আজঃ সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৪০ জন

প্রকাশিত:সোমবার ১৩ নভেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:সোমবার ১৩ নভেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৮৪ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৭৪০ জন ডেঙ্গুরোগী। বর্তমানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬ হাজার ১৭ জন রোগী।

সোমবার (১৩ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ মো. জাহিদুল ইসলাম সই করা ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

২০২২ সালে ডেঙ্গুতে ২৮১ জন মারা যান। ওই বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে আলোচ্য বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন।

২০২০ সালে করোনা মহামারিকালে ডেঙ্গু সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও ২০২১ সালে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। একই বছর দেশব্যাপী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২০২২ সালে ২৮১ জন, ২০২১ সালে ১০৫ জন, ২০২০ সালে সাতজন ও ২০১৯ সালে ১৭৯ জনের মৃত্যু হয়।


আরও খবর



প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের দ্বিতীয় ধাপের ফল প্রকাশ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24 | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপের (খুলনা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগ) লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় ২০ হাজার ৬৪৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.mopme.gov.bd এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd থেকে ফলাফল পাওয়া যাবে। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা মোবাইলফোনেও মেসেজ পাবেন। মৌখিক পরীক্ষার তারিখ পরবর্তীতে জানানো হবে।

চলতি মাসের ২ তারিখে তিন বিভাগের ২২ জেলার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এক ঘণ্টার এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪৩ জন। এর আগে, গত ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় প্রথম পর্বের (বরিশাল, সিলেট ও রংপুর বিভাগ) পরীক্ষা। ২০ ডিসেম্বর লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এ পর্বের মৌখিক পরীক্ষা চলমান।


আরও খবর



পুলিশ বক্সে মাদকের আসর

প্রকাশিত:শনিবার ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

Image

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর আঞ্চলিক সড়কে পথচারীদের যাতায়াত নিরাপদ করতে জেলা পরিষদের অর্থায়নে মরিচাডাঙ্গায় একটি পুলিশ বক্স নির্মাণকাজ শুরু হলেও গত ৬ বছরেও শেষ হয়নি। ঢালাই করা একটি ঘর নির্মাণ করা হলেও সেখানে এখন নিয়মিতই বসে মাদকের আসর।

সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মরিচাডাঙ্গায় পুলিশ বক্সটি নির্মাণ কাজ শুরু হয়। নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত পুলিশদের থাকার সুবিধার্থে এ ঘরটি নির্মাণের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় জেলা পরিষদ। এই উন্নয়ন প্রকল্পের দাতা ছিলেন জেলা পরিষদের সাবেক সংরক্ষিত সদস্য ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হালিমা খাতুন।

পুলিশ বক্সটি পরির্দশনকালে দেখা যায়, ইট দিয়ে ঘেরা একটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ঘরটিতে ছাদ থাকলেও পলেস্তারা করা হয়নি এখনও। নেই দরজা কিংবা জানালাও। দীর্ঘদিন ঘরটি পরিত্যক্ত থাকায়, দেয়ালগুলোয় মাকড়সা জাল বুনেছে। ইটের ফাঁকে পরজীবী উদ্ভিদ বেরিয়ে দুইপার্শ্বের গোটা দেয়াল ছেয়ে গেছে। পড়ে রয়েছে সিগারেটের ব্যবহৃত প্যাকেটসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্যের পরিত্যক্ত অংশ।

এসময় পথচারীরা বলেন, এই সড়কটিতে ডাকাতের উপদ্রব থাকায় যাতায়াতকারীদের কথা ভেবে পুলিশ বক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেয় জেলা পরিষদ। দুই লাখ টাকা গচ্চা গেলো ঠিকই, কাজের কাজ হয়নি কিছুই।

আরেক পথচারী জানান, এই সড়কটির অনেক এলাকাজুড়ে মানুষের বসতি নাই। ফলত রাতের বেলায় সড়কটি পথচারীদের জন্য খুব একটা নিরাপদ নয়। ফলে পুলিশ বক্সটির নির্মাণ কাজ শেষ করে, এখানে পুলিশি পাহারা জোরদার করা হোক। তাহলে পথচারীরা নির্বিঘ্নে পথ চলতে পারবে।

পথচারীদের অনেকেই জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর সড়কে একটি পুলিশ বক্স থাকা খুবই প্রয়োজন। প্রায়ই দিনের বেলায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সড়কটিতে পুলিশ বক্স থাকলে দুর্বৃত্তরা এধরনের কাজ করতে পারতো না।

পরিত্যক্ত পুলিশ বক্সের কথা জানেন না উল্লেখ করে গোমস্তাপুর থানার ওসি চৌধুরী জোবায়ের আহাম্মদ জানান, ওই সড়কটিতে নিয়মিত পুলিশ গাড়ি নিয়ে টহল দেয়। এছাড়া অপ্রীতিকর কোন খবর পেলেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

জেলা পরিষদের সাবেক সংরক্ষিত আসনের সদস্য প্রকল্পদাতা হালিমা খাতুন বলেন, সড়কটিতে দিনদুপুরে ডাকাতি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা প্রায়ই ঘটে। পথচারীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ নিয়ে রাস্তার পাশে একটি পুলিশ বক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গোমস্তাপুর থানা পুলিশের নজরদারিতে ওই পুলিশ বক্সটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরে টাকার অভাবে কাজটি শেষ করা সম্ভব হয়নি। যদিও আরও দুই লাখ টাকা চেয়ে জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পুলিশ বক্সটির নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য বলেছিলাম। পরে তারাও আর উদ্যোগ নেয়নি, কাজও শেষ হয়নি।

হালিমা খাতুন আরও বলেন, পুলিশ বক্সটি নির্মাণকাজ শেষ করা খুবই প্রয়োজন। সম্প্রতি এক নারীর কাছ থেকে দুপুরে টাকা নিয়ে গেছে ছিনতাইকারীরা। পুলিশ সেখানে থাকলে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা এই সুযোগ পেতো না।

রাস্তার পাশের এই পুলিশ বক্সটির নির্মাণকাজ শেষ করে জায়গাটিতে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি কামনা করেন জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য হালিমা।

সচেতন মহলের অভিযোগ, লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে জেলা পরিষদ অনেক উন্নয়ন কাজ শুরু করেন। কিছু কিছু নির্মাণ কাজ টাকার সংকটের  কারণে সম্পন্ন হয় না। পরে ওই কাজের বিপরীতে যে টাকা খরচ হয় তা মানুষের জন্য উপকারে আসেনা। এসব ক্ষেত্রে নতুন বরাদ্দ দিয়ে অসম্পন্ন কাজটি সম্পন্ন করতে হবে নইলে রাষ্ট্রের মোটা অংকের টাকা গচ্চা যাবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান বলেন, সরকারি দুই লাখ টাকা খরচ করে যেহেতু রাস্তার পাশে পুলিশ বক্স নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। গত ৬ বছর ধরে এই কাজটি সম্পন্ন হয়নি। সংশ্লিষ্টদের উচিত আবারও নতুন করে বরাদ্দ দিয়ে যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে ঘরটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল, তা সম্পন্ন করা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আফাজ উদ্দিন পুলিশ বক্সটি নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার সময় এখানে কর্মরত ছিলেন না উল্লেখ করে বলেন, আমরা সেখানে লোক পাঠাবো। যদি নতুন বরাদ্দ দিয়ে পুলিশ বক্সের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা যায়, তাহলে সেটাই করবো।


আরও খবর
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে কয়েদির মৃত্যু

সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

প্রকাশিত:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদরদপ্তরে নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর পূর্ণ হলো রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি)। এই উপলক্ষ্যে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। এদিন সকালে বনানীর সামরিক কবরস্থানে শহিদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শাহাদত বরণকারী সেনাকর্মকর্তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

প্রথমে রাষ্ট্রপতির পক্ষে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং শহিদ পরিবারের সদস্যরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং কর্মরত সামরিক সদস্যরা স্যালুট প্রদান করেন। পরে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, জেসিও এবং অন্যান্য পদবির সেনাসদস্য, শহিদ পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয় এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও এদিন সকল সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সকল স্তরের সেনাসদস্যদের উপস্থিতিতে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।


আরও খবর



সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব

ধর্ষণের রাতে ছাত্রলীগ সভাপতির আশ্রয়ে অন্য হলে ছিলেন মোস্তাফিজুর

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

Image

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মীর মশাররফ হোসেন হলে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমানকে অন্য হলে আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু ওই হলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে ফুটেজ পাওয়া যায়নি। ফুটেজ বিলোপের নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেলের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে মীর মশাররফ হোসেন হল থেকে রান্নাঘর সংলগ্ন গেট ভেঙে বের হয়ে যান। পরবর্তীতে রোববার সকাল সাড়ে আটটায় মূল অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর আশুলিয়া থানা কর্তৃক গ্রেপ্তার হন। 

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেলের নির্দেশেই মোস্তাফিজুরকে পলায়নে সহায়তা করে মীর মশাররফ হোসেন হল ছাত্রলীগের নেতা সাগর সিদ্দিকী এবং সভাপতির নির্দেশেই তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে আশ্রয় দেয়া হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলের চাপে ছাত্রলীগ সভাপতির নির্দেশে আত্মসমর্পণ করেন মোস্তাফিজ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, সভাপতি সোহেল আমাকে জানায় মোস্তাফিজুর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে চায়। আমি তখন তাকে বলেছি সেটা তার বিষয়। সে আত্মসমর্পণ করুক বা না করুক সে গ্রেপ্তার হবেই।

অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর নিজে থেকেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে- ছাত্রলীগ সভাপতি শুরুতে এমন দাবি করেন। কিন্তু যখন তাকে আবারো প্রশ্ন করা হয় আপনি কীভাবে জানলেন সে আত্মসমর্পণ করেছে যেখানে পুলিশ বলছে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তাহলে কী আপনি আগে থেকেই তার অবস্থা সর্ম্পকে জানতেন। এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না।

অভিযুক্ত ধর্ষককে আশ্রয় দেয়ার সময়কালের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সকল সিসিটিভি ক্যামেরায় কোনো ফুটেজ রেকর্ড হয়নি। এর জন্য তারা যান্ত্রিক ত্রুটিকে দায়ী করেন। তবে সরেজমিনে সিসিটিভি সিস্টেম পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় জানুয়ারি মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত সকল ফুটেজ রয়েছে এবং ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে সিসিটিভি ফুটেজ রেকর্ড হচ্ছে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।

হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার বলেন, আমি ছুটিতে ছিলাম। হল ওয়ার্ডেন প্রভোস্টের দায়িত্বে ছিল। কারগরী ত্রুটির কারণে কয়েকদিন ধরে আমাদের সিসিটিভি কাজ করছে না। পরবর্তীতে সিসিটিভি ঠিক করেছি। সিসিটিভি ফুটেজ গায়েবের মতো কোন ঘটনাই ঘটেনি।

উল্লেখ্য, শনিবার জাবির মীর মশাররফ হোসেন হলে বহিরাগত এক ব্যক্তিকে আটকে রেখে তার স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে হলসংলগ্ন জঙ্গলে ঘটা এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামী ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুরকে পরদিন সকালে সাভারের একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে দাবি করে পুলিশ। আর শনিবার রাতেই ধর্ষককে পালাতে সাহায্যকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।  অভিযুক্তরা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র সাগর সিদ্দিকী ও হাসানুজ্জামান, শাহ পরান, মুরাদ এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সাব্বির হাসান। 


আরও খবর



বিলুপ্তির পথে বাউফলের কুটির শিল্প

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
দূর্জয় দাস, বাউফল (পটুয়াখালী)

Image

আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামীণ জনপদ থেকে শত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত শিল্পগুলো বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে। পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পরিবারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় প্লাষ্টিক পণ্য বাজার দখল করায় বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্যের কদর কমে গেছে। ফলে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে গ্রামীণ এই কুটির শিল্পটি। প্রয়োজনীয় পুঁজি, বাজারজাতকরণ ও পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবে পটুয়াখালীর বাউফলে কুটির শিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে।

উপজেলার গুটি কয়েক পরিবারের কিছু মানুষ আঁকড়ে রেখেছে এই শিল্পকে। কিন্তু দিন দিন বাঁশ আর বেতের তৈরি বিভিন্ন পন্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ভালো নেই এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগররা। উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী ন্যায্যমূল্য না থাকায় এ শিল্পের সঙ্গে যারা জড়িত তারা আজ পেশা পাল্টাতে শুরু করেছেন।

জানা যায়, বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি হতো গৃহস্থালী ও সৌখিন পণ্যসামগ্রী। বাড়ির পাশের ঝাঁর থেকে তরতাজা বাঁশ-বেত কেটে তৈরি করতেন হরেক রকমের পণ্য। এসব নিজেদের ব্যবহারের পাশাপাশি, বাজারে বিক্রি করে চলতো তাদের জীবন-যাপন।

আধুনিক প্রযুক্তির দাপটে আর প্লাস্টিকের তৈরী বিভিন্ন রং  বেরঙের  এর আর্কষনীয় ডিজাইনের  দ্রব্য সামগ্রী বের হাওয়ায়  এখন আর কেউ বাঁশের তৈরি সামগ্রী ব্যবহার করেনা। এক দিকে যেমন ব্যবহারকারীর অভাব, অন্যদিকে বাঁশের স্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ বাঁশ শিল্পীরা তাদের পৈত্রিক   পেশা  ছড়ে দিয়ে অন্য পেশায় চলে যাছেন। হাতেগোনা কয়েকজন শিল্পী অনেকটা নিরুপায় হয়ে এ পেশায় টিকে থাকার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয় যাছেন। এককালে কুলা, খাঁচা, চালনি, চাটাই, ডোল, ঝুড়ি,  ডালা, ওর,  প্রভৃতি  বাঁশজাত পণ্যর বাউফল উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ব্যাপক চাহিদা ছিল।  বিগত কয়েক বছর ধরে এ শিল্প বিরাজ করছে চরম মন্দা। ফলে এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল লোকজন বেকার হয়ে মানবতর জীবনযাপন করছে।

কুটির শিল্পের সাথে জড়িতরা জানান, আমরা কুটির শিল্পের কাজ করতে একটা বাঁশ কিনতে হয় একশ টাকা দিয়া। বাজারে গেলে সেই দাম পাইনা। আগের মত হাজি ঢালা চলেনা, আমাগো সংসার চলেনা কষ্ট হয়। তারপরেও আমরা কুটির শিল্প টিকিয়ে রাখছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বশির গাজী বলেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন কুটির শিল্পের যে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র রয়েছে সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। কুটির শিল্পে অনেকই কাজ করে তাদের অনেকের লোনের সমস্যা, ক্যাশের সমস্যা আমরা উপজেলা প্রশাসনে একটি প্রকল্প নিয়েছি তাদের প্রশিক্ষন দিবো এবং তাদের লোনের ব্যবস্থা করব ।    

সচেতন মহলের দাবী, কুটির শিল্পকে ধংসের হাত থেকে রক্ষা করা দরকার। এ শিল্প বাঙালি সংস্কৃতির একটা বড় অংশ। তাই এ পেশার সঙ্গে যারা এখনো জড়িত রয়েছেন তাদের পরিবারে ভিত্তিকে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাদের পেশার উন্নয়নে সরকারের সহায়তা করা উচিত।

নিউজ ট্যাগ: কুটির শিল্প

আরও খবর
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে কয়েদির মৃত্যু

সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪