আজঃ সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ২৩ ফেব্রুয়ারি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

Image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট (স্নাতক) প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে।

মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এই তারিখগুলো প্রস্তাবিত। ডিনদের কাছে এই তারিখগুলো পাঠানো হয়েছে, যদি কোনো সমস্যা না থাকে তাহলে এই তারিখগুলোতেই পরীক্ষা হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ডিনদের নিয়ে আজকে বিকালে একটি মিটিং হবে।

প্রস্তাবিত তারিখগুলো হলো ২৩ ফেব্রুয়ারি কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের পরীক্ষা দিয়ে শুরু হবে এবারের ভর্তিযুদ্ধ। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা এবং ১ মার্চ বাণিজ্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ প্রাথমিকভাবে প্রস্তাব করেছে কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটি। ২ মার্চ চারুকলা অনুষদের পরীক্ষা হওয়ার প্রস্তাব করা হলেই। এই তারিখ পরিবর্তন করা হবে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান।

অন্যান্য বছরের মতো এবারও ঢাকাসহ মোট আট বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা। এ ছাড়া অন্যান্য নিয়মও বিগত বছরকে অনুসরণ করে হবে। সারা দেশের কেন্দ্রগুলো হলো- ঢাকা বিভাগের পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে, সিলেট বিভাগের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে, বরিশাল বিভাগের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে, খুলনা বিভাগের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে, রংপুর বিভাগের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ও ময়মনসিংহ বিভাগের পরীক্ষা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।


আরও খবর



হলিউডে পা রাখতে চলেছেন ওবামার মেয়ে মালিয়া

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিনোদন ডেস্ক

Image

আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মেয়ে মালিয়া এবার হলিউডে পা রাখতে চলেছেন। দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের সঙ্গে জড়িত থাকলেও এবার নির্মাতা হিসেবে হলিউডে নিজের অভিষেক ঘটাতে চলেছেন মালিয়া। যার জন্য নিজের নাম থেকে ওবামা পদবিও ছেঁটে ফেলেছেন তিনি!

বারাক ওবামা ও মিশেল ওবামার বড় মেয়ে মালিয়া সম্প্রতি তার বিখ্যাত পারিবারিক পদবি ত্যাগ করেছেন। ২৫ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে হলিউডে অভিষেক করার আগে নিজের নামের পরিবর্তন করলেন।

উদীয়মান পরিচালক সানড্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভালে তার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দ্য হার্ট ইন ইউটা-এর প্রিমিয়ারের আগে নতুন নামটি শেয়ার করেন। হার্ভার্ড গ্র্যাজুয়েট মালিয়া গত জানুয়ারিতেই তার পদবি ওবামা তুলে নিয়েছেন। সানড্যান্স ইনস্টিটিউটের মিট দি আর্টিস্ট স্পটলাইট ভিডিওতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের মেয়ের নাম মালিয়া অ্যান বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


আরও খবর
ভারতীয় পরিচালক কুমার সাহানি আর নেই

রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




অস্ত্র মামলায় জি কে শামীমের জামিন আপিল বিভাগে বহাল

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে জামিন দিয়েছেন আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন। একই সঙ্গে দুই মাসের মধ্যে বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চকে মামলাটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।

এ সময় আপিল বিভাগ বলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে অস্ত্র ও গানম্যান নিয়ে ঘোরেন তাদের বিষয়ে নীতিমালা করা উচিত। এর আগে হাইকোর্ট ১৩ ডিসেম্বর জি কে শামীমকে ৬ মাসের জামিন দেন। পরে চেম্বার বিচারপতি ১৯ ডিসেম্বর স্থগিত করে দেন। এর আগে ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম অস্ত্র মামলায় এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম এবং তার সাত দেহরক্ষীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। 

আরও পড়ুন>> মাদক মামলায় হাইকোর্টে হেরে গেলেন পরীমণি

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মধ্যে ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিকেতনে শামীমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে ওই ভবন থেকে নগদ প্রায় ২ কোটি টাকা, পৌনে ২০০ কোটি টাকার এফডিআর, আগ্নেয়াস্ত্র ও মদ পাওয়ার কথা জানানো হয়।

এই অভিযানেই শামীম এবং তার সাত দেহরক্ষীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় তিনটি মামলা করে র‌্যাব। এর মধ্যে অস্ত্র ও মুদ্রা পাচার মামলায় সবাইকে আসামি করা হলেও মাদক আইনের মামলায় শুধু শামীমকে আসামি দেখানো হয়। প্রতিটি মামলাতেই তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মামলার এক মাসের মাথায় ২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর অস্ত্র আইনের মামলায় শামীম এবং তার দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১ এর এসআই শেখর চন্দ্র মল্লিক।

মামলার অপর আসামিরা হলেন, জি কে শামীমের দেহরক্ষী দেলোয়ার হোসেন, মুরাদ হোসেন, সহিদুল ইসলাম, কামাল হোসেন, জাহিদুল ইসলাম, সামসাদ হোসেন ও আমিনুল ইসলাম।


আরও খবর



গাজীপুরে উচ্ছেদ মহাযজ্ঞ, একদিনে সাড়ে ৩ হাজার স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
গাজীপুর প্রতিনিধি

Image

প্রশাসন ও সড়ক জনপথ বিভাগ শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল নয়টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত গাজীপুরের শ্রীপুরে জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে।

মহাসড়কের এমসি, নয়নপুর ও জৈনাবাজর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা বাজার, দোকানসহ প্রায় সাড়ের তিন হাজার স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। গুড়িয়ে দেওয়া হয় সকল অবৈধ স্থাপনা। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইএনও) শামীমা ইয়াসমীন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল মামুন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো.সোহেল মিয়া।

জানা যায়, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে হাজার হাজার অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল নয়টা থেকে উপজেলার এমসি বাজার এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে উপজেলা প্রশাসন। পরে দুপুর আড়াইটায় জৈনাবাজার এলাকায় এসে শেষ হয় এই অভিযান। উচ্ছেদের খবর পেয়ে কেউ স্বেচ্ছায় তাদের মালামাল সরিয়ে নেয়। অনেকে দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়। বন্ধ থাকা স্থাপনাগুলো গুড়িয়ে দেওয়া হয়। কিছু স্থায়ী স্থাপনাও ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সোহেল মিয়া বলেন, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের শ্রীপুর অংশের ৩টি স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সব স্থানের অবৈধ বাজার উচ্ছেদ করা হয়। মহাসড়কের সকল অংশে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম ইয়ামিন বলেন, সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য উপজেলা প্রশাসনের কর্মচারীদের নিয়ে জয়দেবপুর- ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রায় সাড়ে তিন হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। পরে যাতে মহাসড়কে পাশে কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারে সে জন্য প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।


আরও খবর



চট্টগ্রাম-১০ আসনের এমপি মহিউদ্দিন বাচ্চুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দায়ের করা মামলায় সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালাউদ্দিনের আদালত এই আদেশ দেন। মহিউদ্দিন বাচ্চু চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি)।

আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মসজিদ, মন্দিরে অনুদানের চেক বিতরণের অভিযোগে গত ১৬ জানুয়ারি চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী তরিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের দায়ের করা মামলায় আসামি মহিউদ্দীন বাচ্চুর বিরুদ্ধে সমন দিয়েছিলেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ধার্য তারিখ ছিল, কিন্তু আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ২২ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম-১০ আসনের সকল মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের এক হাজার টাকা করে এবং মাদানী মসজিদে এক লাখ টাকা অনুদানের চেক দেন মহিউদ্দিন বাচ্চু। যা জুমার নামাজের খুতবার আগে মুসল্লিদের অবহিত করেন।

একইভাবে ২৪ ডিসেম্বর লালখান বাজারে তার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় থেকে মসজিদগুলোর ইমাম, মুয়াজ্জিনদের ৬০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি ২১টি মসজিদ, মন্দির ও প্যাগোডায় অনুদানের চেক বিতরণের সত্যতা পায়। এ নিয়ে ৪ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন মামলা করার নির্দেশ দেয়।

নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার ৩ ধারা অনুসারে, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষ থেকে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে চাঁদা বা অনুদান দিতে বা দেওয়ার অঙ্গীকার করতে পারবেন না। মহিউদ্দিন বাচ্চু এলাকার মসজিদে অনুদানের চেক বিতরণ করেছেন বলে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কাছে অভিযোগ করেছিলেন ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মনজুর আলম।


আরও খবর



শুরু হলো ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

শুরু হলো বাংলা ও বাঙালির কালপঞ্জির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাস ফেব্রুয়ারি। আজ ১৮ মাঘ বৃহস্পতিবার ভাষা আন্দোলনের মাস হিসেবে পরিচিত ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন। মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার ও রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সেটিকে প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই মাসেই রাজপথে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বাংলার দামাল ছেলেরা। সেই বীরদের অমলিন স্মৃতি স্মরণের মাস এই ফেব্রুয়ারি। আরও একটি কারণে ভাষা আন্দোলনের এই মাস বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আর তা হলো, ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়েই এই জনপদে অভ্যুদয় ঘটে বাঙালিসহ অন্যান্য জাতিসত্তার জাতীয় চেতনার। বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথ বেয়ে সংঘটিত হয় মুক্তিযুদ্ধ। বিশ্বের মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ।

বাঙালি ও বাংলাদেশের সঙ্গে ফেব্রুয়ারির চেতনস্রোত এত সুনিবিড়ভাবে মিশে আছে যে, এখনও আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারির কথা ও সুর বাজলে সেই ১৯৫২ সালের মতোই বেদনা ও প্রতিরোধের শপথ সিক্ত করে সবাইকে।

প্রসঙ্গত মনে রাখা দরকার, ভাষা আন্দোলনের শুরু মূলত ১৯৪৮ সালে- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র মাস সাতেকের মধ্যেই এ আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠে। অবশ্য নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে, তা নিয়ে ভারতবিভক্তির আগে থেকেই বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। এই বিতর্কের সূত্র ধরে ক্ষোভও সঞ্চারিত হয় বাঙালির মধ্যে। কেননা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বলতে গেলে একক সিদ্ধান্তে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চায় পূর্ব বাংলার জনগোষ্ঠীর ওপর। ওই সময়ের গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি সরকারি কাজে বাংলা ভাষা ব্যবহারের লক্ষ্যে অধিবেশনে একটি সংশোধনী প্রস্তাব এনেছিলেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি এটি গণপরিষদে আলোচিত হয় এবং তমিজউদ্দিন খানের নেতৃত্বে মুসলিম লীগের গণপরিষদ সদস্যরা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। খাজা নাজিমুদ্দিন এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে সেদিন বলেন, পূর্ব বাংলার অধিকাংশ মানুষই চায় উর্দু হোক পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। এভাবে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের সংশোধনীটি ভোটে বাতিল করে দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও জগন্নাথ কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ঢাকার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালিত হয়। পরে ২৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ সব জায়গায় প্রতিবাদ দিবস ও ধর্মঘট পালনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। পুলিশ এদিন ছাত্রদের মিছিলে লাঠিচার্জ করে, অনেককে গ্রেপ্তারও করে। এমন প্রেক্ষাপটে ২ মার্চ গড়ে ওঠে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। একই বৈঠক থেকে ১১ মার্চ ধর্মঘট আহ্বান করা হয়। এই ধর্মঘট পালনের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৬৯ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করে। ভাষা আন্দোলন পায় সুগভীর মাত্রা।

ফেব্রুয়ারি মাস একদিকে শোকাবহ হলেও অন্যদিকে গর্বের মাস। কারণ কি ১৯৪৮ সালে- কি ১৯৫২ সালে, এই ফেব্রুয়ারিতেই ঔপনিবেশিক প্রভুত্ব ও শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালি প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মায়ের ভাষা রক্ষার জন্য এই মাসেই পৃথিবীর একমাত্র জাতি হিসেবে বাঙালি রক্ত দেয়। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বাঙালির শহীদ দিবস পায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি।

১৯৪৮ সালের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আসে ১৯৫২ সাল। ইতোমধ্যে খাজা নাজিমুদ্দিন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি পূর্ব বাংলার ২৭টি শিক্ষাকেন্দ্রে আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রক্রিয়া শুরু করেন; পূর্ব বাংলার অধিবাসী হওয়ার পরও ওই বছর ২৭ জানুয়ারি এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, দুটি রাষ্ট্রভাষা নিয়ে কোনো দেশ সমৃদ্ধির পথে এগোতে পারে না, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। তার এ বক্তব্যের পর নতুন করে দানা বেঁধে ওঠে বিক্ষোভ ও ধর্মঘট। ৩১ জানুয়ারি (১৯৫২) ঢাকা বার লাইব্রেরি হলে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নতুন করে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গড়ে ওঠে। যার আহ্বায়ক নিযুক্ত হন কাজী গোলাম মাহবুব। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছিল পূর্ব বাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশন। তাই ওই দিন সাধারণ ধর্মঘট আহ্বান করা হয়। এই ধর্মঘট প্রতিহত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও তার আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সেই ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যায় রাজপথে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্দেশে মিছিলের ওপর পুলিশের গুলি চলে। শহীদ হন রফিক, শফিক, জব্বার, বরকত, শফিউদ্দীন, সালামসহ আরও অনেকে। রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার আদায় করে নেন বাঙালি তরুণরা। ভাষা আন্দোলনের ওই আত্মত্যাগই তৈরি করে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের পথ।

১৯৫২ সালের দুই বছর পর ১৯৫৪ সালের ৭ মে পাকিস্তানের গণপরিষদ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করে। ১৯৯৮ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে উদযাপনের জন্য জাতিসংঘে আবেদন করেন কানাডাপ্রবাসী রফিকুল ইসলাম ও আব্দুস সালাম। পরে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ভাষার জন্য বাঙালির আত্মত্যাগের দিনটি তাই আজ বিশ্বের সব ভাষাভাষীর অধিকার রক্ষার দিন।

প্রথম দিনের কর্মসূচি : বাঙালি পাঠকের সবচেয়ে বড় উৎসব মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার থেকে। জাতীয় কবিতা উৎসবের আয়োজন করছে জাতীয় কবিতা পরিষদ। আজ ও আগামীকাল শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সংলগ্ন চত্বরে এই কবিতা উৎসব অনুষ্ঠানে হবে। জাতীয় কবিতা পরিষদের ৩৬তম এই আয়োজনের এবারের প্রতিপাদ্য : যুদ্ধ গণহত্যা সহে না কবিতা। কবিতা উৎসবে অংশ নেবেন ৮ দেশের কবি। এর মধ্যে ১০ জন সশরীরে উপস্থিত থাকবেন। কায়রো আন্তর্জাতিক বইমেলা থেকে ৪টি দেশের ৮ জন কবি অনলাইনে এই উৎসবে যুক্ত হবেন। এ মাসে মাসব্যাপী জাতীয় পথনাট্যোৎসব আয়োজন করেছে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শুরু হয়ে ২০টি জেলায় চলবে এ উৎসব।


আরও খবর
জানুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮৬ মৃত্যু

রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪