আজঃ বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

আমদানিতেও ভোক্তার জন্য সুসংবাদ নেই আলু-পেঁয়াজে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৯ নভেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৯ নভেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

প্রতিকেজি আলু এখনো ৫০-৬০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে ভোক্তাকে। পাশাপাশি পেঁয়াজের দাম গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা। যদিও ৫৫ দিন আগে (১৪ সেপ্টেম্বর) সরকার কেজিপ্রতি আলু ও পেঁয়াজের দাম বেঁধে দিয়েছিল সর্বোচ্চ ৩৫-৩৬ ও ৬৪-৬৫ টাকা। সরকারের সিদ্ধান্ত কাগজে-কলমেই থেকে গেছে। বাড়তি দরে এসব নিত্যপণ্য কিনতে হচ্ছে এখনো ক্রেতাকে। এরই মধ্যে আলু আমদানি শুরু হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছিল, হয়তো এরপর বাজার সহনীয় হবে। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। অন্যদিকে আগ থেকেই পেঁয়াজ আমদানি হলেও তারও কোনো প্রভাব নেই বাজারে। তবে রাজধানীর খুচরা বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। রাজধানীর একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা ও বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছরের জুন থেকেই আলুর বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। আগস্টের শেষে প্রতিকেজি আলু ৪০ টাকা বিক্রি হলেও সেপ্টেম্বরে ৪৫ টাকায় ঠেকে। আলুর দাম ৩৫-৩৬ টাকা বেঁধে দেওয়ার প্রভাব বাজারে পড়েনি আজও। অক্টোবর মাসের শেষদিকে আলুর কেজি ৬০-৬৫ টাকায় ওঠে। কোথাও আবার ৭০ টাকাও ক্রেতাকে কিনতে হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ৩০ অক্টোবর আলু আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ৪ দিন ধরে দেশের বাজারে আমদানি করা আলু বিক্রি হচ্ছে। এতে দাম যৎসামান্য কমলেও সরকার নির্ধারিত দামে আলু পাওয়া যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত দরের চেয়ে বাজারে ক্রেতার ১৫-২৪ টাকা বেশি খরচ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে চলতি বছরের মার্চে পেঁয়াজের কেজি ছিল ৩০ টাকা। মে মাসে বেড়ে দাঁড়ায় ৫৫ টাকা।

পরিস্থিতি এমন যে, এই পেঁয়াজই ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে ১০০-১১০ টাকা দরে বিক্রি করে। মূল্য কারসাজি রোধে ১৪ সেপ্টেম্বর কিছুটা মূল্য কমিয়ে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ৬৪-৬৫ টাকা নির্ধারণ করার পরও সে সময় বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ১০০ টাকায় বিক্রি হয়। পরে দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ ও দাম সহনীয় রাখতে রপ্তানিতে প্রতি টন ৮০০ ডলার মূল্য বেঁধে দেয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। তবে আমদানি মূল্য ঘোষণার পরপরই ফের দেশে কারসাজি করে বাড়ানো হয় দাম।

বৃহস্পতিবার খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১৪০-১৫০ টাকায়। আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১২০ টাকায়। ফলে সরকারের নির্ধারিত দামের তুলনায় ক্রেতাকে প্রতিকেজি পেঁয়াজ কিনতে সর্বোচ্চ ৮৫ টাকা বেশি গচ্চা দিতে হচ্ছে।

বাজার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনের সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, দেশে আমদানি করা আলু আসতে শুরু করেছে। তবে এখনো সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না। পাশাপাশি পেঁয়াজের দাম বাড়তি। তবে ভারত যেদিন প্রতিটন পেঁয়াজের আমদানি মূল্য ৮০০ ডলার নির্ধারণ করে, সেদিনই দেশে কীভাবে হুহু করে দাম বেড়ে যায়? এ বিষয়ে তদারকি সংস্থার জোরালো ভূমিকা পালন করা দরকার ছিল। সেটা না করায় ক্রেতারা পণ্য কিনে ঠকছেন।

রাজধানীর মালিবাগ কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. ইকরামুল হক আক্ষেপ নিয়ে বলেন, বাজারে এক প্রকার নৈরাজ্য চলছে। বিক্রেতারা পণ্যের সরবরাহ কমার অজুহাতে যে যার মতো পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। আবার সরবরাহ বেড়েছে বলে দাম কমাচ্ছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বাজারে সরবরাহ সব সময় পর্যাপ্ত থাকে। বিক্রেতারা আমদানিকারক বা উৎপাদনে জড়িতদের কারসাজি করে দাম বাড়ায়। একটি নির্ধারিত সময় দাম বাড়িয়ে ক্রেতার পকেট থেকে হাজারো কোটি টাকা অবৈধভাবে নিয়ে নেয়।

এদিকে রাজধানীর খুচরা বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা কমেছে। এতে ক্রেতাসাধারণের কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরলেও রাজধানীর একেক বাজারে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর কাওরান বাজারের খুচরা পর্যায়ে প্রতিপিস ফুলকপি ও কাঁধাকপি ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে রাজধানীর নয়াবাজার ও রায়সাহেব কাঁচাবাজারে বিক্রি হয়েছে ৫০-৬০ টাকা। যা ৭ দিন আগে ৬০-৭০ টাকা ছিল। তবে রামপুরা খুচরা বাজারে প্রতিপিস ফুলকপি ও বাঁধাকপি আকারভেদে ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

রাজধানীর কাওরান বাজারে প্রতিকেজি বেগুন ৭০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা সাত দিন আগে বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকায়। তবে রামপুরা বাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজারে ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি নয়াবাজারে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। যা ৭ দিন অগেও ১২০ টাকা ছিল। তবে মালিবাগ ও রামপুরা বাজারে এই শিম বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকা।

রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিকেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়। পাশাপাশি ধুন্দুল, ঝিঙে ও কচুমুখির কেজি একই টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা সাত দিন আগে ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া প্রতিকেজি মুলা ৫০ টাকা ও পেঁপের কেজি ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৫০-২০০ টাকা, যা সাত দিন আগেও ২০০-২৫০ টাকা ছিল। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি টমেটো, গাজর ও বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা।

নিউজ ট্যাগ: আলু-পেঁয়াজ

আরও খবর



আরও ৯ মামলায় গ্রেপ্তার মির্জা আব্বাস

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

নাশকতার অভিযোগে পল্টন ও রমনা থানার আলাদা নয়টি মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখান। তার আইনজীবী মহিউদ্দিন চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ দিন কারাগার থেকে মির্জা আব্বাসকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালত পল্টন থানার পাঁচ মামলায় এবং ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুলতান সোহাগ উদ্দিনের আদালত রমনা মডেল থানার চার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এসব মামলায় তার জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে, গত ২৪ জানুয়ারি তার আইনজীবী মহি উদ্দিন চৌধুরী মির্জা আব্বাসের গ্রেপ্তার ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। এরপর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম চৌধুরীর আদালত এ বিষয়ে শুনানির জন্য ১ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।


আরও খবর



আরও দুই মামলায় মির্জা আব্বাসের জামিন

প্রকাশিত:সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার মামলা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় জামিন পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এছাড়া রেলে নাশকতার একটি মামলায় তার জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুলতান সোহাগ উদ্দিনের আদালত প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার মামলায় ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় মির্জা আব্বাসের জামিন আদেশ দেন।

অন্যদিকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক মঞ্জুরুল ইমাম তার জামিন মঞ্জুর করেন।

গত বছরের ৩১ অক্টোবর রাতে নাশকতার এক মামলায় ঢাকার শহীদবাগ থেকে মির্জা আব্বাসকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।


আরও খবর



ভারতের সঙ্গে রুপিতে বাণিজ্য চুক্তি : খালিদ মাহমুদ

প্রকাশিত:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রাজশাহী প্রতিনিধি

Image

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে। আমরা ভারতীয় মুদ্রায় ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারব। এতে করে দেশের রিজার্ভের উপর চাপ কমবে।

সুলতানগঞ্জ-মায়া নৌরুটের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই তথ্য জানান।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জে অবস্থিত পদ্মার তীরে এই নৌবন্দরের উদ্বোধন করা হয়।

এই নৌবন্দরে ভারতীয় রুপিতে ব্যবসার ভালো প্রতিফলন পড়বে বলে প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

বিআইডব্লিউটিএর তথ্যমতে, ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে প্রতি টন পাথর আনতে খরচ পড়ে ১৩ মার্কিন ডলার। সমুদ্র পখে এই খরচ ২০ ডলার। সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি করতে খরচ পড়বে মাত্র ৯ থেকে ১০ ডলার। এছাড়া বাংলাদেশের কার্গো বা জাহাজে পাথর আনা যাবে। বিল দেওয়া যাবে আন্তঃদেশীয় মুদ্রায়। ফলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। সৃষ্টি হবে বহু কর্মসংস্থান।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মায়া বন্দর থেকে নৌপথে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরের দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার। সুলতানগঞ্জ থেকে রাজশাহীর দূরত্ব ৩৬ কিলোমিটার। রাজশাহীর সঙ্গে পাবনা, সিরাগঞ্জ, বগুড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, খুলনা ও যশোর এমনকি ঢাকার সাথে সড়কপথে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। ফলে দেশের স্থলবন্দর বা সমুদ্রবন্দরের চেয়ে অনেক সাশ্রয় হবে সুলতানগঞ্জ-মায়া নৌপথ।

বাংলাদেশে মোট পাঁচটি আন্তর্জাতিক নৌপথ চালু আছে জানিয়ে বিআইডব্লিউটিএর বৈদেশিক পরিবহন শাখার উপপরিচালক শর্মিলা খানম গতকাল বলেন, এগুলোর মধ্যে সুলতাগঞ্জ থেকে মায়া বন্দরটি সবচাইলে স্বল্প দূরত্বের। নদীর নব্য বৃদ্ধি করতে পারলে এই রুট আরিচা পর্যন্ত দীর্ঘ হবে, যা অনুমোদন হয়ে আছে।


আরও খবর



দেশে প্রথমবার কোকেন উদ্ধার করল এপিবিএন'র ডগ স্কোয়াড

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৬ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৬ জানুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রাজধানীর উত্তরা এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে তল্লাশি চালিয়ে ২০০ গ্রাম কোকেনসহ এক বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ডগ স্কোয়াড এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের যৌথ অভিযানে ওই বিদেশিকে গ্রেফতার করা হয়।

এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ এবং ডিএনসির একটি যৌথ আভিযানিক দল উত্তরার হোটেল এফোর্ড ইন এ অভিযান চালায়। এ সময় তাদের সঙ্গে এয়ারপোর্ট এপিবিএনের ডগ স্কোয়াডও অংশ নেয়। হোটেলটির দোতলায় ১০২ নম্বর রুমে গেস্ট হিসেবে ছিলেন তানজানিয়ার নাগরিক মোহাম্মদ আলী (৫৫)। আভিযানিক দল প্রথমেই তাকে আটক করে। এরপর তাকে মাদকের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় সাথে থাকা এপিবিএন ডগ স্কোয়াডের সহায়তায় মোহাম্মদ আলীর কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। এক পর্যায়ে অলি মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে থাকা কালো একটি ব্যাগে মাদক রয়েছে বলে তার হ্যান্ডলারকে সতর্ক করে। পরবর্তীতে ম্যানুয়ালি ব্যাগটি সার্চ করলে তার ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ২০০ গ্রাম কোকেন উদ্ধার করা হয়। যার আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা।

গত ২০ জানুয়ারি মোহাম্মদ আলী তানজিনিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা-দোহা হয়ে ঢাকায় আসেন এবং হোটেল এফোর্ড ইনের ১০২ নম্বর রুমে ওঠেন।

জিয়াউল হক বলেন, ২০১৭ সালে এপিবিএনের ডগ স্কোয়াড হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন শুরু করে। শুরুতে আটটি ডগ দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে ২২টি ডগ রয়েছে। এসকল ডগ বিস্ফোরক এবং মাদক উদ্ধারে পারদর্শী। আজকের অভিযানে ডগ অলি এবং তার হ্যান্ডলার সুনেত্রার সহযোগিতায় মাদকের ব্যাগটি শনাক্ত করা হয়। এটি দেশের ইতিহাসে প্রথম ডগের সহায়তায় কোকেন উদ্ধার।

গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বুধবারও এয়ারপোর্ট এপিবিএন এবং ডিএনসির যৌথ অভিযানে মালাউয়ির এক নারীকে ৮ কেজি ৩০০ গ্রাম কোকেনসহ গ্রেফতার করা হয়। দুই দিনে পৃথক অভিযানে সাড়ে ৮ কেজি কোকেন উদ্ধারের ঘটনা ঘটলো।


আরও খবর



মসিক মেয়র হিসেবে ইকরামুল হক টিটুকে দেখতে চায় নগরবাসী

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

Image

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) নির্বাচন আগামী ৯ মার্চ। এই তারিখ ঘোষণার পর থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যেই প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। শহরে বিভিন্ন স্থানে পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনসহ অনেকেই গণসংযোগ চলছে। আসন্ন এই নির্বাচনে নগরের উন্নয়নে আবারও মেয়র হওয়ার সুযোগ চেয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু।

২০১৮ সালে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র হয়েছিলেন মো. ইকরামুল হক টিটু। তবে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে তাকে।

ইকরামুল হক টিটু পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন মিলে টানা ১৫ বছর ধরে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। এক্ষেত্রে নগরের উন্নয়নের পাশাপাশি সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে সখ্য, বিনয়ী মনোভাব, সবার ডাকে ছুটে যাওয়া, বিপদে পাশে থাকা- এসব নানা গুণাবলীর কারণে মেয়র টিটুর রয়েছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা। আর আলোচনায় থাকা অন্য প্রার্থীরা এবারই প্রথম নামছেন ভোটের মাঠে।

জনবল সংকট, অপ্রতুল রাজস্ব এবং মোট আয়তনের ৭০ ভাগ উন্নয়নে পশ্চাতপদ এলাকার নিয়ে যাত্রা শুরু, করোনার এবং রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমকে সন্তোজনক লক্ষ্য অর্জনে একটি আন্তরিক প্রচেষ্টা বলেই মনে করছে নগরবাসী। তরুণ ও অভিজ্ঞ মেয়র টিটুর আন্তরিকতা, জনসংশ্লিষ্টতা এবং নেতৃত্বকে এর কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মেয়র তার দায়িত্ব নেওয়ার পরই সিটির সড়ক ড্রেনের উন্নয়নে ১ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব প্রেরণ করেন যা এখন সিটির উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ চলছে। এতে তৈরি হচ্ছে ১১৭ কিলোমিটার বিসি রোড, ২৩৯ কিলোমিটার আরসিসি রোড, ১.৬১ কিলোমিটার সিসি রোড, ২৩৮ কিলোমিটার ড্রেন ১১.৩৭ কিলোমিটার পাইপ ড্রেন।

এছাড়াও তৈরি করা হচ্ছে কালভার্টসহ অন্যান্য অবকাঠামো। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশন অন্যন্য প্রকল্প থেকে ৯২ কিলোমিটার নতুন রাস্তা এবং ৪৫ কিলোমিটার ড্রেনের কাজ সম্পন্ন করেছে। শহরের জলাবদ্ধতা সমস্যারও উন্নতি ঘটিয়েছে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন। একসময় যখন একটু বৃষ্টিতেই শহরে পানি জমে যেত সেখানে আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপ ড্রেনের মাধ্যমে ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক শহরকে যুক্ত করার ফলে শহরের জলাবদ্ধতার অনেকাংশে নিরসন হয়েছে। মিন্টু কলেজ থেকে বিপিন পার্ক স্টেশন রোড থেকে থানাঘাট পর্যন্ত আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপ ড্রেন নির্মাণ, কাশবন আবাসিক এলাকার ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক নির্মাণ, নাটককঘর লেন থেকে ডিবি রোড হয়ে সেহড়াখাল পর্যন্ত আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপড্রেন ইত্যাদি নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়া বর্তমানে চলমান শহরের ভেতরে নতুন বাজার রেল ক্রসিং থেকে ব্যাটবল চত্বর পর্যন্ত আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপ ড্রেনের কাজ একটি ভালো উদ্যোগ বলে মনে করছে নগরবাসী। এতে করে শহরের খালগুলো থেকে পানি বের হওয়াটা আরও সহজতর হবে, যা সামগ্রিক জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাবে। এছাড়া গত বছর জুলাই থেকে সিটি কর্পোরেশনে উদ্যোগে প্রায় ১৫ কিলোমিটার খালের দখল উচ্ছেদ সম্পন্ন হয়েছে। ময়মনসিংহ শহরকে একসময় যারা আবর্জনার শহর হিসেবে দেখেছেন তাদের দৃষ্টিতে ময়মনসিংহের পরিবর্তনটা ধরা পড়বে। বিলুপ্ত পৌরসভার জনবল নিয়েও প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মে.টন বর্জ্যের ব্যবস্থাপনা করছে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন। চলছে রাত্রীকালীন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।

এছাড়া, বাসা-বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহে ক্লিনসিটি নামক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করে বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রিজম ফাউন্ডেশন লি. এর সহযোগিতায় নির্মাণ করা হচ্ছে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। এছাড়াও, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্পটিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শহর আলোকিতকরণেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখাতে সক্ষম হয়েছে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রায় ১৭১ কিলোমিটার সড়কে পোলসহ আধুনিক এলইডি বাতি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

গত কয়েকমাসে এসব সড়কবাতির উদ্বোধন করেছেন মেয়র। নগর উন্নয়নে আরও অধিক অগ্রগতি সম্ভব ছিলো বলে মনে করেন সিটি কর্পোরেশন মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু। তিনি জানান, করোনার অভিঘাত এবং রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকট সৃষ্টি না হলে নগর উন্নয়নে আরও কাজ করা সম্ভব হত।

করোনা পরিস্থিতিতে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু ঝুঁকি নিয়ে যেভাবে করোনা মোকাবেলা, মানুষকে নিরাপদে রাখা এবং মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে যে কাজ করেছেন তা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

এছাড়া ২০২২ সালে স্থাপন করা হয়েছে একটি নগর মাতৃসদন এবং তিনটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। এসব কেন্দ্র থেকে মা, শিশু সহ সাধারণ জনগণ কম খরচ বা বিনা মূ্ল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন। মশক নিধনে হটস্পট চিহ্নিতকরণ এবং নিয়মিত ক্রাশ প্রোগ্রামের ফলে সিটিতে এখনও স্থানীয়ভাবে এডিস মশার কামড়ে আক্রান্ত ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, ভিটামিন এ প্ল্যাস ক্যাম্পেইন, ইপিআই কার্যক্রম, কৃমি নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদিতেও মসিকের রয়েছে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সফলতা।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে মসিকের প্রচেষ্টাও ছিল চোখে পড়ার মতো। ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১১৯২ জনকে বিউটি পার্লার, কম্পিউটার, ড্রাইভিং, মোবাইল সার্ভিসিং ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ, ২৫৭৬ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা বৃত্তি, ১৪৭৬ জনকে পুষ্টি সহায়তা, ৩১২ জন কিশোরীকে স্বাস্থ্য-পুষ্টি পরামর্শ ও পুষ্টি উপকরণ প্রদান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নলকূপ, রোড লাইট, ড্রেন, টয়লেট, সেপটিক ট্যাংক ইত্যাদি নির্মাণের মাধ্যমে সহযোগিতা প্রদান করেছে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন।

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু শম্ভুগঞ্জ ব্রিজের কাছে স্থাপন করেছেন জয়বাংলা চত্বর। চত্বরটি মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর স্মরণে এক অনন্য স্থাপত্যে পরিণত হয়েছে। এছাড়া, টাউনহলে স্থাপন করেছেন বঙ্গবন্ধু গ্যালারি। এখানেও প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী বঙ্গবন্ধু দুর্লভ ছবি, ডকুমেন্টারি, বানী ইত্যাদি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু বলেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা আর নগরের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে মহাপরিকল্পনা তৈরি করে উন্নয়নের চেষ্টা করেছি। সিটির উন্নয়নে ১৫৭৫ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৩০০ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যানজট নিরসন, সড়ক প্রশস্তকরণ, বর্জ্য ব্যস্থাপনা, বাস ট্রাক স্ট্যান্ড নির্মাণ, শিশু পার্ক নির্মাণ ইত্যাদি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরকে আধুনিক এবং জনবান্ধব করে তুলতে নগরবাসী আবারও আমাকে সুযোগ দেবে বলে আমি মনে করি।


আরও খবর