আজঃ শুক্রবার ২৪ মার্চ ২০২৩
শিরোনাম

১২০ জন কনেযাত্রীকে নেকড়ের আক্রমণ : বেঁচে ফিরলেন দুইজন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২১ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২১ জুলাই ২০২২ | ৮৯০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক


Image

১৯১১ সাল। পুরুষ, মহিলা এবং শিশু মিলিয়ে ১২০ জনের একটি দল রাশিয়ার তাসখন্দের (তখন তাসখন্দ রাশিয়ার দখলে ছিল, তবে বর্তমানে উজবেকিস্তানে) ওবস্টিপফের কাছে একটি গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের এমন পরিহাস যে, তাঁদের মধ্যে দুজন ছাড়া কেউই আর জীবন নিয়ে ফিরে আসতে পারেননি। কী এমন ঘটেছিল?

তাসখন্দের ওবস্টিপফের কাছের ওই গ্রামে পাত্র-পাত্রীর বাগ্‌দান অনুষ্ঠানে যোগ দেন আত্মীয়-স্বজনেরা। খানাপিনার পাশাপাশি গানবাজনার মাধ্যমেও উল্লাসে মাতেন সবাই। বাগ্‌দান অনুষ্ঠানের পর প্রায় ৩২ কিলোমিটার ঘোড়ায় চড়ে তাসখন্দের উদ্দেশে রওনা দেন ১২০ জন কনেযাত্রী। বিয়ের মূল অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল সেখানেই।

সেন্ট পিটার্সবার্গের দীর্ঘ বরফের মরুভূমি জুড়ে গান গাইতে গাইতে এবং আমোদ করতে করতে এগোতে থাকে কনেযাত্রীর দল। ঘোড়সওয়ারিদের পাশাপাশি কয়েক জন রওনা দিয়েছিলেন ঘোড়ায় টানা স্লেজ গাড়িতেও।

১২০ জনের কনেযাত্রীর দল পাত্রপক্ষের বাড়িতে পৌঁছনোর অনেক আগেই থমকে যায়। তাদের পথ আটকে দাঁড়ায় কালো কালো ছায়া। কনেযাত্রীরা দেখেন, কালো মেঘের মতো কী যেন একটা তাঁদের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। একই সঙ্গে তাঁরা শুনতে পান মৃদু অথচ তীক্ষ্ণ গর্জনের আওয়াজ।

কিছু ক্ষণের মধ্যেই তাঁরা টের পান তাঁদের দিকে এগিয়ে আসা কালো ছায়াগুলি আর কিছু নয়, অসংখ্য নেকড়ের একটি দল। বুঝতে পারেন তাঁরা অনেক দিন ধরে ক্ষুধার্ত। নেকড়ের দলকে দেখে আতঙ্কিত হয়ে প়ড়েন কনেযাত্রীরা। ভয় পেয়ে যায় ঘো়ড়াগুলিও।

কিছু ক্ষণ স্থির থেকে গর্জন করার পরই কনেযাত্রীদের দিকে তেড়ে আসে ক্ষুধার্ত নেকড়ের দল। ভয় পেয়ে শহরের দিকে ছুটতে থাকেন তাঁরা। দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ঘোড়াগুলিও।

তবে বরফের উপর দিতে ছোটা অত সহজ নয়। পুরু বরফের আস্তরণে পা আটকে পড়েও যান অনেকে। নেকড়ের আক্রমণে মৃত্যু হয় তাঁদের। ছাড় পায়নি ঘোড়ার দলও। কয়েক মিনিটের ব্যবধানেই শিকারদের টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলে নেকড়ের দল।

স্লেজ গাড়ির চালকরা প্রাণ বাঁচাতে এবং গাড়ির ভার হালকা করতে গাড়িগুলিতে থাকা মহিলা এবং শিশুদের বরফের মধ্যেই ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয় পাত্রীকেও।পাত্রীর প্রাণ বাঁচাতে স্লেজ গাড়ি থেকে লাফ দেন পাত্রও। তবে দুজনের কেউই বাঁচতে পারেননি।

অপেক্ষাকৃত হালকা ওজন নিয়ে প্রাণপণে দৌড়াতে থাকে স্লেজগাড়িগুলি। ৩০টি স্লেজ গাড়ির মধ্যে ২৯টি স্লেজ গাড়ির মানুষ এবং ঘোড়াগুলিকে শিকার করে নেকড়ের দল। মাত্র দুজন কনেযাত্রী নিয়ে একটি স্লেজগাড়ি অনেক দূর গিয়ে একটি বাড়ির দেখা পায়। ওই বাড়িতে ঢুকেই জ্ঞান হারান ওই দুই কনেযাত্রী।

১২০ জনের মধ্যে নেকড়ের দলের হাত থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে মাত্র ওই দুজন জীবিত অবস্থায় বাড়ি ফেরেন। এই মৃত্যুর ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম ভয়ঙ্কর এবং মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা হিসাবে জায়গা করে নিয়েছে।

কিন্তু সত্যিই কি এমন ঘটনা ঘটেছিল? পরে এই ঘটনা নিয়ে অনেক অনুসন্ধান করা হয়। প্রমাণ দিয়ে একাংশ দাবি করেছেন, এ রকম কোনও ঘটনা কোনও দিন ঘটেইনি। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনা সত্যি। বহু বছর ধরে তাঁরা এই ঘটনা শুনে আসছেন। তবে সত্যি হোক বা মিথ্যা, ঘটনা নিয়ে রহস্যের সমাধান হয়নি আজও।

নিউজ ট্যাগ: নেকড়ের আক্রমণ

আরও খবর
মৃতদেহ কেটে বানান নেকলেস!

বৃহস্পতিবার ১৩ অক্টোবর ২০২২