আজঃ বুধবার ২৪ জুলাই 20২৪
শিরোনাম

আশুগঞ্জে চারলেন সড়ক পরিদর্শনে ভারতীয় হাই কমিশনার

প্রকাশিত:সোমবার ২৪ জুলাই ২০২৩ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুলাই ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
মোঃ রাসেল আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

Image

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নদী বন্দর এবং আখাউড়া স্থল বন্দর পরিদর্শন করেছেন। সোমবার দুপুরে আশুগঞ্জ পৌছে আশুগঞ্জ নদীবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত নির্মাণাধীন চারলেন মহাসড়কের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।

এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- আমাদের প্রচেষ্টা মূলত এই উন্নত যোগাযোগ পরিকাঠামো ব্যবহার করে আমাদের দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক গতিশীলতা, জনগণের সুযোগ সুবিধা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ইত্যাদিকে আরও সুবিধাজনক করা যা গত কয়েক বছর ধরে আমাদের প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করা হয়েছিল।

আমি মনে করি এই প্রকল্পগুলি যোগাযোগ ব্যবস্থার রূপান্তরকে সহজতর করে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। তাই আমরা আশাবাদী এবং আমরা কিছু সমস্যার সমাধান করতে এসেছি যা প্রকল্পের বাস্তবায়নে বিলম্ব করছে। আমরা আশা করি আমরা বাংলাদেশী স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সমর্থন পাব এবং তারা প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হবে। যত তাড়াতাড়ি আমরা এই প্রকল্পগুলি তৈরি করব, তত দ্রুত সুফল আসবে। এটাই আমাদের এই সফরের উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এমন কিছু প্রকল্প রয়েছে যা ভারতের কাছ থেকে ক্রেডিট নিয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। আমি আশুগঞ্জ বন্দর থেকে আখাউড়া-৪ লেন সড়কের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে এসেছি যা ভারত থেকে ঋণের আওতায় নির্মিত হচ্ছে। আমরা সফল হয়েছি এবং দ্রুত অবকাঠামো দিতে পারলে এই প্রকল্প থেকে জনগণ উপকৃত হবে।

তিনি আরো বলেন, আশুগঞ্জ বন্দরের জন্য কিছু ভবিষ্যত প্রকল্প রয়েছে যা ৪ লেন সড়কের মূল পয়েন্টে পরিণত হবে। এর ফলে আমাদের ব্যবসা আরো সহজ হবে এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যে পরিকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করবে যা এই দুই দেশের জনগণের জন্য ভাল। দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর আমাদের প্রকল্পগুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে যেমন- রাস্তা, রেললাইন, নদীপথ আরো অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থা।

পরিদর্শনকালে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাথে আশুগঞ্জ-আখাউড়া চারলেন মহাসড়ক প্রকল্পের পরিচালক শোয়েব আহমেদ, অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক খালেদ সাহিদ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন উপস্থিত ছিলেন।

নিউজ ট্যাগ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আরও খবর



সাধারণ মানুষ আমার প্রাণশক্তি, বিচ্ছিন্ন হতে চাই না: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:বুধবার ২৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৬ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাকে বাঁচাতে গিয়ে আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীকে জীবন দিতে হয়েছে। যেহেতু আমার জীবন ঝুঁকিতে থাকে, সেজন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সদস্যরা নিয়োজিত থাকে। কিন্তু নিরাপত্তার জন্য যেন জনবিচ্ছিন্ন না হয়ে যাই সেদিকটা সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখতে এসএসএফকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

তিনি বলেন, জনবিচ্ছিন্ন হতে গুলি-বোমা লাগে না। এমনিতেই শেষ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চাই না। কেননা সাধারণ মানুষই আমার প্রাণ শক্তি।

বুধবার (২৬ জুন) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসএসএফের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ আগস্টের পর যারা ক্ষমতায় এসেছিলো, তারা দেশকে এগিয়ে নিতে পারেনি। বরং ক্যু হয়েছে। বিমান বাহিনীর হাজার হাজার সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিলো। দেশ যে তিমিরে সেই তিমিরেই রয়ে গিয়েছিলো। তবে এতো বড় গুরু দায়িত্ব নিতে হবে সে প্রস্তুতি কখনোই ছিলো না। তখন দেশের দুরাবস্থা সহ্য করার মতো ছিলো না।

যতোক্ষণ নিঃশ্বাস আছে ততোক্ষণ মানুষকে উন্নত জীবন দেয়ার চেষ্টা করে যাবো, এমন অঙ্গিকার করে শেখ হাসিনা বলেন, জীবন ঝুঁকি জেনেই দেশে ফিরেছি। দেশে ফেরার পর থেকে শত বাধা পেয়েও পিছিয়ে যাইনি। দেশের জন্য কাজ করছি।

এদিকে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য সরকার ফোর্সেস গোল ২০৩০ নামে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর আকার বৃদ্ধি, আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম সংগ্রহ ও সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ।

সরকারপ্রধান বলেন, ২০০৯ থেকে ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় আছি বলেই উন্নয়ন দৃশ্যমান ও টেকসই করতে পেরেছি। সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

অপরদিকে, সম্প্রতি কক্সাবাজারে মায়ানমার সীমান্তে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সীমান্তের ওপার থেকে কখনও কখনও ছুটে আসছে গুলিও। কক্সবাজার সীমান্তে বাংলাদেশের জনগণ ও স্থাপনা লক্ষ্য করে মিয়ানমার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনা ইতিমধ্যে জাতিসংঘে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের যে কোনো সংঘাত তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে এটি যেন বাংলাদেশের জনগণ ও সম্পদকে প্রভাবিত না করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কাউকে আক্রমণ করতে যাবো না, তবে আক্রান্ত হলে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে।

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চের ঘোষণা অনুসারে, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ১৯৮৬ সালে প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স অর্ডিন্যান্স নামে একটি অধ্যাদেশ জারি করেন। যা একই বছর ১৯ জুন থেকে কার্যকর হয়।

পূর্বের ঘোষণা অনুসারে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদের তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রপতি ও বিদেশ থেকে আগত রাষ্ট্রপ্রধানদের নিরাপত্তার জন্য ১৯৮৬ সালের ১৫ জুন  প্রেসিডেন্ট সিকিউরিটি ফোর্স নামে একটি বিশেষ নিরাপত্তা দল গঠন করেন। পরে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি চালু হওয়ার পর ১৯৯১ সালে ২৭ সেপ্টেম্বর এর নাম পরিবর্তন করে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) নামকরণ করা হয়।

যদিও প্রাথমিকভাবে শুধু রাষ্ট্রপতি ও রাষ্ট্র কর্তৃক ঘোষিত অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা দিতে এসএসএফ গঠিত হয়েছিল। কিন্তু সংসদীয় সরকার পদ্ধতি চালু হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি ছাড়াও সরকারপ্রধানকেও এসএসএফ নিরাপত্তা দিয়ে আসছে এবং এ সংস্থাটিকে তখন থেকে পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তারের অধিকার দেওয়া হয়। ২০০৯ সালের ১৫ অক্টোবর জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন গ্যাজেট আকারে প্রকাশ হওয়ার পর সংস্থাটি বর্তমানে জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদেরও সর্বস্থানে নিরাপত্তা দিয়ে আসছে।

এসএসএফ রাষ্ট্র কর্তৃক ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিভিআইপি) নিরাপত্তায়ও নিয়োজিত। সংস্থাটি বেসামরিক প্রশাসন, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দেশ ও দেশের বাইরে উল্লেখিত ব্যক্তিদের শারীরিক নিরাপত্তায় যেকোনো ধরনের হুমকি থেকে রক্ষা ও সেগুলো প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। এছাড়াও তারা অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বাড়ি ও অফিসে নিরাপত্তা দিয়ে থাকে।


আরও খবর



কোটা সংস্কারের দাবিতে রাবি শিক্ষার্থীদের রেললাইন অবরোধ

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

Image

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কার ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখার দাবিতে রেললাইন অবরোধ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ফলে রাজশাহী রেল স্টেশনের সাথে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছাড়া বাকি সব জেলার সাথে রেল যোগাযোগ বন্ধ আছে।

সোমবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের পাশের রেললাইন অবরোধ করে আন্দোলন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এসময় মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা, সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে, আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার, জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে, কোটা না মেধা, মেধা মেধা, মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই এমনসব স্লোগান দেন।

এসময় কোটাবিরোধী আন্দোলনে সমন্বয়ক আমানুল্লাহ আমান বলেন, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী মোট কোটা আছে ৫৬ শতাংশ আর মেধাবীদের জন্য মাত্র ৪৪ শতাংশ। এটা মেধাবীদের জন্য একটা বৈষম্য। আমরা এই বৈষম্য চাই না। আমাদের দাবি এখনো সরকার মেনে নেয়নি। তাই আমাদের চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ রেললাইন অবরোধ করেছি। আজ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের শিক্ষার্থী ক্লাস-পরীক্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে বর্জন করা হয়েছে এবং ক্যাম্পাসের কোনো বাসও চলাচল করতে পারবে না।

তিনি আরো বলেন, প্রথমে আমরা চারটি দাবি নিয়ে আন্দোলন করলেও আজ থেকে এক দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করা হবে। সেটা হলো সব গ্রেডে, সব ধরনের অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংসদে আইন পাস করতে হবে।


আরও খবর
আরও ৩ দিনের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




কলকাতায় এমপি আনার হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন মমতা

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হকার সমস্যা নিরসনে রাজ্যের সচিবালয় নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ডাকা বৈঠকে উঠে এসেছে ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যা প্রসঙ্গ। রাজ্যের সেফটি ও সিকিউরিটি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই আনার হত্যার প্রসঙ্গে কথা বলেন মমতা।

মূখ্যমন্ত্রী ভাষ্য, বাইরের লোক অর্থ দিয়ে কলকাতাসহ রাজ্যের যত্রতত্র বসে যাওয়ার কারণে একদিকে যেমন গাড়ি চলাচল করতে পারছে না। এতে দুর্ঘটনা বাড়ছে।

সেই সঙ্গে রাজ্যের আইডেন্টিটিও নষ্ট হচ্ছে। ফলে রাজ্যের সেফটি এবং সিকিউরিটিও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই তো দেখলেন, কিছুদিন আগে বাংলাদেশের একজন এমপি, কিভাবে তাকে নিয়ে এসে প্ল্যান করে খুন করল। রাজ্যের সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি নিশ্চিত করাটাই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তার একমাত্র লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মমতা। আর সেই লক্ষ্যেই পশ্চিমবঙ্গের যত্রতত্র হকার বসতে না দেওয়ার চিন্তাভাবনা নিয়েছে রাজ্য সরকার।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের সচিবালয় নবান্নে হকার সমস্যার সমাধানের বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। এসময় উপস্থিত ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমসহ রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, কলকাতার পুলিশ কমিশনার, প্রতিটি জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, নিউমার্কেট সহ কলকাতার বিভিন্ন হকার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাজার কমিটির কর্মকর্তারা।


আরও খবর
আজ নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মদিন!

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




দাফনের ৯ দিন পর বাড়ি ফিরলেন নিখোঁজ তরুণী

প্রকাশিত:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রবিউল বাশার খান, কুমিল্লা

Image

দাফনের ৯ দিন পর বাড়ি ফিরলেন নিখোঁজ তরুণী রোকসানা আক্তার (৩০)। এ নিয়ে পুরো এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, রোকসান তোমাকে দাফন করলাম, তুমি এখন এলে কোথায় থেকে?

বুধবার (২৬ জুন) ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের রাজবল্লবপুর গ্রামে। রোকসানা আক্তার ওই গ্রামের মৃত তাজুল ইসলামের মেয়ে। অপরদিকে ফিরে আসা তরুণীকে এক নজর দেখতে উৎসুক মানুষ তার বাড়িতে ভিড় জমায়।

শনিবার (২৯ জুন) রাতে জানা গেছে, মে মাসের শেষে রোকসানা আক্তার বাড়ি থেকে ছোট ভাই সালাহ উদ্দিনের চট্টগ্রামের ষোলশহরের বাসায় বেড়াতে যান। ১ জুন ভোরে কাউকে না জানিয়ে রোকসানা বাসা থেকে বের হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘদিন আত্মীয়স্বজনসহ সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

গত ১৭ জুন ঈদুল আজহার দিন বিকেলে ফেনী শহরে ভাড়া বাসায় অবস্থানরত খালাতো বোন হাজেরা আক্তার ও খালাতো ভাই শাহজাহান খবর পান, ফেনী শহরের জিয়া মহিলা কলেজের সামনে ড্রেনের মধ্যে একজন নারীর লাশ পড়ে আছে। তারা সেখানে গিয়ে লাশের চেহারা রোকসানা আক্তারের চেহারার সঙ্গে মিল দেখে ভাই এবায়দুল হককে খবর পাঠান। এরই মধ্যে ফেনী শহর পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ লাশটির সুরতহাল শেষে উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। রাতে এবায়দুল হক জিয়া মহিলা কলেজের ড্রেন এলাকায় পৌঁছে আশপাশের মানুষকে বোনের ছবি দেখিয়ে লাশটি একই রকম কিনা জিজ্ঞেস করলে সবাই ছবির সঙ্গে মিল রয়েছে বলে জানান।

পরে এবায়দুল হকসহ আত্মীয়-স্বজন ফেনী শহর পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে লাশ উদ্ধারকারী উপপরিদর্শক প্রতুল দাসের সঙ্গে দেখা করে বোন রোকসানার ছবি দেখান। উপস্থিত পারস্পরিক আলোচনায় উপপরিদর্শক প্রতুল দাসকে তারা রোকসানার লাশ শনাক্ত করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ এবায়দুল হকের হাতে বোন রোকসানা আক্তারের লাশ হস্তান্তর করে। ওইদিন বাদ আসর গুণবতী ইউনিয়নের রাজবল্লবপুর মধ্যমপাড়ায় সামিশকরা দীঘির দক্ষিণ পাড়ে তার লাশ দাফন করা হয়।

লাশ দাফনের ৯ দিন পর গত ২৬ জুন বুধবার বিকেলে ঘটে বিপত্তি। হঠাৎ দাফন করা রোকসানা সশরীরে বাড়িতে হাজির হলে আৎকে উঠেন সবাই। তাৎক্ষণিক ঘটনাটি জানাজানি হলে বাড়ির উঠানে আশেপাশের উৎসুক মানুষ তাকে একনজর দেখতে ভিড় জমায়। এ সময় নারী-পুরুষ তাকে একবাক্যে জিজ্ঞেস করে, রোকসান তোমাকে দাফন করলাম, তুমি কোথায় থেকে আসলে? তখন সে বলতে থাকে, কে বলছে আমি মারা গেছি? আমি ঢাকায় ঘুরতে গেছিলাম। শরীর খারাপ থাকায় কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। উল্টো এখন রোকসানাই ভাই এবায়দুল হক ও সাধারণ মানুষকে প্রশ্ন করছে, আমাকে ভেবে তোমরা কোন নারীকে দাফন করেছ, কি তার পরিচয়?

ফিরে আসা রোকসানা আক্তার বলেন, আমি চট্টগ্রামে ভাইয়ের বাসা থেকে কাউকে কিছু না বলে ঢাকায় চলে যাই। সেখানে গিয়ে আমি একটি চাকরি পেয়েছি। যেহেতু আমি বাড়ি থেকে কোনো কাপড় নিয়ে যাইনি, তাই কাপড় নিয়ে যাওয়ার জন্য বাড়িতে ফিরে আসি। ২৬ জুন বুধবার বাড়িতে এসে দরজা নক করলে আত্মীয়-স্বজনরা আমাকে দেখে হতবাক হয়েছেন। তখন আমি জানতে পারি, আমি নাকি মারা গেছি এবং আমার লাশও দাফন করা হয়ে গেছে। আমিতো জীবিত ফিরে আসলাম।

ফেনী শহর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক প্রতুল দাস শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, উদ্ধার করা লাশটি বিকৃত ছিল। এবায়দুল হক ও তার স্বজনরা উদ্ধারকৃত লাশটি রোকসানার বলে শনাক্ত করে আমার কাছ থেকে নিয়ে যায়। এখন যেহেতু তাদের বোন সশরীরে বাড়িতে উপস্থিত হয়েছে, তাই আমরা বিষয়টি নতুন করে তদন্ত করব।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ত্রিনাথ সাহা শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, তরুণী নিখোঁজ, উদ্ধার, দাফন ও আবার ফিরে আসার বিষয়ে কেউ আমাকে অবগত করেনি। খবর নিয়ে দেখব-আসলে কি ঘটেছে।


আরও খবর



পরীমণির মাদক মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাল

প্রকাশিত:সোমবার ০১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০১ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিনোদন ডেস্ক

Image

রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলায় চলচ্চিত্র নায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পিছিয়ে আগামী ২৮ জুলাই ধার্য করেছেন আদালত।

সোমবার (১ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের আদালতে মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ছিল। তবে পরীমণির আইনজীবী আদালতকে জানান, আপীল বিভাগ থেকে মামলাটির ওপর স্থগিতাদেশ বিষয়ে শুনানি শেষ হয়েছে। স্থগিতাদেশ বিষয়ে সার্টিফাইড কপি না পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানোর আবেদন করেন এই আইনজীবী। আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২৮ জুলাই পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।

এদিন পরীমণির পক্ষে তার আইনজীবী হাজিরা দেন। পরীমণির ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম দিপু ও খালু কবীর হাওলাদার আদালতে এসে হাজিরা দেন।

এর আগে গত বছরের ৯ জানুয়ারি পরীমণির মাদক মামলার কার্যক্রম ছয় মাস স্থগিত থাকবে বলে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচাপতি মো. নুরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ আদেশ দেন।

২০২১ সালের ৪ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বনানীর ১২ নম্বর সড়কে পরীমণির বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় ওই বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে কয়েক দফা রিমান্ডে নেয়া হয়। ৩১ আগস্ট জামিন পান পরীমণি। পরদিন তিনি কারামুক্ত হন।

এদিকে ২০২১ সালের ৪ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক কাজী গোলাম মোস্তফা পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেন। ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি পরীমণিসহ তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।


আরও খবর