আজঃ বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪
শিরোনাম

ঢাকায় পৌঁছেছেন ভুটানের রাজা

প্রকাশিত:সোমবার ২৫ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৫ মার্চ ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগুয়েল ওয়াংচুক। সোমবার (২৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে বিশেষ ফ্লাইটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিনি।

মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল বন্ধুরাষ্ট্র ভুটান। সময়ে-অসময়ে বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব আবারও এলেন বাংলাদেশে। প্রায় এক যুগ পর স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দিতেবাংলাদেশ সফরে এসেছেন ভুটানের রাজা।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগুয়েল ওয়াংচুক চার দিনের বাংলাদেশ সফর এসেছেন মূলত স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে। এর পাশাপাশি উচ্চপর্যায়ের বেশ কয়েকটি বৈঠকেও অংশ নেবেন তিনি।

এই সফরে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করবেন ভুটানের রাজা। স্বাক্ষর হতে পারে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগসহ অন্তত তিনটি সমঝোতা স্মারক।


আরও খবর



সৌদি পৌঁছেছেন ২৪ হাজার ২৩৬ জন হজযাত্রী

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৭ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৭ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

Image

পবিত্র হজ পালন করতে চলতি বছর এখন পর্যন্ত (১৬ মে রাত ১টা ৫৯ মিনিট) সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ২৪ হাজার ২৩৬ জন হজযাত্রী। মোট ৬১টি ফ্লাইটে তারা সৌদিতে পৌঁছান। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৭৪৭ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী ২০ হাজার ৪৮৯ জন। এখন পর্যন্ত ৭৯ হাজার ৯০১ টি ভিসা ইস্যু করা হয়েছে।

হজ সম্পর্কিত সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এয়ারলাইন্স, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হজ অফিস ঢাকা এবং সৌদি আরব সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে হেল্পডেস্ক।

হেল্পডেস্কে তথ্যমতে, ৬১টি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২১টি, সৌদি এয়ারলাইনসের ২০টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২০টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

গত ৯ মে বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট ৪১৫ জন হজযাত্রী নিয়ে সৌদির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এর মাধ্যমেই চলতি বছরের হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। যা শেষ হবে ১০ জুন।

এ বছর হজে যেতে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গাইডসহ হজ পালনে সৌদি আরব যাবেন ৮৫ হাজার ১১৭ জন। এর মধ্যে সরকারিভাবে নিবন্ধন করেছেন ৪ হাজার ৩২৩ জন। আর বেসরকারিভাবে নিবন্ধন করেছেন ৭৮ হাজার ৮৯৫ জন। প্রতি প্রতি ৪৪ জনে একজন করে গাইড হিসাবে ১ হাজার ৮৯৯ জন হজযাত্রীদের সঙ্গে যাবেন।

সৌদি আরবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী হজ এজেন্সির সংখ্যা ২৫৯টি। হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে ৯ মে। শেষ হজ ফ্লাইট ১০ জুন। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ২০ জুন আর শেষ ফিরতি ফ্লাইট ২২ জুলাই।


আরও খবর



ফারাক্কা চুক্তির ২৮ বছর: মিলছে না পানির ন্যায্য হিস্যা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৬ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৬ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

Image

ফারাক্কা চুক্তির ২৮ বছর পরও পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ। শুকনো মৌসুমে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী হার্ডিঞ্জ সেতুর উজান ও ভাটিতে পদ্মার পানির স্তর নেমে যাওয়ায় এ অঞ্চলে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এক সময়ের প্রমত্তা পদ্মা পরিণত হয়েছে ছোট নদীতে। মৃত্যু ঘণ্টা বেজেছে এই অঞ্চলের সুতা নদী, কমলা নদী, ইছামতি নদী ছাড়াও আরও অন্তত ১৭টি নদীর।

ভারতের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি হয়েছিল সেই ১৯৯৬ সালে। এরই মধ্যে জলবায়ুর পরিবর্তন হয়েছে, পানির চাহিদা বেড়েছে এবং অনেক কিছুই পরিবর্তন হচ্ছে। তাই পদ্মাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে এবং এ অঞ্চলের মানুষকে বাঁচাতে গঙ্গা পানি চুক্তি রিভিউ করতে হবে। এবারের ফারাক্কা দিবসের প্রাক্কালে এমন দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশীতে নদী গবেষক ও বিশ্লেষক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, নদীকে নদীর মত করে বাঁচতে না দিলে প্রাণ-প্রকৃতি ক্রমেই ধ্বংস হয়ে যাবে। এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পৃথিবী। গঙ্গা পানি চুক্তি রিভিউ করে তা বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন গবেষক ও পরিবেশবিদরা।

তাদের মতে, পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পদ্মাসহ সকল শাখা নদী এখন মৃতপ্রায়। ফলে বছরের পর বছর ধরে হুমকির মুখে পড়ে আছে পদ্মার দুই পাড়ের পরিবেশ ও জৈববৈচিত্র। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও হাইড্রোলজি বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতীয় প্রতিনিধি দল এ বছর খরা ও অনাবৃষ্টির ফলে ফারাক্কায় পানির প্রবাহ কমে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন। ঈশ্বরদীর পাকশী পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মায় পানির প্রবাহও কমেছে একই কারণে।

বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে মরুময়তার হাত থেকে রক্ষার জন্য ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৩০ বছরের পানি চুক্তি হয়। সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেব গৌড় ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে হায়দ্রাবাদ হাউজে ঐতিহাসিক ৩০ শালা পানি চুক্তি হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশকে প্রতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৩৫ হাজার কিউসেক পানি দেয়ার কথা।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ২৯ হাজার ১৬৯ কিউসেক। তার আগের দিন মঙ্গলবার এখানে পানি পাওয়া গেছে ২৬ হাজার ৬৫৬ কিউসেক।

পাবনা হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রইচ উদ্দিন জানান, বুধবার ভারতীয় নদী কমিশনের সদস্য ও নির্বাহী প্রকৌশলী অপর্ভা রাজ ও সুদীপ্তা মাহান্তিসহ ভারতীয় প্রতিনিধি দল পদ্মা নদীর পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও সরেজমিনে পানি পরিমাপ করেছেন। আগামী ৩১ মে পর্যন্ত প্রতিদিন তারা পনির প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানান। তিনি বলেন, পানির প্রবাহ প্রতিদিনই একটু একটু করে বাড়ছে।

ভারতীয় নদী কমিশনের সদস্য ও নির্বাহী প্রকৌশলী অপর্ভা রাজ বলেন, পানি কমের কারণে এখন ফারাক্কা প্রান্তে যে পানি প্রবাহ হচ্ছে তা দুই ভাগে ভাগ করে অর্ধেক বাংলাদেশে দেয়া হচ্ছে।

পরিবেশবিদ ও সরকারী এডওয়ার্ড কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর শাহনেওয়াজ সালাম বলেন, পরিবেশ ও জৈববৈচিত্র এখনো হুমকির মুখে। এসব থেকে রক্ষা পেতে আমার মনে হয় নতুন করে গঙ্গার পানি চুক্তি হওয়া দরকার।

উত্তরাঞ্চলীয় পানি পরিমাপ বিভাগ ও পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ১৯৯৬ সালের চুক্তি অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশকে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি দেয়ার কথা। সে অনুযায়ী বর্তমানে আমরা কম পানি পাচ্ছি।


আরও খবর



ভোটের আগের দিন বাগেরহাটের দুই ওসি প্রত্যাহার

প্রকাশিত:সোমবার ২০ মে ২০24 | হালনাগাদ:সোমবার ২০ মে ২০24 | অনলাইন সংস্করণ
বাগেরহাট প্রতিনিধি

Image

বাগেরহাটে ফকিরহাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি স্বপন রায় ও ফকিরহাট থানার ওসি আশরাফুল আলমকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করার আদেশ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন।

সোমবার (২০ মে) বিকেলে নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মিজানুর রহমান স্বাক্ষতির এক পত্রে এই আদেশ দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ সাধারণ নির্বাচন-২০২৪ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট মডেল থানার ওসি আশরাফুল আলম এবং বাগেরহাট জেলার ডিবির ওসি স্বপন রায়কে খুলনা রেঞ্জে সংযুক্ত করতে বলা হয়েছে।

ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার স্থলে নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিতেও নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

মন্ত্রীপরিষদ সচিব, মহাপুলিশ পরিদর্শক ছাড়াও নির্বাচন কমিশনের ওই চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার ও নির্বাচন কর্মকর্তাকেও।

এর আগে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফকিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি রাতের আঁধারে কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন মোটরসাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ ওয়াহিদুজ্জামান (বাবু)।

দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে শেখ ওয়াহিদুজ্জামান রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ করেন।

লিখিত অভিযোগে শেখ ওয়াহিদুজ্জামান উল্লেখ করেন, শনিবার (১৮ মে) গভীর রাতে ফকিরহাট মডেল থানার ওসি আশরাফুল আলম ও জেলা ডিবির ওসি স্বপন রায় তাঁর একনিষ্ঠ তিন কর্মীর বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

দুই পুলিশ কর্মকর্তা মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রতিপক্ষ প্রার্থীর আনারস প্রতীকের পক্ষে কাজ করার অথবা বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এতে কর্মীদের পরিবারের সদস্য এবং নিজ নিজ এলাকার সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নিরপেক্ষ ভোট প্রদানে প্রভাব পড়েছে বলে জানান অভিযোগকারী।

চিঠি পাওয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেলুর রহমান বলেন, ওই দুই ওসিকে প্রত্যাহার করে রেঞ্জ কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।


আরও খবর



কলাপাড়ায় মুরগি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা নিয়ে উধাও প্রতারক চক্র

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৬ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৬ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
সাইফুল ইসলাম, কলাপাড়া(পটুয়াখালী)

Image

হাজার টাকা দিলেই মিলবে হাইব্রীড জাতের ১৬টি মুরগি। আর ১শ টাকা কিস্তি দিলে পাওয়া যাবে ১টি করে মুরগি পালনের দোতালা কাঠের ঘর। এমনকি গ্রুপের দায়িত্বে থাকা নারী নেত্রী পাবেন প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা। ঠিক এমনই মিথ্যা প্রলোভনে পড়ে লাখ লাখ টাকা হারিয়েছেন শতাধিক গ্রামীণ গৃহবধূরা।

তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ঠিক কত টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে চক্রটি তা এখনো নিরুপন করা সম্ভব হয়নি।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পল্লীগ্রাম মুরগি ফার্ম এন্ড হ্যাচারী নামের একটি প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত হয়েছে শাতাধিক নারী উদ্যোক্তারা। মাত্র এক সপ্তাহ সময়ের মধ্যে উপজেলার লতাচাপলী ইউপির একাধিক গ্রাম থেকেই কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্রটি। চক্রটির কোম্পানীর লিফলেটে দেওয়া ঠিকানায় নাম লেখা রয়েছে ঝালকাঠির সালমা খাতুনের পল্লীগ্রাম হ্যাচারী। তবে সরেজমিনে অনুসন্ধ্যান করে নিবন্ধনহীন এই পল্লীগ্রাম হ্যাচারীর কোন অস্তিত্ব মেলেনি।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, নাম পরিচয়হীন দুজন মাঠকর্মী পল্লীগ্রামের লিফলেট আর একটি মাত্র ভিজিডিং কার্ড দিয়েই নিয়ে গেছে গ্রামীণ জেলেবধূদের কষ্টার্জিত রসদ। মিষ্টি কথায় মন গলিয়ে মুরগি দেওয়ার নামে মোবাইল ফোনে দুই দফা সময় বেঁধে দিলেও এখন বন্ধ রয়েছে ফোন নম্বরসহ সকল যোগাযোগ ব্যবস্থা।

আর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবী, মুরগি দেওয়ার নামে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ঠিক কত লাখ টাকা হাতিয়েছে হায় হায় কোম্পানি তা সবারই অজানা। তবে পরিসংখ্যাান বলছে, কেবল লাতাচাপলীর ৬ গ্রাম থেকেই প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।

লাতাচাপলী ইউপির মম্বিপাড়া গ্রামের জেলেবধূ তানিয়া বলেন, ভিআইপি পোশাক পরিহিত দুই ব্যক্তি প্রথমে আমাদের গ্রামে এসে আমাকে মুরগি দেওয়ার কথা বলে একটি গ্রুপ সৃষ্টি করে। আর সেই গ্রুপের সভানেত্রীর দায়িত্বও আমাকে দেন তারা। কথা ছিল নেত্রী হিসেবে প্রতি মাসে ৫ হাজার করে বেতন দেবে আমাকে। পরে আমার গ্রুপের ৪০ জনের কাছ থেকে ৫শ করে টাকা তুলে দিতে বলে প্রথম ধাপে মুরগি এবং ঘরের জন্য। কিন্তু বুজতে পারিনি যে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাবে এই প্রতারকরা।

হুইসেন পাড়ার বাসীন্দা জাকির হোসেন বলেন, একই ভাবে মাহাফুজাকে সভানেত্রী করে তার এলাকা থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা। একই চিত্র তাহেরপুর, কচ্ছপখালী এলাকার। অপরদিকে জেলে নাসীরের অভিযোগ, চাকামইয়া তার শশুরবাড়ি এলাকা থেকেও বিপুল অর্থ হাতিয়েছে চক্রটি।

এদিকে কলাপাড়া পৌর শহরে অবস্থিত প্রাণিসম্পদ কার্য়ালয়ের সামনে অস্তিত্বহীন নাম সর্বস্ব এই হ্যাচারীর অস্থায়ী ভাড়া অফিসে গিয়েও মেলেনি প্রতারক চক্রের সন্ধ্যান। সেখানে এখন পল্লীগ্রাম স্টিকার সংযুক্ত সাইনবোর্ড সাটানো অফিসে ঝুলছে তালা।

স্থানীয়রা বলছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে তাদের ভাড়াবাসাটি তালাবদ্ধ রয়েছে। অনেক ভুক্তভোগীরাই এখানে এসে তাদের খোঁজ করছেন।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, এই প্রতারক চক্রটির বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তবে প্রতারক চক্রটি ঠিক কত টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তা জানা সম্ভব হয়নি। প্রতারকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।


আরও খবর



বঙ্গবন্ধু কাপ কাবাডি: ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশের টানা চার শিরোপা

প্রকাশিত:সোমবার ০৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০৩ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

Image

আবারও বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডির শিরোপা জিতল বাংলাদেশ। এই নিয়ে টুর্নামেন্টে টানা চারবার শিরোপা বুঝে নিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। আজ নেপালের বিপক্ষে তিনটি লোনাসহ ৪৫-৩১ পয়েন্টে জিতে বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডির শিরোপা ধরে রেখেছে স্বাগতিকরা।

টানা চার আসরেই চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, তাও অপরাজিত; বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনেই এটি বিরল ইতিহাস। স্বাধীনতার পর থেকে এ যাবত ক্রীড়ার কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে টানা চারবার শিরোপা জেতেনি বাংলাদেশ। চারটি টুর্নামেন্ট মিলিয়ে টানা ২৪ ম্যাচে অপরাজিত বাংলাদেশ।

সেমিফাইনালে কেনিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে নেপাল। তবে কঠিন সেই ম্যাচ খেলার ২২ ঘণ্টা পর ফাইনাল খেলতে নামায় নেপালি খেলোয়াড়দের শরীর ও চোখে-মুখে ছিল ক্লান্তির ছাপ। তবে ফাইনালে বাংলাদেশের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের পেছনে এটা বড় কোনো বিষয় ছিল না। আবদুল জলিল, সুবিমল দাসের শিষ্যরা এবার একটা দল হয়ে খেলেছে। পেয়েছে ১০ হাজার আসনের মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামের গ্যালারির সমর্থন। বাংলাদেশকে হারানোর মতো শক্তি যেমন নেপালীদের ছিল না, পিছিয়ে ছিল দক্ষতা, কৌশলেও।

সেমিফাইনাল জেতার পর কেনিয়াকে নিয়ে পরিকল্পনা করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু নেপাল জেতার পরই তাদের নিয়ে হোমওয়ার্ক করতে নামেন আবদুল জলিল, সুবিমল দাসেরা। নিজেদের কাবাডির ইতিহাসে প্রথম কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠায় এমনিতেই স্নায়ুচাপে ছিল নেপাল। তার ওপর স্বাগতিক দর্শকের চাপ।

নেপাল মূলত খেলেছে ঘনশ্যাম রোকা মাগার ওপর নির্ভর হয়ে। সেমিফাইনালে কেনিয়া তার কৌশলের সাথেই কুলিয়ে উঠতে পারেনি। ফাইনালের আগে স্বাগতিকরা তাকে নিয়ে হোমওয়ার্কের সুফল পেয়েছে ম্যাচের শুরু থেকেই। কোর্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় প্রথম রেইড থেকেই। মাত্র ৮ মিনিটে প্রথম লোনা, চাপ কাটিয়ে উঠতে না পারায় প্রথমার্ধ শেষে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকে ২৪-১০ পয়েন্টে, শেষ পর্যন্ত ৪৫-৩১ পয়েন্ট ম্যাচ জয়। ফাইনালে ঘনশ্যাম রোকা মাগারকে কড়া মার্কিংয়ে রাখায় স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেননি তিনি। তারপরও সাত ম্যাচের মধ্যে পাঁচবার ম্যাচ সেরা হয়ে পেয়েছেন আসর সেরার স্বীকৃতি। বাংলাদেশের মিজানুর রহমান হয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরা রেইডার, রোমান হোসেন সেরা ক্যাচার।

বিদায়ী ম্যাচে ফাইনাল সেরা বাংলাদেশ অধিনায়ক আরুদুজ্জামান মুন্সী বলেন, এবার আমাদের দলটা আগের তিন আসরের চেয়ে গোছালো, শুরু থেকে এক দল হয়ে খেলতে পারায় প্রতিটি ম্যাচ বড় ব্যবধানে জিততে পেরেছি। কোরিয়া, জাপান, কেনিয়ার মতো বড় দল থাকলেও আমরা চাপমুক্ত থেকে খেলার চেষ্টা করেছি, সেভাবেই সফল হয়েছি।

ম্যাচ শুরুর আগে মুকুট পরিয়ে আরুদুজ্জামান মুন্সীর আন্তর্জাতিক কাবাডিকে বিদায় জানানোকে স্মরণীয় করে দেয় কাবাডি ফেডারেশন। এটাকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বললেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সোনালি ট্রফিতে অধিনায়কের বিদায়টাকে আরও বেশি রাঙিয়ে দিয়েছেন সতীর্থরা।

বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডির আগের তিন আসরের মধ্যে প্রথম দুইবার (২০২১ ও ২০২২) কেনিয়াকে (৩৮-২৮ ও ৩৪-৩১) এবং ২০২৩ সালে গত আসরে চাইনিজ তাইপেকে ৪২-২৮ পয়েন্টে হারিয়ে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ।

ফাইনাল শেষে কাবাডি ফেডারেশনের সভাপতি ও ইন্সপেক্টর জেনারেল অব বাংলাদেশ পুলিশ চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। উপস্থিত ছিলেন কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান।

চ্যাম্পিয়ন: বাংলাদেশ

রানার্সআপ: নেপাল

ফাইনাল সেরা: আরুদুজ্জামান মুন্সী (বাংলাদেশ)

টুর্নামেন্ট সেরা: ঘনম্যাশ রোকা মাগার (নেপাল)

সেরা রেইডার: মিজানুর রহমান (বাংলাদেশ)

সেরা ক্যাচার: রোমান হোসেন (বাংলাদেশ)।


আরও খবর