আজঃ শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪
শিরোনাম

বিষদস্যুরা বেপরোয়া, সুন্দরবনের গহীনে মাছ শিকার থামছে না

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৪ মার্চ ২০২৩ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৪ মার্চ ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

মোংলা থেকে নূর আলম(বাচ্চু),

সুন্দরবনের অভ্যন্তরে বিষ দস্যুদের অপতত্পরতা থামানোই যাচ্ছে না। জেলে নামধারী এসব বিষ দস্যু সুন্দরবনের গহিনে পাশ-পারমিটের আড়ালে প্রবেশ করে অবাধে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করছে। এতে করে বনের মৎস্য সম্পদ ও জলজসহ বিভিন্ন প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সুন্দরবনের জলভাগের পরিমাণ ১ হাজার ৮৭৪ বর্গকিলোমিটারের বেশি, যা সমগ্র সুন্দরবনের ৩১ দশমিক ১৫ ভাগ। এই জলভাগে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে ১৩টি বড় নদনদীসহ ৪৫০টির মতো খাল। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়া এই বনের নদনদী ও খালে ভেটকি, রূপচাঁদা, দাঁতিনা, চিত্রা, পাঙাশ, লইট্যা, ছুরি, মেদ, পাইস্যা, পোয়া, তপসে, লাক্ষা, কই, মাগুর, কাইন, ইলিশসহ ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ হয়ে থাকে। এছাড়া রয়েছে গলদা, বাগদা, চাকা, চালী, চামীসহ ২৪ প্রজাতির চিংড়ি। বিশ্বখ্যাত শিলা কাঁকড়াসহ ১৪ প্রজাতির কাঁকড়ার প্রজনন হয়ে থাকে এই বনের নদনদী ও খালে। রয়েছে ৪৩ প্রজাতির মালাস্কা ও এক প্রজাতির লবস্টার। আরো রয়েছে বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির ইরাবতীসহ ছয় প্রজাতির ডলফিন।

উপকূলীয় এলাকা ও বন বিভাগের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুর্বৃত্তরা পাস পারমিট নিয়ে বনে প্রবেশের সময় নৌকায় বিষাক্ত কীটনাশক নিয়ে যায়। পরে জোয়ারের আগে কীটনাশক চিড়া, ভাত বা অন্য কিছুর সঙ্গে মিশিয়ে নদী ও খালের পানির মধ্যে ছিটিয়ে দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কীটনাশকের তীব্রতায় নিস্তেজ হয়ে পানিতে ভেসে ওঠে। তারা ঐ মাছ উঠিয়ে প্রথমে স্থানীয় আড়তে নিয়ে যায়। কোন কোন জেলে আবার বন বিভাগের পাস পারমিট ছাড়াই বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এ প্রক্রিয়ায় মাছ শিকার করে থাকে।

সুন্দরবন সংলগ্ন স্থানীয়রা জানান, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে ঢাংমারী, মরাপশুর, জোংড়া, ঝাপসি, ভদ্রা, নীল কমল, হরিণ টানা, কোকিলমুনী, হারবাড়িয়াসহ শরণখোলা, সাতক্ষীরা ও খুলনা রেঞ্জের আশপাশ এলাকার বন সংলগ্ন স্থানীয় অসাধু কিছু জেলে নামধারী মৎস্য দস্যু বিষ দিয়ে মাছ ধরছে। বেশি মুনাফার আশায় সুন্দরবনের বিভিন্ন নিষিদ্ধ খালেও বিষ দিয়ে মাছ শিকার করা হয়। বিষাক্ত পানি সুন্দরবনের বিভিন্ন খাল থেকে ভাটার সময় নদীতে নেমে আসে। এ কারণে মাছ মরে যাওয়ায় এখন নদীতে আর ছোট-বড় মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। মোংলা বাজার মৎস্য সমিতির সভাপতি আফজাল ফরাজি সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে ধরা মাছ স্থানীয় বাজারে বিক্রিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয় বলে স্বীকার করে বলেন,  স্থানীয় কিছু আড়তদার এ চক্রকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা দাদন দিয়ে সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরতে পাঠায়।

মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান চিকিৎসক ডা. মো. শাহিন বলেন, বিষাক্ত পানির মাছ খেলে মানুষের পেটের পীড়াসহ কিডনি ও লিভারে জটিলতা দেখা দেয়। তিনি বিষ মিশ্রিত মাছ না খাওয়ার জন্য জনসাধারণকে সজাগ থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন। মোংলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে বিষ দিয়ে মাছ শিকার বন্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি এর ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, এসব কীটনাশক যেখানে প্রয়োগ করা হয়, সেখানে ছোট-বড় সব প্রজাতির মাছ মারা যায়। দুষ্কৃতকারীরা সেখান থেকে শুধু বড় মাছগুলো সংগ্রহ করে। ছোট মাছগুলো তারা নেয় না। কিন্তু এই ছোট মাছগুলো ছিল বড় মাছের খাবার। ফলে ঐ এলাকার খাদ্যচক্রেও ব্যাপক প্রভাব পড়ে। এর চেয়ে সর্বনাশা কাজ আর কিছুই হতে পারে না।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বলেন, সুন্দরবনে অসাধু মাছ ব্যবসায়ী ও জেলে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রায় সময়েই অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু তারা দ্রুত আদালত থেকে জামিনে এসে আবার একই কাজ করে। গ্রেফতারের পর কেন দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষ দিয়ে শিকার করা মাছ শনাক্ত করার মেশিন আমাদের কাছে নেই। তাই এ বিষয়ে প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা যায় না।


আরও খবর



রামগঞ্জে সাউথ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় চুরি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৪ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
Image

রামগঞ্জ(লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক লিমিটেডের এজেন্ট শাখায় চুরির ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (৩ জুন) দিবাগত রাতে ইছাপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজারে ব্যাংকের দরজার গ্রীল কেটে চুরির ঘটনা ঘটে।

এ সময় ড্রয়ারের তালা ভেঙ্গে ৫০ হাজার টাকাসহ অনেক আসবাবপত্র নিয়ে গেছে বলে দাবি করেন এজেন্ট শাখার মালিক লক্ষ্মীপুর-১ রামগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ গোফরান।

এজেন্ট শাখার পরিচালক সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবের পর কয়েকদিন বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও আমি প্রতিদিনই ব্যাংকে বসতাম। সোমবার বিকেলেও ব্যাংকিং কার্যক্রম শেষে শাখা বন্ধ করে বাড়ি চলে আসছি। আজ মঙ্গলবার (৪ জুন) সকালে এসে দেখি দরজার গ্রীল কাটা, তালা ভেঙ্গে নগদ ৫০ হাজার টাকা, দুইটি সিলিং ফ্যান, একটি পানির পাম্প, একটা টেবিলসহ আবসাবপত্র নিয়ে গেছে। এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে অফিসের বিভিন্ন কাগজপত্র। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে জানালে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এজেন্ট শাখার মালিক লক্ষ্মীপর-১ রামগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ গোফরান জানান, এটি খুবই দুঃখ্যজনক। এলাকায় চুরির উত্তাপ একটু বেড়ে চলছে। চুরির সাথে যারা জড়িত তদন্ত করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা গেলে এলাকার মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারবে।

এ বিষয়ে রামগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরও খবর



প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় সুন্দরবন প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

মাছ, বন্যপ্রাণীর বিচরণ ও প্রজনন কার্যক্রম সুরক্ষায় তিন মাসের জন্য বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের ঢোকার অনুমতি বন্ধ করা হয়েছে। এ সময় সুন্দরবনে পর্যটকবাহী বোটসহ সব ধরনের যানবাহন প্রবেশ বন্ধ থাকবে। এ সময় মাছ ও কাঁকড়া আহরণও বন্ধ থাকবে।

শনিবার (১ জুন) পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনের সব নদী-খালে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ বন্ধ রাখা হচ্ছে। এ সময় পর্যটকবাহী বোটসহ সব ধরনের যানবাহন প্রবেশ বন্ধ থাকবে। এবং নতুন করে কাউকে প্রবেশ পাস দেয়া হবে না।

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের তথ্য মতে, এরআগে সুন্দরবনে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার (আইআরএমপি) সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সাল থেকে প্রতিবছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দুই মাস সুন্দরবনের সব নদী ও খালে মাছ আহরণ বন্ধের সিদ্ধান্ত ছিল। তবে ২০২২ সালে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এ নিষেধাজ্ঞা আরও এক মাস বৃদ্ধি করে ১ জুন থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে সুন্দরবনে ঢোকার সব ধরনের পাস। সেই থেকে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনের সব নদী-খালে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ বন্ধ রাখা হচ্ছে।

বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা এবিএম হাবিবুল ইসলাম বলেন, জুন থেকে পরবর্তী তিন মাস সুন্দরবনে ২৫১ প্রজাতির মাছের প্রজনন মৌসুম। সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির তাগিদে মন্ত্রী পরিষদ এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার থেকে তিন মাস সুন্দরবন পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।’

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী বলেন, মন্ত্রী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ থেকে সুন্দরবন তিন মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য নতুন করে কাউকে পাস (অনুমতি পত্র) দেয়া হবে না। একই সঙ্গে বন বিভাগের নিয়মিত স্মার্ট পেট্রোলিং টিম তাদের অভিযান অব্যাহত রাখবে। এবং সুন্দরবনের ভিতরের অফিসগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা প্রতিদিন তাদের নিয়মিত টহল অব্যাহত রাখবে।’

উল্লেখ্য, সুন্দরবনে ৩১৫ প্রজাতির পাখি, ৩৫ প্রকারের সরীসৃপ, ৪২ প্রকারের স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। এখন তাদের প্রজনন মৌসুম চলছে।


আরও খবর
সাত নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে

বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24




ব্যাংক লেনদেনের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ

প্রকাশিত:রবিবার ০৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৯ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

Image

সরকার ঘোষিত অফিস সময়সূচির সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাংক লেনদেনের নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঈদুল আজহার পর ১৯ জুন থেকে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী ব্যাংকের লেনদেন ও অফিস কার্যক্রম চলবে।

রোববার (৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সম্পর্কিত নির্দেশনা জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনা অনুসারে, ১৯ জুন থেকে ব্যাংকগুলোর লেনদেন শুরু হবে সকাল ১০টায়, চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। আর ব্যাংকগুলোর অফিস খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

এখন ব্যাংক লেনদেন হয় সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এবং অফিস চলে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। সেই হিসেবে ব্যাংক লেনদেন আধা ঘণ্টা ও অফিস এক ঘণ্টা বেশি সময় চলবে।

ব্যাংকে যথারীতি শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে।


আরও খবর
সাত নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে

বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24




ভারতে শিশুর দেহে বার্ড ফ্লু শনাক্ত

প্রকাশিত:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এক শিশুর দেহে বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

ডব্লিউএইচও জানায়, শনাক্ত হওয়া ভাইরাসটির ধরন এইচ৯এন২। আক্রান্ত শিশুটির বয়স চার বছর। সে ভারতের দ্বিতীয়জন হিসেবে ভাইরাসটির এ ধরনে আক্রান্ত হলো। এর আগে ২০১৯ সালে দেশটিতে প্রথমবারের মতো মানুষের দেহে ভাইরাসটির এ ধরন শনাক্ত হয়েছিল।

ভাইরাসটিতে আক্রান্ত শিশুটির হাল জানাতে গিয়ে ডব্লিউএইচও বলে, শিশুটি তীব্র শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও পাকস্থলির সমস্যায় ভোগে। তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শিশুটির অবস্থা এতই নাজুক হয়ে পড়ে যে তাকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সে প্রায় তিন মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে বাড়ি ফেরার ছাড়পত্র পায়। এ ঘটনাটি গত ফেব্রুয়ারি মাসের বলেও জানায় ডব্লিউএইচও।

খবর পেয়ে শিশুটির ব্যাপারে খোঁজ নেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তারা কেস স্টাডি শুরু করে। জানা যায়, আক্রান্ত শিশুটির বাড়ির আশপাশে হাঁস-মুরগি আছে। এসবের সংস্পর্শে ছিল শিশুটি। তার পরিবারের লোকজনও এসব প্রাণির সংস্পর্শে আসে। তবে অন্য কারও দেহে ভাইরাসটির অস্তিত্ব মেলেনি।

এ মাসের শুরুতে ডব্লিউএইচও মেক্সিকোতে বার্ড ফ্লু ভাইরাসের নতুন ধরনে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবর জানায়। আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে এইচ৫এন২ ধরন সংক্রমিত হয়েছিল। বিশ্বে প্রথমবারের মতো মানুষের দেহে ধরনটি শনাক্ত হয় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি মারা যান।

৬ জুন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বরাতে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ এপ্রিল ৫৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি মারা যান। তার জ্বর, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও বমি বমি ভাবের লক্ষণ ছিল। তার অবস্থা খুব শোচনীয় হয়ে পড়ে। এতে তিন সপ্তাহ ধরে তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন।

মারা যাওয়া ব্যক্তি আগে থেকে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ছিলেন। মেক্সিকোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ দাবি করেছে। তারা বলছে, ওই ব্যক্তি কিডনি রোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন।

আরেকটি তথ্য সংশ্লিষ্টদের ভাবিয়ে তুলেছে। ওই ব্যক্তির সরাসরি খামার বা অন্য প্রাণির সংস্পর্শে আসার ইতিহাস নেই। এতে ভাইরাসের উৎস খোঁজা আরও জটিল হয়ে গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তার বাড়ির আশপাশের খামার নজরদারিতে রেখেছে। ওই এলাকার গবাদিপশু-পাখি এবং মানুষের মধ্যে ভাইরাসটির উপস্থিতি আছে কি না তা যাচাইয়ের চেষ্টা চলছে।

এর আগেও মেক্সিকোর খামারগুলোতে এইচ৫এন২ ধরনের সংক্রমণ দেখা গেছে। তবে কোনো মানুষের এতে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা এটিই ছিল প্রথম।


আরও খবর



৬০ যাত্রী নিয়ে মোংলায় নৌকাডুবি, নিখোঁজ অনেকে

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বাগেরহাট প্রতিনিধি

Image

বাগেরহাটের মোংলায় যাত্রীবাহী একটি নৌকা ডুবে গেছে। রবিবার (২৬ মে) সকালে মোংলা নদীর ঘাটে অতিরিক্ত যাত্রী তোলার কারণে নৌকা ডুবে যায়। ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে ৫০ থেকে ৬০ জন যাত্রী ছিলেন।

তাদের মধ্যে কিছু যাত্রী উঠে গেলেও অনেকে নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল নদীতে তল্লাশি চালাচ্ছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মোংলা উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নিশাত তামান্না বলেন, অতিরিক্ত যাত্রী তোলার কারণে একটি নৌকা ডুবে গেছে। এটিতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন যাত্রী ছিল বলে শুনেছি। দুর্ঘটনার পর থেকেই খোঁজখবর রাখছি। যাত্রী নিখোঁজ আছে কিনা, সে বিষয়ে পৌরসভার সিসি ক্যামেরায় দেখা হচ্ছে এবং নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল নদীতে তল্লাশি চালাচ্ছে।

এদিকে সকাল থেকে রেমালের প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে বাগেরহাটের আকাশে। রবিবার (২৬ মে) সকাল থেকেই বাগেরহাটে গুমোট আবহাওয়া বিরাজ করছে। এছাড়া মোংলা বন্দর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেওয়া হয়। এর আগে শনিবার (২৫ মে) বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ এবং সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় রেমালকে কেন্দ্র করে উপকূলীয় এলাকায় লঞ্চসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।


আরও খবর