আজঃ বুধবার ২৪ জুলাই 20২৪
শিরোনাম

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বিআরটিএ’র বিশেষ অভিযান

প্রকাশিত:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | পত্রিকায় প্রকাশিত
রাহুল সরকার, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Image

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের আনোয়ারা-পটিয়া ক্রসিং এলাকায় অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। অভিযানে ১৮টি গাড়িকে ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৭টি গাড়িকে ডাম্পিং করা হয়।

সোমবার (২৪ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো বিআরটিএ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের আনোয়ারা-পটিয়া ক্রসিং এলাকায় এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত ১২ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিশকাতুল তামান্না।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরী, চট্ট মেট্রো-১ সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক ফাহাদ শিকদার, জেলা সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মোঃ আব্দুল মতিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী। অভিযানের সহযোগিতা করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।

বিআরটিএ জানায়, ফিটনেসবিহীন, রুট পারমিটবিহীন, ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালনাসহ বিভিন্ন অপরাধে ১৮টি গাড়িকে ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়াও কাগজপত্র (ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন, রুট পারমিট) দীর্ঘদিন হালনাগাদ না থাকায় ১টি বাস ও ১টি অ্যাম্বুলেন্স এবং রেজিস্ট্রেশন বিহীন ৫টি সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ডাম্পিং করা হয়।


আরও খবর



চট্টগ্রামে উল্টো রথের মধ্য দিয়ে রথযাত্রা উৎসব সম্পন্ন

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রাহুল সরকার, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Image

বন্দরনগরীতে উল্টো রথের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস জগন্নাথ দেব হলেন জগতের নাথ বা অধীশ্বর। জগত হচ্ছে বিশ্ব আর নাথ হচ্ছেন ঈশ্বর। তাই জগন্নাথ হচ্ছে জগতের ঈশ্বর। তার অনুগ্রহ পেলে মানুষের মুক্তিলাভ হয়। জীবরূপে তাকে আর জন্ম নিতে হয় না। এ বিশ্বাস থেকেই রথের ওপর জগন্নাথ দেবের প্রতিমা রেখে রথযাত্রা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন এবং মন্দির নানা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সকালে বিভিন্ন মাঙ্গলিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানমালা। এর মধ্যে ছিল হরিনাম সংকীর্তন, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, পদাবলী কীর্তন, আরতি কীর্তন, ভাগবত কথা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ।

সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর এতে লাখো ভক্তের সমাগম মধ্য দিয়ে টেনে নিয়ে যান জগন্নাথ দেবের রথ।

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) প্রর্বতক শ্রীকৃষ্ণ মন্দির ও নন্দনকানন শ্রীশ্রী রাধামাধব মন্দির ও শ্রীশ্রী গৌর নিতাই আশ্রমের উদ্যোগে নগরীর সিনেমা প্যালেস ও নন্দনকানন থেকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রী শ্রী জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রা মহারানীর উল্টো রথের শোভাযাত্রা শুরু হয়।  রথযাত্রা নন্দনকানন থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে মঙ্গলারতি, তুলসি আরতি, নৃসিংহ বন্দনা, গুরু পুজা, ভাগবত পাঠ, ভোগারাতি, ভজন কীর্তন, আলোচনা সভা, মহাপ্রসাদ বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

চট্টগ্রামের রথযাত্রা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক চসিক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের বদৌলতে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এই ভূখণ্ডে সাম্প্রদায়িকতার কবর রচিত হয়েছে। তাই স্বাধীন বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুমহান ঐতিহ্য আমাদেরকে যেকোনও মূল্যে সমুন্নত রাখতে হবে। আমরা যার যার নিজ ধর্ম পালনের পাশাপাশি অন্য ধর্মালম্বীদের সম্মান করব। তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকব। এটাই মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতির জনকের আদর্শ। 

উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে গতকাল সোমবার প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দির ও নন্দকানন ইসকন মন্দিরের উদ্যোগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

নন্দনকানন ইসকনের সভাপতি পণ্ডিত গদাধর দাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তারণ নিত্যানন্দ দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা পর্বে মহান আশীর্বাদক ছিলেন ভারতের উড়িষ্যার শ্রীমৎ ভক্তি নীলাচল স্বামী মহারাজ।  প্রধান আলোচক ছিলেন ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী প্রবীর সেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট চন্দন তালুকদার, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দেবাশীষ নাথ দেবু ও নগর যুবলীগের সহ-সভাপতি দেবাশীষ পাল দেবু, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সহসভাপতি অনুরূপ পাল, পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল ও সাবেক ছাত্র নেতা শিবু প্রসাদ চৌধুরী।

এছাড়া নন্দনকানন ইসকন রাধামাধব মন্দির ও গৌর নিতাই সেবাশ্রমের সহ সভাপতি অকিঞ্চন গৌর দাস ব্রহ্মচারী, যুগ্ম সম্পাদক মুকুন্দ ভক্তি দাস ব্রহ্মচারী, সদস্য অপূর্ব মনোহর দাস ব্রহ্মচারী ও সুবল সখা দাস ব্রহ্মচারীসহ টিএমসি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা পর্ব শেষে আমন্ত্রিত অতিথিরা মঙ্গল দ্বীপ প্রজ্জ্বালন ও বেলুন উড়িয়ে উল্টো রথযাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন।

আওয়ামী লীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর বলেন, রথযাত্রা বাঙালি হিন্দুদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত পথে থেকে সবাই মিলে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলব। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই মিলে এই চট্টগ্রামে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখেছি। এই রথযাত্রা আমরা একসঙ্গে সবাই মিলে করছি।  বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, যারা ধর্মে-ধর্মে মানুষে-মানুষের বিভাজন সৃষ্টি করে, যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ গড়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তাদেরকে বলতে চাই, আমরা আপনাদের প্রতিরোধ করব।

তিনি বলেন, 'জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে আমরা সবাই মিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সুখি, সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলব।'

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির কখনওই ঠাঁই হবে না। আজকের বাংলাদেশে ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। তাই ধর্মের আধ্যাত্মিক চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে আমাদের সকলকে জগতের কল্যাণ ও সম্প্রীতির চর্চা করতে হবে। শ্রী শ্রী জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামের আশীর্বাদে জীবন হয় সুন্দর। সমস্যায় ঘেরা জীবনে মুক্তি এনে দেন ত্রি-দেবতা।

 উল্টো রথযাত্রার উদ্বোধন শেষে ভক্ত-পূণ্যার্থীরা শ্রী শ্রী জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা মহারাণী অধিষ্ঠিত রথ টেনে নগর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। ভক্তরা বিভিন্ন ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, পৌরাণিক সাজ ও বাদ্যযন্ত্রসহকারে রথের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।

এ উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবছরও ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দির, তুলসীধাম ও নন্দনকান রাধামাধব মন্দিরে বিভিন্ন মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। প্রত্যেক মন্দির থেকে বিকেলে পৃথকভাবে বের করা হয়েছে বর্ণাঢ্য মহাশোভাযাত্রা।

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর অন্যান্য মন্দিরগুলো থেকে এইদিন রথযাত্রা উপলক্ষে বের করা হয়েছে বর্ণিল মহাশোভাযাত্রা।

অন্যদিকে, ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের  লীলারাজ গৌর দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাবেক চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, নগর মহিলা লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পেয়ারুল ইসলাম, নগর আওয়ামীলীগ নেত হেলার আকবর চৌধুরী বাবর, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস, চসিক কাউন্সিলর জহুরলাল হাজারী, নীলু নাগ, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট চন্দন তালুকদার, পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল ও সাবেক ছাত্র নেতা শিবু প্রসাদ চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।


আরও খবর



অভিযানের আগেই সরানো হয় সাদিক অ্যাগ্রোর গরু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ছাগলকাণ্ডের জন্য আলোচিত মোহাম্মদপুর এলাকার সাদিক অ্যাগ্রো ফার্ম’–এ উচ্ছেদ অভিযান চালাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি বলছে, সাদিক অ্যাগ্রো লিমিটেড অবৈধভাবে খাল ও সড়কের জায়গা দখল করে আছে।

এদিকে অভিযানের খবরে সাদিক অ্যাগ্রো থেকে আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে গরু। গত রাত থেকেই গরু সরিয়ে নেওয়া শুরু করেন খামারের মালিক। 

আজ সকাল ১০টার দিক থেকে সাদিক অ্যাগ্রোর সামনে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তায় এবং খালের জায়গায় থাকা বেশ কিছু স্থাপনা ইতিমধ্যেই সরিয়ে নিয়েছে তারা। এসব জায়গায় রাখা বেশ কিছু গরু-ছাগল সেখানে নেই। গত রাতেই এসব পশুকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা রকিবুল ইসলাম জানান, অভিযান হবে এই খবর শোনার পর থেকেই সাদিক অ্যাগ্রোর বেশ কিছু গরু-ছাগল গত রাতে সরিয়ে নিতে দেখেছি।

এ ছাড়া রাস্তার ওপরে তাদের প্যান্ডেল করা ছিল, অস্থায়ী স্থাপনা ছিল, সেগুলো তারা সরিয়ে নিয়েছে।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মাসুদ রানা জানান, এখানে যে একটা খাল ছিল; অবৈধ দখলের কারণে এটি আর দেখা যায় না। এটি অনেকটা ভরাট হয়ে গেছে। অভিযান চলবে এমন খবরে সাদিক অ্যাগ্রোসহ আশপাশের অস্থায়ী অন্যান্য স্থাপনাও নিজেরা কিছুটা সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে।

গত কোরবানির ঈদের আগ থেকে সাদিক অ্যাগ্রো কর্তৃপক্ষ রাস্তাসহ আশপাশে গরু বিক্রির প্যান্ডেলসহ অস্থায়ী স্থাপনা গড়ে তুলেছিল। সেগুলো তারা সরিয়ে নিচ্ছে।

গরু, স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া বা দখলকৃত জায়গায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি সাদিক অ্যাগ্রোর কেউ।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সাদিক অ্যাগ্রো খালের জায়গা দখল করে খামার গড়ে তুলেছে। এর আগে তাদের কয়েকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।


আরও খবর



মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ: সুদে-আসলে টাকা আদায় করবে সরকার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০২ জুলাই 2০২4 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০২ জুলাই 2০২4 | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

জালিয়াতি, প্রতারণা ও অসত্য তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে যাঁরা সরকারি ভাতা নিয়েছেন, তাঁদের সেই ভাতা সুদে-আসলে ফেরত নেবে সরকার। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা এসেছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আরও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তর আলোচনা হয় বৈঠকে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনে নিরস্ত্র হাতেই শত্রুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন নিরীহ বাঙালি। পাকিস্তানের দোসরদের সহায়তায় নির্মম হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের শিকার হন বাংলার সাধারণ মানুষ। তবে, প্রতিবাদী বাঙালি মাত্র নয় মাসের চেষ্টায় এবং ৩০ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে কাঙ্ক্ষিত সেই স্বাধীনতা অর্জন করে। কিন্তু দেশ স্বাধীনের পর দীর্ঘদিন স্বাধীনতাকামী সূর্যসন্তানেরা অবহেলা ও অনাহারে দিন কাটিয়েছেন। এমনকি সঠিক মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাও করতে পারেনি কোনো সরকার।

পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাসহ ভাতা চালু করে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের করা তালিকাতেও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা ঢুকে পড়ে। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসার পর অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এবার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া প্রায় আট হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার।

গত ১২ জুন জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়াসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আরও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তরভাবে আলোচনা হয়। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, বীর উত্তম। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, গোলাম দস্তগীর গাজী, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও বেগম মাহফুজা সুলতানা। মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সভাপতিসহ কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চান মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে।

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী কমিটিকে জানান, ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে আট হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল করা হয়েছে। তারা বিগত দিনগুলোতে যে ভাতা নিয়েছিলেন তা সুদে-আসলে আদায় করা হবে। এ ছাড়া ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে প্রচলিত আইনে মামলা করতে হবে বলে জানান তিনি।

সচিব আরও জানান, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে সংযোজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে প্রত্যেক উপজেলায় নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে একটি করে ক্যাপসুল লিফট স্থাপনের লক্ষ্যে পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) কামরুন নাহার জানান, প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে মোট ৪৪৬টি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের মধ্যে ৪৩৬টি নির্মাণ করা হয়েছে। বাকি ১০টির জায়গা না পাওয়ায় নির্মাণ করা যাচ্ছে না। পরবর্তীতে জমি পাওয়া গেলে সেগুলো নির্মাণ করা হবে বলে তিনি কমিটিকে অবহিত করেন।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এস এম মাহাবুবুর রহমান বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাকাল এবং ট্রাস্টের জমি ও স্থাপনা যেখানে যে অবস্থায় আছে তার বিবরণ, মোট সম্পত্তির পরিমাণ, ট্রাস্টের প্রধান কার্যালয় ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন কমিটির কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর তিনি কার্যপত্রের আলোকে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের বছর ভিত্তিক আয় ও ব্যয়ের হিসাব সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করেন।

কল্যাণ ট্রাস্টের অনেক জমি উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৬০টি প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। ফলে বছরে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা ট্রাস্টের লাভ হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ক্যাপসুল লিফট স্থাপন প্রসঙ্গে কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ- ১ আসনের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, কিছুদিন আগে আমার এলাকায় দুজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা গেছেন। এভাবে সব মুক্তিযোদ্ধা মারা যাবেন। আমিও মারা যাব। তাই মৃত্যুর আগে একটি ভালো কাজ দেখে যেতে চাই। বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধারা ওপরে উঠতে পারছেন না। তাই অতিদ্রুত লিফট সরবরাহের অনুরোধ করছি।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ক্র্যাক প্লাটুন ঢাকা শহরে ৭০টি অপারেশন পরিচালনা করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা ও ইতিহাস ব্যাপক। কমিটির প্রথম বৈঠকে ঢাকায় সরকারি অর্থায়নে ক্র্যাক প্লাটুন সম্পর্কিত স্মৃতিসৌধ বা চলচ্চিত্র/ডকুমেন্টারি তৈরির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ ক্ষেত্রে অর্থ দিয়ে হলেও তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশা করছি।

কমিটির অপর সদস্য ও চাঁদপুর-২ আসনের এমপি মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, বয়স্ক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কমপ্লেক্সগুলোর দ্বিতীয় ফ্লোরে ওঠাই যেখানে কষ্টকর, সেখানে তাদের জন্য ওপরের ফ্লোর রাখা একেবারেই উচিত হয়নি। কমপ্লেক্সগুলোতে এ ক্ষেত্রে একটি করে ক্যাপসুল লিফট সংযোজনের দ্রুত ব্যবস্থা করার পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রয়োজনে এ বিষয়ে আলোচনা করে অতিদ্রুত লিফট সরবরাহের অনুরোধ জানাচ্ছি।

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও ক্র্যাক প্লাটুন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা ভুয়া সনদ নিয়েছেন তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানাচ্ছি। ক্র্যাক প্লাটুন নিয়ে 'স্মৃতিসৌধ' বা চলচ্চিত্র/ডকুমেন্টারি তৈরি করার জন্য মাননীয় সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী যে প্রস্তাব করেছেন, সেই প্রস্তাব আমি সমর্থন করছি। এ ছাড়া তিনি প্রতিটি উপজেলায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করার পক্ষে মত দেন।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ও কমিটির সদস্য বেগম মাহফুজা সুলতানা বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদগ্রহণকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এখনও অনেকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিচ্ছেন। তারা কীভাবে এ সনদ নিচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখার জন্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করছি। এ ছাড়া, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীরাঙ্গনা নারীদের কথা ইতিহাসে থাকলেও মুক্তিযুদ্ধের সময় যে সব সাধারণ ও নিরীহ মা-বোনেরা যুদ্ধ করেছিলেন, তাদের কথা ইতিহাসে নেই। তাই ওই সব নারীর তালিকা তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি।

সংরক্ষিত আসনের এ এমপি আরও বলেন, আমার এলাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে যে সব অসহায় মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন, তাদের যে ২০ হাজার টাকা সম্মানিভাতা দেওয়া হয় তা দিয়ে বর্তমান অবস্থায় জীবন-যাপন করা খুবই কষ্টকর। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিভাতা বৃদ্ধি করার সুপারিশ করেন তিনি।

টাঙ্গাইল-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও কমিটির সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, উপজেলায় নির্মিত কমপ্লেক্সগুলোতে ক্যাপসুল লিফট সরবরাহের জন্য প্রতিটি বৈঠকে বারবার বলা হচ্ছে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় তিন শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা আছেন। এক শ্রেণি খুবই বিত্তবান, তাদের এ ভাতা না হলেও চলে। আরেক শ্রেণি হলেন মধ্যবিত্ত, তাদেরও চলে। তৃতীয় যে শ্রেণি আছেন তাদের অবস্থা খুবই খারাপ। বর্তমান অবস্থায় সামান্য এ ভাতা দিয়ে জীবন-যাপন করা আসলেই কষ্টকর। তাই সম্মানিভাতা শ্রেণি/ধরন অনুযায়ী ভাগ করে দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে পর্যালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র অপারেশন জ্যাকপট নির্মাণ প্রসঙ্গে কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, গত ২৯ এপ্রিল কমিটির সভাপতিসহ অন্যান্য সদস্য এবং জীবিত নৌ-কমান্ডোদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক ইতিহাস ভিত্তিক ডকুমেন্টারি/চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই আলোকে ডকুমেন্টারি তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে।

মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নথিপত্র সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বেশকিছু উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের কাগজপত্র/নথিপত্র সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। বাকিগুলোতেও যেন সঠিকভাবে সরবরাহ করা হয় সে জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অর্জন, চলমান কার্যক্রম ইত্যাদি সম্পর্কে কমিটিকে জানান মন্ত্রী। এ ছাড়া জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী, মহিলা মুক্তিযোদ্ধা (বীরাঙ্গনা) হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম গেজেটভুক্তির জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

বৈঠকে মোজাম্মেল হক সেবা পদ্ধতি সহজীকরণ, মুজিব কর্নার কাম লাইব্রেরি স্থাপন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ইত্যাদি প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ ছাড়া চলমান কার্যক্রমের মধ্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত মহান মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি, মুক্তিযুদ্ধ এবং এসব ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা, দেশ পরিচালনায় বঙ্গবন্ধুর অসামান্য অবদান প্রভৃতি বিষয়ে ১৩টি গবেষণা কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটির সদস্যদের অবহিত করেন। তিনি ১৩টি গবেষণার শিরোনাম, চুক্তিবদ্ধ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নাম ও দলনেতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন বৈঠকে।


আরও খবর
মেট্রোরেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




সিলেটে স্ত্রীকে কুপিয়ে স্বামীর আত্মহত্যা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
এস এ শফি, সিলেট

Image

সিলেটের ওসমানীনগরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার পর নিজের গলায় ও পেটে কোপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক ব্যক্তি। মঙ্গলবার (২৫ জুন) ভোরে উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের কামারগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহত ছায়াদ মিয়া (৫২) উপজেলার জহিরপুর গ্রামের মৃত আব্দুস ছাত্তারের ছেলে। তিনি ৪ বছর ধরে স্ত্রী ও তিন মেয়ে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি কামারগাঁও গ্রামে থাকেন। গত এক বছর ধরে মানসিক রোগে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার পলিকে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে ছায়াদ মিয়া ঘুম থেকে উঠে বটি ও দা দিয়ে তার ঘুমন্ত স্ত্রীর কানে ও পেটে কোপ দিয়ে মারাত্মক জখম করেন। পরে সেই দা দিয়ে নিজের গলায় ও পেটে আঘাত করে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় গুরুতর আহতাবস্থায় নিহতের স্ত্রীকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর-বিশ্বনাথ সার্কেল) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, এরকম একটি ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। একইসঙ্গে নিহতের স্ত্রীকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড কী না নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।


আরও খবর



কেমন ছিল আম্বানির পুত্রবধু রাধিকার বিয়ের সাজ?

প্রকাশিত:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিনোদন ডেস্ক

Image

এই মুহুর্তে গোটা মুম্বাই ব্যস্ত ধনকুবের মুকেশ আম্বানির ছোট ছেলে অনন্ত আম্বানির বিয়েকে ঘিরে। শুক্রবার (১২ জুলাই) বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন অনন্ত আম্বানি ও রাধিকা মার্চেন্ট।

বলিউড থেকে হলিউড, ভারতীয় ক্রিকেট দলের তারকা থেকে শুরু করে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা হাজির হয়েছেন বিয়েতে। আর ভারতের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই বিয়েতে সবার চোখ বিয়ের কনে রাধিকা মার্চেন্টের দিকে।

গতকাল বিয়ের লুক প্রকাশিত হতেই ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যান এই নববধু। নববধুর প্রশংসায় মুখ ফসকে যেন বেরিয়ে যায়- এ যে কলিযুগের রাজকন্যা!

বিয়ের দিন রাধিকা একটি বেইজ লেহেঙ্গা পরেছিলেন। সঙ্গে মাথায় ছিল ম্যাচিং ওড়না। হাতে লম্বা লাল রঙের ভরাট জারদৌসি কাজের ওড়না নিয়েছিলেন একটি।

গলায় জোড়োয়ার চোকার এবং হীরে পান্নার মিশেলে তৈরি পাঁচ লহরি হার পরেছিলেন তিনি। সঙ্গে ম্যাচিং টিকলি, কানের ঝুমকো, রতনচুর পরেছিলেন। বাদ যায়নি সাদা লাল এবং হীরের চুরি।

রাধিকার হাতেও পান্না এবং হীরে দিয়ে তৈরি বাজু পরতে দেখা যায় এদিন। সঙ্গে কনুই পর্যন্ত মেহেন্দি তো ছিলই। সঙ্গে ছোট্ট লাল টিপ এবং উজ্জ্বল মেকাপে সাজ সম্পন্ন করেছিলেন তিনি।

বিভিন্ন পোজে এদিন পোজ দিয়ে ছবি তুলতে দেখা যায় রাধিকাকে। তার কনে সাজের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই নিমেশেই সেগুলো ভাইরাল হয়ে গেছে।

শুক্রবার, ১২ জুলাই মুম্বাইয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন অনন্ত আম্বানি এবং রাধিকা মার্চেন্ট।

রোশনাইয়ে ঝলমল বিয়ের আসরে হাজির গোটা বিশ্বের হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বরা। উপচে পড়েছে গোটা বলিউড। তিন দিনব্যাপী এই বিবাহ উৎসবের প্রথম দিন বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে শুভ আশীর্বাদ, ১৪ জুলাই মঙ্গল উৎসব বা বিয়ের রিসেপশন।


আরও খবর