানে এসে এনা সাহা নিজেই এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, খুব ছোট থেকেই অভিনয়ে। অভিভাবকেরা বুঝতে পারতেন না, এটা আমার পেশা। ভাবতেন, খারাপ কোনও কাজ করছি। তাই তাদের মেয়েদের মিশতে দিতেন না আমার সঙ্গে।

এ কারণে ছোটবেলায় এনার কোনো বন্ধু ছিল না। সে সময় একমাত্র পরিবারই তার পাশে ছিল। বিশেষ করে মায়ের শতভাগ সমর্থন পেয়েছিলেন অভিনেত্রী।

দিদি নাম্বার ওয়ানে এনার মা বনানী সাহা জানান, ছোটবেলা থেকে তার বড় মেয়ে নাচের অনুষ্ঠান করত। সেখান থেকেই ইন্ডাস্ট্রির নজরে আসে এনা। প্রযোজকরা বনানীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এনাকে অভিনয়ে আনার জন্য। ২০১১ সালে সিনেমায় কাজ শুরু করেছিলেন এনা। তবে পরিচিতি পান ২০১২ সালের বোঝে না সে বোঝে না সিনেমায় অভিনয় করে। এরপর তার ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে চিরদিনই তুমি যে আমার ২, রাজকাহিনী, ভূত চতুর্দশী, এসওএস কলকাতার মতো জনপ্রিয় সিনেমাগুলো। একসময় তার কোনো বন্ধু না থাকলেও এখন অনেকেই তার বন্ধু হতে চান, প্রেমিক হতে চান। ভালোবাসা দিবসে নাকি তাকে একসঙ্গে ১৪ হাজার ছেলে ভালোবাসি বলেছিল। অভিনেত্রীর ভাষ্য, যা হয়, তা ভালোর জন্যই হয়।

সম্প্রতি এনা অভিনয় করেছেন চিনে বাদাম নামের একটি সিনেমায়। এতে তার নায়ক যশ দাশগুপ্ত। সিনেমাটি প্রযোজনাও করছেন এনা। এছাড়া মাস্টার মশাই আপনি কিছু দেখেননি নামে আরেকটি সিনেমাও প্রযোজনা করছেন অভিনেত্রী।

নিউজ ট্যাগ: এনা সাহা

আরও খবর



জুম ভূমিতে অগ্নিসংযোগ

বান্দরবানে ভয়াবহ খাদ্য সংকটে তিন পাড়ার মানুষ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | ৪৩০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বান্দরবানে জমি ইজারা নেয়া হয়েছে এমন দাবিতে ৪০০ একর পাহাড়ি ভূমি পুড়িয়ে দিয়েছে লামা রাবার কোম্পানি নামে একটি প্রতিষ্ঠান। যেখানে জুম চাষ করে জীবন ধারণ করত তিনটি পাড়ার শতাধিক মানুষ। জুমের জমির সঙ্গে আগুনে পুড়েছে স্থানীয় অধিবাসীদের ফলদ বাগান, বনজ গাছ, বাঁশবাগান। শুকিয়ে গেছে লাংকমপাড়ার ঝিরির পানি। ফলে ভয়াবহ খাদ্য ও পানীয় সংকটে পড়েছে স্থানীয়রা। অন্যদিকে রাবার কোম্পানির হুমকির কারণে পাড়া থেকে বেরিয়ে কাজের সন্ধানে যেতে পারছে না পুরুষরা। এ অবস্থায় কোনোমতে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে ডলুছড়ি মৌজার লাংকমপাড়া, রেংয়ানপাড়া ও জয়চন্দ্র ত্রিপুরা পাড়ার মানুষ। কোনো ত্রাণসহায়তা পায়নি বলেও জানিয়েছে তারা।

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ডলুছড়ি মৌজার জমিতে মূলত ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সদস্যরা জুম চাষ করে। জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে ডলুছড়ি মৌজার প্রায় ৪০০ একর জমি ইজারা নেয়া হয়েছে বলে দাবি জানায় লামা রাবার কোম্পানি। সে সময় কোম্পানির প্রকল্প পরিচালক (পিডি) পরিচয় দেয়া কামাল উদ্দিন ও তার লোকজন স্থানীয়দের নানা ভয়ভীতি দেখায় ও মিথ্যা মামলা দেয়। সর্বশেষ গত ২৬ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে ১৫-২০ জন লোক লামা রাবার কোম্পানির পরিচয়ে প্রায় ৪০০ একর ভূমি আগুনে পুড়িয়ে দেয়। আগুন ধরাতে কোরোসিন, রাবার ও চপ্পল ব্যবহার করা হয়। আগুনে তিন পাড়াবাসীর কবরস্থানসহ জুম ভূমিতে চাষ করা ফলের বাগান, বিভিন্ন গাছ, বাঁশবাগান পুরোপুরি পুড়ে গেছে। এছাড়া বুনো মুরগি, সাপ, কাঁকড়া, নানা প্রজাতির পাখির ছানা, মুরগি ও পাখির ডিম, ছোট-বড় নানা প্রজাতির অগণিত বন্যপ্রাণীরও মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সেদিন দুপুরেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। জুম ভূমিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি মামলাও হয়েছে। লাংকমপাড়ার কারবারি লাংকম ম্রো বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে এ মামলা করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, তিনটি পাড়াঘেঁষে বিশাল এলাকাজুড়ে পাহাড়ি ভূমি ছাইয়ে ঢাকা। প্রাণপ্রকৃতির কোনো চিহ্ন সেখানে নেই। ইজারার দাবিতে এসব পাহাড় পুড়িয়ে দেয়া হলেও লিজের শর্তানুযায়ী জমির সীমানা চিহ্ন হিসেবে পাহাড়ি ভূমির কোথাও চার ফুট উঁচু মাটির ঢিবি ও ঢিবির ওপর ছয় ফুট উঁচু কংক্রিটের খুঁটি দেখা যায়নি। আবার ইজারা নেয়া জমি আগুনে পুড়িয়ে দেয়া যাবে এমন কোনো শর্তও চুক্তিতে নেই।

রেংয়ানপাড়ার কারবারি (পাড়াপ্রধান) রেংয়ান ম্রো বলেন, লামা রাবার কোম্পানি জুম ভূমি পুড়িয়ে দেয়ার পর থেকে ১১টি পরিবার দিনে একবেলা খেয়ে কোনোভাবে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে পরিবারগুলো বিপাকে পড়েছে। পাড়ার সবাই সম্মিলিতভাবে খুঁজে যে জংলি আলু পাচ্ছে, তা-ই ভাগ করে খাওয়া হচ্ছে। কোনো রকমে শাকপাতা সেদ্ধ করে খেয়ে দিন কাটছে। এ কষ্টকে সীমাহীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন কষ্টে আগে কখনো পড়তে হয়নি।

পাড়াগুলো ঘুরে দেখার সময় বেশির ভাগ বাড়ি থেকে শিশুদের কান্নার শব্দ ভেসে আসতে শোনা যায়। কারণ জানতে চাইলে লাংকমপাড়ার রেংচ্যং ম্রো জানালেন, শিশুরা ক্ষুধায় কাতর। কোনো কোনো বাড়িতে শিশু অসুস্থ হলেও অর্থাভাবে চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না। ইংচং ম্রো বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর লামা রাবার কোম্পানির লোকজন নানা হুমকি দিচ্ছে। এমনকি হত্যার হুমকিও দেয়া হচ্ছে। পাড়া থেকে ক্যজু বাজার সড়কের জনশূন্য এলাকায় লামা রাবার কোম্পানির লোকজন দলবদ্ধ হয়ে পাহারা দিচ্ছে। এজন্য প্রাণভয়ে কেউ পাড়ার বাইরে বের হয়ে কাজ করতে যাওয়ার সাহস করছেন।

পাড়াগুলোর কারবারি ও অধিবাসীদের অভিযোগ, লামা রাবার কোম্পানির লোকজন লাঠি, দাসহ নানা ধরনের দেশী অস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায়। এজন্য পাড়াবাসী পাড়ার বাইরে যেতে সাহস পাচ্ছে না। লামা রাবার কোম্পানির নানা হুমকির ভয়ে গত দুই বছরের নানা সময়ে রেংয়ানপাড়ার লাঙান ম্রো, প্রচ্যং ম্রো, রেংয়ুং ম্রো, রেংনত ম্রো, সিংচং ম্রো, লাংকমপাড়ার পারিং ম্রো, মেনরুম ম্রো ও জয়চন্দ্র পাড়ার যোগেশ ত্রিপুরা, দুনিজন ত্রিপুরা, যোগেন ত্রিপুরা, পিতর ত্রিপুরা পরিবার নিয়ে পাড়া ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

ডলুছড়ি মৌজার হেডম্যান যোহন ত্রিপুরা বলেন, অনেক বছর ধরে তিন পাড়াবাসী জুমচাষসহ নানা আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। ১৯৮৮-৮৯ সালে রাবার বাগান সৃজনের জন্য ডলুছড়ি মৌজায় ২৫ একর করে ৬২ জনের নামে মোট ১ হাজার ২০০ একর জমি ইজারা দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। কিন্তু লামা রাবার কোম্পানির নামে সরকারি তৌজিতে কোনো নথিপত্র নেই।

তবে আগুনে পোড়ানোসহ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লামা রাবার কোম্পানির পিডি কামাল উদ্দিন। ইজারার দাবির পক্ষে তিনি বলেন, এত বড় জায়গায় চার ফুট উঁচু মাটির ঢিবি ও ঢিবির ওপর ছয় ফুট উঁচু কংক্রিটের খুঁটি দেয়া অনেক টাকার ব্যাপার। সে কারণেই দেয়া হয়নি।

তিন পাড়ার খাদ্য সংকট বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিংয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তীবরীজি। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। অনুমোদন হয়ে এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ওই জমি লামা রাবার কোম্পানির নামে ইজারা দেয়া আছে কিনা তা খতিয়ে দেখে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজ ট্যাগ: বান্দরবান

আরও খবর



ঈদের ছুটিতে খোলা কাস্টমস হাউস

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৮ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৮ এপ্রিল ২০২২ | ৪৮৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম গতিশীল রাখতে ও বাণিজ্যবান্ধব রাজস্ব পরিবেশ নিশ্চিতে আসন্ন ঈদুল ফিতরে ছুটির ৬ দিন দেশের কাস্টমস হাউসগুলো খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সে হিসাবে ঈদের দিন ছাড়া ২৯ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত কাস্টমস হাউসগুলোতে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কার্যক্রম চলমান থাকবে। বুধবার (২৭ এপ্রিল) এনবিআরের পরিচালক (জনসংযোগ) সৈয়দ এ মুমেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এনবিআর জানায়, দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়ন ও বাণিজ্যবান্ধব রাজস্ব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২৯ এপ্রিল (শুক্রবার) থেকে ৪ মে (বুধবার) পর্যন্ত (ঈদের দিন ছাড়া) সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাস্টমস হাউসগুলোতে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিত আকারে চলমান থাকবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২ বা ৩ মে দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। এ বছর ঈদের ছুটি ২, ৩ ও ৪ মে। তার আগে ১ মে রোববার মে দিবসের ছুটি। তার আগের দুদিন শুক্র ও শনিবার। ফলে ঈদের ছুটি শুরু হবে ২৯ এপ্রিল থেকে। ওইদিন থেকে বুধবার পর্যন্ত ৬ দিন টানা ছুটি।

গত ১২ এপ্রিল পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ ঈদের ছুটিতে কাস্টমস হাউস ও শুল্কস্টেশন খোলার অনুরোধ করে এনবিআরকে চিঠি পাঠায়। বিজিএমইএ-এর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েই দেশের সিংহভাগ আমদানি-রপ্তানি হয়। এরপরেই বেনাপোল কাস্টমস হাউস দিয়ে বেশি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম হয়। ঈদের বন্ধের সময় এই দুটি কাস্টমস হাউসের পাশাপাশি ঢাকা, মোংলা, কমলাপুর আইসিডি ও পানগাঁও কাস্টমসও খোলা থাকবে বলে জানা গেছে।

নিউজ ট্যাগ: কাস্টমস হাউস

আরও খবর
যশোরে ১০ ঢাকায় ৮০

বুধবার ২৫ মে ২০২২