আজঃ বুধবার ২৪ জুলাই 20২৪
শিরোনাম

বিক্ষোভে উত্তাল আর্জেন্টিনা, ব্যাপক সংঘর্ষ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেস। স্থানীয় সময় বুধবার (১২ জুন) এ সংঘর্ষ হয়।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার মিলেইর প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিবাদে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে উত্তেজনাও বাড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত বিলের ওপর কংগ্রেসে আলোচনা চলছিল। বাইরে হাজারো বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছিলেন। প্রথমত তারা রাস্তার বারবিকিউ, পিকেটিং এবং প্রতিবাদী গান দিয়ে দিনটি শুরু করেন। কিন্তু বিকেলে কংগ্রেস ভবনের অভ্যন্তরে সিনেটরদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হলে বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তারা হেলমেট, লাঠিসোঁটা, ঢাল, অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জনতার দিকে তেড়ে আসে। এতে বিক্ষোভকারীরাও পুলিশকে আক্রমণ করে। তারা অন্তত দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ ও রাস্তার বেরিকেড ভেঙে ফেলে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে পিপার স্প্রে করারও অভিযোগ উঠেছে।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পিপার স্প্রের কারণে সাতজন বিক্ষোভকারীকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। আরও বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদিকে ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। তারা অন্তত ১৮ জনকে আটক করেছে। আর্জেন্টিনার নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, অর্থনৈতিক সংস্কারের নামে একটি বিল পাস করাতে চাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার মিলেইর। তার সেই বিলের প্রস্তাবে রয়েছে, এক বছরের জন্য দেশটিতে অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা জারি, রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ সংস্থাসহ কয়েক ডজন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে প্রেসিডেন্ট মিলেইকে ক্ষমতা দেওয়াসহ আরও কিছু বিষয়।

নিউজ ট্যাগ: বুয়েনস এইরেস

আরও খবর
আজ নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মদিন!

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




হঠাৎ কাদের ওপর চটলেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৫ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিনোদন ডেস্ক

Image

এবার ঈদুল আজহায় দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত তুফান সিনেমা। রায়হান রাফী পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই আলোচনায়। ইতোমধ্যে দেশ পেরিয়ে দেশের বাইরের প্রেক্ষাগৃহও মাতিয়ে বেড়াচ্ছে সিনেমাটি। সেই ধারাবাহিকতায় সিনেমাটি এবার মুক্তি পেল ভারতে।

শুক্রবার (৫ জুলাই) ভারতে মুক্তি পায় তুফান। সাড়া জাগানো সিনেমাটি ভারতে মুক্তির আগের দিন বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) বিকেলে কলকাতার সাউথ সিটি মলে অনুষ্ঠিত হয় সিনেমাটির কলকাতা প্রিমিয়ার। এর আগে সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অভিনেতা শাকিব খান ও টালিউড অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী।

এ দিন পাশে বসা সহকর্মী শাকিব খানকে নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মিমি। সিনেমা সংশ্লিষ্টও বিভিন্ন ব্যাপারে কথা বলেন। এ সময় ট্রোলারদের একহাত নিতে ছাড় দেননি তিনি। তখনই কথা বলতে গিয়ে চটে যান এই টালি তারকা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী মিমি বলেন, প্রোমোশনে একটা হিন্দি কথা বলে থাকি, তাহলে আপনাদের চ্যানেলেরেই নিচে গিয় বলবে যে, হ্যাঁ হিন্দিতে কথা বলছে, হ্যাঁ ইংরেজিতে কথা বলছে। কেন, বাংলা ভাষায় কথা বলতে লজ্জা লাগে? অথচ তারা কিন্তু সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখে না। তাদের উদ্দেশ্যে বলব যে, কমেন্টে বাংলা ভাষাকে ভালো না বেসে সিনেমা হলে গিয়ে ভালো বাসুন। তাহলেই সবাই এগিয়ে যেতে।

মিমির ভাষ্যতারকাদের নানা সময় বিভিন্ন ব্যাপারে কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়। কখনো ক্যারিয়ার, কখনো লাইফস্টাইল, ভাষা, ড্রেসআপ এবং কখনো ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে। এ ক্ষেত্রে যারা তাদের নিয়ে ট্রোল করে থাকেন বিভিন্ন মাধ্যমে, তাদেরকেই স্পষ্টভাষায় জবাব দিলেন তিনি। বুঝিয়ে দিলেন, প্রতিবাদ কমেন্ট বক্সে নয়, বাস্তবে দেখালে তাতে সবাই উপকৃত হবে।


আরও খবর



মধ্যরাতে যেভাবে আন্দোলন ছড়াল সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তপ্ত হয় ওঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ (ঢাবি) দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। ফলে শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলগুলো থেকে মিছিল নিয়ে রাজপথে নেমে এসে তাদের বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন।

এ সময় তারা, তুমি কে আমি কে, রাজাকার-রাজাকার, কে বলেছে কে বলেছে, সরকার-সরকার, রাজাকার আসছে, রাজপথ কাঁপছে, চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার-সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

রোববার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার পর থেকে একে একে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ ক্যাম্পাস ও রাজপথে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

ঘটনার সূত্রপাত রোববার (১৪ জুলাই) বিকেলে গণভবনে চীন সফর উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে। গত কয়েক দিন ধরে কোটাবিরোধী আন্দোলনে রাজপথ উত্তাল করে রেখেছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ কেন? তাদের নাতিপুতিরা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে? এটা আমার দেশবাসীর কাছে প্রশ্ন। তাদের অপরাধটা কী? নিজের জীবন বাজি রেখে, নিজের পরিবার সব ফেলে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে, দিন-রাত খেয়ে না খেয়ে, কাদামাটি পেরিয়ে, ঝড়বৃষ্টি সব মোকাবিলা করে যুদ্ধ করে বিজয় এনে দিয়েছে। বিজয় এনে দিয়েছে বলেই তো আজ সবাই উচ্চপদে আসীন। আজ গলা বাড়িয়ে কথা বলতে পারছে। তা না হলে পাকিস্তানিদের বুটের লাথি খেয়ে থাকতে হতো।

প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য অবমাননাকর দাবি করে মধ্যরাতে একযোগে প্রতিবাদে নামেন দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা বলেন, এত দিন তারা কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্য তাদের ব্যথিত করেছে। সমাধানের কোনো পথ বাতলে না দিয়ে উল্টো তিনি তাদের রাজাকারের বাচ্চা বলে সম্বোধন করেছেন। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল থেকে বের হয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা তুমি কে আমি কে, রাজাকার-রাজাকার, এই বাংলার মাটি, রাজাকারের ঘাঁটি ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

এক সময় খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, ঢাবির মাস্টারদা সূর্যসেন, বিজয় একাত্তর ও মুহসিন হলের শিক্ষার্থীদের গেটে তালা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। পরে তাদের ছাড়িয়ে নিতে অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরা বিজয় একাত্তর হলের সামনে জড়ো হন। রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে বেগম রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা গেটের তালা ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

পরে সম্মিলিত মিছিল নিয়ে হাজী মুহম্মদ মুহসিন হল, সূর্যসেন হল, বিজয় একাত্তর হল, জিয়াউর রহমান হল, বঙ্গবন্ধু হল, জসিম উদ্দীন হল, শহীদুল্লাহ হল, জগন্নাথ হল, এফএইচ হল, একুশে হল এবং রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা জড়ো হন টিএসসিতে।

এ সময় তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, রাষ্ট্র কারও বাপের না, চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার, আমার স্বাধীন বাংলায়, একের কথা চলে না, তুমি কে আমি কে, বাঙালি-বাঙালি, লাখো শহীদের রক্তে কেনা, দেশটা কারও বাপের না ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলার জেরে রোববার রাত ১১টার দিকে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, আজ সংবাদ সম্মেলনে কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য আমাদের রক্তে আগুন ধরিয়েছে। যখন কারও রক্তে দাগ লাগানো হয়, তখন কেউ ঘরে বসে থাকতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী যদি তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন, তাহলে আমরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।

রাত দেড়টার দিকে অবস্থান কর্মসূচি শেষে তারা নিজ নিজ হলে ফিরে যান।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

একই বক্তব্যের প্রতিবাদে রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েরা হল থেকে বেরিয়ে তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেন। 

এ সময় শিক্ষার্থীরা তুমি কে আমি কে, রাজাকার-রাজাকার, কে বলেছে কে বলেছে, সরকার-সরকার স্লোগান দিতে থাকেন।

ইডেন কলেজ

ঢাকা, জবি, রাবির পাশাপাশি কোটা সংস্কারের দাবিতে মধ্যরাতে ইডেন মহিলা কলেজে কোটা বিরোধীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। রোববার (১৪ জুলাই) রাত ১২টার দিকে ছাত্রীরা ক্যাম্পাসে মিছিল বের করেন। প্রায় একই সময়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলসহ প্রত্যেকটি হলের শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন।

অপরদিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা তাতীবাজার মোড় অবরোধ করেছেন। রোববার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে মিছিল নিয়ে এসে তারা ওই সড়কে অবস্থান নেন।

এর আগে রাত পৌনে ১১টার দিকে ছাত্রীরা হল থেকে এবং আশেপাশে মেসে থাকা ছেরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে জড়ো হন।

উল্লেখ্য, দুপুরে রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া স্মারকলিপিতে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা। এ সময়ের মধ্যে সরকার যদি কোনো সিদ্ধান্তে না যায় তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে কোটাবিরোধী আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

রোববার (১৪ জুলাই) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে রাষ্ট্রপতিকে স্মারকলিপি দিয়ে বঙ্গভবন থেকে বের হয়ে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু চত্বরে এসে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

এ সময় রাজধানীর শাহবাগ থানায় কোটাবিরোধীদের নামে করা মামলা প্রত্যাহারে পূর্বে দেওয়া আল্টিমেটামের ২৪ ঘণ্টার সঙ্গে আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়ে দেন তিনি।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

গতকাল রাত ১১টার দিকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে স্লোগান দিতে দিতে রাস্তায় নেমে আসেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন হল শেখ লুৎফর রহমান হল থেকে মিছিল নিয়ে বের হন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার, এই বাংলার মাটি-রাজাকারের ঘাঁটি, শেরেবাংলার মাটি, রাজাকারের ঘাঁটি-ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভে হামলা করেছে ছাত্রলীগ। রোববার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা।

এর আগে রাত নয়টার দিকে বিভিন্ন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা, তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার, চাইতে গেলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার ইত্যাদি স্লোগান দিইয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে তারা বিভিন্ন হল থেকে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ক্যাম্পাসের বটতলায় জড়ো হতে থাকেন।

এসময় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে দুজন আন্দোলনকারীকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই খবর জানাজানি হলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁদের মুক্ত করার জন্য বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা হলের সামনে অবস্থান নেন।

এ সময় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে নিয়ে বৈঠকে বসেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ নাজমুল হাসান তালুকদার। তখনো শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন হলের সামনে ও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছিলেন। পরে রাত দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি রাত সোয়া দুইটার দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সামনে এলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দেন এবং মুখোমুখি অবস্থান নেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর কবিরসহ কয়েকজন শিক্ষক দুই পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের জামায়াত-শিবির আখ্যা দেন ও নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে গালাগাল করেন।

এক পর্যায়ে রাত পৌনে তিনটার দিকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ৪৬ ব্যাচের ছাত্র প্রাচুর্যসহ বেশ কয়েকজন হামলা করছেন। হামলায় আহসান লাবিব নামের একজন আন্দোলনকারী ও একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ নাজমুল হাসান তালুকদার ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উসকে দিয়েছেন।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের অর্থসম্পাদক ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ নেতা তৌহিদুল আলম বলেন, আন্দোলনকারীরা আমাদের হলের সামনে এসে কোটা আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও ছাত্রলীগকে অবমাননা করে স্লোগান দিচ্ছিল। তখন আমরা একটা শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে যেতে চাইলে তারা বাধা দেন এবং গালিগালাজ করেন। তাদের কোনো হামলা করিনি, যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েছি। আমরা হলে ফিরে যাওয়ার সময় তারা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।

এদিকে সোমবার (১৫ জুলাই) বেলা ১১টায় সহউপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন, এমন আশ্বাস পেয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ভোর সাড়ে চারটার দিকে নিজ নিজ হলে ফিরে যেতে থাকেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রধানমন্ত্রীর একই বক্তব্যের প্রতিবাদে রাত ১১টার পর থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল থেকে স্লোগান দিতে শুরু করেন ছাত্ররা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হল, কাজী নজরুল ইসলাম হল এবং নারী ছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত শেখ হাসিনা হল থেকে ভেসে আসে স্লোগানের শব্দ।

তুমি কে আমি কে, রাজাকার-রাজাকার, কীসের তোমার অধিকার, তুমি একটা রাজাকার ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত ছিল ক্যাম্পাসের হলগুলো। রাত ১২টার দিকে ক্যাম্পাসের মূল গেটে মিছিল করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 

নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাইফুল গণমাধ্যমকে বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত মোটেই যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। একটি বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের ঢালাওভাবে রাজাকারের নাতি-নাতনি বলে সম্বোধন করেছেন। একটা ঘৃণিত শব্দ এখন অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরাধিকারীদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অনতিবিলম্বে কোটার যৌক্তিক সংস্কার দাবি করছি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

এদিন রাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা আন্দোলনকারীরাও। বিভিন্ন হল ও কটেজ থেকে মিছিল করতে করতে বেরিয়ে হাজারো শিক্ষার্থী জড়ো হন বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে। এ সময় চাইলাম অধিকার, হইলাম রাজাকার, তুমি কে, আমি কে-রাজাকার, রাজাকার-এমন বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে৷

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মিছিল বের করেন আন্দোলনরত কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরা। রাত ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুজ্জোহা চত্বরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন হল প্রদক্ষিণ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনের ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

রোববার (১৫ জুলাই) রাতে জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ মিলিত হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে পুনরায় জিয়া মোড়ে এসে বিক্ষোভের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করেন।

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

রাত সাড়ে ১১টা থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো থেকে স্লোগান দিতে শুরু করেন ছাত্ররা। বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শহীদ মুখতার ইলাহি হল থেকে ভেসে আসে স্লোগানের শব্দ। এ সময় মিছিল বের করে মিছিলটি রংপুরের মর্ডান মোড়, দর্শনা, লালবাগ হয়ে আবারও পার্ক মোড় হয়ে আবারও মর্ডান মোড়ে গিয়ে অবস্থান করেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় মিছিল থেকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। এর মধ্যে তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার, কীসের তোমার অধিকার, তুমি একটা রাজাকার ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত ছিল। 

শাবিপ্রবিতে মুখোমুখি অবস্থানে ছাত্রলীগ ও আন্দোলনকারীরা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে শিক্ষার্থীদের তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার স্লোগানে মাঝরাতে উত্তাল হয়ে উঠেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাস। বিপরীতে তুমি কে আমি কে, বাঙালি বাঙালি পাল্টা স্লোগান দিয়ে মিছিল বের করেন শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

রোববার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও অ্যাকাডেমিক ভবন ডিএর সামনে মুখোমুখি অবস্থান নেয় দুই পক্ষ। এ সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে ভুয়া, ভুয়া স্লোগান দিতে দেখা যায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের।

প্রসঙ্গত, চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনিরা চাকরি পাবে না কি রাজাকের নাতি-নাতনিরা চাকরি পাবে? তারই প্রতিবাদে রাতেই রাজপথে নেমে আসেন শিক্ষার্থীরা।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাবিসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভে মধ্যরাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। রোববার (১৪ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করেন। এ সময় তারা কোটা বিরোধী স্লোগান দেন।

প্রথমে বঙ্গবন্ধু হল ও শেরে বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা স্লোগান শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা মিছিল নিয়ে হল থেকে বের হয়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে চলে আসেন। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে স্লোগান দিতে দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ডে এসে মিছিলটি শেষ করেন।

এদিকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ও শেখ হাসিনা হলের ছাত্রীরা হলের ভেতরে মিছিল বের করেন। মিছিলটি হলের ভেতরেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়।

শেরে বাংলা হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছি। আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিলে আমরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাব।


আরও খবর
আরও ৩ দিনের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




বরগুনায় সড়ক দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অলিউল্লাহ্ ইমরান, বরগুনা

Image

বরগুনার আমতলী উপজেলার ঢাকা কুয়াকাটা মহা সড়কে পৃথক দুইটি স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় ১জন নিহত হয়েছেন। এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরো ৪ জন। তারা চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

শুক্রবার (২৮ জুন) সকাল ৬ টায় আমতলী উপজেলার মহিশকাটা বাজার সংলগ্ন সড়কে মোটরসাইকেল ও ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা হিমেল পরিবহনের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, মহিশকাটা বাজার সংলগ্ন সড়কে মোটরসাইকেল ও বাস-গাড়ীর সংঘর্ষে মোটর সাইকেলে থাকা পটুয়াখালীর পুর্ব হেতালীয়া বাধঘাট এলাকার ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম খানের মেজ ভাই ব্যবসায়ী মঞ্জু খান গুরুতর আহত হলে আমতলী ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার করে আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। সাথে থাকা আরো একজন গুরুতর আহত হলে তাকে আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

অপরদিকে একই সড়কে আমতলীর ঘটখালী এলাকায় বাস, ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় ২ জন গুরুতর আহত হয়। তাদেরকে আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অফিসার ইনচার্জ কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর হতে হয়েছে। বাসের সম্মুখভাগ দুমরে-মুচরে গেছে। ট্রাকটি খাদে পড়ে আছে। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এবং মঞ্জু খান নামের একজন গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল নেয়ার পথে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

নিউজ ট্যাগ: বরগুনা

আরও খবর



ভূমি উন্নয়ন কর দেয়ার নতুন সময় কার্যকর

প্রকাশিত:সোমবার ০১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০১ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের সময়কাল জাতীয় অর্থবছরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রতিবছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়, যা আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 এতে বলা হয়, এ পরিবর্তনের মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় ব্যবস্থাপনাকে জাতীয় অর্থবছরের সঙ্গে সমন্বিত করা হয়েছে। আগে ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের সময়কাল ছিল বাংলা সনের পহেলা বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত। আশা করা যাচ্ছে, জাতীয় অর্থবছরের সঙ্গে সমন্বয়ের ফলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ভূমি মালিকের ভূমি উন্নয়ন কর দেয়া সম্পর্কিত হিসাব ব্যবস্থাপনা অধিকতর সহজ ও গতিশীল হবে। এ ছাড়া জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমি উন্নয়ন করের প্রভাব নির্ণয় অধিকতর সুবিধাজনক হবে।

এ বিষয়ে ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ গত ৮ জুন বলেন, প্রচলিত অর্থবছরের সঙ্গে সমন্বয় করে এখন থেকে কর আদায়ের সময় হবে প্রতিবছরের ১ জুলাই খেকে ৩০ জুন পর্যন্ত। কর আদায় প্রক্রিয়া অধিকতর সুষম, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই নতুন পদ্ধতি দেশের ভূমি রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা আনবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই নতুন যাত্রায় সফল হই। বর্তমান পরিবর্তনটি ভূমি উন্নয়ন কর আদায় প্রক্রিয়াকে অধিকতর সুষম, স্বচ্ছ ও কার্যকর করবে।

উল্লেখ্য, মোগল বাংলায় ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রথম বাংলা সন গণনা করা হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে খাজনা আদায়ে এই গণনা কার্যকর শুরু হয়েছিল ১৫৫৬ সাল থেকে। কালক্রমে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশেও বাংলা সনের হিসাবেই জমির খাজনা তথা ভূমি কর নেয়া হতো। ১৫৮৪ প্রায়োগিক সাল ধরলে সময়ের প্রয়োজনে প্রায় ৪৪০ বছর পর ভূমি কর আদায়ের সময় পরিবর্তন হলো।


আরও খবর
মেট্রোরেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




বিপৎসীমার ওপরে মুহুরী, বাঁধ ভেঙে প্লাবিত বিস্তীর্ণ এলাকা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০২ জুলাই 2০২4 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০২ জুলাই 2০২4 | অনলাইন সংস্করণ
রাজিব মাসুদ, ফেনী

Image

ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজানের পানিতে ফেনীর মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের চারটি স্থান ভেঙে জেলার ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

সোমবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টা থেকে ফুলগাজী বাজারে পানি বাড়ায় ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফুলগাজী উপজেলার দৌলতপুর এলাকায় মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের তিনটি অংশে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে উত্তর দৌলতপুর ও দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া পরশুরাম উপজেলার দক্ষিণ শালধর এলাকার জহির চেয়ারম্যানের বাড়ি সংলগ্ন বাঁধের একটি অংশে ভাঙনের দেখা দিয়েছে। এতে মালিপাথর, নিলক্ষ্মী এবং পাগলিরকুল এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

পরশুরামের চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ শালধর এলাকার জহির চেয়ারম্যানের বাড়ি সংলগ্ন মুহুরী নদীর বাঁধে ভাঙনের শুরু হয়। সকাল পর্যন্ত মালিপাথর, নিলক্ষ্মী এবং পাগলিরকুল এলাকা প্লাবিত হবে। গতবছর এ ভাঙন স্থানের পাশে বাঁধের আরেকটি অংশে ভাঙনের দেখা দিয়েছিল।

ফুলগাজী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সেলিম বলেন, উজানের পানিতে মুহুরী নদীর পানি বেড়ে ফুলগাজী বাজারে প্রায় দুই ফুটের বেশি ওঠে গেছে। দৌলতপুর এলাকায় বেড়িবাঁধের তিনটি অংশে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দৌলতপুর থেকে জগতপুর পর্যন্ত বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, নদীর পানি এখনো বাড়ছে। রাত ১টা পর্যন্ত মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ফুলগাজীর তিনটি ও পরশুরামের একটি স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। বাঁধের বিভিন্ন অংশে ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়লে বাঁধের আরও কয়েকটি অংশে ভাঙনের শঙ্কা রয়েছে।

এ ব্যাপারে ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানিয়া ভূঁইয়া বলেন, নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানিতে ফুলগাজী বাজার ও লোকালয় প্লাবিত হচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় শুকনো খাবারসহ অন্যান্য সকল প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান ইউএনও।


আরও খবর