আজঃ বুধবার ২৫ মে ২০২২
শিরোনাম

বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত সকাল ৭টায়

প্রকাশিত:সোমবার ০২ মে 2০২2 | হালনাগাদ:সোমবার ০২ মে 2০২2 | ৪৫৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের নামাজের ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ঈদের দিন সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও ১০টা ৪৫ মিনিটে বায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটে ঈদ জামাত

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। এই জামাতে ইমামতি করবেন বংশাল বড় জামে মসজিদের খতিব শাইখ মুহাম্মাদ মোস্তফা সালাফি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত সোয়া ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

তবে মাঠে কোনো কারণে জামাত আয়োজন করা সম্ভব না হলে বুয়েটের নির্ধারিত তিনটি মসজিদে ঈদ জামাত আয়োজন করা হবে।

সংসদ ভবনে ঈদের জামাত

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। এ জামাত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এছাড়া রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ও সাড়ে ৯টায়, ধানমন্ডি ঈদগাহ জামে মসজিদে সকাল ৮টায়, মিরপুর দারুস সালাম এলাকার মীর বাড়ি আদি (মাদবর বাড়ি) জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ও সকাল ৯টায়, মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের হারুন মোল্লাহ্ ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৭টায়, মতিঝিলের আরামবাগের দেওয়ানবাগ শরিফে সকাল ৮টা ও সাড়ে ৯টায়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মারকাজুল ফিকহিল ইসলামী মসজিদে সকাল ৭টায়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সি ব্লকে উম্মে কুলসুম জামে মসজিদ (সি ব্লক) সকাল সোয়া ৭টায়, সকাল সাড়ে ৭টায় এফ ব্লক জামে মসজিদে, সকাল ৮টায় বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদ (জি ব্লক), সকাল সাড়ে ৮টায় ফকিহুল মিল্লাত জামে মসজিদে (এন ব্লক) ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে সকাল ৬টা, সাড়ে ৭টা ও ৯টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।


আরও খবর
প্রথম হজ ফ্লাইট ৫ জুন শুরু

মঙ্গলবার ২৪ মে ২০২২




মানিকগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে হাতে ভাজা মুড়ি

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১১ মে ২০২২ | ৪১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাতে ভাজা মুড়ি কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে। সদর উপজেলার ধলাই-সরুপাই এলাকার হাতে ভাজা মুড়ির সুনাম রয়েছে দেশব্যাপী। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এই মুড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হতো। কিন্তু দাম না পাওয়ায় একেবারেই হারিয়ে যেতে বসেছে মজাদার মানিকগঞ্জের হাতে ভাজা মুড়ি।

সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা যায় সুনসান নীরবতা। মুড়ি ভাজার কারিগররা বিভিন্ন পেশায় জড়িয়ে গিয়েছে। অথচ কয়েক বছর আগেও রোজার মাসে এই দুইটি গ্রাম মুড়ি ভাজার কাজে মুখরিত থাকতো রাত দিন। মুড়ি ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন (৫৫) বলেন, নিজ হাতে ধান থেকে মুড়ি প্রস্তুত করে বিক্রি করাই ছিল আমাদের পেশা। লবণ ও পানি ছাড়া এই মুড়িতে কিছুই দেওয়া হতো না। এই এলাকার শতকরা নব্বইটি পরিবার মুড়ি ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। আমার জানা মতে, বর্তমানে একটি পরিবার ছাড়া কেউ এই পেশার সাথে নেই। বাজারে নিম্নমানের মুড়ি কমদামে বিক্রি হচ্ছে। তারপরেও আমাদের মুড়ির চাহিদা কমেনি। কিন্তু এতে লাভ হয় একবারেই কম। তাই এলাকা থেকে মুড়ি ভাজা বন্ধ হয়ে গেছে।

মুড়ি পরিবারের আরেক সদস্য আমজাদ হোসেন বলেন, মুড়ি তৈরির ধান মানিকগঞ্জে হয় না। মাত্র দুইজন বেপারী বরিশাল থেকে ধান এনে বিক্রি করেন। ধানের সঠিক দাম এলাকার লোকজন জানে না। তারা ধান না আনলে এলাকার লোক মুড়ি তৈরি করতে পারেন না। বাপ-দাদার পেশা ছিল মুড়ি তৈরি করে বিক্রি করা। ঝামেলার কারণে আমরা তিন ভাই বিভিন্ন পেশায় জড়িয়ে যাই।

মো. স্বপন মিয়া নামে এক মুড়ি ক্রেতা জানান, তিনি সব সময় মানিকগঞ্জের হাতে ভাজা মুড়ি খেতেন। কিন্তু বর্তমানে মানিকগঞ্জের মুড়ি বাজারে পাওয়া  যায় না বলে বাজারের সাধারণ মুড়ি কিনে খাচ্ছেন। এ মুড়িতে স্বাদ গন্ধ কিছুই নেই।  শহরের খুচরা মুড়ি বিক্রেতা নুরুল ইসলাম বলেন, এলাকার মুড়ির চাহিদা এখনো আছে। তবে কমদামি মুড়ি বেশি বিক্রি হয়।

ধলাই এলাকার একমাত্র মুড়ি ব্যবসায়ী তাহের আলী (৭৭) বলেন, মূলধন নাই, সঠিক সময়ে ধান পাই না। ধানের দামও বেশি। দীর্ঘদিনের মায়া তাই কিছু ধান বেপারীর কাছ থেকে নিয়েছি। আর মনে হয় পারুম না, এবারই শেষ। বয়স হয়েছে চালানপাতি নেই। সরকার যদি বিনা সুদে অথবা কম সুদে ঋণ দিতো তাহলে দুইশত বছরের ঐতিহ্য হাতে ভাজা মুড়ি তৈরি বন্ধ হতো না।  

নিউজ ট্যাগ: ভাজা মুড়ি

আরও খবর



রেল লাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৬ মে ২০২২ | ৫১৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি:

নরসিংদীর রায়পুরায় ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রেল লাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত (৩০) এক নারীর মরদেহ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (০৫ মে) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে উপজেলার মির্জানগরের পূর্বকান্দি এলাকার আপ লাইনের পাশ থেকে ওই মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

আমিরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আব্দুল কাদির জানান, অজ্ঞাত ওই নারীর মাথা থেকে কাঁধ পর্যন্ত একটি প্ল্যাষ্টিকের বস্তার ভেতর ছিল। এর পাশেই আরেকটি বস্তা পাওয়া গেছে। এতে রক্ত লেগে আছে। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর  লাশটি বস্তায় ভরে রেল লাইনের পাশে কেউ ফেলে গেছে। এব্যাপারে রেলওয়ে পুলিশকে খবর দিয়েছি। তারা আসলে লাশটি হস্তান্তর করা হবে। রেলওয়ে পুলিশ এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন।


আরও খবর



কলকাতাকে উড়িয়ে শীর্ষে লক্ষ্ণৌ

প্রকাশিত:রবিবার ০৮ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৮ মে ২০২২ | ২৫৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) সামনে লক্ষ্যটা বেশ চ্যালেঞ্জিংই ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লড়াই জমাতে পারলো না শ্রেয়াস আইয়ারের দল। লখনৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ৭৫ রানের বড় পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো কলকাতা।

এ জয়ের ফলে আইপিএলের এবারের আসরে নবাগত দল লখনৌ পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে ওঠে গেছে। ১১ ম্যাচের মধ্যে ৮ জয়ে তাদের পয়েন্ট ১৬। সমান সংখ্যক ম্যাচে মাত্র ৮ পয়েন্ট নিয়ে ৮ নম্বরে রয়েছে কলকাতা। আজকের ম্যাচে হেরে কেকেআরের প্লে অফে খেলার সম্ভাবনা এখন অনেকটাই ফিকে।

এদিন পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে কলকাতাকে ১৭৭ রানের টার্গেট দেয় লখনৌ। কুইন্টন ডি কক আর দীপক হুদার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে লড়াকু সংগ্রহ পায় লোকেশ রাহুলের দল।

কিন্তু ব্যাট হাতে জবাব দিতে ব্যর্থ কলকাতা। দলীয় মাত্র ২৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলের সামনে কাণ্ডারি হয়ে আবির্ভূত হতে পারেননি কেউ। আন্দ্রে রাসেল ১৯ বলে তিন চার ও পাঁচ ছক্কায় ৪৫ রানের দাপুটে ইনিংস খেললেও তাতে হার এড়াতে পারেনি কেকেআর। আরেক ক্যারিবীয়ান সুনীল নারিনের ব্যাট থেকে এসেছে ১২ বলে ২২ রান। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের ৩৩ বল বাকি থাকতেই ১০১ রানে গুটিয়ে যায় কলকাতা।

লখনৌয়ের হয়ে আবেশ খান ও জেসন হোল্ডার সমান তিনটি করে উইকেট নেন। মহসীন খান, দুষ্মন্ত চামিরা ও রবি বিষনয় নেন একটি করে উইকেট।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে নেমে লখনৌ অধিনায়ক লোকেশ রাহুল শূন্য রানে রান আউটের ফাঁদে পা দিলেও আরেক অপেনার কুইন্টন ডি কক অর্ধশত রানের ইনিংস খেলেন। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দীপক হুদাকে নিয়ে ৭১ রান তোলেন এ প্রোটিয়া ব্যাটার। ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে সুনীল নারিনের শিকার হন ডি কক। ২৭ বলে ৪১ রান করেন দীপক হুদা। এছাড়া ক্রুনাল পান্ডিয়া খেলেন ২৭ বলে ২৯, আয়ুশ বাদোনি ১৮ বলে ১৫*, মার্কাস স্টোইনিজ ১৪ বলে ২৮ এবং হোল্ডার ৪ বল খেলে করেন ১৩ রান।

তিন ওভার বল করে মাত্র ১৯ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন আবেশ খান।

এদিকে লখনৌয়ের মতো সমান ১১টি করে ম্যাচ খেলে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে আছে যথাক্রমে গুজরাট টাইটান, রাজস্থান রয়্যালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। এছাড়া পাঁচে দিল্লি, ছয়ে হায়দারাবাদ, সাতে পাঞ্চাব, নয় নম্বরে চেন্নাই এবং সবচেয়ে তলানিতে আছে মুম্বাই।


আরও খবর



কবে শেষ হবে চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ?

প্রকাশিত:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ৩৭০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের সময় বেড়েছে আরও এক বছর। অর্থাৎ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে তৃতীয় দফায় সময় বাড়লো। একই সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয় ৩৬ শতাংশ অর্থাৎ এক হাজার ১৯৯ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। প্রস্তাব অনুযায়ী অর্থ পাওয়া গেলে প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়াবে চার হাজার ৪৫০ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। এরপরও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে কিনা তা নিশ্চিত করতে পারছেন না প্রকল্প পরিচালক। সিডিএর এই প্রকল্প যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স-র‍্যাঙ্কিন। ইতোমধ্যে সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ের ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ চলমান।

প্রকল্প ও ব্যয়: সিডিএ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ১১ জুলাই একনেক সভায় চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। প্রথমে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় তিন হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। তিন বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শতভাগ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। দ্বিতীয় দফায় ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তৃতীয় দফায় ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। এই দফায় সময় বেড়েছে এক বছর। অর্থাৎ ২০২৩ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা। একই সময়ে প্রকল্প ব্যয় এক হাজার ১৯৯ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

কেন বাড়ছে ব্যয়?: সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজ শুরুর পর নকশায় ত্রুটি ধরা পড়ে। এ নিয়ে আপত্তি জানায় চট্টগ্রাম বন্দর ও সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। নকশায় ত্রুটি, সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে পরামর্শ না করে তড়িঘড়ি করে প্রকল্প অনুমোদনের কারণে বেড়েছে ব্যয়। পরে নকশা নিয়ে বন্দর ও সিএমপির আপত্তির কারণে বেশ কিছু সংশোধন আনা হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সেতুর নকশা ও ভূমি জটিলতা, বিভিন্ন সংস্থার নারাজি কারণে প্রকল্পের কাজে ধীরগতি দেখা দেয়। একই সঙ্গে ব্যয় বেড়েছে। এখন চাহিদামতো অর্থ যথাসময়ে পাওয়া না গেলে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না তাদের।

এক্সপ্রেসওয়ের নয় এলাকায় ২৪ র‍্যাম্প: প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এক্সপ্রেসওয়ের নয় এলাকায় গাড়ি ওঠানামার জন্য ২৪টি র‍্যাম্প থাকবে। এর মধ্যে টাইগারপাস এলাকায় চারটি, আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়ে চারটি, বারিক বিল্ডিং মোড়ে দুটি, বন্দরসংলগ্ন নিমতলী মোড়ে দুটি, কাস্টম হাউস মোড়ে দুটি, রফতানি প্রক্রিয়াকরণ কর্তৃপক্ষ (সিইপিজেড) এলাকায় চারটি, কর্ণফুলী ইপিজেড এলাকায় (কেইপিজেড) দুটি, কাঠগড় এলাকায় দুটি ও পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় থাকবে দুটি। প্রতিটি র‌্যাম্প নির্মাণ হবে দুই লেনের। র‌্যাম্পগুলো একমুখী গাড়ি চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হবে।

একাধিক মেগা প্রকল্পের সংযোগস্থল পতেঙ্গা: বঙ্গবন্ধু টানেল, আউটার রিংরোড, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, এয়ারপোর্ট রোডসহ একাধিক মেগা প্রকল্পের সংযোগস্থল চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা। অথচ এখানে নেই ইউলুপ, ইউটার্ন কিংবা সার্ভিস রোড। এ অবস্থায় এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে যানজট বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে ট্রাফিক বিভাগ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‌সিএমপির সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্পটি করা হয়নি। যানজট নিরসনের জন্য নেওয়া প্রকল্পটিতে গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থানে ইউলুপ, ইউটার্ন কিংবা সার্ভিস রোড না থাকায় সুষ্ঠুভাবে যানবাহন ব্যবস্থাপনায় সমস্যা হবে। ফলে সড়কে যানজট কমবে কিনা সন্দেহ আছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে অপরাধ দমনে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোসহ অনেকগুলো পরামর্শ সিডিএকে দেওয়া হয়েছে। তারা সেগুলো মেনে নিয়ে কাজ করলে অবশ্যই প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাবে।

চালু হচ্ছে বঙ্গবন্ধু টানেল: এদিকে, আগামী ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে বঙ্গবন্ধু টানেল। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালুর আগে টানেল চালু হলে বন্দর-পতেঙ্গাসহ নগরজুড়ে যানজট বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যানজট এড়াতে আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আট কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন করে পতেঙ্গা থেকে নিমতলী পর্যন্ত যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিডিএ।

চট্টগ্রাম নগর পরিকল্পনাবিদ সুভাষ বড়ুয়া বলেন, উড়ালসেতু করে কখনও যানজট নিরসন করা যাবে না। শুধুমাত্র কম জানা লোকই এমন কথা বলে। যানজট নিরসন করতে সমন্বিত কর্ম-পরিকল্পনার প্রয়োজন। চট্টগ্রামের সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। যানজট নিরসনের জন্য ছোট গাড়ি চলাচল ও আমদানি কন্ট্রোল করতে হবে।

প্রকল্প পরিচালকের ভাষ্য: এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রকল্পের কাজ ৬০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বন্দর, সিএমপিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার আপত্তির কারণে কাজের গতি কমেছে। যেসব সমস্যা আগে দেখা যায়নি কিন্তু কাজ শুরুর পর দেখা যাচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ যেসব বিষয়ে আপত্তি তুলেছিল সেগুলো বৈঠকে সমাধান হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে সিএমপি, তারা কিছু নকশা সংস্কারের কথা বলেছে। আমরা সেগুলো সংশোধন করেছি। নতুন নকশা অনুযায়ী কাজ হবে।

মাহফুজুর রহমান বলেন, সড়কের মাঝখানে থাকা বিদ্যুতের পোলগুলো সরাতে দেরি করছে পিডিপি। সড়কের নিচে থাকা ওয়াসার পাইপ লাইন কাজ করার সময় ফেটে যাচ্ছে। এগুলো সরানোর জন্য ওয়াসাকে অর্থ দেওয়া হয়েছে। এরপরও তারা সেগুলো সরাতে দেরি করছে। এখনও টাইগারপাস থেকে দেওয়ানহাট মোড় পর্যন্ত রেললাইনের ওপর কাজ করার অনুমতি দেয়নি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। টাইগারপাস থেকে দেওয়ানহাট মোড় পর্যন্ত ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনও পিলার বসানো যাবে না বলেছেন রেলের কর্মকর্তারা। তাই বিকল্পভাবে রেললাইনের ওপর কাজ করতে হবে। সবমিলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারবো কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

জানা গেছে, বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে গিয়ে জমি অধিগ্রহণসহ নতুন কিছু সংযোজন করতে এক হাজার ২৯৯ কোটি ৭০ লাখ ১৬ হাজার টাকা প্রয়োজন। ওই টাকার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। বন্দর থেকে সাত একর জমি অধিগ্রহণসহ নানা কাজে ওই এলাকায় ব্যয় বেড়েছে ৪০০ কোটি টাকা। পিডিপিকে পোল সরানোসহ বিদ্যুতের কাজের জন্য আরও ২০০ কোটি টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। নতুন করে ১২টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করতে হচ্ছে। টাইগারপাস থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত ২০০ কিলোমিটার রেললাইনের ওপর পিলার বসানো ছাড়াই কাজ হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, বন্দর এলাকায় যাতে যানবাহন চলাচলে শব্দ না হয়, সেজন্য শব্দ প্রতিরোধক বেষ্টনী নির্মাণ করতে হবে। সিএমপি চিঠি দিয়ে বলেছে, ১৬ কিলোমিটার প্রকল্পে যাতে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়। লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর যাওয়ার পথে জি-১ এবং জি-২ সড়কে ডানমুখী চলাচলের লেন রাখা হয়নি। এতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে বড় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হবে। এটি সমাধান করা জরুরি। সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু টানেল চালুর পর নগরীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ টানেলের সংযোগের বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নেই। এগুলো সংযোজন করতে হবে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজে বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের আপত্তির কারণে নকশায় পরিবর্তন আনতে হয়েছে। এজন্য জমি অধিগ্রহণ করতে হয়েছে। কাজ বেড়েছে, সময় বাড়ছে। এসব কারণে এক হাজার ১৯৯ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং দুই বছর সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করেছি আমরা। এখনও মন্ত্রণালয় অর্থ দেয়নি। তবে সময় বাড়িয়েছে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত এক বছর। এই সময়ে কাজ শেষ হবে বলে মনে হয়না। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ না হলে যানজট বাড়বে। এ কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ডিসেম্বর কিংবা জানুয়ারিতে পতেঙ্গা থেকে নিমতলী পর্যন্ত আট কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন করে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেবো। প্রকল্পের জন্য যেখানে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে, নকশায় পরিবর্তন ও সংযোজন করতে হবে সেসব স্থানে আপাতত কাজ বন্ধ থাকবে।


আরও খবর



শ্রীলঙ্কার পথেই কি পাকিস্তান?

প্রকাশিত:রবিবার ০১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০১ মে ২০২২ | ৪০৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

চরম অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কা। দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ পাকিস্তানের অবস্থাও ক্রমাগত খারাপের দিকেই যাচ্ছে। দেশটি প্রায় খাদের কিনারায় পৌঁছে গেছে। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমছে রিজার্ভ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে পাকিস্তানে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১১ শতাংশ। এ অঞ্চলে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির দিক থেকে শ্রীলঙ্কার পরই আছে পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কায় মূল্যস্ফীতি ২১ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, কয়েক মাসের মধ্যেই পাকিস্তানে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ১৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

সংস্থাটি আরও জানায়, চলতি অর্থবছরে পাকিস্তানের চলতি হিসাবের ঘাটতি বেড়ে দাঁড়াতে পারে জিডিপির সাড়ে ৩ শতাংশে। চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়তে থাকায় দেশটির ব্যাংকগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করা এখন বেশ কঠিন। গত অর্থবছরে পাকিস্তানের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশে। ইমরান খানের অঙ্গীকার ছিল তা ৬ শতাংশে উন্নীত করার। তবে এডিবির হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তানে এবার জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে থাকবে। কারণ চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে দেশটির বৃহৎ শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র সাড়ে ৩ শতাংশ।

কোনো দেশের জিডিপি আর ঋণের অনুপাত যদি ৪০ শতাংশ বা এর চেয়ে বেশি হয় তখন অর্থনীতির বিবেচনায় ধরে নেওয়া হয়, দেশটি দেউলিয়া হওয়ার পথে এগোচ্ছে। শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে সেই অনুপাত ১০৪ শতাংশ। আর পাকিস্তানে জিডিপি আর ঋণের অনুপাত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ শতাংশে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিদেশ থেকে পাকিস্তানে ডলার প্রবেশের চেয়ে বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। ফলে ধস নেমেছে ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানি রুপির বিনিময় হারে। পাকিস্তানে এখন ডলারের বিনিময় মূল্য দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১৮৯ রুপি। চলতি অর্থ বছরেই রুপির অবমূল্যায়ন হয়েছে ২০ শতাংশ। দ্রুতগতিতে কমছে পাকিস্তানের রিজার্ভও। মাত্র এক মাসেই দেশটির রিজার্ভ কমেছে পাঁচ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে তাদের রিজার্ভ ১১ বিলিয়ন ডলারেরও কম। দেড় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্যও যথেষ্ট নয় এই রিজার্ভ।

এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দ্বারস্থ হয়েছে পাকিস্তানের নতুন সরকার। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুবই অস্থিতিশীল। দেশটির সংসদীয় ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দল ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করতে মহাজোট গঠন করে বিরোধী দলগুলো। তবে সেই ক্ষমতা এখনো সংহত হয়নি। এ অবস্থায় বৈদেশিক ঋণ কতটুকু ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।


আরও খবর