আজঃ সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

৩৭ ব্যক্তির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা বিধিনিষেধ

প্রকাশিত:শনিবার ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:শনিবার ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ১৩টি দেশের মোট ৩৭ জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এর মধ্যে ২০ জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের সর্বজনীন ঘোষণার ৭৫ বছর পূর্তি সামনে রেখে স্থানীয় সময় শুক্রবার এ ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্মিলিতভাবে এসব ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। যেসব দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো আফগানিস্তান, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, কঙ্গো, হাইতি, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, লাইবেরিয়া, চীন, রাশিয়া, দক্ষিণ সুদান ও সুদান, সিরিয়া, উগান্ডা ও জিম্বাবুয়ে।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের দুজন আফগানিস্তান সরকারের মন্ত্রী। বলা হয়েছে, তাঁরা দেশটিতে মেয়েদের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ বন্ধ করার মাধ্যমে নারী নিপীড়নে জড়িত রয়েছেন। ইরানের দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন বলছে, তাঁরা দেশের বাইরে ইরানের সরকারবিরোধীদের ওপর সহিংসতার পরিকল্পনা করেছিলেন। চীনের জিনজিয়ানে উইঘুর মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনের ঘটনায় দেশটির দুই কর্মকর্তাও এসেছেন নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায়।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের সম্পদ ভোগদখল করতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যাংকে থাকা অর্থ তুলতে পারবেন না। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞা পাওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সঙ্গে কোনো ব্যবসা ও লেনদেন করতে পারবে না।

নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং মার্কিন অর্থব্যবস্থাকে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের থেকে নিরাপদ রাখার প্রতিশ্রুতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্র কতটা অঙ্গীকারবদ্ধ, তা এই নিষেধাজ্ঞায় প্রতিফলিত হয়েছে।

১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মানবাধিকারবিষয়ক সর্বজনীন ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই ঘোষণায় সবার জন্য মানবাধিকার ও স্বাধীনতার একটি মানদণ্ড তুলে ধরা হয়।


আরও খবর



লাগাম নেই সবজির বাজারে, ফের ঊর্ধ্বমুখী মাছ-ডিমের দাম

প্রকাশিত:শুক্রবার ০২ ফেব্রুয়ারী 2০২4 | হালনাগাদ:শুক্রবার ০২ ফেব্রুয়ারী 2০২4 | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

দীর্ঘদিন ধরেই নিত্যপণ্য, কাঁচাবাজার, মাছ-মাংস, এমনকি মসলাজাত পণ্যের দামে হাঁসফাঁস অবস্থা সাধারণ মানুষের। বিভিন্ন পণ্যের দাম বিভিন্ন সময়ে কিছুটা ওঠানামা করলেও বাজার ছুটছে ঊর্ধ্বমুখী। এখনও ভরা মৌসুমে লাগামহীন দামে বিক্রি হচ্ছে শীতকালীন সবজি।

শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতকালীন প্রতিটি সবজি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। তবে নতুন আলুর ৫০ টাকা করে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। বাজারে নতুন দেশি পেঁয়াজ ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পুরাতন দেশি পেঁয়াজ ১২০ টাকা এবং ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোয় প্রতি কেজি মুলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, শিম ৭০ থেকে ৯০ টাকা, ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বাঁধা কপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পাকা টমেটো প্রকারভেদে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৫০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ টাকা এবং গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শুক্রবার এসব বাজারে বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকায়, খিরা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শশা ৭০ টাকা, প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকা, লেবুর হালি ২০ থেকে ৪০ টাকা, ধনে পাতা কেজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়, জালি কুমড়া ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁয়াজের ফুলকলি ৬০ টাকা ও কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে।

এছাড়া বাজারগুলোয় লালশাক ১৫ টাকা আঁটি, লাউ শাক ৪০ টাকা, মুলা শাক ১৫ থেকে ২০ টাকা, পালং শাক ১৫ টাকা, কলমি শাক ১০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

চলতি সপ্তাহে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বয়লার মুরগি, যা গত সপ্তাহে একই দামে বিক্রি হয়েছে। এসব বাজারে সোনালি, সোনালি হাইব্রিড মুরগির দাম কিছুটা কমেছে।

পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানে এখন প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে। একটি ডিম ১৩ টাকা দরেও বিক্রি হতে দেখা গেছে। সে হিসাবে ডজন পড়ছে ১৫৬ টাকা। তবে বড় বাজারে ডিমের ডজন ১৪০-১৪৫ টাকায় মিলছে।

বাজারে গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোয় এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২০০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ৮০ টাকায়। 

শুক্রবার এসব বাজারে সপ্তাহ ব্যবধানে মাছের দাম বেড়েছে। বাজারগুলোয় ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা, এক কেজি চাষের শিং মাছ (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকায়, প্রতি কেজি রুই মাছ দাম বেড়ে (আকারভেদে) হয়েছে ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মাগুর মাছ ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, পাঙ্গাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়, বোয়ালমাছ প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৯০০ টাকায়, কাতল ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, পোয়া মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ টাকায়, কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১ হাজার ৬০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৬০০ টাকায়, পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকায়, রূপচাঁদা ১ হাজার ২০০ টাকা, বাইম মাছ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, দেশি কই ১ হাজার টাকা, মেনি মাছ ৭০০ টাকা, শোল মাছ ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা, আড়ই মাছ ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং কাইকলা মাছ ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।


আরও খবর
২৪ দিনে প্রবাসী আয় ১৮ হাজার কোটি টাকা

রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




রাজধানীতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত:শুক্রবার ০২ ফেব্রুয়ারী 2০২4 | হালনাগাদ:শুক্রবার ০২ ফেব্রুয়ারী 2০২4 | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

রাজধানীর রামপুরায় গাজী নাজিউর রহমান নাদিম (২৩) নামে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রামপুরার বনশ্রী তিতাস রোডের ব্যাংক কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নাজিউর রহমান ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসনের (বিবিএ) শিক্ষার্থী ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া। তিনি বলেন, মরদেহটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।

তিনি জানান, রাতে তাকে বাসা থেকে তার বাবা-ভাই অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সোয়া ৯টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, নিজ রুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় মাফলার পেঁচিয়ে ফাঁস দেয় নাজিউর। পরে পরিবারের লোকজন দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে কী কারণে গলায় ফাঁস দিয়েছেন, সে বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি।


আরও খবর
ছুটির দিনেও ঢাকার বায়ু ‌‘অস্বাস্থ্যকর’

সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




অনুমতি ছাড়া বিদেশ যেতে পারবেন না ড. ইউনূস : হাইকোর্ট

প্রকাশিত:সোমবার ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

হাইকোর্টের অনুমতি ছাড়া বিদেশ যেতে পারবেন না ড. ইউনূস। তাকে বিদেশ যেতে হলে আদালতকে জানাতে হবে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) হাইকোর্ট এ নির্দেশ দেন।

এদিকে ড. ইউনূসের ৬ মাসের সাজা স্থগিত কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।  বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

এর আগে রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাজা স্থগিত করে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে ৬ মাস সাজা স্থগিতের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তর। বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদন করা হয়।

এছাড়া আদালতের অনুমতি ছাড়া যাতে বিদেশ যেতে না পারেন এবং শ্রম আপিল আদালতে ড. ইউনূসের মামলা ৬ মাসে নিষ্পত্তি যেন হয় হাইকোর্টে এমন আবেদনও করা হয়।

গত ২৮ জানুয়ারি শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায় চ্যালেঞ্জ করে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনকে জামিন দেন শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন আদালত। সেদিন শ্রম আদালতের দেয়া সাজাও স্থগিত করেন শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে জামিন চেয়েছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে শ্রম আইন লঙ্ঘন মামলার রায়ে ৬ মাসের সাজার বিরুদ্ধে ২৫টি যুক্তি দেখিয়ে খালাস চেয়ে আপিলও করেছিলেন। ওইদিন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আপিল করেন ড. ইউনূস।


আরও খবর



পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর আজ

প্রকাশিত:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

২৫ ফেব্রুয়ারি দেশের ইতিহাসের এক কালো দিন। ১৫ বছর আগে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় সাবেক বিডিআর ও বর্তমান বিজিবি সদর দপ্তরে ঘটে মর্মান্তিক ও নৃশংস এক হত্যাযজ্ঞ।

এদিন সকালে পিলখানা সদর দপ্তরের দরবার হলে সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে একদল বিদ্রোহী বিডিআর সৈনিক অস্ত্র হাতে ঢুকে পড়ে চলমান বার্ষিক দরবারে। বিদ্রোহী বিডিআর সৈনিকরা তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের বুকে অস্ত্র তাক করে। কিছু বুঝে উঠার আগেই শুরু হয় গোলাগুলি। ঘটে ইতিহাসের ঘৃণ্যতম নারকীয় হত্যাযজ্ঞ।

সেদিন বিদ্রোহী বিডিআর জওয়ানরা ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। প্রতিবছরের মতো এবারও বিডিআর বিদ্রোহের এই দিনে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) পক্ষ থেকে সকালে বিজিবি সদর দপ্তর, বিভিন্ন রিজিয়ন, সেক্টর ও ইউনিটগুলোতে বাদ ফজর পবিত্র কোরআন খতম, বিজিবির সব মসজিদ এবং বিওপিতে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তর, পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনা সদস্যদের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বনানীতে সামরিক কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ হবে।

সেদিন পিলখানায় যা ঘটেছিল: প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা, মামলার তদন্ত ও বিচারের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানার নৃশংস ঘটনাগুলো। সেদিন বিদ্রোহী জওয়ানরা ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকতাদের হত্যা করার পর জিম্মি করেছিল তাদের পরিবারের সদস্যদের। পুরো পিলখানাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছিল ভীতিকর বীভৎস পরিস্থিতি। বিজিবি সদর দপ্তর পিলখানায় সেদিন বিদ্রোহী বিডিআর সৈনিকরা যে নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছিল, পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো বিদ্রোহে এমন ঘটনা ঘটেনি। এমনকি বিশ্বযুদ্ধের সময়ও এক দিনে এত সেনা কর্মকতা নিহত হয়নি।

দেশ-বিদেশে আলোচিত এই পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে উচ্চ আদালত বলেছেন, ওই ঘটনা ছিল রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক-সামাজিক নিরাপত্তায় বিঘ্ন সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র। শুধু তাই নয়, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একটি দক্ষ, প্রশিক্ষিত বাহিনীকে ধ্বংসেরও চেষ্টা। বিডিআর জওয়ানরা দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়াসহ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর প্রত্যক্ষ হুমকির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে যে কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছে, সেই কলঙ্কের চিহ্ন তাদের বহুকাল বহন করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সেদিন সকাল ৯টার পরপরই তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে গোলাগুলির শব্দ শোনা যেতে থাকে। সবাই ভেবেছিল এসব চলমান বিডিআর সপ্তাহের কোনো কর্মসূচির ঘটনা। কিছুক্ষণ পর জানা যায়, বিডিআর জওয়ানরা পিলখার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। শুধু তাই নয়, বিদ্রোহী জওয়ানরা ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করছে। বিদ্রোহের প্রথম দিন দুপুরে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর বেড়িবাঁধের কাছে একটি ম্যানহোলের ‍মুখে দুই সেনা কর্মকর্তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পওয়া যায়। বোঝা যায়, পিলখানার ভেতরে হত্যাকাণ্ড ঘটছে। এতে সারা দেশে শোরগোল পড়ে যায়। চায়ের দোকান থেকে সর্বত্র চলতে থাকে আলোচনা-সমালোচনা।

বিদ্রোহের এই ঘটনার পর সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর প্রধানরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এদিকে পিলখানার চারদিক ঘিরে ভারী অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয় সেনাবাহিনী। এরই মধ্যে পিলখানার পর সারা দেশ থেকে আসতে থাকে বিভিন্ন জেলায় বিডিআর দপ্তরের বিদ্রোহের খবর। বিদ্রোহের মধ্যেই একপর্যায়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনায় বসা হয়। এই আলোচনায় নেতৃত্ব দেন তৎকালীন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, হুইপ মীর্জা আজম ও সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস। পরে ওইদিন বিকেলে বিদ্রোহীরা তাদের দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করে। এরপর রাতে পিলখানার প্রধান ফটকের পাশে একটি রেস্তোরাঁয় আলোচনায় বসেন তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন। পরে গভীর রাতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনসহ কয়েকজন পিলখানার ভেতরে প্রবেশ করেন। তার কাছে অস্ত্র সমর্পণ করে বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা। পরে বিদ্রোহীদের হাতে জিম্মি হওয়া কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বের হয়ে আসেন সাহারা খাতুন।

জানা যায়, বিদ্রোহীদের একটি অংশ আত্মসমর্পণ করলেও পরদিন পর্যন্ত আরেক অংশের হাতে পিলখানার নিয়ন্ত্রণ ছিল। একপর্যায়ে পরদিন সকাল থেকে পিলখানা থেকে বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা পলিয়ে যাওয়া শুরু করে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পিলখানার নিয়ন্ত্রণ নেয়। ৩০-৩৪ ঘণ্টার তাণ্ডবের পর বিদ্রোহ শেষ হলেও পিলখানায় তখন একের পর এক আবিষ্কার হতে থাকে গণকবর। এতে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি।

বিদ্রোহী জওয়ানরা ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করে গণকবর দিয়ে রাখে। এই গণকবর থেকে উদ্ধার করা হয় তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ ও তার স্ত্রীসহ অর্ধশতাধিক সেনা কর্মকর্তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ। রক্তাক্ত সেই বিদ্রোহের পর দেশের সীমান্ত রক্ষাকারী এই বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) করা হয়। পরিবর্তন করা হয় তাদের পোশাকও।


আরও খবর



মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীদের হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
কক্সবাজার প্রতিনিধি

Image

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে বাংলাদেশে ঢুকে পড়া দেশটির সেনা, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য (বিজিপি), শুল্ক কর্মকর্তাসহ ৩৩০ জনকে ফেরত পাঠানো প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত থেকে বিজিবির কড়া পাহারায় কক্সবাজারের ইনানী নৌবাহিনীর জেটিঘাটে তাদের নিয়ে আসা হয়।

বিজিবির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিজিবির সার্বিক তত্ত্বাবধানে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে মিয়ানমারের নৌবাহিনীর একটি জাহাজ বাংলাদেশের সীমানায় এসে গভীর সাগরে অবস্থান নেয়। ইনানী জেটিঘাট থেকে পালিয়ে আসা বিজিপি সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ওই জাহাজে নিয়ে গিয়ে হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তের ওপারে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির সংঘর্ষ শুরু হয়। যুদ্ধের মধ্যে বিদ্রোহীরা বিজিপির কয়েকটি সীমান্ত ফাঁড়ি দখল করে নিলে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করে। এ সময় তাদের নিরস্ত্র করে বিজিবি হেফাজতে রাখা হয় ঘুমধুমের একটি স্কুলে। পরে তাদের মধ্যে ১০০ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয় টেকনাফে।

এর মধ্যেই বাংলাদেশের তরফ থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয় দেশটি।


আরও খবর
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে কয়েদির মৃত্যু

সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪