আজঃ বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪
শিরোনাম

বিজয়নগরে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর

প্রকাশিত:শনিবার ২২ জুলাই ২০২৩ | হালনাগাদ:শনিবার ২২ জুলাই ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
মোঃ রাসেল আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে গরীবের রাজ প্রসাদ খ্যাত ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর।

মানুষের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা, পারিবারিক নিরাপত্তা ও রুচিবোধের পরিবর্তনের কারণে মানুষ এখন আর মাটির ঘরে থাকতে চায় না। স্বচ্ছল মানুষের এখন পাকা দালানের মধ্যেই থাকতে স্বস্তিবোধ করেন। এতে করে দ্রুতই বিলুপ্ত হচ্ছে মাটির ঘর। মাটির ঘরের স্থানে শোভা পাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ইমরাত।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক সময় ভারতীয় সীমান্তঘেষা বিজয়নগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নেই বেশীর ভাগ বাড়িতে ছিলো মাটির ঘর। কিন্তু মানুষের রুচিবোধের পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার কারণে ওইসব বাড়িতে মাটির ঘরের জায়গায় শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন ডিজাইনের পাকা দালান।

উপজেলার প্রবীন মানুষেরা জানান, এক সময় উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর, কালাছড়া, বক্তারমোড়া, ছতরপুর, দুলালপুর, পত্তন ইউনিয়নের আদমপুর, শ্রীপুর, হরষপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া, পাঁচগাও, বাগদিয়া, হরষপুর, সোনামোড়া, বড়চাল, মেঘশিমুল, পাহাড়পুর ইউনিয়নের খাটিঙ্গা, মকুন্দুপুর, দাড়িয়াপুর, কামালমোড়া, সেজামোড়া, ভিটি দাউদপুর, দুরানাল, কচুয়ামোড়া, সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের মেরাশানী, রানুর বাজার, আলীনগর, কাঞ্চনপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের বেশীর ভাগ মানুষের বাড়িতেই ছিলো মাটির ঘর। বর্তমানে ওইসব গ্রামের হাতেগোনা কিছু বাড়িতে মাটির ঘর থাকলেও অধিকাংশ বাড়িতে শোভা পায় দালান ঘর ও সেমি-পাকা টিনের ঘর।

এলাকাবাসী জানান, উপজেলার যে সব গ্রামে লাল মাটি ও এটেল মাটি পাওয়া যেতো সেইসব গ্রামের লোকজনই বাড়িতে মাটির ঘর তৈরী করতো। প্রথমে লাল মাটি ও এঁটেল মাটি পানি দিয়ে ভিজিয়ে প্যাক করা হতো। পরে সেই মাটি দিয়ে তৈরী করা হতো ২০/৩০ ইঞ্চি চওড়া দেয়াল। প্রতিবার ১/২ ফুট উচু করে দেয়াল তৈরি করে সেই দেয়ালকে ৫/৬ দিন রোদে শুকানো হতো। তারপর এই দেয়াল আবারো ১/২ ফুট উঁচু করে শুকানো হতো। এভাবে পর্যায়ক্রমে ১০/১২ ফুট উচু দেয়াল নির্মাণ করা হতো। পরে এই দেয়ালের ওপর টিনের চালা বা ছন দিয়ে চালা (ছাউনি) দিয়ে ঘর নির্মাণ করা হতো। প্রতিটি ঘর নির্মাণ করতে সময় লাগতো প্রায় ২/৩ মাস। পরে বিশেষ প্রক্রিয়ায়  ঘরের ভেতরের দিকে ধানের তুষ (কুড়া) দিয়ে দেয়ালের উপর প্রলেপ দেয়া হতো। বাইরের দিকে দেয়া হতো চুনের প্রলেপ বা আলকাতরা। চুনের প্রলেপ দিলে ঘরের সৌন্দর্য যেমন বৃদ্ধি পেত, তেমনি ঝড়-বৃষ্টির হাত থেকেও মাটির দেয়াল রক্ষা পেত। বন্যা বা ভূমিকম্প না হলে এসব ঘর ২০/২৫ বছর পর্যন্ত টিকে থাকতো। যারা মাটির ঘর নির্মাণের কারিগর ছিলেন তাদেরকে বলা হতো দেয়ালী।

উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের নিদারাবাদ গ্রামের দেয়ালী নোয়াজ আলী জানান, মাটির ঘর তৈরির উপযুক্ত সময় হচ্ছে কার্তিক মাস। কারণ এ সময় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকেনা। তিনি বলেন, আমরা প্রতি হাত ঘর নির্মাণে ১০ টাকা করে নিতাম। আবার অনেক সময় ৫/৬ হাজার টাকা চুক্তিতেও ঘর নির্মাণ করে দিতাম। তিনি বলেন, মানুষ এখন আর মাটির ঘর তৈরী করেনা যার জন্য আমরা এই পেশা ছেড়ে দিয়েছি।

উপজেলার নিদারাবাদ গ্রামের বাসিন্দা সংবাদ কর্মী এস.এম টিপু চৌধুরী বলেন, আমি ছোট বেলায় মাটির ঘরেই বসবাস করেছি। মাটির ঘরে বসবাস খুবই আরামদায়ক। গরমের দিনে ঠান্ডা আর শীতের দিনে শীত লাগতো না। তিনি বলেন, আমাদের বাড়িতে ৭টি বড় বড় মাটির ঘর ছিলো। বর্তমানে একটি ঘর ছাড়া বাকি ঘরগুলো ভেঙ্গে সেখানে পাকা দালান নির্মাণ করা হয়। বাড়ির ঐতিহ্য হিসেবে এখনো প্রায় শতবর্ষ পুরনো একটি মাটির ঘর রাখা রয়েছে। তিনি বলেন, গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য হিসেবে এই মাটির ঘরটিকে আমরা রেখে দেব।

উপজেলার  পাহাড় ইউনিয়নের বাসিন্দা ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাসেল খান বলেন, আমি এখনো মাটির ঘরেই বসবাস করি। তিনি বলেন, মাটির ঘরে বসবাস করা খুবই আরামদায়ক। গরমের দিনে ঠান্ডা আর শীতের দিনে ঘরে গরম অনুভুত হয়। তিনি বলেন, আমাদের বাড়িতে ৫টি মাটির ঘর ছিলো। এখন আমার বাড়িতে দুটি মাটির ঘর আছে। বাকিগুলো ভেঙ্গে পাকা দালান নির্মাণ করা হয়েছে।

রাসেল খান বলেন, আগে আমাদের এলাকার বেশীর ভাগ মানুষের বাড়িতেই মাটির ঘর ছিলো। এলাকার অনেকে মানুষই বিদেশ গিয়ে এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হয়েছেন। প্রবাসীরা দেশে এসে পারিবারিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ও বাড়ির সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য মাটির ঘর ভেঙ্গে পাকা দালান নির্মাণ করছেন। অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার কারণে মানুষ এখন আর মাটির ঘরে বসবাস করতে চায়না।

উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের খাটিঙ্গা গ্রামের রফিক মিয়া বলেন, আগে আমাদের গ্রামের প্রতি বাড়িতেই মাটির ঘর ছিলো। বর্তমানে মাটির ঘরের সংখ্যা খুবই কম। তিনি বলেন, লাল মাটি ও এঁটেল মাটির অভাব, মাটির ঘর তৈরী করার কারিগর সংকটের কারণেও মানুষ এখন মাটির ঘর নির্মাণ করতে চায়না। এছাড়া গ্রামের  লোকজন বিদেশে গিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হয়েছেন।  প্রবাসে থেকে তাদের রুচিবোধেরও পরিবর্তন হচ্ছে। প্রবাসীরা দেশে এসে তাদের পরিবারের নিরাপত্তা ও বাড়ির সৌন্দর্যের কথা ভেবে মাটির ঘর ভেঙ্গে বিভিন্ন ডিজাইনের পাকা দালান, বহুতল বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করছেন। তিনি বলেন, বাড়িতে একটি পাকা দালান থাকাটা অনেকেই স্ট্যাটাসের অংশ হিসেবে মনে করেন।

এ ব্যাপারে বিজয়নগর উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক বকুল বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে মানুষের আয়-রোজগার বেড়েছে। এছাড়াও বিদেশে গিয়ে মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হচ্ছেন। মানুষের রুচিবোধ সামাজিক মর্যাদাবোধও বড়েছে। তাই মানুষ এখন আর মাটির ঘরে বসবাস করতে চায়না। ফলে মাটির ঘর ভেঙ্গে পাকা দালান নির্মাণ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার আবুল কালাম আজাদ বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে মানুষের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা বেড়েছে। আয়-রোজগার বাড়ার সাথে সাথে মানুষের মধ্যে সামাজিক মর্যাদাবোধ বেড়েছে। মানুষ এখন নিজের পরিবারিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশী সচেতন। তাই মানুষ এখন আর মাটির ঘরে বসবাস করতে চায়না।


আরও খবর



বাংলাদেশ-পাকিস্তান-রাশিয়া থেকে শিক্ষা নিয়ে ভোট করছেন মোদি: কেজরিওয়াল

প্রকাশিত:রবিবার ১৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৯ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

ব্যাপক সমালোচনা করে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, রাশিয়া-পাকিস্তান-বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা নিয়ে ভোট করার চেষ্টা করছেন মোদি।’

শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল গত শুক্রবার ভারতের পরিস্থিতিকে রাশিয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে পরোক্ষভাবে উপহাস করেছেন। একইসঙ্গে ভারত খুব বিপজ্জনক’ পর্যায়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেছেন।

এক সমাবেশে কেজরিওয়াল বলেন, বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক। পুতিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট, তিনি হয় তার সব প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাদের জেলে পাঠিয়েছেন, আর না হয় তাদের হত্যা করেছেন। তারপর পুতিন নির্বাচন পরিচালনা করেন এবং ৮৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।’

অরবিন্দ কেজরিওয়াল আরও বলেন, বাংলাদেশে সম্প্রতি নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে সব বিরোধী নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং নির্বাচনে শেখ হাসিনা জয়ী হয়েছেন।’

তিনি বলেন, পাকিস্তানের নির্বাচনে দেশটির প্রবীণ নেতা ইমরান খানকে জেলে পাঠানো হয়েছিল, তার দলকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, তার দলীয় প্রতীক ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এরপরই নির্বাচন পরিচালিত হয়েছে।’

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মোদিজি, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে শেখার পরে এখন ভারতে একই জিনিস প্রয়োগ করার চেষ্টা করছেন।’


আরও খবর



কিরগিজস্তানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ভালো আছেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত:সোমবার ২০ মে ২০24 | হালনাগাদ:সোমবার ২০ মে ২০24 | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

কিরগিজস্তান থেকে এখনই শিক্ষার্থী ফিরিয়ে আনার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সোমবার (২০ মে) এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

ড. হাছান বলেন, নতুন করে কিরগিজস্তানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়নি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কিছুক্ষণের মধ্যেই উজবেকিস্তানে নিয়োজিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পৌঁছাবেন বিশকেকে। পরে তিনি উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করবেন।

এদিকে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হলেও আর কোনো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়া হবে না বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে, রোববার (১৯ মে) ওভারসিজ করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের আলোচনা সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, কিরগিজস্তানে বাংলাদেশের কোনো মিশন নেই। উজবেকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সমদূরবর্তী দায়িত্বের অংশ হিসেবে কিরগিজস্তানের দেখভাল করেন। উজবেকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মনিরুল ইসলামকে বাংলাদেশি ছাত্রদের নিরাপত্তায় কিরগিজস্তানে যেতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, কিরগিজস্তানে বিদেশি ছাত্র বিশেষ করে বাংলাদেশি ছাত্রদের ওপর হামলা হয়েছে। কিন্তু কেউ গুরুতরভাবে আহত হয়েছে বলে আমাদের কাছে কোনো তথ্য আসেনি। আমরা ইতোমধ্যে কিরগিজস্তানকে আমাদের গভীর উদ্বেগ জানিয়েছি। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে; যেটিকে কিরগিজ ছাত্রদের সঙ্গে বিদেশি ছাত্রদের (পাকিস্তানি ও মিশরীয়) সংঘর্ষের ভিডিও বলে দাবি করা হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর উত্তেজনা বেড়ে যায়, ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মৃত্যুকে মর্মান্তিক ও দুঃখজনক উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শোক জানাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মিয়ানমার সীমান্তে দেশটির আভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে আবারো জড়ো হচ্ছে রোহিঙ্গারা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আর কাউকে ঢুকতে দেয়া সম্ভব নয়।

এছাড়া অ্যাপোস্টাইল কনভেনশনে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে জানিয়ে ড. হাছান বলেন, এই কনভেনশনে যুক্ত হলে বিদেশে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাইরে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস থেকে আর কাগজপত্র সত্যায়িত করা লাগবে না।


আরও খবর



বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় রেমালে নিহত ১, আহত ৩৭

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অলিউল্লাহ্ ইমরান, বরগুনা

Image

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ঘরের ওপর ভেঙে পড়া গাছ অপসারণের সময় ডাল ভেঙে পড়ে আব্দুর রহমান বয়াতি (৫৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামীম মিঞা।

তিনি জানান, গতকাল সোমবার (২৭ মে) দুপুরে সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লেমুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুর রহমান বয়াতি ওই এলাকার মৃত্যু খুতি বয়াতির ছেলে।

জেলা প্রশাসক মোহা. হাবিবুর রহমান বলেন, বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ঘরের ওপর ভেঙে পড়া গাছ অপসারণের সময় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও জেলায় প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ৩৭ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড়ে বরগুনায় এখন পর্যন্ত যে তথ্য রয়েছে তাতে ৩ হাজার ৩৩৭টি ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। ১৩ হাজার ৩৪টি ঘর আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। পুরো জেলায় ১২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়েছে। যার কারণে ৩০০ গ্রাম সাগরের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ৪ হাজার ১৫৭ হেক্টর মাছের ঘের পুকুর ভেসে গিয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী বরগুনা জেলায় ৯০০ এর মতো খুঁটি পড়ে গিয়েছে। ২৫০টির মতো খুঁটি ভেঙে গিয়েছে। ১ হাজার ২০০ এর মতো স্পটে বিদ্যুতের তারের ওপর গাছ হেলে রয়েছে এবং ৯০০ এর মতো স্পটে বিদ্যুতের তারের গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে গিয়েছে। পুরো জেলায় ২ লাখ ৩১ হাজার মানুষ বন্যার দুর্ভোগ আছে। তবে সবকিছু সচল করতে প্রত্যেকটি উপজেলাতেই প্রশাসন কাজ করছে।


আরও খবর



চট্টগ্রামে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২

প্রকাশিত:শনিবার ২৫ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রাহুল সরকার, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Image

চট্টগ্রামে হাটহাজারীতে বাস ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৫ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নে মুহুরি হাট বটতল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- আব্দুল মোতালেব টুকু (৭০) ও মো. আবছার (৫৫)।

জানা যায়, খাগড়াছড়ি পরিবহন নামে একটি বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজিটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এই ঘটনায় সিএনজিতে থাকা দুই আরোহীর মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নাজিরহাট হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক মো. আনিসুল ইসলাম বলেন, খাগড়াছড়ি পরিবহণ নামে একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজি অটোরিকশায় থাকা দুই যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান।

তাদের মধ্যে একজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যজনের মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।


আরও খবর



ধর্মীয় প্রভাব খাঁটিয়ে সরকারি স্থাপনা ও জায়গা দখল, বিপাকে প্রশাসন

প্রকাশিত:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

Image

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠি বাজারে এলজিইডির নিজস্ব এলএসডি ফুড গোডাউন এবং এর পার্শ্ববর্তী সরকারি জায়গা ধর্মীয় প্রভাব খাঁটিয়ে দখল করার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণ চন্দ্র মিস্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। নারায়ণ চন্দ্র মিস্ত্রি উপজেলার শ্রীরামকাঠি ইউনিয়নের হিন্দু ধর্মীয় নেতা ও আচার্য্য সংঘের প্রতিষ্ঠাতা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,উপজেলার শ্রীরামকাঠি বন্দরের দক্ষিণ পারে শ্রীরামকাঠি-পাচপাড়া আঞ্চলিক সড়কের পাশে এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত এলএসডি ফুড গোডাউন ও গোডাউন আঙ্গিনার অধিগ্রহনকৃত নিজস্ব ভুমি অবৈধ ভাবে দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে বসবাস করছে নারায়ণ চন্দ্র মিস্ত্রি ও তার পরিবার। সরকারি অর্থায়নে নির্মিত সম্পদ জনস্বার্থে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেন মিয়া  সরকারি জায়গা দখল মুক্ত করতে বারবার নোটিশ দিলেও কর্নপাত করছেন না অভিযুক্ত নারায়ন মিস্ত্রি। এক্ষেত্রে বিপাকে পরেছেন উপজেলা প্রশাসন।

সরেজমিনে গিয়ে গতকাল মঙ্গলবার (১১ জুন) দেখা যায়, শ্রীরামকাঠি বন্দরের দক্ষিণ পারে উপজেলা এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত এলএসডি ফুড গোডাউন, এর গার্ড রুম, বাথরুম, ইয়ার্ড এবং পার্শ্ববর্তী সরকারি জায়গা দখল করে একটি টিনের ঘর নির্মান করে স্বপরিবার নিয়ে বসবাস করছেন নারায়ণ চন্দ্র মিস্ত্রি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেন মিয়া বলেন, এলজিইডির প্রতিষ্ঠালগ্নে খাদ্যের বিনিময়ে কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, ব্রিজ-কালভার্ট ও গ্রোথ সেন্টার নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজ করা হয়েছিল। এজন্য সরকারি ভাবে বরাদ্দকৃত গম/চাল সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য প্রকল্প চলমান উপজেলা সমূহে এলজিইডি ফুডগোডাউন নির্মাণ করেন।এরই ধারাবাহিকতায়  আশির দশকের দিকে উপজেলার শ্রীরামকাঠি বন্দরের দক্ষিণ পারে একটি এলজিইডি কর্তৃক ফুড গোডাউন নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে এই কর্মসূচির পরিবর্তে দরপত্র প্রক্রিয়ায় সরকারি অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে উন্নয়ন মূলক কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে বিধায় এই গোডাউনটি পরিত্যক্ত ছিল। বিষয়টি সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সুনজরে আসলে উহার যথোপযুক্ত সৎব্যবহারের নিমিত্তে বিএডিসি কর্তৃপক্ষের নিকট লিজ হিসেবে হস্তান্তর করেন। তখন থেকে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ জনগণের সেবা প্রদানের জন্য তাদের সংগ্রহীত উন্নতমানের বীজ উপকরণ ও ঔষধপত্র এই গোডাউনে গুদামজাত ও রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে সমঝোতা স্মারক চুক্তি ও নির্দেশনা রয়েছে।

মোঃ জাকির হোসেন মিয়া বলেন, অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় এই  স্থাপনার চতুর্দিকে বাউন্ডারি স্থাপনা ও সীমানা পিলার থাকা সত্ত্বেও নারায়ন মিস্ত্রি নামক একজন ভূমিদস্যু স্থানীয় আরও কতিপয় ভূমিদস্যুদের যোগসাজশে এই সরকারি স্থাপনা ও এর জায়গা জমি অবৈধ ভাবে দখল করে বসবাস করছেন এবং সরকারি কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছেন। ইতিপূর্বে তাহাকে এই স্থাপনাস্থল থেকে একবার উচ্ছেদ করা হলেও তিনি পুনরায় অবকাঠামোটি দখল করেছেন। এমতাবস্থায় সরকারি স্বার্থ ও  জনগনের কাঙ্ক্ষিত সেবা পূনপ্রতিষ্ঠর লক্ষে উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডি নাজিরপুরের পক্ষ থেকে ভূমিদস্যু নারায়ণ মিস্ত্রিকে সরকারি স্থাপনা থেকে উচ্ছেদ নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। সেচ্ছায় সরকারি স্থাপনা ও জায়গা ছেড়ে না দিলে পরবর্তীতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে নারায়ণ চন্দ্র মিস্ত্রি বলেন, আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সত্য নয়, আমি একজন ধর্মীয় নেতা এবং আচার্য্য সংঘের প্রতিষ্ঠাতা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ জানান, দুই পক্ষই এ বিষয়ে আমাকে অবগত করেছে। সঠিক তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরও খবর