আজঃ সোমবার ২৪ জুন 20২৪
শিরোনাম

ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে যাওয়া যুবকের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত:সোমবার ০৭ আগস্ট ২০২৩ | হালনাগাদ:সোমবার ০৭ আগস্ট ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
মো. নাজমুল হোসাইন, শেরপুর

Image

শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পরে ইলিয়াস হোসেন (২৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (৭ আগষ্ট) সকালে বোরোরচর এলাকায় নদের তীরবর্তী ভাসমান আবস্থায় ফুলে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে উপজেলার চরঅষ্টধর ইউনিয়নের ডেবুয়ারচর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে।

পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে ইলিয়াস ও তারা বন্ধু নারায়ণখোলা বাজার এলাকার নজরুল ইসলাম ভূইয়ার ছেলে রামিন মিয়া (২০) ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে চরঅষ্টধর ইউনিয়নের টাঙ্গাইল্যাপাড়া আদর্শগ্রামে যায়। সেখানে গভীর রাত পর্যন্ত থাকায় বাড়ি ফিরার পথে নৌকা না পেয়ে তারা দুইজন সাঁতরে ব্রহ্মপুত্র নদ পার হওয়ার সময় ইলিয়াস পানিতে ডুবে যায়।

এরপরে রবিবার (৬ আগষ্ট) সকাল থেকে নদের পানির খড়া স্রোতে দীর্ঘ ৫ ঘন্টা অভিযান চালিয়েও নিখোঁজ ইলিয়াসকে উদ্ধার করতে না পেরে ফিরে যায় ডুবুরি দলের উদ্ধারকর্মীরা। এরপরে ইলিয়াসের পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী নিজ নিজ অবস্থান থেকে খোঁজাখুঁজি অব্যাহত রাখেন। অবশেষে ময়মনসিংহের বোরোরচর এলাকায় নদের তীরের নিকটে ইলিয়াসের মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। এই সংবাদ পেয়ে পুলিশ ইলিয়াস হোসেনের ফুলে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করেন।

নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মুকুল হোসেন জানান, আমরা খবর পেয়ে বোরোরচর এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের নিকট থেকে ভাসমান অবস্থায় ফুলে যাওয়া ইলিয়াসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে বলেও তিনি জানান।

এ ঘটনায় ইলিয়াসের বন্ধু রামিন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে নকলা থানার পুলিশ। প্রাথমিক পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে রামিন জানায়, তারা দুইজন ইয়াবা সেবনের জন্য শনিবার রাতে টাঙ্গাইল্যাপাড়া আদর্শগ্রামে যায়। সেখানে ইয়াবা সেবন শেষে গভীর রাতে নৌকা না পেয়ে সাঁতরে ব্রহ্মপুত্র নদ পার হওয়ার সময় ইলিয়াস পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়।

এদিকে ইলিয়াসের বাবা নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে পাকা সাঁতারু। সে কখনও পানিতে ডুবে মারা যেতে পারে না। তাকে পরিকল্পিতভাবে মেরে ব্রহ্মপুত্র নদের স্রোতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।


আরও খবর



ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু, আহত ২৫

প্রকাশিত:সোমবার ১৭ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৭ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ট্রেন দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। খবর- এনডিটিভি।

সোমবার (১৭ জুন) শিয়ালদহের দিকে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে পরে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ট্রেন। একটি মালবাহী ট্রেনের ধাক্কায় কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পেছন দিকের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কলকাতা থেকে শিলিগুড়ির রেল যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।

দার্জিলিং পুলিশের অ্যাডিশনার এসপি অভিষেক রায়ের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পেছনে মালবাহী ট্রেন ধাক্কা দিয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ২৫ জন আহত হয়েছেন। হতাহতের এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে ট্রেন দুর্ঘটনা নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে উদ্বেগ প্রকাশ করে বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন, এই মাত্র দার্জিলিঙের ফাঁসি দেওয়া এলাকায় ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পেলাম। বিস্তারিত এখনও জানতে পারিনি। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে মালগাড়ি ধাক্কা দিয়েছে শুনেছি। জেলাশাসক, এসপি, চিকিৎসক এবং অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে।


আরও খবর



ঢাকাসহ ১৭ অঞ্চলে ৮০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি হবে

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

Image

দেশের ১৭ অঞ্চলের ওপর দিয়ে রাত ১টার মধ্যে ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে বজ্র-বৃষ্টিসহ ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সোমবার (২৭ মে) বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানান।

আবহাওয়া অফিস জানায়, রাত ১টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব/পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।


আরও খবর



মানুষের ওপর বোঝা চাপানোর বাজেট: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

Image

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সাধারণ মানুষের ওপর আরও বোঝা চাপাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাজেট প্রস্তাবের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

বাজেটকে লুটের বাজেট উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই বাজেট লুট করার জন্য। তথাকথিত বাজেটে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। সাধারণ মানুষের ওপর সমস্ত বোঝা চাপাবে। ব্যাংক ও বিদেশিদের ওপর ঋণ আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, বাজেটের সঙ্গে সবকিছুর দাম আবার বাড়বে। বিদ্যুৎ খাতে চুরির বিষয়টি সবাই জানে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মানুষ তো আর পারছে না। নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। পুরো বাজেট বাংলাদেশ বিরোধী বাজেট। জনগণের জন্য কিছু নেই। মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতির জন্য এই বাজেট।


আরও খবর



পুঁজি ছাড়াই ভাওয়াল রিসোর্টের ২৫ শতাংশের মালিক বেনজীর

প্রকাশিত:রবিবার ০২ জুন 2০২4 | হালনাগাদ:রবিবার ০২ জুন 2০২4 | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

শুধু ক্ষমতার জোরই পুঁজি’। জনশ্রুতি রয়েছে, পাঁচতারকা মানের ভাওয়াল রিসোর্টের ২৫ শতাংশের মালিক হতে এক পয়সাও লগ্নি করতে হয়নি সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদকে। গাজীপুরের বারইপাড়া মৌজার নীলজানি গ্রামে গড়ে তোলা এ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা সেন্টারটির ওয়েবসাইটে এর জমির পরিমাণ ৩৫ একর (১০৫ বিঘা) বলা হলেও এলাকাবাসীর দাবি, রিসোর্টের জায়গা ৫০ একরের কম না।

গাজীপুরের বন বিভাগের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, বনের প্রায় পৌনে ৭ একর জমি দখল করে রিসোর্টটি দাঁড় করানো হয়েছে। গতকাল শনিবার ভাওয়াল রিসোর্ট এলাকা ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সম্প্রতি দুর্নীতির অভিযোগে বেনজীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পদ জব্দ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, পুলিশের শীর্ষ পদে থাকার সময় কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। কীভাবে প্রভাববলয় ব্যবহার করে এত সম্পদ অর্জন করেছেন, তা আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেই গাজীপুরের রিসোর্টটির মালিক বনে গেছেন বেনজীর। শুরুতে ১৯ একর জমি নিয়ে রিসোর্টটির কাজ শুরু হলেও সাবেক আইজিপি (তৎকালীন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের-ডিএমপি কমিশনার) বেনজীরের ক্ষমতার জোরে প্রায় ৫০ একর জায়গা দখল করে নেন রিসোর্ট মালিকরা।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রভাবশালীদের কাছ থেকে রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট, ম্যাক্স ভ্যালিসহ সাতটি রিসোর্টের অবৈধ দখল করা জমি উদ্ধার করলেও ভাওয়াল রিসোর্টের জমি উদ্ধারে এতদিন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছিল না বন বিভাগ। এ বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ভাওয়াল রিসোর্টের করা এক মামলায় এ জমির বিষয়ে একটি স্টে অর্ডার ছিল। এ কারণে বন বিভাগ চাইলেও জেলা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তবে ২০১৭ সালেই জেলা জজ আদালতের স্টে অর্ডারের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ যৌথভাবে আপিল করে। গত বৃহস্পতিবার এর রায় হয়েছে। আদালত আপিলটি গ্রহণ করে স্টে অর্ডারটি প্রত্যাহার ও ভাওয়াল রিসোর্টের মামলা খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে এখন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় কোনো বাধা নেই। তবে প্রক্রিয়া শুরু করতে কয়েক দিন লাগতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বন বিভাগের গাজীপুরের এক কর্মী জানান, রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্টের মালিকানায় সাবেক অতিরিক্ত আইজি বজলুল করিম, মেজর কবিরসহ বহু পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। তার পরও বন বিভাগ দখলে থাকা জমি উদ্ধার করেছে। ম্যাক্স ভ্যালির মালিকানায় আছে একটি নামকরা টিভি চ্যানেলের। বন বিভাগ তাদের থেকেও অবৈধ দখলকৃত জমি উদ্ধার করেছে। কিন্তু এ জায়গায় (ভাওয়াল রিসোর্টে) এসে হোঁচট খাচ্ছিলাম। প্রকৃতপক্ষে বন বিভাগের কতটা জমি দখল করে রেখেছে, তা পরিমাপের জন্য বন বিভাগ বা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কেউ এ রিসোর্টটিতে প্রবেশ করতে পারছিল না। আদালতের রায় পক্ষে আসায় এখন কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা করছি।

শুধু বন বিভাগ নয়, বীর মুক্তিযোদ্ধার জমিও দখল করে করা হয়েছে ভাওয়াল রিসোর্ট। এর মূল প্রবেশপথের এক একরের বেশি জমি কাপাসিয়া-শ্রীপুরের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডা. সিরাজুল হক এবং তাঁর মায়ের। প্রবীণ এ মুক্তিযোদ্ধা নিজের জমি উদ্ধারে নানাজনের কাছে দিয়েছেন ধরনা। তবে প্রভাবশালী বেনজীরের কারণে তারা ২০১৩ সালের পর থেকে ওই জমির ধারেকাছেও ভিড়তে পারেননি। বেনজীরের অনিয়ম-দুর্নীতির খবর চাউর হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছেন ডা. সিরাজুল। জমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে গাজীপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি।

এলাকাবাসী জানান, ভাওয়াল রিসোর্টের মূল উদ্যোক্তা দেশের অন্যতম প্রধান শিল্প গ্রুপ পারটেক্স। ব্যবসায়িক গ্রুপটির উদ্যোক্তা প্রয়াত এম এ হাশেমের ছেলে শওকত আজীজ রাসেল বর্তমানে এটির মালিকানায় রয়েছেন। ২০১৩ সালে গাজীপুর সদরের বারইপাড়া মৌজার নীলজানি গ্রামের কয়েকজনের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি কিনে এর সঙ্গে আরও কিছু সরকারি খাসজমি দখল করে নেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসী জানান, ভাওয়াল রিসোর্টটির মালিক পক্ষ ২০১০ সাল থেকে এ এলাকার জমি কেনা শুরু করে। তৎকালীন গাজীপুরের এসপি (বর্তমানে রংপুর রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি) আব্দুল বাতেন ভাওয়াল রিসোর্টের পক্ষে কাজ করেছেন। জমি দখল থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্টদের ক্ষমতা প্রদর্শনে সব সহায়তা দেন বলে জানান তারা। তবে গতকাল সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকর্মী যোগাযোগ করলে ডিআইজি আব্দুল বাতেন এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, এখন নানাজন নানা কথা বলবে। প্রকৃতপক্ষে আমার ভাই আব্দুর রাজ্জাকের (সোনালী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা) ভাওয়াল রিসোর্টের সঙ্গে কয়েক বিঘা জমি ছিল। সেই সূত্রে আমি একবার ওই এলাকায় গিয়েছিলাম। ভাওয়াল রিসোর্টের সঙ্গে কখনোই আমার কোনো সম্পর্ক ছিল না।’

তবে স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাদল মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, এসপি বাতেন এ জমি কেনাবেচায় সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে কখনও শুনিনি। ভাওয়াল রিসোর্টের মূল জমিটির মালিক ছিলেন তিন ভাই– রাধা বলম, গোপী বলম ও চাঁদ বলম। তারা ভারতে চলে গেছেন। তাদের কাছ থেকে আমির উদ্দিন ও দত্তর মুন্সী জমি কিনে নিয়েছিলেন। তবে বাঘের বাজারের হাবিবুর রহমান নামে একজন মিথ্যা দলিল করে জমি দখল করে নেন। স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে মীমাংসা হওয়ার পর আমির উদ্দিন ও দত্তর মুন্সীদের কাছ থেকে জমি কিনে নিয়েছিলেন রাজউক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক্তন প্রিন্সিপাল মঞ্জুর আলম। এক ছাত্রের সঙ্গে পরিচয় সূত্রে এ জমি কিনেছিলেন তিনি। এর পর মঞ্জুর আলমের কাছ থেকে পারটেক্স গ্রুপ জমি কিনে নেয়। পরে রফিক মাস্টারসহ অনেকে জমি বিক্রি করেছেন। এখানে বেনজীর  আহমেদের কোনো জমি ছিল না। শুনেছি, এই রিসোর্টের মালিকানায় তিনিও আছেন। তবে কীভাবে মালিক হয়েছেন, তা জানি না। ভাওয়াল রিসোর্ট তাদের দখলে থাকা জমির পরিমাণ ৩৫ একর দাবি করলেও বাদল মিয়ার দাবি, এর পরিমাণ ৫০-৬০ বিঘার বেশি হবে না।

তবে স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক রাজ্জাক জানান, তিনি সরাসরি ভাওয়াল রিসোর্টের কাছে জমি বিক্রি করেননি। তিনি জমি বিক্রি করেছেন রাজউক স্কুল অ্যান্ড কলেজের মঞ্জুর আলমের কাছে। ভাওয়াল রিসোর্টের পক্ষে জমির দালালি ও দখলে কাজ করেছেন– স্থানীয় কয়েকজনের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ঠিক না।

এলাকাবাসী জানান, তৎকালীন এসপি বাতেনের পর ২০১৭ সালে হঠাৎ ভাওয়াল রিসোর্টের সঙ্গে যুক্ত হন বেনজীর। ব্যক্তিমালিকানাধীন কিছু জমির দখল ছাড়তে রাসেলদের চাপ প্রয়োগ করেন তিনি। এক পর্যায়ে বেনজীরকে এর অংশীদার করে দিয়ে আপসরফা করে নেন রাসেল।

এ ব্যাপারে কথা বলতে বেনজীর আহমেদের মোবাইলে কয়েক দফা ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে ভাওয়াল রিসোর্টের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এম্বার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং রিসোর্টির মালিক শওকত আজীজ রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগেরও চেষ্টা করা হয়।

ভাওয়াল রিসোর্টের মূল প্রবেশপথের জমিটি মুক্তিযোদ্ধা ডা. সিরাজুল হক ও তাঁর মায়ের জমি দখল করে গড়ে তোলা। এ ব্যাপারে ডা. সিরাজুল হকের ভাই বজলুল হক গণমাধ্যমকে জানান, ভাইয়ের জমি উদ্ধারে আজ রোববার গাজীপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ১৯৮২ সালে এই জমি কেনা। স্থানীয় বাসিন্দা মো. শফিউল্লাহর কাছে জমিটি বর্গা দেওয়া ছিল। ২০১৩ সালে হঠাৎ জমিটি দখল করে নেয় ভাওয়াল রিসোর্ট। পরে জানতে পারি, এর সঙ্গে পুলিশের বড় কর্তারা জড়িত। ফলে ভয়ে আমরা ওই জমির ধারেকাছেও যেতে পারিনি। এখন বেনজীরের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে দেখে আমরাও কিছুটা সাহস পাচ্ছি।

শফিউল্লাহর কাছে জমি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ডা. সিরাজুল হকদের জমিটি একসময় নিচু ছিল। আমিই বর্গা নিয়ে চাষ করতাম। ভাওয়াল রিসোর্টের লোকজন জমি ভরাট করে এখানে রিসোর্ট বানায়। এক পর্যায়ে রাস্তায় ওঠার জন্য তাদের জমি ছিল না। তখন এ জমিটি দখল করে নেয়। তারা জানত, এটা এক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের জমি। তার পরও তারা তা গ্রাহ্য করেনি। সিরাজুল হক জমির আশপাশেও যেতে পারতেন না। নানা জনের কাছে ধরনা দিয়ে জমি উদ্ধার করতে না পেরে ন্যায্যমূল্যে তা কিনে নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। সেই অনুরোধ রিসোর্টের মালিকরা রাখেননি। তবে প্রতিবছর এ জমির সরকারি খাজনা আমি দিয়ে এসেছি। ১৪৩১ বাংলা সনের খাজনাও আমি দিয়েছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসী জানান, ২০১৭ সালে ভাওয়াল রিসোর্টের অধীনে সব মিলে জমি ছিল ১৯ একর। বেনজীর যুক্ত হওয়ার পর আশপাশের আরও জমি জবরদখল করে এর আয়তন বাড়িয়ে নেন। এখন রিসোর্টের অধীনে জমির পরিমাণ ৫০ একরের কম হবে না। এলাকাবাসী আরও জানান, এলাকায় বেনজীর যখন আসতেন, তখন মেম্বারবাড়ি, নলজানি রাইস মিলসহ পুরো এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হতো। ভয়ে তখন কেউ রাস্তায় উঠত না। এর পর যাদের জমি দখল করা হয়েছিল, তারাও ভয়ে ওই এলাকায় যেতেন না।


আরও খবর



আমেথিতে ৫০ হাজারের ব্যবধানে পিছিয়ে বিজেপির স্মৃতি ইরানি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৪ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

ভারতে চলছে ১৮তম লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল আটটায় এই ভোট গণনা শুরু হয়। বিকালে ঘোষণা করা হবে ৫৪৩ আসনের ফল।

এদিকে, উত্তর প্রদেশের আমেথিতে বিজেপির প্রার্থী স্মৃতি ইরানি কংগ্রেস প্রার্থী কিশোরী লাল শর্মার কাছে ৫০ হাজারের ব্যবধানে পিছিয়ে আছেন।

আমেথি কংগ্রেসের পারিবারিক আসন। সেখানে রাহুল গান্ধীর প্রার্থী না হওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। বিজেপি স্মৃতি ইরানিকে প্রার্থী করে, বিপরীতে কংগ্রেস প্রার্থী করে পুরোনো সৈনিক কিশোরী লাল শর্মাকে।

খবর অনুযায়ী, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্মৃতি ইরানি পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৯ ভোট। কিশোরী লাল শর্মা পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২৭ ভোট।

এদিকে কিশোরী লাল এগিয়ে থাকায় তাকে ইতোমধ্যে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছেন রাহুল গান্ধীর বোন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

উল্লেখ্য, মোট ৫৪৩ আসনের মধ্যে সরকার গঠন করতে যেকোনও জোটের ২৭২ আসনে জয় দরকার। এর আগে দীর্ঘ দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচনি কার্যক্রম। মোট সাত দফার এই নির্বাচনের শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ হয় গত ১ জুন।

রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিকাল ৩ টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ এগিয়ে ছিল ২৯২ আসনে। অন্যদিকে, শক্তিশালী বিরোধীদল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট এগিয়ে ছিল ২২৯ আসনে।


আরও খবর