আজঃ মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২
শিরোনাম

বিটকয়েনের মূল্যে রেকর্ড ধস

প্রকাশিত:রবিবার ১৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৯ জুন ২০২২ | ৩২০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েনের দরে রেকর্ড পতন হয়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে প্রথমবারের মতো বিটকয়েনের মূল্য ২০ হাজার মার্কিন ডলারের নিচে নেমে গেছে। অর্থাৎ গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে ডিজিটাল এই মুদ্রাটির। রবিবার (১৯ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। মূলত আর্থিক নীতির সম্ভাবনার মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারের অভিমুখ নিম্নমুখী হয়ে পড়ায় এই দরপতন হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের তথ্য অনুসারে, বাজার মূল্যের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা বিটকয়েনের মূল্য শনিবার বিকেলে ১৩.৭ শতাংশেরও বেশি কমে যায়। এতে করে এর মূল্য ১৭ হাজার ৫৯৩ ডলারে নেমে আসে। আর এর মাধ্যমেই গত ১৮ মাসে সবচেয়ে কম বাজারদরে পৌঁছেছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ক্রিপ্টোকারেন্সিটি। অবশ্য শুধু বিটকয়েন নয়, অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি যেমন ইথিরিয়াম, সোলানা এবং বিএনবিও ব্যাপক ধসের সম্মুখীন হয়েছে। বিটকয়েনের পর সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি ইথিরিয়াম। এই মুদ্রার বাজারদর এখন ১ হাজারের ঘরে। এটিও চলতি বছরে ৭৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

ফলস্বরূপ, ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসের পর থেকে প্রথমবারের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সির সামগ্রিক বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গেছে। এই ধসের ফলে বিরাট ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। গত কয়েক মাসে একের পর এক ধসের জেরে কার্যত দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা। কেউ কেউ বলছেন, এই ধস আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আকার নিতে পারে। ব্যাংক অব আমেরিকা কর্পোরেশনের ক্রিপ্টো এবং ডিজিটাল অ্যাসেটস স্ট্র্যাটেজির প্রধান আলকেশ শাহ গত শুক্রবার বলেছেন, বিনিয়োগকারীরা গত বছরের লিকুইডিটি চালিত ডিজিটাল সম্পদের এই বাজারের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী সতর্ক মনোভাব দেখাচ্ছেন।

তবে কঠিন পরিস্থিতি হলেও এখনই আশাহত হওয়ার কিছু নেই বলেও জানাচ্ছেন তিনি। কারণ নগদ প্রবাহ এবং লাভের পাশাপাশি রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য রোড ম্যাপ তৈরি করছে বিনিয়োগকারীরা। বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিপ্টোকারেন্সির দামের পতন শেয়ার বাজার এবং অন্যান্য সম্পদের দামের পতনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যংকের মতো বিশ্বের অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আর্থিক নীতিকে ক্রমশ কঠোর করে চলেছে। আবার অনেকে বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের মধ্যে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে কোনো মৌলিক নীতি নেই। এবং শেয়ার বাজারের তুলনায় ব্যাপক অস্থিরতা কাজ করে এখানে। এর ফলে একটি বাবেল বা বেলুন তৈরি হয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সিকে কেন্দ্র করে যা ফেটে যেতেই এমন ভয়াবহ পতন।

অন্যদিকে ক্রিপ্টো বিনিয়োগকারীদের অনেকের মত, বিটকয়েন কিংবা ইথিরিয়ামের দাম প্রচুর ওঠা-নামা করে এবং একসময় সর্বোচ্চ দামে গিয়ে পৌঁছায় যা ভালো অংকের মুনাফা তৈরি করে। তাই তারা মনে করেন, এটিতে এখন বিনিয়োগ করার ভালো সময় এবং এই পতন থেকে খুব শিগগিরই ঘুরে দাঁড়াবে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজার। বিনিয়োগকারীদের অনেকে এটিও বলছেন, মৌলিক নীতি না থাকায় কখনও একটি কারেন্সি সেই উচ্চতা লাভ করতে পারে না। তাই সাময়িক সময়ের জন্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও ক্রিপ্টোকারেন্সির ভবিষ্যত এখনও অন্ধকার।

উল্লেখ্য, ক্রিপ্টোকারেন্সি এক ধরনের ভার্চুয়াল মুদ্রা এবং তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে লেনদেন হয়ে থাকে। সারা বিশ্বে বর্তমানে এ ধরনের মুদ্রার সংখ্যা আট হাজারের বেশি এবং এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে বিটকয়েন। ২০০৮ সালের শেষভাগে জাপানি নাগরিক সাতোশি নাকামোতো নামের একজন এবং একদল সফটওয়্যার বিজ্ঞানী ক্রিপ্টোকারেন্সির উদ্ভাবন করেন। দরপতনের আগে বিশ্বে ভার্চুয়াল এই মুদ্রার বাজার দুই ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণে পৌঁছেছিল। অন্যদিকে রেকর্ড দরপতনের আগে বিটকয়েনের মূল্য ছাড়িয়েছিল ৬৮ হাজার মার্কিন ডলার।


আরও খবর



উদ্বোধনের পরেই পদ্মা সেতুতে উঠে পড়লেন উৎসুক জনতা

প্রকাশিত:শনিবার ২৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ জুন ২০২২ | ২৯৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সেতুর ওপর উঠে পড়েন জাজিরা এলাকার উৎসুক জনতা। তাঁরা হাতে লালসবুজের পতাকা নিয়ে বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠেন। পরে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সেতুর ওপরে ওঠা সবাইকে সরিয়ে দেন।

সেতুতে ওঠা বরিশালের তরুণ শামীম আহমেদ বলেন, বেলা ১১টা থেকে সেতুর টোল প্লাজার সামনে ছিলাম। তখন সেখানে হাজার হাজার মানুষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টোল দেওয়ার পর সবাই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেতুর ওপরে উঠে যান। তাঁদের দেখাদেখি আমিও সেতুতে উঠি। সেতুর ওপরে অনেক উল্লাস করেছি। সবাই চিৎকার দিয়ে জয় বাংলা বলেছি।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থেকে আসা সাইদুল ইসলাম বলেন, যেভাবেই হোক প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পরপরই সেতুতে উঠতে পেরেছেনএর চেয়ে আনন্দের আর কিছুই নেই। তাঁরা খুবই খুশি। তবে সেতুতে ওঠায় পুলিশ তাঁদের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করেছে। আজকের দিনে পুলিশ এমন না করলেও পারত বলে জানান তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেতু কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রী টোল দেওয়ার পরই বাংলাবাজার ঘাটে জনসভায় যোগ দিতে যান। তখন উৎসুক জনতা পুলিশের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সেতুর ওপরে উঠে পড়েন। পুলিশ গিয়ে তাঁদের সেতু থেকে নামিয়ে দেয়।


আরও খবর



সোমবার থেকে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ জুন ২০২২ | ২৪০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পদ্মা সেতুতে সোমবার (২৭ জুন) ভোর থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সেতু বিভাগ। রোববার (২৬ জুন) রাতে তথ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিবরণীতে সেতু বিভাগ এ তথ্য জানায়। 

বিবরণীতে বলা হয়, আগামীকাল ২৭ জুন ২০২২, সোমবার ভোর ৬টা থেকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন। আজ (রোববার) সকাল থেকে সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

সকালে যান চলাচল শুরুর পর দিনভর সেতুতে মোটরসাইকেলের আধিক্য দেখা যায়। যাত্রীদের বেশিরভাগই ছিলেন দর্শনার্থী। অনেকে দলবেঁধে মোটরসাইকেলে বন্ধুবান্ধব নিয়ে সেতুতে ভিড় করেন।

মোটরসাইকেল থেকে সেতুতে নেমে অনেককে ছবি তুলতে এবং ভিডিও ধারণ করতে দেখা যায়। যদিও সেতুতে থেমে ছবি তোলায় রয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

উৎসুক মোটরসাইকেলচালকদের ভিড়ে রোববার সারাদিনই সেতুর দুই প্রান্তেই বেশ চাপ সৃষ্টি হয়।

এদিকে, রোববার রাতে সেতুতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেনি।  

সন্ধ্যায় পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে টোল প্লাজার সামনে মোটরসাইকেলের ভিড় লেগে যায়। এ সময় টোল দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে সেতুতে উঠে উল্লাস প্রকাশ করেন আরোহীরা।


আরও খবর



পদ্মা সেতুর উদ্বোধন: শেখ হাসিনাকে নেপালের অভিনন্দন

প্রকাশিত:শনিবার ২৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ জুন ২০২২ | ২৮০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছে নেপাল। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ অভিনন্দন জানানো হয়। আজ শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বার্তায় বলা হয়েছে, ‌শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে আত্মবিশ্বাস ও সফলতা অর্জন করছে তা আসলেই অভাবনীয়। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারায় আমরা শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন। এদিন সকাল ১০টায় সেতুর মাওয়া প্রান্তে প্রথমে সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন তিনি। এরপর টোল দিয়ে সেতুতে উঠে সেখানে থাকা উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন।

পরে গাড়িতে করে সেতু পার হয়ে জাজিরায় আরেকটি ফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন বিকেলে মাদারীপুরের শিবচরে জনসভায় অংশ নেবেন শেখ হাসিনা। আগামীকাল রোববারসকাল ৬টা থেকে নির্ধারিত টোল দিয়ে এ সেতুতে যানবাহন চলাচল শুরু হবে।


আরও খবর



প্রতি সেকেন্ডে পৃথিবীর সমান ভর গ্রাস করছে যে ব্ল্যাকহোল!

প্রকাশিত:রবিবার ১৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৯ জুন ২০২২ | ৩৪৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

মহাবিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বরের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। নতুন আবিষ্কৃত এই ব্ল্যাকহোলটি এতই দ্রুত বর্ধনশীল যে, এটি প্রতি সেকেন্ডে পৃথিবীর সমান ভর গ্রাস করছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। জে-১১৪৪ নামের এই ব্ল্যাকহোলটি আবিষ্কার করেছেন অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (এএনইউ) একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানী।  এএনইউ'র বিজ্ঞানীদের মতে, জে-১১৪৪ গত ৯০০ কোটি বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল এবং এর ভর ৩০০ কোটি সূর্যের ভরের সমান।

গবেষক দলের আরেক সদস্য এএনইউর পিএইচডি গবেষক স্যামুয়েল লাই বলেন, এটি আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সির ব্ল্যাকহোলের চেয়ে ৫০০ গুণ বড়। এত বড় আকারের ব্ল্যাকহোলটি বিজ্ঞানীদের এ বিষয়ে আরও কৌতূহলী করে তুলেছে। কারণ প্রায় ১০০ কোটি বছর আগে, তুলনামূলক এই আকারের অন্য ব্ল্যাকহোলগুলোর এমন দ্রুত হারে বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো।

গবেষক দলের প্রধান ড. ক্রিস্টোফার ওনকেন এবং ওই দলের আরেক সদস্য এএনইউর সহকারী অধ্যাপক ক্রিশ্চিয়ান ওলফের মতে, ব্ল্যাকহোলটির চারপাশে একটি গ্যাস বলয় বা কোয়াসার রয়েছে। এটি আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের সমস্ত আলোর চেয়ে সাত হাজার গুণ বেশি উজ্জ্বল। আর এই উজ্জ্বলতাই এটিকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে দৃশ্যমান করে তুলেছে। ওনকেন এবং ওলফ দুজনই এই ব্ল্যাকহোলটিকে খড়ের গাদায় সুঁই খুঁজে পাওয়ার মতো ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন।

ওনকেনের মতে, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এমন একটি ব্ল্যাকহোলের সন্ধান করছেন। এর আগে বিজ্ঞানীরা যেসব ব্ল্যাকহোলের সন্ধান পেয়েছেন সেগুলো খুবই অনুজ্জ্বল ছিল। কিন্তু তারা এই উজ্জ্বল ব্ল্যাকহোলটিকে পাশ কাটিয়ে গেছেন এবং এটি খুবই আশ্চর্যজনক। এখন আমরা এই ব্ল্যাকহোলের আলাদা বৈশিষ্ট্যের কারণ খুঁজছি। আমাদের ধারণা বিপর্যয়কর কিছু একটা ঘটেছে। সম্ভবত দুটি বড় গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ বিধ্বস্ত হয়ে একে অপরের সঙ্গে একীভূত হওয়ার ফলে এই বৃহৎ আকারের ব্ল্যাকহোলটির সৃষ্টি হয়েছে। আর গ্যালাক্সিদ্বয়ের বিস্ফোরণের ফলে ব্ল্যাকহোলের ওপর প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন উপাদান ছড়িয়ে পড়েছিল, যেগুলো পরে এটি গ্রাস করে নেয়। যেসব নক্ষত্রের ভর অনেক বেশি, জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার পর অভিকর্ষজ বলের প্রভাবে নিজেদের ওপরই চুপসে যায় সেগুলো। আর তখনই ওইসব নক্ষত্র ব্ল্যাকহোলে পরিণত হয়। সাধারণত ব্ল্যাকহোলের ঘনত্ব হয় অনেক অনেক বেশি। এর ফলে আকারের তুলনায় এদের ভর হয় অবিশ্বাস্য!

ক্রিশ্চিয়ান ওলফের মতে, এই ব্ল্যাকহোলটি এমন একটি আউটলায়ার (প্রধান অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন ক্ষুদ্র অংশ) যা হয়তো ভবিষ্যতে আর পাওয়া যাবে না। সদ্য খুঁজে পাওয়া এই ব্ল্যাকহোলটি খুব অন্ধকার বাড়ির উঠোনে বসে একটি ভালো টেলিস্কোপের সাহায্যে যেকেউ সহজেই দেখতে পারবে। কারণ হোলটির ভিজ্যুয়াল ম্যাগনিটিউড (পৃথিবীর একজন পর্যবেক্ষকের কাছে মহাকাশের কোনো বস্তু কতটা উজ্জ্বল তা খুঁজে বের করার পরিমাপ) ১৪ দশমিক ৫।

নিউজ ট্যাগ: ব্ল্যাকহোল

আরও খবর



দুই সন্তানসহ ৩ সহোদর বোনের আত্মহত্যা

প্রকাশিত:রবিবার ২৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৯ মে ২০২২ | ৫১৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ভারতের রাজস্থান রাজ্যে একসঙ্গে যৌতুকের বলি হলেন তিন বোন এবং তাঁদের দুই সন্তান। তাঁরা একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছেন। এই ঘটনা রাজ্যজুড়ে তোলপাড় তুলেছে।

শিশু দুটির মধ্যে একটির বয়স ৪ বছর, অপরটির মাত্র ২৭ দিন। আর নিহত তিন বোনের মধ্যে দুজন ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। তিন বোন কালু মীনা (২৫), মমতা (২৩) এবং কমলেশ (২০) দুদু জয়পুর জেলার চাপিয়া গ্রামের একই পরিবারের তিন ভাইকে বিয়ে করেছিলেন।

তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য নিয়মিত নির্যাতন করতেন। কথায় কথায় মারধরও করতেন।

তাঁদের চাচাতো বোন হেমরাজ মীনা সাংবাদিকদের বলেন, যৌতুকের জন্য আমার বোনদের নিয়মিত মারধর করা হতো এবং নানাভাবে নির্যাতন করত। গত ২৫ মে তারা নিখোঁজ হয়। আমরা হন্যে হয়ে তাদের খুঁজতে থাকি। স্থানীয় পুলিশ স্টেশন, হেল্পলাইন এবং জাতীয় মহিলা কমিশনে এফআইআর করি। কিন্তু কারও কাছ থেকে তেমন সহযোগিতা পাইনি।

তিন বোনের কেউই কোনো সুইসাইড নোট রেখে যাননি। তবে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা কনিষ্ঠ বোন কমলেশের একটি হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি হিন্দিতে লিখেছেন, আমরা এখন চলে যাচ্ছি, তোমরা খুশি থাকো, আমাদের মৃত্যুর কারণ আমাদের শ্বশুরবাড়ি, প্রতিদিন মরার চেয়ে একবার মরে যাওয়াই ভালো! তাই, আমরা একসঙ্গে মরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা আশা করি, পরবর্তী জীবনে আমরা তিনজন একসঙ্গে থাকব। আমরা মরতে চাই না। কিন্তু আমাদের শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাদের নির্যাতন করে। আমাদের মৃত্যুর জন্য আমাদের বাবা-মাকে দায়ী করবেন না।

সন্তানসহ তিন বোন নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর আজ শনিবার সকালে দুদু গ্রামের একটি কুয়া থেকে পুলিশ তিন বোন এবং দুই শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, নির্যাতিতাদের স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। যৌতুকের কারণে মৃত্যুর একটি মামলা এখন মূল এফআইআরে যুক্ত করা হবে। তাঁদের মৃত্যুর ঘটনায় তিন স্বামী, শাশুড়ি ও পরিবারের অন্য সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

রাজস্থানের নারী অধিকার কর্মীরা এই মামলার উচ্চ-পর্যায়ের তদন্তের দাবি করেছেন। তাঁরা বলছেন, রাজস্থানের এমন ঘটনা অত্যন্ত লজ্জার। এমন আচরণে এটা স্পষ্ট যে এখানে নারীদের জীবনের কোনো মূল্য নেই। মরদেহ উদ্ধারে চার দিন সময় নেওয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


নিউজ ট্যাগ: আত্মহত্যা

আরও খবর