আজঃ বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪
শিরোনাম

বাংলাদেশি জাহাজ ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ৮ জলদস্যু গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ এপ্রিল ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ এপ্রিল ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ৮ জলদস্যুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুক্তিপণ পাওয়ার পর শনিবার (১৩ এপ্রিল) ২৩ নাবিকসহ জাহাজটি ছেড়ে দেয় দস্যুরা।

সোমালিয়ার সংবাদমাধ্যম গ্যারোয়ে অনলাইন জানিয়েছে, জাহাজটি মুক্তি পাওয়ার পরপরই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পুন্টল্যান্ডের পূর্ব উপকূল থেকে দস্যুদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুন্টল্যান্ডের এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশি জাহাজ ও নাবিকদের জিম্মির সঙ্গে জড়িত এই ৮ দস্যুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণের কোনো অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না সে বিষয়টি স্পষ্ট করেননি তিনি।

এদিকে, ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দুই দস্যু জানিয়েছে, দুই দিন আগে মুক্তিপণ হিসেবে তাদের ৫০ লাখ ডলার দেওয়া হয়। এই অর্থগুলো নকল কি না পরবর্তীতে সেটি যাচাই-বাছাই করে তারা। এরপর নিজেদের মধ্যে অর্থগুলো ভাগ করে তারা জাহাজ থেকে চলে যায়।

মুক্তিপণের মাধ্যমে জাহাজ ছাড়িয়ে নেওয়ার বিষয়টি দস্যুদের আরও জাহাজ ছিনতাইয়ে উদ্বুদ্ধ করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন পুন্টল্যান্ডের এক পুলিশ কর্মকর্তা।

গত তিন মাস ধরে ভারত মহাসাগরে সোমালি জলদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দস্যুরা সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-শাবাবের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছে সোমালিয়ার সরকার। দস্যুতা বন্ধ করতে জলদস্যুদের গ্রেপ্তার এবং তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। গত ১৭ এপ্রিল সোমালি দস্যুদের কাছ থেকে এমভি রুয়েন নামের একটি জাহাজ উদ্ধার করে ভারতীয় নৌবাহিনী। জাহাজটি উদ্ধারে তারা কমান্ডো অভিযান পরিচালনা করে।

বাংলাদেশি জাহাজটিও মুক্ত করতে ভারতীয় নৌবাহিনী সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু নাবিকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এতে সম্মতি দেয়নি বাংলাদেশ সরকার। এর বদলে আলোচনার মাধ্যমে নাবিকদের ফিরিয়ে আনার পথ অনুসরণ করা হয়। এতে করে সব নাবিককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

গত ১২ মার্চ মোজাম্বিক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কয়লা নিয়ে যাওয়ার পথে ভারত মহাসাগরে সোমালি দস্যুদের কবলে পড়ে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ। এটির মালিক কবির রি রোলিং মিলস। ওই সময় জাহাজটিতে ২৩ নাবিক ছিলেন।


আরও খবর



পর্যটন ও সামাজিক অনুষ্ঠানে ভাড়া দেওয়া হবে শতবর্ষী জাহাজ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

Image

বাংলাদেশে ব্রিটিশ আমলের তৈরি শত বছরেরও বেশি পুরোনো যাত্রীবাহী জাহাজগুলো পর্যটনে ব্যবহার ও সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সফররত ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও এন্টোনিও ডোমিনগেজ ভেলাসকোর সঙ্গে বৈঠকের পর নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

ব্রিটিশ আমলের তৈরি জাহাজের মধ্যে রয়েছে- পিএস মাহসুদ, পিএস লেপচা, পিএস অস্ট্রিচ ও পিএস টার্ন। এসব নৌযান দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সদরঘাটের বাদামতলী ঘাটে স্টিমারগুলো অলস পড়ে আছে। বয়স বিবেচনায় জাহাজগুলোর দেশীয় ঐতিহ্য হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের পুরোনো প্যাডেলচালিত যে জাহাজগুলো আছে, আমরা চিন্তা করছি সেগুলো পর্যটন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায় কি না। কারণ এগুলো শত বছরের পুরোনো। মানুষ এখন স্পিডি হয়ে গেছে, এত স্লো জলযানে উঠতে চায় না।

তিনি বলেন, আমরা চিন্তা করছি, এগুলো পর্যটন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায় কিংবা ক্রুজ সার্ভিস করা যায়। আমাদের সামাজিক প্রোগ্রামগুলো রয়েছে, কর্পোরেট হাউজের প্রোগ্রামগুলো রয়েছে। সেগুলো অনবোর্ডে করা যেতে পারে। সেটার ব্যাপারে আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি।

আগামী ঈদুল আজহার সময় বিআইডব্লিউটিসির জাহাজগুলো যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা আরও দুটি নতুন জাহাজ (এমভি বঙ্গমাতা ও এমভি বঙ্গতরী) পেতে যাচ্ছি। এই জাহাজ দুটিকে আমরা ভোলা রুটে চালানোর চিন্তা-ভাবনা করছি।


আরও খবর



বাউফলে ঝোড়ো হাওয়ায় ঘরচাপায় বৃদ্ধের মৃত্যু

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
দূর্জয় দাস, বাউফল (পটুয়াখালী)

Image

পটুয়াখালীর বাউফলে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ঝোড়ো হাওয়ায় একটি পরিত্যক্ত টিনশেড দোতালা ঘরচাপা পড়ে করিম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (২৬ মে) রাতে ঝড়ের সময় বৃদ্ধ করিম পরিত্যক্ত ওই ঘরে আশ্রয় নেন এবং রাতের যেকোনো সময় ঝোড়ো হাওয়ায় ঘর ভেঙে এ ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাউফল পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের উপজেলা পরিষদ এলাকার কাছে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত বৃদ্ধের বাড়ি পটুয়াখালী বাউফলের নাজিরপুর ইউনিয়নের ধানদি গ্রামে। তিনি ভিক্ষা করতেন। পরিত্যক্ত ঘরটির মালিক বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার একেএম ফারুক আহমেদ তালুকাদার। তিনি ঢাকা থাকেন।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাউফলের ইউএনও মো. বশির গাজী খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন। মরদেহ উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

বাউফল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন বলেন, মরদেহের পরিচয় পাওয়া গেছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।


আরও খবর



জব্দের আগেই অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করেছেন বেনজীর!

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

জব্দের আগেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে নিয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবার। দুদকের তথ্যের ভিত্তিতে ২৩ মে তাদের অ্যাকাউন্ট জব্দের আদেশ দেন আদালত। তবে এসব অ্যাকাউন্টে কী পরিমাণ টাকা ছিল, তা জানা যায়নি।

তিনি দেশে আছেন কি না, তা নিয়েও ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, পরিবার নিয়ে বেনজীর দুবাইয়ে অবস্থান করছেন।

বেনজীরের সম্পদের বিষয়ে যেসব সরকারি সংস্থা খোঁজ রাখছে, তাদের মধ্যে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা একটি জাতীয় দৈনিককে বলেন, গত সপ্তাহে তার অ্যাকাউন্টগুলো ফাঁকা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এর আগের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, যখনই কেউ বুঝতে পারেন তাকে ধরার চেষ্টা চলছে, তখনই তিনি টাকা সরিয়ে ফেলেন।

অবশ্য টাকা তুললেও নগদে রেখেছেন, নাকি অন্য কারও অ্যাকাউন্টে জমা করেছেন তা বের করা সম্ভব।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পুরো বিষয়টি আরও পরিষ্কার করে বলেন, ডকুমেন্টের ভিত্তিতে কাজ করে ব্যাংক। ফলে সুনির্দিষ্ট আদেশের কপি ছাড়া মৌখিক কোনো তথ্য কিংবা গণমাধ্যমের খবরের ভিত্তিতে কারও অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে বা স্থানান্তর না করতে দেওয়ার সুযোগ নেই। কেননা, আদালত কারো অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের আদেশ দিলে পরে স্থগিতাদেশ দিতে পারেন।

তিনি বলেন, সাধারণভাবে এ ধরনের ব্যক্তির বিভিন্ন পর্যায়ে নিজস্ব লোক থাকে। ফলে গোপনে জানিয়ে দেওয়া হতে পারে। আবার পত্রিকায় লেখালেখি এবং দুদকের কার্যক্রমের ফলে এমনিতেই তিনি টাকা সরিয়ে ফেলতে পারেন। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে নগদে তুলে বিশ্বস্ত কারো কাছে রাখা হয়।

এখন দেখার বিষয় বেনজীর ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেন প্রোফাইলের নিয়ম মেনে টাকা উত্তোলন হয়েছে কি না। আবার টাকা উত্তোলন বা স্থানান্তরের পর ব্যাংকগুলো নিয়ম মেনে সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট (এসটিআর) এবং নগদ লেনদেন রিপোর্ট (সিটিআর) করেছে কি না।

এদিকে বেনজীর আহমেদের দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল সিটিজেন টিভির মালিকানার তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৭ সালে এ টিভির অনুমোদনের সময় তারা দুজনই ছিলেন শিক্ষার্থী।

দেশের সম্পদ অনুসন্ধান চলার মধ্যেই পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিদেশে থাকা সম্পদ অনুসন্ধানেও নেমেছে দুদক। বিশেষ করে সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশে তাদের কী পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, সেসবের খোঁজও নেওয়া হচ্ছে। দুদকের তিন সদস্যবিশিষ্ট অনুসন্ধান কমিটির প্রধান হাফিজুল ইসলামের সই করা চিঠি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

দুদকের পক্ষ থেকে বিদেশে সম্পদের খোঁজ নিতে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) চিঠি দেওয়া হয়েছে। দেশ থেকে অর্থ পাচার ঠেকাতে নীতিমালা প্রণয়ন ও সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে বিএফআইইউ। সংস্থাটি এগমন্ট গ্রুপ নামের একটি ফোরামের সদস্য। এই ফোরাম বিশ্বের ১৭০টি দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত, যারা অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে কাজ করে। ২০১৩ সালে এগমন্ট গ্রুপের সদস্যপদ পায় বিএফআইইউ।

জানতে চাইলে দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক বলেন, শুধু দেশের সম্পদই নয়, আমরা বিদেশে থাকা সম্পদের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করছি।

তিনি আরও বলেন, যদি সম্পদ অবৈধ হয় তাহলে আদালত রাষ্ট্রের অনুকূলে তা বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন। এ জন্য অনুসন্ধান পর্যায়ে তার (বেনজীর) সম্পদ ফ্রিজ (জব্দ) করা হয়েছে। কারণ ফ্রিজ না করলে এসব সম্পদ হস্তান্তর হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।এরই মধ্যে আদালতের আদেশে বেনজীর পরিবারের মালিকানাধীন রাজধানীর গুলশানে বিশালাকৃতির বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, গোপালগঞ্জে ৩৪৫ বিঘা ও মাদারীপুরে ২৭৩ বিঘা জমি জব্দ এবং অসংখ্য ব্যাংক ও বিও অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করেছে দুদক। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় যে বিপুল সম্পদ গড়েছেন বেনজীর, তার বেশির ভাগই তিনি কেনেন আইজিপি পদে আধিষ্ঠিত হওয়ার পর।

তিনি আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, চাকরিজীবনের শেষ দুই বছরে অর্থাৎ আইজিপি থাকাকালেই পরিবারের সদস্যদের নামে ৪৬৬ বিঘা জমি কেনেন বেনজীর। ১৯টি প্রতিষ্ঠানে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে তার পরিবার হয়ে যায় পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী পরিবার। আইজিপি পদটি যেন তার কাছে হয়ে উঠে আলাদীনের চেরাগ


আরও খবর



সাবেক সেনাপ্রধানকে নিষেধাজ্ঞা: কী আছে ‘৭০৩১ (সি)’ ধারায়

প্রকাশিত:বুধবার ২২ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২২ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

Image

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদকে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের ফরেন অপারেশন অ্যান্ড রিলেটেড প্রোগ্রামস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস অ্যাক্টের ৭০৩১ (সি) ধারার আওতায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপের ফলে আজিজ আহমেদ এবং তার পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।

'৭০৩১ (সি)' ধারায় মূলত 'উল্লেখযোগ্য দুর্নীতি' বা 'মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন'-এর সঙ্গে জড়িত বিদেশি কর্মকর্তাদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা কর্তৃপক্ষ। বিদেশি সরকারি কর্মকর্তা বা তাদের মনোনীত ব্যক্তি এবং তাদের নিকটতম পরিবারের সদস্যদের এই বিধিনিষেধের আওতায় আনা হতে পারে। তারা ভিসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন না করলেও এই আইনের আওতায় থাকবেন।

২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬০টি দেশের ৪৯৬ জনকে এই ধারার আওতায় প্রকাশ্যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩১২ জনকে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এবং ১৭৭ জনকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য আইনের আওতায় আনা হয়। এছাড়া উভয় কাজেই জড়িত অনেকেই এই তালিকায় থাকলেও সেটির সংখ্যা প্রকাশ করেনি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিস্তারিত দেখে নেওয়া যাক এই আইনের মানদণ্ড :

মানবাধিকার লঙ্ঘন : এই মানদণ্ডে কোনো বিদেশি সরকারের বর্তমান বা সাবেক কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যেতে পারে, যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে 'মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের' সঙ্গে জড়িত। পাশাপাশি তাদের নিকটতম পরিবারের লোক জড়িত থাকলেও এই মানদণ্ডের আওতায় আসতে পারে।

এই মানদণ্ডের আওতায় আছে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, নিষ্ঠুর, অমানবিক, অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তি প্রদান'; জোরপূর্বক গুম এবং জীবন, স্বাধীনতার অধিকারের অন্যান্য সুস্পষ্ট অস্বীকার, ব্যক্তির নিরাপত্তা।

দুর্নীতি : নিষেধাজ্ঞার এই মানদণ্ডের আওতায় বলা আছে, বিদেশি সরকারের কর্মকর্তাদের ওপর এটি আরোপ করা যেতে পারে, যারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে 'উল্লেখযোগ্য দুর্নীতিতে' জড়িত, পাশাপাশি তাদের নিকটতম পরিবারের সদস্যরাও। বিশেষ করে ঘুষ গ্রহণ এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহারকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।

দায়বদ্ধতার পদ্ধতি : কোনো সরকারি কর্মকর্তা কেবল তখনই এই আইনের আওতায় আসবেন, যখন তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকেন মানবাধিকার লঙ্ঘন বা দুর্নীতিতে।

আইনি প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়ন : এই নিষেধাজ্ঞাগুলো কেবল ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করে। যেমন মনোনীত ব্যক্তিরা সাধারণত ভিসা সংগ্রহ বা আবেদন করতে পারে না। অথবা ভিসা থাকলেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে অযোগ্য হবেন। ভিসা বিধিনিষেধের আওতায় ব্যক্তি মার্কিনকেন্দ্রিক নানা জটিলতায় পড়লেও সম্পদ জব্দ বা অন্যান্য আর্থিক জরিমানা এর অন্তর্ভুক্ত না।

বাস্তবায়নকারী সংস্থা: স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই ভিসা বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করে। আইন অনুসারে, এই ব্যবস্থা বিবেচনামূলক নয়। তবে সেক্রেটারি অফ স্টেট চাইলে বিধিনিষেধ মওকুফ করতে পারেন জাতীয় স্বার্থে বা নিষেধাজ্ঞার কারণে পরিস্থিতি 'যথেষ্ট পরিবর্তিত' হলে এটি শিথিল হতে পারে।

এক ঘোষণায় ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট বলছে, দুর্নীতিতে জড়িত থাকার কারণে সাবেক জেনারেল আজিজ আহমেদকে নিয়ে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। তার কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করতে ভূমিকা রেখেছে। আজিজ আহমেদ তার ভাইকে বাংলাদেশে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিতা এড়াতে সহায়তার সময় জনসাধারণের প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে উল্লেখযোগ্য দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। আজিজ তার ভাইয়ের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিলেন, যাতে সামরিক চুক্তির 'অনুপযুক্ত পুরষ্কার' নিশ্চিত করা যায়। তার ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য সরকারী নিয়োগের বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ করা হয়।

ঘোষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই ঘোষণা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসনকে শক্তিশালী করার যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারি সেবাগুলোকে আরও স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী করা, ব্যবসা ও নিয়ন্ত্রক পরিবেশের উন্নতি এবং মানি লন্ডারিং ও অন্যান্য আর্থিক অপরাধের তদন্ত ও বিচারের সক্ষমতা তৈরিতে সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টায় সহায়তা দিয়ে থাকে।


আরও খবর



আজিজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা মার্কিন ভিসানীতির প্রয়োগ নয়

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি প্রয়োগ নয়, বরং এপ্রোপিয়েশন আইনের প্রয়োগ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আজ মঙ্গলবার (২১ মে) বিকেলে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেটা বলেছে, বাংলাদেশের মিশনকে জেনারেল আজিজের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। জেনারেল আজিজের বিষয়ে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেটা ভিসা নীতির প্রয়োগ নয়। এটি এপ্রোপিয়েশন আইনের প্রয়োগ। সেখানে এপ্রোপিয়েশন একটা আইন আছে, সেটা প্রয়োগ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এটা নিয়ে আমি আর কিছু বলব না। এটা নিয়ে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও কথা বলেছেন। আমরা এতটুকুই জানি, এটুকুই বললাম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ।


আরও খবর