আজঃ মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২
শিরোনাম

চারদিন পর সুনামগঞ্জ শহরের ৫০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ চালু

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২১ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২১ জুন ২০২২ | ২৫৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বন্যায় বিপর্যস্ত সুনামগঞ্জ শহরে চারদিন পর ৫০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। বন্যার পানি কিছুটা কমে আসায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে পেরেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

সোমবার (২০ জুন)  বিকাল ৫ টা ৪৫ মিনিটের দিকে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, হাসপাতাল, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সদর থানা ও জেলখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে প্রতিটি মিটার পরিদর্শন করে ডুবে থাকা মিটার ও লাইন বিচ্ছিন্ন করে অন্যান্য স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার চেষ্টা চলছে। পানি নেমে গেলে বাকি এলাকাগুলোতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হবে।

সুনামগঞ্জ বিদুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে এখনই সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের কর্মীরা কাজ করছেন। পানি কমলে বাকি এলাকাগুলোতেও সংযোগ স্বাভাবিক হবে।


আরও খবর



আড়াই বছরেও চালু হয়নি বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর

প্রকাশিত:সোমবার ১৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৩ জুন ২০২২ | ৩০৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্থলবন্দরগুলোর ইমিগ্রেশনে বিদেশি নাগরিকদের যাতায়াত বন্ধ করে দেয় ভারত। গত বছর শুরুর দিকে করোনা কমে আসলে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ভিসা দেওয়া শুরু করে ভারতীয় সরকার। চলতি সালের মার্চ থেকে সবধরনের ভিসা দেওয়াও শুরু হয়। কিন্তু ভারতে প্রবেশের ক্ষেত্রে এই রুটে ভিসা না দেওয়ায় এখনো চালু হয়নি এই স্থলবন্দর। এতে প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়েছেন দেশের একমাত্র চতুদের্শীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর সংশ্লিষ্ট ভারত, নেপাল এবং ভুটানের যাত্রীরা।

বাংলাদেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ওপারে ভারতের ফুলবাড়ি ইমিগ্রেশন। এই ইমিগ্রেশন দিয়েই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ীসহ পর্যটকরা ভারত, নেপাল এবং ভুটানে যাতায়াত করেন। করোনা সংক্রমণের পর ভারতীয় বিভিন্ন রুটে ভিসা প্রদান করা হলেও বাংলাবান্ধার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভারতের ফুলবাড়ি রুটে কোনো ভিসা দেওয়া হচ্ছেনা। দেশের অন্যান্য স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করা গেলেও বাংলাবান্ধা দিয়ে যেতে পারছেনা বাংলাদেশিরা।

করোনার আগে এই রুটে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভারত, নেপাল, ভুটান এবং ভারতের দার্জিলিং, কাঞ্চনজঙ্ঘা, সিকিম, গ্যাংটক, ডুয়ার্সসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় যাতায়াত করতো । অনেকে চিকিৎসা এবং ব্যবসার নানা কাজে ভারতে ভ্রমণ করতো। কিন্তু বর্তমানে ফুলবাড়ি রুটে ভিসা না দেয়ার কারণে নানা সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশীরা। তারা অতিদ্রুত ফুলবাড়ি বন্দর দিয়ে ভিসা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিবছর লক্ষ্যমাত্রার থেকে অনেক বেশি রাজস্ব আদায় হয় এই বন্দর থেকে। কিন্তু ভিসার রুট সমস্যার কারণে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অন্য রুট দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ফলে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

শিক্ষার্থী এবং রোগীরা বলছেন, ভারতের শিলিগুড়ি দিয়ে খুব সহজে মাদ্রাজ, বাঙ্গালোর, কলকাতা, দিল্লী  বিভিন্ন শহরে যাওয়া যায়। তাই বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ি রুটে দ্রুত ভিসা চালু করা দরকার । তারা বলছেন, এই বন্দর দিয়ে ভিসা সংকট দুর হলে দুর্ভোগ কমে যাবার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি আব্দুল লতিফ তারিন বলেন, দেশের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরগুলোর মধ্যে অন্যতম স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা, যা দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর। ব্যবসা, চিকিৎসা, ভ্রমণ এবং ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যাতায়াতের জন্য এই রুট ব্যবহার করে। কারণ খরচ কম। কিন্তু এখনো এই রুটে ভারতীয় ভিসা না দেওয়ার কারণে আমরা নানা সংকটে পড়ছি। বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের জন্য দুই দেশের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন ওসি নজরুল ইসলাম জানান, বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট চালু রয়েছে। ভিসার ব্যাপারে এখনো কোনো চিঠি পাইনি। যার কারণে ভ্রমণ ভিসার অনুমতি না থাকায় কেউ এ রুট দিয়ে ভারতে যেতে পারছেন না। তবে শিগগিরই বিষয়টি সুরাহা হতে পারে বলে জানান এ কর্মকর্তা।


আরও খবর



যৌন হেনস্তার অভিযোগে অস্কার জয়ী পরিচালক গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:সোমবার ২০ জুন ২০22 | ৩০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বিদেশি এক তরুণীর সঙ্গে জোর করে সহবাসের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন অস্কার জয়ী পরিচালক পল হাগিস। দক্ষিণ ইতালি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জানা গেছে ওই তরুণীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। কানাডার পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার পল হাগিসের বিরুদ্ধে একের পর এক যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠছে। এক বিদেশি নারীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে যৌন নিপীড়ন করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বরাবরই পরিচালনায় নজর কেড়ে থাকেন পল হাগিস। ২০০৪-এ মুক্তি পাওয়া হলিউড সিনেমা ক্র্যাশ জিতে নিয়েছিল অ্যাকাডেমি পুরস্কার। ২০১৩ সালের জনপ্রিয় রোম্যান্টিক সিনেমা থার্ড পারসন-এরও পরিচালক তিনি।

তবে সম্প্রতি ইতালির বৃন্দিসি পুলিশ জানিয়েছে, ৬৯ বছরের পলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। মহিলাদের যৌন হেনস্থার পাশাপাশি এক বিদেশি তরুণীকে নৃশংস ভাবে মারধর করেছেন, এমনটাই অভিযোগ। তবে পরিচালকের আইনজীবীরা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পলকে হেফাজতে নিয়ে দ্রুত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে ইতালির তদন্তকারী শাখা। জানা গেছে, এক চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রণ পেয়ে ইতালি এসেছিলেন পল। মঙ্গলবার তার সিনেমা ক্র্যাশকে বিশেষ ভাবে সম্মানিত করার কথা সেখানে। সেই তরুণীরও উৎসবে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। যদিও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়।

তদন্তকারীদের ধারণা, খুব অল্প দিনের আলাপে সেই তরুণীর সঙ্গে জোর করে সহবাস করেছিলেন পল। তার পরই গুরুতর জখম অবস্থায় অভিযোগ দায়ের করেন সেই তরুণী। তাকে ডাক্তারের কাছেও যেতে হয়েছে।


আরও খবর



বাতাসে ‘বিষ’, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৬ জুন ২০২২ | ৩১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

জীবন ও জীবিকার তাগিদে ধারণক্ষমতার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি মানুষ বসবাস করছে ঢাকায়। সেই সঙ্গে পরিকল্পিত নগরায়ণের লক্ষ্যে চলছে উন্নয়নকাজ। ফলে চাপ বাড়ছে ঢাকার পরিবেশের ওপর। সবচেয়ে বেশি দূষণ ঘটছে বায়ুর। ধুলোয় ধূসর ঢাকার বায়ুদূষণ দিন দিন বেড়েই চলছে। অক্সিজেনসমৃদ্ধ বাতাসে এখন ভাসছে বিষ, যা মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে ঢুকছে শরীরে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণের কারণে সারাদেশে মানুষের গড় আয়ু কমেছে প্রায় পাঁচ বছর চার মাস। ঢাকায় কমছে প্রায় সাত বছর সাত মাস। তার মানে ঢাকায় বায়ুদূষণ না থাকলে একজন নাগরিক আরও প্রায় সাত বছর সাত মাস বেশি বাঁচতে পারতেন। সেই সঙ্গে বায়ুবাহিত রোগে প্রতি বছর দেড় লাখেরও বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। কিডনি, হৃদরোগসহ ক্যানসার রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। নষ্ট হচ্ছে নারী-পুরুষের প্রজনন ক্ষমতাও। অতি বায়ুদূষণের ফলে পরিবর্তন হচ্ছে জলবায়ুর। উত্তপ্ত হচ্ছে বায়ুমণ্ডলের ওজনস্তর। পরিবেশ দূষণরোধে আইন থাকলেও তা মানার বালাই নেই সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষেরই। নগরে মেগা উন্নয়নকাজে বায়ুদূষণরোধের কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। বেশির ভাগ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানই সরকারি। পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা এদের বিরুদ্ধে কঠোর না হওয়ায় কমছে না বায়ুদূষণ।

অন্যদিকে, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সড়কে পানি ছিটানোর কথা বললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। বায়ুদূষণ রোধে নির্মল বায়ু আইন-২০১৯ থাকলেও বাংলাদেশে তা যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে না। বায়ুদূষণ রোধে নজরদারি না বাড়ালে বসবাসের অযোগ্য ও বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে নগরবাসীর জীবনে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ু পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের ২০২১ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১১৭টি দেশের মধ্যে বায়ুদূষণের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। দূষিত বায়ুর শহর হিসেবে বিশ্বের ৬ হাজার ৪৭৫টি শহরের মধ্যে রাজধানী ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। ২০২১ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রত্যাশিত বায়ুমানের প্রতিবেদনেও দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বাতাসের মান বিশ্বে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের আগের তুলনায় বাড়বে স্বাস্থ্যঝুঁকি। অন্যদিকে গত ১০ বছরে উন্নয়নকাজের ফলে রাজধানীতে বেড়েছে খোঁড়াখুঁড়ির পরিমাণ। বেশ কয়েকটি মেগাপ্রকল্প, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, নির্মাণাধীন স্থাপনা ও কলকারখানার বর্জ্য, নিয়মিত রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করাসহ নানা কারণে দূষিত হচ্ছে ঢাকার বাতাস।

স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিনিয়তই বাড়ছে ঢাকায় বায়ুদূষণ। ফলে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, হৃদরোগ, অ্যাজমাসহ নানা ব্যাধি নিয়ে হাসপাতালে বাড়ছে রোগী। বাতাসে মাত্রাতিরিক্ত কার্বন মনোক্সাইড, সিসা, নাইট্রোজেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোকার্বন, বেনজিন, সালফার ও ফটোকেমিক্যাল অক্সিডেন্টস বায়ুতে মিশে যাচ্ছে। এতে উত্তপ্ত হচ্ছে বায়ু। আর বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে ঢাকা নগরী। মেয়াদোত্তীর্ণ মোটরযানের অনিয়ন্ত্রিত কালো ধোঁয়ায় সৃষ্ট মিথেন গ্যাস, ইথেলিন বাতাসে মিশ্রিত হয়ে প্রাণীদেহে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করছে। গাছের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া বা সালোক সংশ্লেষণ অতিরিক্ত বায়ুদূষণের ফলে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এর প্রভাব পুরো প্রাণী জগতের ওপর পড়ছে। জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের এক গবেষণা অনুযায়ী, গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত যত শিশুকে অভিভাবকরা ঢাকা শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান, তাদের ৪৯ শতাংশ শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত।

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার বাতাসে ধুলোবালি এবং শিল্পকারখানার ধোঁয়া বেড়ে যাওয়ায় বাতাসের মান দিন দিন খারাপ হচ্ছে। বর্তমানে দূষণের যে মাত্রা তাতে ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। বাতাসে ভাসছে বিষ। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময় ৬৪ জেলার তিন হাজার ১৬৩টি স্থানের গড় অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা ছিল প্রতি ঘনমিটারে ১০২ দশমিক ৪১ মাইক্রোগ্রাম, যা দৈনিক আদর্শ মানের (৬৫ মাইক্রোগ্রাম) চেয়ে প্রায় ১ দশমিক ৫৭ গুণ বেশি। পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ৬৪ জেলার মধ্যে গাজীপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি দূষণ পরিলক্ষিত হয় যার মান ছিল প্রতি ঘনমিটারে ২৬৩ দশমিক ৫১ মাইক্রোগ্রাম। গাজীপুরের পরের অবস্থানে রয়েছে পার্শ্ববর্তী জেলা ঢাকা (দ্বিতীয়) ও নারায়ণগঞ্জ (তৃতীয়) যার বায়ুমান ছিল যথাক্রমে ২৫২ দশমিক ৯৩ এবং ২২২ দশমিক ৪৫ মাইক্রোগ্রাম। সবচেয়ে দূষিত তিনটি শহরের বায়ুমান ছিল বাংলাদেশের আদর্শমানের চেয়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও সংস্কারকাজ, মেগাপ্রকল্প, আশপাশের ইটভাটা, ছোট-বড় কয়েক হাজার শিল্প কারখানা, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং ময়লা-আবর্জনা পোড়ানো এ প্রধান তিনটি শহর দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে পরিলক্ষিত হয়।

বায়ুদূষণের রয়েছে নানা কারণ। এসব কারণের নেই কোনো সমাধানের উদ্যোগ। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আব্দুস সোবহান বলেন, ঢাকা শহরে যে বায়ুদূষণের চিত্র আমরা দেখি সেটি অত্যন্ত ভয়াবহ। সরকারি সংস্থা আগে বলতো ইটভাটা, গাড়ির ধোঁয়ার কারণে বায়ুদূষণ হয়। এখন সেগুলো নেই, কিন্তু তারপরও তো দূষণের মাত্রা কমেনি। এখন দূষণের মূল কারণ হলো চারটি। এর একটি হলো- যে মেগাপ্রকল্প নেওয়া হচ্ছে তার কার্যক্রম, যানবাহনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, বছরজুড়ে রাস্তা খোঁড়াাখুঁড়ি এবং নিয়মিত ঢাকা শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করা। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র নিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও মেগাপ্রকল্পগুলোতে প্রচুর ধূলার সৃষ্টি হয়। অথচ বলা আছে সেখানে কীভাবে তারা ধুলো ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করবে। তারা সেটা করছেন না। বিদেশি প্রতিষ্ঠান এখানে বায়ুদূষণ করে কাজটা করলেও তারা নিজেদের দেশে এভাবে কাজটা করতে পারছেন না। স্থানীয়রাও বেশিরভাগই সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, তারাও সেটা নিয়ন্ত্রণ করছেন না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) বিশেষ ভূমিকা নেওয়া উচিত। ঢাকা শহরে খোঁড়াখুঁড়িতে যেসব সংস্থাকাজ করে তারা যতটুকু সংস্কার প্রয়োজন সেটা একসঙ্গেই করে। ফলে এ দূষণটা বিশাল এলাকাজুড়ে চলতে থাকে। কিন্তু সেটা যদি একেবারে না করে অল্প-অল্প করে কাজ করতো তাহলে এত দূর্ষণ হতো না। সিটি করপোরেশনের যে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অভিযান সেটা অত্যন্ত দুর্বল। রাজধানীর রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার কথা সেখানে ঢাকায় প্রতিটি রাস্তাই অপরিচ্ছন্ন। অথচ এজন্য সিটি করপোরেশনের লোকবল রয়েছে। নিয়মিত পানি ছিটানোর কথা থাকলে সেটা করা হচ্ছে না। এ সবগুলো তদারকির অভাবেই বায়ুদূষণটা বেড়েই চলেছে। জেলা সদরগুলোতে একই চিত্র দেখা যায়।

ট্রাস্টিজের সদস্য বিশিষ্ট নগর ও পরিবেশবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, টেকসই উন্নয়নের পরিবর্তে শুধু উন্নয়ন যে উন্নয়ন পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং পরিবেশকে সংবেদনশীলতা না রেখে কার্যক্রম পরিচালনা এবং তার নিয়ন্ত্রণে অনীহা ও দায়িত্বহীন আচরণ বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। মূল কারণ চিহ্নিত হয়েছে, সে অনুযায়ী আইনের যে পরিবর্তন সেটার জন্য আইন সংশোধন করা হয়েছে। কিন্তু সে আইন এখনো পাস করা হয়নি। পরিবেশের প্রতি অনীহা জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। সবার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা এবং সেই দায়বদ্ধতার জন্য প্রকৃত কর্তৃপক্ষ তৈরি করা। সেই সঙ্গে আইন বাস্তবায়ন করা এবং সবার সম্মিলিত প্রয়াস ও জনসচেতনতা নিশ্চিত করতে হবে।

নিউজ ট্যাগ: বায়ুদূষণ

আরও খবর



জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ৬ শতাংশ

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১৮ জুন ২০২২ | ৩৭৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য শুক্রবার (১৭ জুন) ছয় শতাংশ কমেছে, যা গত চার সপ্তাহের মধ্যে কম। এদিকে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়িয়েছে। এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কমছে তেলের চাহিদা। অন্যদিকে বিভিন্ন মুদ্রার বিপরীতে শক্তিশালী হচ্ছে ডলার। শনিবার (১৮ জুন) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। চলতি সপ্তাহে বেশ কিছু মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মূল্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা ২০০২ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। এতে তেল কেনার ক্ষেত্রে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা।

জানা গেছে, এ সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ব্যারেল প্রতি পাঁচ দশমিক ছয় শতাংশ বা ছয় দশমিক ৬৯ ডলার কমে ১১৩ দশমিক ১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থাৎ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) মূল্য ছয় দশমিক আট শতাংশ বা আট দশমিক শূন্য তিন শতাংশ কমে ১০৯ দশমিক ৫৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের এ মূল্য ২০ মের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে ডব্লিউটিআয়ের মূল্য ১২ মের পর সর্বনিম্ন হয়েছে। তাছাড়া মে মাসের শুরুর দিকের চেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রে দৈনিক শতাংশভিত্তিতে সর্বনিম্ন মূল্য।

ডেটা ও অ্যানালিটিক্স ফার্ম ওএএনডিএ-এর সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মোয়া বলেছেন, ডলারের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে গেছে। এদিকে রাশিয়া তেলের রপ্তানি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি বাড়ছে।


আরও খবর



বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রশিক্ষণ এক্সারসাইজ সম্প্রীতি-১০ এর উদ্বোধন

প্রকাশিত:সোমবার ০৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৬ জুন ২০২২ | ৩০৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বাংলাদেশ এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণে যৌথ প্রশিক্ষণ এক্সারসাইজ সম্প্রীতি-১০ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আজ সোমবার (০৬ জুন ) যশোর সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত হয়। জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ৫৫ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার যশোর এরিয়া মেজর জেনারেল মোঃ নূরুল আনোয়ার, এনডিসি, এইচডিএমসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রূপেশ শেহগাল এর নেতৃত্বে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অফিসার, জেসিও ও অন্যান্য পদবীর সেনাসদস্য এবং যশোর এরিয়ায় কর্মরত অফিসার, জেসিও ও অন্যান্য পদবীর সৈনিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এক্সারসাইজ সম্প্রীতি-১০ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতা ও উন্নয়নের প্রচেষ্টা। ২০১০ সাল থেকে এই অনুশীলনটি উভয় দেশ দ্বিপাক্ষিকভাবে আয়োজন করে আসছে। এই যৌথ অনুশীলনের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান ইতিবাচক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা। অনুশীলন সম্প্রীতি এর মাধ্যমে দুই দেশের সেনাবাহিনীর আন্তঃকার্যকারিতা, সন্ত্রাস দমন, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং জাতিসংঘের অধীনে বেসামরিক নাগরিকগণকে সুরক্ষা সহায়তা ( UNPOC) কার্যক্রমকে শক্তিশালী ও প্রসার করবে বলে আশা করা যায়। অনুশীলনটি কমান্ড পোষ্ট এক্সারসাইজ (CPX) এবং ফিল্ড ট্রেনিং এক্সারসাইজ (FTX) হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে। উভয় দেশ হতে ২০ জন করে অফিসার কমান্ড পোষ্ট এক্সারসাইজ (CPX) এ এবং ১২ জন অফিসার, ৯ জন জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার এবং ১২৯ জন অন্যান্য পদবির সৈনিক দ্বারা গঠিত ফিল্ড ট্রেনিং কোম্পানি এক্সারসাইজ (FTX) এ অংশগ্রহণ করছে।

অপারেশনাল কার্যক্রম ছাড়াও এই সময়কালে কয়েকটি ক্রীড়া ও সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। দুই সপ্তাহব্যাপী এই অনুশীলনটি আগামী ১৬ জুন ২০২২ তারিখে সমাপ্ত হবে।


আরও খবর