আজঃ মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

সৌদি পৌঁছেছেন ৭৬৩২৫ হজযাত্রী, নারীসহ ১২ মৃত্যু

প্রকাশিত:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

চলতি বছর হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৭৬ হাজার ৩২৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। সোমবার (১০ জুন) হজ পোর্টালের সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

সৌদিতে যাওয়া হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার হাজার ২১৭ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার গেছেন ৭১ হাজার ১০৮ জন।

বাংলাদেশ থেকে ১১৯টি ফ্লাইটে এসব হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১০১টি, সৌদি এয়ারলাইনসের ৬৫টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করে।

এদিকে, সৌদি আরবে হজ পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশি মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে পুরুষ ১১ এবং নারী একজন।

এর আগে, গত ৯ মে বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট ৪১৫ জন হজযাত্রী নিয়ে সৌদির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এর মাধ্যমেই চলতি বছরের হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। শেষ হবে ১২ জুন।

উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ২০ জুন এবং শেষ হবে ২২ জুলাই।


আরও খবর
দেশে ফিরলেন ৫৯ হাজার ৩৩০ হাজি

মঙ্গলবার ০৯ জুলাই ২০২৪




যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে এই কিয়ার স্টারমার?

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৫ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

একজন মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী থেকে রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলিতে পরিণত হওয়া ব্যক্তি কীভাবে তার জীবনের লক্ষ্য অর্জনে ‍দুর্দান্ত কাজের মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত হতে পারেন, তার অনন্য উদাহরণ গড়েছেন কিয়ার স্টারমার। যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও শ্রমজীবী শ্রেণির অন্যতম নেতা কিয়ার হার্ডির নামের সঙ্গে মিল রয়েছে ৬১ বছর বয়সী বর্তমান শীর্ষ নেতা কিয়ার স্টারমারের।

নির্বাচনি প্রচারণায় তার বিরোধী পক্ষের অভিযোগ ছিল স্টারমার লন্ডনে বেড়ে ওঠা এক অভিজাত ঘরের সন্তান। তবে স্টারমার এই কথার বিরোধিতা করে প্রায়ই বলতেন, আমার বাবা একজন যন্ত্রকার, আমার মা একজন নার্স।

বিরোধী পক্ষ স্টারমারকে অনুপ্রেরণাহীনসুযোগসন্ধানী হিসেবে আখ্যায়িত করলেও তার সমর্থকদের কাছে তিনি বাস্তববাদী ব্যবস্থাপক হিসেবে বেশি পরিচিত। সমর্থকদের আশা, তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েও ক্লান্তিহীনভাবে তার আইন পেশায় যেভাবে কাজ করেছেন, সেভাবে কাজ করে যাবেন।

কপালের ওপর থেকে নেমে আসা চুলের গোছা ও কালো ফ্রেমের চশমা পরিহিত স্টারমার অনেক সমর্থকদের কাছে বেশ রহস্যময় মানুষ হিসেবেও পরিচিত। রাজনীতি হওয়া উচিত সেবার জন্য-এই কথাটি স্টারমার তার বিভিন্ন নির্বাচনি সমাবেশে বেশি বলে এসেছেন। এ ছাড়া দেশ আগে, পরে দল এই কথাগুলোও সাম্প্রতিক প্রচারণায় বলে এসেছেন তিনি। পাঁচজন আলাদা প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কনজারভেটিভ পার্টির ১৪ বছরের শাসন অবসানে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন তিনিই।

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে অনিচ্ছুক আর্সেনাল ফুটবল ক্লাবের গোড়া সমর্থক স্টারমার রাজনীতিতে আসেন বেশ দেরিতে। নেতা হিসেবে তার বিরক্তিকর ভাবমূর্তিকে আড়াল করতেই তিনি বেশি চেষ্টা করেন। তবে তার স্ত্রী ভিক্টোরিয়া জানান, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বেশ হাসি-খুশি ও বিনয়ী।

ভিক্টোরিয়া একজন পেশাদার থেরাপিস্ট হিসেবে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য বিভাগে কাজ করেন। স্টারমার ও ভিক্টোরিয়া দম্পতির রয়েছে এক ছেলে ও এক মেয়ে, যাদের দুজনই কিশোর-কিশোরী। স্টারমার আগেই জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হলেও তিনি শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার পর কোনো কাজ করবেন না। কেননা, তার এই সময়টা বরাদ্দ থাকে পরিবারকে দেওয়ার জন্য।

স্টারমারের জন্ম ১৯৬২ সালে ২ সেপ্টেম্বর লন্ডনের বাইরে। একজন খুবই অসুস্থ মা ও আবেগের বশবর্তী হয়ে দূরত্ব বজায় রেখে চলা বাবার ঘরে জন্ম নেওয়া স্টারমারের রয়েছে তিন ভাইবোন, যাদের মধ্যে একজনের শ্রবণ সমস্যা ছিল। তার বাবা-মা পশু পছন্দ করতেন। বিশেষ করে, তারা গাধা উদ্ধারের কাজ করতেন। এ ব্যাপারে স্টারমার মজা করে বলতেন, যখনই আমরা কেউ বাড়ি ছাড়তাম, তখন তারা গাধা দিয়ে সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেন।

স্টারমার একজন ভালো সংগীতশিল্পী এবং স্কুল থেকেই তিনি ভায়োলিন বাজাতে পারদর্শী। লিডস ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়া শেষে তিনি বাম রাজনীতিতে ঝুঁকে পড়েন। ২০০৩ সালে তিনি বন্ধু ও সহকর্মীদের হতবাক করে দিয়ে নর্দার্ন আয়ারর‌্যান্ডে পুলিশ যাতে মানবাধিকার মেনে চলে, তা নিশ্চিত করতে একটি চাকরিতে যোগ দেন। পাঁচ বছর পর সে সময়কার লেবার পার্টির প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের আমলে তিনি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রসিকিউশন বিভাগের পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন।

রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ স্টারমারকে নাইট উপাধি দেন। তবে, তিনি স্যার হিসেবে নিজের পরিচয় দিতেন খুব কম সময়েই। ২০১৫ সালে কিয়ার স্টারমার নর্থ লন্ডন থেকে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনে জয়ের কয়েকদিন আগে তার শয্যাশায়ী মা বিরল এক রোগে মারা যান।


আরও খবর



আলুর কেজি ৭০ টাকা স্বাভাবিক মনে করেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত:বুধবার ২৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৬ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রান্নায় ব্যবহৃত বহুল প্রচলিত এই উপকরণটি বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দেশে উৎপাদিত এই পণ্যটির চড়া দাম নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে আসছেন সাধারণ ক্রেতারা। তবে, আলুর এ দামকে স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।

বুধবার (২৬ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত বিএসআরএফ সংলাপে তিনি এ মতামত জানান।

বাজারে আলুর দাম ৭০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ৯০ থেকে ৯৫ টাকা কেজি। এটাকে স্বাভাবিক মনে করেন কি না? সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাজারে আলু-পেঁয়াজ পর্যাপ্ত আছে। এটাকে স্বাভাবিক বলে মনে করি। দামের যৌক্তিকতার বিষয়টি আমার ইয়ে না। আমি দেখব, সেটি বার বার বলার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, যেকোনও প্রাইস নির্ভর করে বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর। আমরা যদি সরবরাহ করতে পারি, তাহলে দাম কমে যাবে। যতক্ষণ পর্যন্ত বাজারে আলু ও পেঁয়াজ কম দামে সরবরাহ না থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাজারে যে মূল্য আছে, সে মূল্যটাকে আমাকে মূল্য হিসেবে দেখতে হবে। আমি চাইলেই কাউকে এমন কোনো আইন করে বলতে পারব না যে, পেঁয়াজের দাম এতো। অন্তত আমি পারব না। সেটি কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বলতে পারবে।

আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, আমার কাছে কৃষি উৎপাদিত পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার মেকানিজম জানা নেই। আমার জানা আছে যদি দাম বেড়ে যায়... তাহলে আমদানি করে কম দামে বাজারে সরবরাহ করলে দাম কমে যাবে।

সাবান ও গুড়া সাবানের দাম নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি না? এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাবান নিয়ে এর আগে কেউ প্রশ্ন করেনি। এটা নিয়ে কোনও কিছু করণীয় আছে কি না সেটি দেখব। আপনার বিষয়টি আমি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। অনেক বিষয় আছে, সেগুলো আমাদের কি না সেটি দেখতে হবে। শিল্পগুলো শিল্প মন্ত্রণালয়ের, তাই সাবানের দাম নির্ধানের এখতিয়ার আমাদের আছে কি না সেটি দেখে আপনাদের জানাব।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ফসিহ উদ্দিন মাহতাব।


আরও খবর



আফগানিস্তানকে উড়িয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

Image

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানকে হারিয়ে প্রথমবার ফাইনালে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। লো-স্কোরিং ম্যাচে মার্কো জানসেন আর তাবরাইজ শামসিদের বোলিং তোপে আফগানিস্তান অলআউট হয়েছে মোটে ৫৬ রানে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৫ রানের মাথায় কুইন্টন ডি কক আউট হলেও তাতে বিপদ বাড়েনি প্রোটিয়াদের। হেসে খেলেই নির্ধারিত লক্ষ্যে গিয়েছে তারা। ৯ উইকেটের এক জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে গেল প্রোটিয়ারা।

ত্রিনিদাদে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ১১.৫ ওভারে মাত্র ৫৬ রানেই অলআউট হয় রশিদ খানের দল। প্রোটিয়াদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি আফগান ব্যাটিং। ইনিংসের প্রথম ওভারেই রহমানউল্লাহ গুরবাজেকে ফেরান মার্কো জানসেন। রিজা হেনড্রিকসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন হার্ডহিটার এই ওপেনার। তিন নম্বরে নামা গুলবাদিন নাইবও বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। সেই জানসেনের বলেই বোল্ড হয়ে যান তিনি।

এরপরেই রাবাদার এক ওভারে ২ উইকেট। প্রথম বলে ইব্রাহিম জাদরান, চতুর্থ বলে নবিকে বোল্ড করেন। পরের ওভারে আবার জানসেনের শিকার। কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন নানগায়াল খারোতি। পাওয়ার প্লে-র মধ্যেই ৫ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। এরপর সর্বোচ্চ ১০ রান করা আজমতউল্লাহকে আউট করেন নরখিয়া।

সপ্তম উইকেটে করিম জানাতকে নিয়ে ১৮ বলে ২২ রানের জুটি গড়েন আফগান অধিনায়ক রশিদ খান। ৮ রান করা করিমকে ১০ম ওভারে তাব্রিজ শামসি তুলে নেন। তার দুই বল পর অধিনায়ক রশিদ খানকেও হারায় আফগানরা শেষ পর্যন্ত সব উইকেট হারিয়ে ৫৬ রান করে আফগানিস্তান। ৩ উইকেট করে নেন মার্কো জানসেন ও তাব্রিজ শামসি। ২টি করে শিকার করেন রাবাদা ও নরকিয়া।

সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে ডি কককে হারালেও বিপদ বাড়তে দেয়নি রিজা হেনড্রিকস ও অধিনায়ক মার্করাম। ১ উইকেট হারিয়ে ৬৭ বল হাতে রেখে জয় তোলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৯ রান করেন হেনড্রিকস ও ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন মার্করাম।

ওয়ানডে টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে সাতবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠলেও প্রতিবারই যন্ত্রণায় পুড়তে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ফাইনালে উঠতে না পারায় চোকার্স তকমাও জুটেছে তাদের। এবার সব চাপা দিলেন মার্করামরা। ৫৭ রান তাড়ায় দ্বিতীয় ওভারে ফজলহক ফারুকির বলে কুইন্টেন ডি কক ফিরেছিলেন বটে তবে তাতে ম্যাচের প্রভাব ছিলো না। এবার বিশ্বকাপে রান না পাওয়া দুই ব্যাটার রেজা হেনড্রিকস ও অধিনায়ক মার্করাম মিলে কাজটা সারেন অনায়াসে।


আরও খবর



আমরা সিজারের সংখ্যা কমিয়ে আনতে চাই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

Image

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, আপনারা যারা গ্রাম পর্যায়ে কাজ করেন তাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ আপনারা মানুষেদের, গর্ভবতী মায়েদের বোঝান তারা যাতে ঠিকমতো চেক আপ করেন। নিয়মিত ও সময়মতো যাতে কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গর্ভবতী মায়েরা যাতে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করায়। আমরা সিজারের সংখ্যা কমিয়ে আনতে চাই। সিজারের সংখ্যা যত কমিয়ে নিয়ে আসতে পারব ততই মঙ্গল।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৪ উদযাপন উপলক্ষে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেনশন হলে আয়োজিত উদ্বোধনী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী একথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে সবার আগে আমি যেটা দেখি সেটা হচ্ছে এএনসি কর্নার। আমি খোঁজ নিয়ে দেখি গর্ভবতী মায়েরা কয়টা করে চেকআপ করছেন, কোথায় ইন্সটিটিউশনাল ডেলিভারি হচ্ছে, কোথায় সিজারিয়ান বেশি হচ্ছে। অনেক জায়গায় বলেন আগে সিজার হয়েছে তাই সিজার করতে হবে। সেটা কোন উত্তর হতে পারে না। আগে কেন হলো সেটার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। আমরা যদি একেবারে মূল কারণ খুঁজে বের করে গোড়া থেকে কাজ করি তাহলে সিজারের সংখ্যা অবশ্যই কমিয়ে নিয়ে আসতে পারব।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আজিজুর রহমান, ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিভাবেন্দ্র সিং রঘুবংশী, পরিবার কল্যাণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আ ন ম আল ফিরোজ প্রমুখ।


আরও খবর
বাড়ছে ডেঙ্গু, শতাধিক নতুন রোগী শনাক্ত

বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪




ইসলাম প্রচারের পর কীভাবে কোরবানির প্রচলন শুরু হয়

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জীবন ধারা ডেস্ক

Image

ইসলামিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মক্কায় প্রতি বছরই কোরবানি দেওয়া হতো। কিন্তু তখন মক্কার বাসিন্দার বিভিন্ন দেবদেবীর নামে সেগুলো কোরবানি দিতেন। ফলে ইসলামের নবী সেই সময় মক্কায় থাকলেও তিনি এই রীতি অনুসরণ করতেন না।

নবুয়ত প্রাপ্তির প্রায় তের বছর পরে মদিনায় হিজরত করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে কোরবানি দেয়ার রীতি চালু হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল সনদ বিভাগের উপ-পরিচালক মাওলানা মোঃ আবু ছালেহ পাটোয়ারী বলেন,ইসলামের অনেক বিধিবিধান রাসুল (সাঃ) মদিনায় আসার পর কার্যকর হয়েছে। কারণ তিনি ইসলাম প্রচার শুরু করার পর মক্কার মানুষের মধ্যে একাত্মবাদ প্রতিষ্ঠা ছিল প্রাথমিক কাজ। আর মদিনায় হিজরত করে আসার পর ইসলামের বিধিবিধান জারি হয়।

হিজরি দ্বিতীয় সনে রোজা এবং ঈদুল ফিতরের প্রবর্তন হয়েছিল। অবশ্য তার আগে থেকেই মদিনার মানুষজন অনেকটা একই আদলে উৎসব এবং রোজা পালন করতেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মোঃ আতাউর রহমান মিয়াজী বলেছেন, হিজরি দ্বিতীয় সনে ঈদের প্রবর্তন করা হয়েছিল।

আনাস নামে নবী মুহাম্মদের একজন সাহাবী বা সাথীর বর্ণনা করা একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া বলছে, মদিনায় যাওয়ার পর নবী দেখলেন যে সেখানকার মানুষ বছরে দুইটি বড় উৎসব পালন করে।

তিনি তখন জানতে চান, সেগুলো কী উৎসব?

এগুলো ছিল নওরোজ এবং মিহিরজান নামে দুটি উৎসব - যেগুলো সেখানকার বাসিন্দাদের ধর্ম এবং গোত্রের রীতি অনুযায়ী একটি শরতে এবং আরেকটি বসন্তকালে উদযাপিত হত।

অধ্যাপক মিয়াজী বলেছেন, তখন ওই দুইটি উৎসবের আদলে মুসলমানদের জন্য বছরে দুইটি ধর্মীয়, সামাজিক এবং জাতীয় উৎসব পালনের রীতি প্রবর্তন করা হয়।

সেই দুই ঈদের একটি হজের সময় পালন করা হতো, যা ঈদুল আজহা নামে পরিচিত। তবে ইসলাম প্রচারের পর ঠিক কবে আর কীভাবে প্রথম কোরবানি দেয়া হয়েছে সেই সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য পাওয়া যায় না।

কোন কোন ইতিহাসবিদ বলেন, মদিনায় আসার পর ইসলামের নবী প্রথম দুইটা দুম্বা নিজ হাতে কোরবানি দিয়েছেন। তখন তিনি বলেছিলেন, একটা আমার নিজের পক্ষ থেকে আরেকটা আমরা উম্মতের পক্ষ থেকে।

মাওলানা মোঃ আবু ছালেহ পাটোয়ারী বলেন, ইসলামের অনেক কিছুই আগের পয়গম্বরদের রীতি মেনে করা হয়েছে। যেমন প্রথম দিকে বায়তুল মোকাদ্দেসের দিকে সিজদা করা হলেও পরবর্তীতে ইব্রাহিম (আঃ) এর আদর্শ অনুযায়ী কাবার দিকে সিজদা করা হয়। কোরবানির ব্যাপারটিও তেমনি এসেছে।

তিনি বলছেন, ইসলামের কোরআন ও হাদিস অনুযায়ী, আদম (আঃ) থেকে কোরবানি শুরু হয়েছে। তবে সুরা কাওসার ও সুরা হজে কোরবানি করার নির্দেশনা পাওয়া যায়। এই সুরা কাওসার নাজিল হয়েছিল হিজরতের আগেই, রাসুল (সাঃ) মক্কায় থাকার সময়। আর সুরা হজ মক্কা ও মদিনায় মিলিয়ে নাজিল হয়েছিল বলে মনে করা হয়।

এই দুইটি সুরাতেই কোরবানি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পাটোয়ারি বলছেন, এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, রাসুল (সাঃ) মক্কায় থাকার সময় থেকেই কোরবানির বিষয়টা এসেছে।

তবে তিনি প্রথম কবে কোরবানি দিয়েছেন, সেই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

মাওলানা মোঃ আবু ছালেহ পাটোয়ারী জানাচ্ছেন, তিরমিজি হাদিসে উল্লেখ আছে, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর বলেছেন, হিজরতের পরে রাসুল (সাঃ) ১০ বছর মদিনায় ছিলেন, ১০ বছরেই কোরবানি করেছেন। আর আনাস ইবনে মালিক বলেছেন, রাসুল (সাঃ) দুইটা শিং ওয়ালা নাদুস-নুদুস দুম্বা জবাই করেছেন আর বলেছেন একটি আমার উম্মতের পক্ষ থেকে একটা আমার পক্ষ থেকে।

আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে, তিনি সবসময়ে দুটা দুম্বা কোরবানি দিতেন, বলেন পাটোয়ারি।

যারা হজ বা ওমরাহ করতে যেতেন, তারা কোরবানির জন্য উট বা দুম্বার মতো পশু সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন। এসব পশুকে বলা হতো হাদি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মোঃ আতাউর রহমান মিয়াজী বলেন, ষষ্ঠ হিজরিতে বা ৬২৮ খৃষ্টাব্দে যখন রাসুল (সাঃ) ওমরাহের উদ্দেশ্যে রওনা হন, তখন হুদাইবিয়ায় বাধা দেয়া হলে তিনি তাবুতে অবস্থান করেন। হুদাইবিয়ার সন্ধি হলে তিনি সেই সময় নিজের ও পরিবারের জন্য উট কোরবানি দেন।

এ সময় তিনি ৬৩টি উট কোরবানি দেন বলে জানা যায়। সেই সময় ইসলামের বিধিবিধানে উট, মহিষ, গরু, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা কোরবানি দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে মাওলানা মোঃ আবু ছালেহ পাটোয়ারী বলেছেন, ষষ্ঠ হিজরিতে ওমরাহ করতে যাচ্ছিলেন, সেই সময় পশুগুলোকে সাথে করে নিয়ে যাওয়ার নিয়ম ছিল। তখন কোরবানি ছাড়া আরেকটা রীতি ছিল। পশুগুলোর সিনায় কেটে দাগ লাগিয়ে মক্কার দিকে ছেড়ে দেয়া হতো, যাতে বোঝা যেতো যে এগুলো কোরবানির পশু। হুদাইবিয়ার সন্ধির পর কিছু পশু কোরবানি দেয়া হয়, আর কিছু পশুকে সিনায় দাগ লাগিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

পাটোয়ারি বলছেন, দশম হিজরিতে রাসুল (সাঃ) মক্কা বিজয়ের পর সেই বছর তিনি নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে হজ করেন এবং কোরবানি দেন।

এর আগের বছর সাহাবী আবুবকরের নেতৃত্বে একটি দলকে হজের জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেই দলের সঙ্গেও কোরবানির জন্য হাদি বা পশু ছিল।


আরও খবর