আজঃ বুধবার ২৫ মে ২০২২
শিরোনাম

বেড়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা, রোগীতে ঠাসা পঙ্গু হাসপাতাল

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | ৫১৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে গত ৬ দিনে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) এক হাজার ২৫০ জনেরও বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সময়ে হাসপাতালে আসাদের মধ্যে ৩০ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। তাদের অনেকেরই হাত-পা কেটে ফেলতে হয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এক হাজার শয্যার হাসপাতালে কোনো শয্যা খালি নেই। পুরো হাসপাতালই রোগীতে ঠাসা। শয্যা না পেয়ে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝেতে থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের। জানা গেছে, মোটরসাইকেল ছাড়াও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে। সে তুলনায় বাস ও ট্রাকের দুর্ঘটনা কম। আহতদের অধিকাংশেরই আঘাত গুরুতর।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২ মে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ১৯৭ জন পঙ্গু হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে সংকটাপন্ন অবস্থায় ৬৫ জনের অস্ত্রোপচার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকি ১৩২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পাঠানো হয়। এরপর ৩ মে (ঈদের দিন) ১৭৯ জন হাসপাতালে আসেন, তাদের মধ্যে ৮২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। ৪ মে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২৫২ জন হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ৮৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয় ১৬৭ জনকে।

এরপর গত ৫ মে ২৩৬ জন হাসপাতালে আসেন, তাদের মধ্যে ১০৮ জনকে অস্ত্রোপচার শেষে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকি ১২৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। ৬ মে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার আরও ১৮৩ জন হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে ৬৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল শনিবার (৭ মে) নতুন করে আরও ২০৩ জন হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে ৮৯ জনকে অস্ত্রোপচার শেষে ভর্তি করা হয়। বাকি ১১৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পাঠানো হয়।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুর্ঘটনার শিকার মানুষেরা চিকিৎসা নিতে পঙ্গু হাসপাতালে আসেন। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া এলাকা থেকে আসা হৃদয় হাসান (২৬) নামে একজন জানান, ঈদের পরদিন ১৮ জন বন্ধু মিলে মোটরসাইকেলে করে সিলেটের উদ্দেশ্যে ঘুরতে বের হন। সবার সামনে থাকা মোটরসাইকেলের যাত্রী ছিলেন তিনি। দুর্ঘটনায় পড়ে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। বন্ধুর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

হাসপাতালে ভর্তি মো. ইব্রাহিম নামের (৩০) আরেক রোগী জানান, মোটরসাইকেলে তিনি কটিয়াদি থেকে পুলেরঘাট বাজারে আসছিলেন, তখন বিপরীত দিক থেকে একটি বাস ও আরেকটি অটোরিকশা একসঙ্গে আসছিল। সামনে দুই গাড়ি দেখে বাধ্য হয়েই তিনি পাকা সড়ক থেকে মাটির অংশে নেমে আসেন। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটি সেখানেই এসে তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়।

ইব্রাহিম বলেন, গতকাল (৭ মে) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো সিট না পেয়ে মেঝেতে শুয়েই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন অন্তত আরও ২০ দিনের মতো থেকে চিকিৎসা নিতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত এক নার্স জানান, ঈদ-পরবর্তী সময়ে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। হাসপাতালে আসা একের পর এক রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে খাওয়া ও বিশ্রামেরও সুযোগ থাকে না তাদের। মাত্র ছয় জন নার্স কাজ করছি। এটা রীতিমতো আমাদের ওপর অত্যাচারের মতো।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ও সিনিয়র স্টাফ নার্স রহিমা আক্তার বলেন, স্বাভাবিক সময়ে হাসপাতালটিতে দৈনিক দেড়শ জনের মতো রোগী আসলেও ঈদের সময় রোগীর সংখ্যা পৌঁছে যায় ২০০ থেকে ২৫০ জনে। ঈদে বেশিরভাগ স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটির কারণে বাকিদেরকেই এই চাপ সামলাতে হয়। রোগী যতই আসুক, কষ্ট সত্ত্বেও আমাদেরকে তো ম্যানেজ করতেই হবে। কারণ দুর্ঘটনায় হাত-পা ভাঙা এসব রোগীদের তো আর আমরা ফেরত দিতে পারব না। আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের নির্ধারিত সময়ের বাইরেও সেবা দিচ্ছেন। নিয়মিত সিনিয়র চিকিৎসকরাও খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। এর বাইরে বিশেষ সমস্যা হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানাই। তখন অতিরিক্ত চিকিৎসক এসে কাজ করেন।

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঈদ ও ঈদ পরবর্তী সময়ে আমাদের হাসপাতালে রেকর্ড সংখ্যক রোগী এসেছে। তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক রোগীকেই ছোট-বড় অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। এখন পর্যন্ত হাসপাতালে আসা রোগীদের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই বেশি। জরুরি ওয়ার্ডে জায়গা না হওয়ায় অনেককে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে বারান্দায়।

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল গণি মোল্লা বলেন, প্রতি ঈদেই আমাদেরকে একটা ভয়ংকর অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়। অন্যান্য বারের তুলনায় এবার দুর্ঘটনায় আহত হয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বেশি। ঈদ একটি খুশির সময়। এই সময়ে মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাবে এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া আমাদের পরিবহনগুলো যে একেবারে খারাপ, তা তো নয়। কিন্তু এবার ঈদে যে পরিমাণ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে তা আমার মনে হয় গত কয়েক বছরে হয়নি।

হাসপাতালের পরিচালক আরও বলেন, কিছু চিকিৎসক ঈদের ছুটিতে গেলেও অন্য ধর্মের চিকিৎসকরা এই সময়ে নিরলসভাবে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন সিনিয়র চিকিৎসক সার্বক্ষণিক হাসপাতালে সময় দিয়েছেন। আমি নিজে ঈদের দিনেও সারাদিন হাসপাতালে ছিলাম। যে কারণে চিকিৎসাসেবায় খুব বেশি সমস্যা হয়নি।

নিউজ ট্যাগ: পঙ্গু হাসপাতাল

আরও খবর



সিরাজগঞ্জে বাড়ছে যমুনার পানি, ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা

প্রকাশিত:শনিবার ২১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২১ মে ২০২২ | ২৬০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সিরাজগঞ্জে বেড়েই চলেছে যমুনা নদীর পানি। এতে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা করছেন শহরবাসী। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ এলাকায় ২৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক হাসানুর রহমান বলেছেন, সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ এলাকায় পানির বিপৎসীমা ধরা হয় ১৩ দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার। আজ শনিবার সকাল ৬টায় পানি রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার। গত ১২ ঘণ্টায় ২৪ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ১৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ এলাকায় গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় পানি রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৩৪ সেন্টিমিটার, গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় পানি রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৮৮ সেন্টিমিটার, আজ শনিবার সকাল ৬টায় পানি রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার ১ দশমিক ১৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, পানি বৃদ্ধির কারণে প্রতিদিন সিরাজগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। তীব্র স্রোতের কারণে নদী-তীরবর্তী অঞ্চল কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালীতে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে জেলার কাজীপুর ও এনায়েতপুরে ভাঙনের তীব্রতা বেশি। এতে করে বন্যার আশঙ্কা করছে শহরবাসী। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীতে পানি বাড়ার কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।  কিছু স্থানে নদী ভাঙন রয়েছে। তবে ভাঙন রোধে বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে।


আরও খবর



নাটোরে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, চালক নিহত

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২ | ৩৩৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

নাটোরের বড়াইগ্রামে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক ট্রাক চালক নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে বড়াইগ্রাম থানা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, নিহত ব্যক্তির নাম লিটন (৫০)। তিনি যশোর জেলার কোতোয়ালি উপজেলার চুরমনকাটি গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যশোর থেকে ছেড়ে আসা ময়মনসিংহগামী মিনি ট্রাকের সঙ্গে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নাটোরগামী প্যাকেটজাত পণ্য বোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুইটি ট্রাক দুমড়ে মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মিনি ট্রাকের চালক নিহত হন।

এ বিষয়ে হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, ট্রাক দুইটি জব্দ করা হয়েছে। ট্রাকের চালক ও সহকারী পলাতক রয়েছেন। মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 


আরও খবর



এমসি কলেজের হোস্টেল থেকে ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত:বুধবার ২৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২৫ মে ২০২২ | ৯৫জন দেখেছেন

Image

সিলেট প্রতিনিধি:

সিলেটের এমসি কলেজের নতুন হোস্টেল থেকে স্মৃতি রানী দাস (২০) নামে এক ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মে) সকালে হোস্টেলের চার তলার একটি কক্ষ থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্মৃতি রানী দাস এমসি কলেজের ইংরেজি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার যুগল কিশোর দাসের মেয়ে।

এমসি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো: তৌফিক এজদানী চৌধুরী জানান, স্মৃতি নামের ওই ছাত্রী নতুন ছাত্রী হোস্টেলের (চার তলায়) সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। ধারণা করা হচ্ছে, রাতেই স্মৃতি আত্মহত্যা করেছে। সকালে অন্যান্য শিক্ষার্থী তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের খবর দেয়া হয়েছে।

পুলিশ জানায়, হোস্টেলের চার তলায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় স্মৃতিকে দেখতে পান অন্য শিক্ষার্থীরা। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি রাতে আত্মহত্যা করেছেন।

শাহপরাণ (র.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।


আরও খবর



বাউফলে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ১৪৪ ধারা জারি

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৬ মে ২০২২ | ৪৮৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় 'জনতা ভবন'-এ ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার একই সময় একই স্থানে আওয়ামী লীগের দুগ্রুপ সংবাদ সম্মেলনের কর্মসূচি দেওয়ায় সংঘাত এড়াতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমিন স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়েছে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জনতা ভবনের ৫০০ বর্গ গজের মধ্যে কোনো ব্যক্তির অনুপ্রবেশ, সমাবেশ, মিছিল, সভার আয়োজন, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, প্রচারণা ও বিস্ফোরক দ্রব্য বহন ইত্যাদি কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ আসম ফিরোজ এমপির সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বাউফল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদারের বিরোধ চলছে। তাদের উভয় গ্রুপ একাধিকবার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন বলেন, আবদুল মোতালেব হাওলাদার বিভিন্ন কর্মসূচিতে সংগঠন বিরোধী বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদে জনতা ভবনে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করবে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় মিডিয়া কর্মীদের কাছে চিঠি পৌঁছে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই আবদুল মোতালেব হাওলাদার একই স্থানে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেন।

আব্দুল মোতালেব হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্নভাবে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। তাই শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমিন বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, উভয়পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছি। পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলনের পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু উভয়পক্ষ তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকায় ১৪৪ ধারা জারি করতে বাধ্য হয়েছি। 

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, জনতা ভবনের আশপাশে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


আরও খবর



ভারতে ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার সেই তরুণীকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর

প্রকাশিত:শনিবার ২১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২১ মে ২০২২ | ৫৪৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ভারতের বেঙ্গালুরুতে বিবস্ত্র করে ধর্ষণ ও নির্যাতনের সেই আলোচিত ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের একটি দলের কাছে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে ভারত।তেজগাঁও বিভাগের ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের একটি দল তাদের জিম্মায় বুঝে নিয়েছে ভুক্তভোগী ওই তরুণীকে। এখন তাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে দলটি। রোববার হাসপাতালে তরুণীর শারীরিক পরীক্ষা করা হবে। তাকে পাচার ও নির্যাতনের বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য আদালতে হাজির করা হবে।

এদিকে গতকাল (শুক্রবার) ওই ঘটনায় ৯ বাংলাদেশিকে দোষী সাব্যস্ত করে শুক্রবার তাদের ৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন পর্যন্ত কারাদণ্ড দিয়েছে ভারতের বেঙ্গালুরুর একটি আদালত।

বেঙ্গালুরুর আদালত ওই ধর্ষণ মামলার রায়ে চাঁদ মিয়া, মোহাম্মদ রিফাকদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলামিন হোসেন, রকিবুল ইসলাম, মোহাম্মদ বাবু শেখ, মোহাম্মদ ডালিম ও আজিম হোসেনসহ ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া তানিয়া খানকে ২০ বছর এবং মোহাম্মদ জামাল নামে দুজনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আরও দুই নারী আসামিকে ৯ মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

ভুক্তভোগীসহ অভিযুক্তরা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক, যারা ভারতে প্রবেশ করে বেঙ্গালুরুতে অবৈধভাবে বসবাস করে আসছিলেন। মামলায় এক অভিযুক্ত ছিলেন ভারতীয়, তবে তাকে অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ২৮ দিনের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল এবং ৩ মাসে বিচার শেষ করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের মে মাসে ওই তরুণীকে বিবস্ত্র করে তার ওপর চালানো বর্বর যৌন নির্যাতনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সেই ভিডিওর সূত্র ধরেই তদন্তে নামে পুলিশ। হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, ওই ভিডিওর উৎস খুঁজতে গিয়ে আসাম পুলিশ জানতে পারে, নির্যাতনে জড়িত ব্যক্তিরা বেঙ্গালুরুতে আছেন। তারপর সেই তথ্য কর্ণাটক পুলিশকে সরবরাহ করে তারা। পরে বেঙ্গালুরু পুলিশ ওই ভিডিওর সূত্র ধরে ছয়জনকে গ্রেফতার করে। পরদিন সকালে তাদের নিয়ে ফের অভিযানে যায় পুলিশ। পালানোর চেষ্টার সময় দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলেও জানিয়েছে বেঙ্গালুরু পুলিশ। গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন- ঢাকার মগবাজারের তরুণ রিফাজুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক বাবু ও তার সহযোগী সাগর। 


আরও খবর