আজঃ সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম
আসামি ধরতে নদীতে ঝাঁপ, পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু ঢাবিতে আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া আগামীকাল আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস পাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর: ছাত্রলীগ নেতাকে হল ছাড়ার নির্দেশ সড়কে মে মাসের তুলনায় জুনে প্রাণহানি বেড়েছে ৩৭ শতাংশ ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য পেছাল রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা, মাঠ না ছাড়ার ঘোষণা ইতিহাস জানে না, তাই এ স্লোগান দিতে তাদের লজ্জা হয় না: প্রধানমন্ত্রী কোটা আন্দোলনের মধ্যে রাজনৈতিক অপশক্তি ঢুকেছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাজাকার হতে চাওয়াদের দাবি মানা হবে না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ঘূর্ণিঝড় রেমালে ৮ হাজার মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে দেশের বিভিন্ন জেলা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে। যার প্রভাব গিয়ে পড়েছে মোবাইলফোন সেবায়। ৪৫ জেলায় মোবাইলফোন অপারেটরদের ৮ হাজার ৪১০টি টাওয়ার নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে এসব টাওয়ারে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় স্থাপনে সোমবার (২৭ মে) পিডিবি, ডিপিডিসি ও বিআরইবিকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

বিটিআরসির সোমবার বিকেলের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী-রোববার (২৬ মে) রাত ১০টার দিকে ৪৫ জেলায় ৩২ শতাংশ মোবাইল টাওয়ার অচল হয়ে পড়েছিল। পরে এ নিয়ে কাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। সোমবার দুপুর নাগাদ ৪ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করে পুনরায় কিছু টাওয়ার সচল করা হয়। বর্তমানে ৮ হাজার ৪১০টি টাওয়ার নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন।

রেমালের তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি মোবাইল টাওয়ার নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়েছে বরগুনায়। সেখানে থাকা ৩২৬টির মধ্যে ২৬৬টিই বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া বাগেরহাট ও পিরোজপুরের ৭৮ শতাংশ, ভোলা, সাতক্ষীরা ও ঝালকাঠীতে ৭৭ শতাংশ, পটুয়াখালীতে ৭৬ শতাংশ, বরিশালে ৭১ শতাংশ, গোপালগঞ্জের ৬৬ শতাংশ, নড়াইলে ৬৪ শতাংশ, যশোরে ৫৬ শতাংশ, খুলনায় ৫০ শতাংশ টাওয়ার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এদিকে উপকূলীয় এলাকায় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) অপারেটরদের ৩২০টি পপের (পয়েন্ট অব প্রেজেন্স) মধ্যে ২২৫টি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোলা জেলার ৮৫ শতাংশ পপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ওই অঞ্চলের তিন লাখের বেশি গ্রাহক সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন। সেবা সচল রাখতে তারা পোর্টেবল জেনারেটর ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি।

ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) অপারটেররা জানিয়েছে, বিদ্যুৎ না থাকায় ১৫ জেলায় তাদের ১ হাজার ৯০৮টি পপ বন্ধ হয়ে গেছে। ফাইবার অ্যাট হোমের খুলনা, বারিশাল ও চট্টগ্রামের ১ হাজার ৬৯০টি পপের ব্যাটারি ব্যাকআপ শেষ হওয়ায় ৬টি লোকেশন বন্ধ রয়েছে। তবে বাহন লিমিটেডের কোনো পপ বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে সংযোগ সচল রাখতে সম্ভব সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে অপারেটরদে তৎপর থাকার নির্দেশনা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। ঘূর্ণিঝড়ে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক কেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা পরে জানাবে অপারেটরটি। আর মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো জানিয়েছে দ্রুত তারা সংযোগ ফেরাতে চেষ্টা করছে।

গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশনস শারফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করছি। একটি ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম ও কন্ট্রোল রুম গঠন করা হয়েছে। সংযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকা দ্রুত সংযোগের আওতায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

রবির কমিউনিকেশন বিভাগ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়, তারা ঘূর্ণিঝড় রেমালের সময়ে গ্রাহকদের জন্য ফ্রি মিনিট এমার্জেন্সি ব্যালান্স এবং অ্যাপে ঘূর্ণিঝড়ের আপডেট দিচ্ছে। ঝড় চলমান থাকায় নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নতা এবং ক্ষতির বিষয়টি এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না।

ক্যাবল কাটা পড়া ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উপকূলীয় এলাকার মধ্যে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর এলাকা পুরোপুরি ব্রডব্যান্ড সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি ইমদাদুল হক।

তিনি বলেন, দুর্যোগের কারণে ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চলের ৯০ শতাংশ ব্রডব্যান্ড সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে ৬-৭ লাখ গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী জোয়ার ও ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত সংযোগ পুনঃস্থাপন সম্ভব নয়।

মোবাইলফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেন, বিটিএসসমূহের পাওয়ার ব্যাকআপের জন্য বিকল্প জেনারেটর চালু করা জরুরি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর কাছ আত্মীয় এবং সরকারি সহায়তাকারী সংস্থাসমূহের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।


আরও খবর



শেরপুরে মহারশি নদী এখন জনগণের মরণ ফাঁদ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মো. নাজমুল হোসাইন, শেরপুর

Image

বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদীতে শহর রক্ষার বাঁধ নির্মাণ না করায় এই নদী এখন জনগণের কাছে আর্শিবাদ না হয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। একদিকে নদীটি খনন না করায় হারিয়েছে তার নাব্যতা। অপরদিকে নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে অবৈধভাবে বসতবাড়ী নির্মাণ করায় খরস্রোতা নদীটি একটি খালে পরিণত হয়েছে।

যে কারণে প্রতিবছর বর্ষার মৌসুমে অবিরাম বর্ষণ আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানি প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি হয়। এতে উপজেলা শহরের আশেপাশে বেশ কয়েকটি জায়গায় ভেঙ্গে গিয়ে ঢলের পানি উপজেলার সদর বাজার, অফিস, আদালত সহ  বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয় সাধারণ মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে মহারশি নদী। কালের বির্বতনে খরস্রোতা নদীটি খনন না করায় হারিয়েছে তার নাব্যতা। অপরদিকে নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে অবৈধভাবে বসতবাড়ী নির্মাণ করায় দিনে দিনে নদীটি সংকুচিত হয়ে খালে পরিণত হয়েছে। এতে বর্ষার মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি হয়। যে কারণে দু'পাড়ের কাঁচা বাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে

উপজেলার বিভিন্ন অফিস, কোটি টাকা রাজস্ব্য আদায়ের সদর বাজার, নদীর তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের শত শত বাড়িঘর সহ হাজার হাজার একর ফসলী জমিতে পানি প্রবেশ করে এতে বিপাকে পরে মানুষ। ক্ষয়-ক্ষতি হয় লক্ষ লক্ষ টাকা সহ রাস্তা ঘাটের। শুধু তাই নয় বেড়িবাঁধ না থাকায় হুমকির মুখে রয়েছে কয়েকটি গ্রাম সহ দিঘীরপাড় ফাযিল মাদরাসা। যে কোন সময় নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে রামেরকুড়া পুর্বপাড়া ও দিঘীরপাড় ফাযিল মাদরাসা সহ কয়েকটি গ্রাম। প্রতিবছর ঢলে ক্ষতিগ্রস্তের পর জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সাময়িক নড়েচড়ে বসলেও পরে আর খবর থাকেনা। অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড এই নদীতে বেড়িবাঁধের মাপযোগ করেই কাটিয়ে দিয়েছে প্রায় দুই যুগ। ফলে বেড়িবাঁধ না থাকায় ঝিনাইগাতীর মহারশি নদী এখন স্থানীয় জনগণের কাছে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

এবছরেই পাহাড়ি ঢল হয়েছে তিনবার। এরমধ্যে তৃতীয় ঢলে রামেরকুড়া পূর্বপাড়া, খৈলকুড়া, দিঘীরপাড় গ্রাম সহ ৪টি জায়গায় ভেঙ্গে যায়। এতে দিঘীরপাড় গ্রামে তিনটি বাড়ীঘর ঢলের পানিতে দুমড়ে মোচড়ে ভেঙ্গে গিয়ে সেখানে গভীর খাদে পরিণত হয়েছে। সেখানে আরো কয়েকটি বাড়ীঘর ব্যাপক হুমকির মুখে রয়েছে। পাহাড়ি ঢল আসা মানেই নদীর পাড়ে বসবাসকারি পরিবারগুলো আতংকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।

এব্যাপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. ফারুক আহমেদ বলেন, আশ্বাসে আর প্রতিশ্রুতিতে কেটে গেছে প্রায় দুই যুগ। এখন আর আশ্বাস নয়, আমরা চাই বেড়িবাঁধ নির্মাণে বাস্তবায়ন। এর জন্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যকে নদী খনন সহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে অনুরোধ করছি।

ঝিনাইগাতী সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহাদৎ হোসেন বলেন, প্রতি বছর পাহাড়ী ঢলের পানিতে নদীর পাড় ভেঙ্গে উপজেলার সদর সহ বিভিন্ন এলাকার বাড়ীঘর, ফসলী জমি, মাছের পুকুর সহ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ঝিনাইগাতীতে প্রতিবছর এই ক্ষতি থেকে বাঁচাতে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এডিএম শহিদুল ইসলাম,পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে ইউনিয়নবাসীদের পক্ষ থেকে তিনি মহারশি নদীতে স্থায়ী বেড়িবাঁধের নির্মাণের অনুরোধ করেন।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা জানান, উপজেলাবাসীদের রক্ষায় এই নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিকল্প নেই।

উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল কবীর রাসেল জানান, পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি পরিবারের প্রত্যেককে ৬হাজার টাকা আর ২বান্ডেল করে ঢেউটিন দেয়া হয়েছে। নদীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্যে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ভাঙ্গনগুলোতে ইতিমধ্যেই জিও ব্যাগ দ্বারা আপদকালীণ কাজ করা হচ্ছে। পাকা বাঁধ নির্মাণের জন্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত নির্মাণ করা হবে মহারশি নদীতে বেড়িবাঁধ।

শেরপুর-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এ.ডি.এম শহিদুল ইসলাম জানান, মহারশি নদীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্যে জাতীয় সংসদে প্রস্তাব করেছি। আশা করি এই অর্থ বছরেই  নির্মাণ করা হবে বেড়িবাঁধ।

শুধু আশ্বাস নয়, মহারশি নদীতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে দ্রুত পদক্ষেপ নিবে সরকার, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

নিউজ ট্যাগ: শেরপুর

আরও খবর



অ্যালকোহল পানে প্রতিবছর প্রাণ হারান ২৬ লাখ মানুষ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্রকাশিত:বুধবার ২৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৬ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

Image

বিশ্বে অ্যালকোহল পানের কারণে প্রতিবছর ২৬ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। যদিও গত কয়েক বছরে মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে। তবে এখনো এটি অগ্রহণযোগ্য রকম বেশি। মঙ্গলবার (২৫ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

অ্যালকোহল ও স্বাস্থ্য বিষয়ে ডব্লিউএইচওর সর্বশেষ এ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর প্রতি ২০টি মৃত্যুর ঘটনার প্রায় একটির জন্য দায়ী অ্যালকোহল। এসব মৃত্যুর ঘটনার পেছনে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, অ্যালকোহলসংশ্লিষ্ট নৃশংসতা, নির্যাতন, নানা রোগ ও অসুস্থতার মতো বিষয় রয়েছে।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে অ্যালকোহল পানের কারণে ২৬ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই সংখ্যা বিশ্বে ওই বছর মোট মৃত্যুর ঘটনার প্রায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। আর মারা যাওয়া এসব ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় তিনচতুর্থাংশই ছিলেন পুরুষ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান মানুষের স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে। দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি বাড়ায়, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়। এর ফলে দুঃখজনকভাবে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। অথচ এসব মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য।

এদিকে ২০১০ সালের পর থেকে বিশ্বে অ্যালকোহল পান ও অ্যালকোহল পানজনিত ক্ষতি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে অ্যালকোহল পানের কারণে স্বাস্থ্য ও সমাজের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা এখনো অগ্রহণযোগ্য রকম বেশি বলে মনে করেন ডব্লিউএইচও প্রধান। তিনি বলেন, বিশেষ করে তরুণেরা বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

২০১৯ সালে অ্যালকোহল পান মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি (১৩ শতাংশ) মারা গেছেন ২০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী মানুষ। অ্যালকোহল পানের কারণে লিভার সিরোসিস ও ক্যানসারের মতো গুরুতর অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। ২০১৯ সালে অ্যালকোহল পানে প্রাণ হারানো মানুষের মধ্যে প্রায় ১৬ লাখের মৃত্যুর কারণ অসংক্রামক ব্যাধি। তাদের মধ্যে চার লাখ ৭৪ হাজার জন হৃদ্‌রোগ, চার লাখ ১০ হাজার ক্যানসার এবং ৭ লাখ ২৪ হাজার জন আঘাতের কারণে মারা গেছেন। এছাড়া অ্যালকোহলের যথেচ্ছ ব্যবহারে মানুষের যক্ষ্মা, এইচআইভি ও নিউমোনিয়ার মতো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত  হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাথাপিছু অ্যালকোহল পানের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ইউরোপের দেশগুলোতে; যা গড়ে ৯ দশমিক ২ লিটার। এরপরই রয়েছে আমেরিকার দেশগুলো। সেখানে মাথাপিছু অ্যালকোহল পানের গড়ে ৭ দশমিক ৫ লিটার। সবচেয়ে কম অ্যালকোহল পান করা হয় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ উত্তর আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলোতে।


আরও খবর
বাড়ছে ডেঙ্গু, শতাধিক নতুন রোগী শনাক্ত

বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪




ফিরিঙ্গি বাজার ওয়ার্ডে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৯ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

Image

চট্টগ্রাম নগরীর ৩৩ নং ফিরিঙ্গি বাজার ওয়ার্ডে কাউন্সিলর আলহাজ্ব হাসান মুরাদ বিপ্লব কতৃক এসএসসি-২০২৪ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থী ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক/শিক্ষিকাবৃন্দদের নিয়ে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর আলকরনস্থ ড্রীমল্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারে রিনিক মুনের সঞ্চালনায় ও আলহাজ্ব হাসান মুরাদ বিপ্লবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব আ.জ.ম নাছির উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ। সংবর্ধনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিদারুল আলম দিদার, নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান, পটিয়া উপজেলা পরিষদ এবং অহিদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন, সিআইপি পরিচালক, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা। এসময় অনুষ্ঠানে ২০২জন শিক্ষার্থী ও ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক/শিক্ষিকাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ক্ষুদে শীল্পিদের আয়োজনে মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশিত হয়। তারপর অতিথিদের ফুল দিয়ে বরনের মধ্য দিয়ে উত্তরীয় প্রদান করা হয় এবং আ.জ.ম নাছিরকে বিশেষ প্রেজেন্টেশন প্রদান করা হয়। এছাড়াও স্বপ্নযাত্রী নামক ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

এসময় বক্তারা বলেন, সরকারকে বিপাকে ফেলতে সর্বদা একটি অংশ বিরোধীতায় লিপ্ত। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি গুলো বারবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে তাই আমাদের সচেতন থাকতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চসিক সাবেক মেয়র আ.জ.ম নাছির বলেন, চট্টগ্রামে আমার দেখা এটি একটি ব্যাতিক্রমি আয়োজন। একই মঞ্চে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের পর শিক্ষকরাই হলেন আমাদের সন্তানদের অবিভাবক। সন্তানকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শিক্ষকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই রাজনীতিতে আসতে গেলে ছাত্রদের পরিবার ও শিক্ষক কতৃক অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগাতে হবে। তবেই ভালো মানুষ হওয়া যাবে এবং রাষ্ট্র যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে পাবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তোমরাই আমাদের সম্পদ। তোমরা ভালো কাজ করলে বাবা মায়ের বুক গর্বে ভরে উঠবে।

সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে পটিয়ার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান দিদারুল আলম বলেন, কোন পেশাই খারাপ না, রাজনীতি হলো মানবসেবা। রাজনীতিতে নিজের স্বার্থের কথা ভাবা যাবেনা, তবেই রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়। আমরা কেউ বিপদগামী হইনি। আমাদের উদ্দেশ্য সৎ ছিলো। তাই আমরা আজও সম্মানিত হয়ে আসছি। আমাদের সকলের সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকা উচিত। তবেই দেশ এগিয়ে যাবে।

অহিদ সিরাজ চৌধুরী সিআইপি বলেন, তারুণ্যের অবক্ষয় নয়, বিকাশ চাই; তারই আলোকে আজকের অনুষ্ঠান। ছাত্র শিক্ষক আর অভিভাবকের পাশাপাশি এভাবে জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে। তবেই দেশ এগিয়ে যাবে। রাজনীতি করেও প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়। আমি ছাত্রদের বার্তা দিতে চাই, যারা ছোট বেলা থেকে রাজনীতি করে আসছে তারা আজ রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আমরা সকলে আজ প্রতিষ্ঠিত, আলোকিত বাংলাদেশ বিনির্মানে তাই ছাত্রদেরও রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে হবে।

চসিক সংরক্ষিত আসন (৩৩, ৩৪, ৩৫) মহিলা কাউন্সিলর বেবী দোভাষ বলেন, আমি এ অনুষ্ঠানে এসে অত্যন্ত আনন্দিত। আমার ছোট ভাই ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিপ্লবের এই মহৎ উদ্যোগের জন্য তাকে সাধুবাদ জানাই। সে এলাকায় সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও সহযোগিতা করে থাকেন। তবে শিক্ষার্থীদের উন্নতির পিছনে শিক্ষকদের ভূমিকা যেমন রয়েছে, অভিভাবকদের পরিশ্রমও কম নয়। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা বিদেশে অনেক পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। তবে পেশা হিসেবে রাজনীতি এখন আর সুফলযোগ্য নয়, সেজন্য পড়ালেখাও দরকার।

সভাপতির বক্তব্যে ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসার মুরাদ বিপ্লব বলেন, যে সকল শিক্ষকরা এতদিন পাঠদান করে এসেছেন, যেসব শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জন করেছে এই সম্মাননাটুকু তাদের আগামীতে উচ্চশিক্ষায় অনুপ্রাণিত করবে। তারা আগামীতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেয়া ২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পিছনে অবদান রাখবে। যারা আমাদের দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান করাচ্ছেন এবং শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল অর্জন করেছেন। সেসব শিক্ষার্থীদের এই সম্মাননা দেয়াটুকু আগামীর উচ্চশিক্ষায় অনুপ্রাণিত করবে। আমার প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থীরা ১০টি বছর শ্রম দিয়ে ভাল ফলাফল করেছে, তাদের এই সম্মানটুকু অন্যদেরও ভালো ফলাফল পেতে আগ্রহী করবে। মেধাবীরা কাছে অনুরোধ থাকবে, যারা মেধাবী শিক্ষার্থীরা যাতে পিতা-মাতা কোনদিন অবহেলা না করে। আপনারা আগামীতে দুর্ণীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেয়া ২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পিছনে আপনার অবদান রাখবেন বলে আশা করছি।

তিনি আরও বলেন, আ.জ.ম নাছির উদ্দীন আমাদের অভিভাবক। তিনি মেয়র থাকাকালীন নগরীর সকল স্কুল ও কলেজে উন্নতির প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। সম্প্রতি চসিকের স্মার্ট এলইডি লাইট চুক্তি সম্পন্ন হলো, সেটাও নাছির ভাইয়ের চসিক মেয়র থাকাকালীন প্রকল্প ছিল। সকল সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তিনি নগরীকে উন্নয়নে আলোকিত করেছিলেন। এখন তাঁরই আর্দশ ও নীতি-নৈতিকতাগুলো অনুসরণ করে থাকি।

অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা প্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা হলেন- আলকরণ নূর আহমেদ সিটি কর্পোরেশন বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শাহদাৎ হোসেন, গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজের রতন কুমার চক্রবর্তী, পাথরঘাটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের খুরশীদা পারভিন চৌধুরী, এয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অঞ্চল চৌধুরী, নিপা চৌধুরী, ফিরিঙ্গিবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আব্দুল লতিফ, মনিশা দাসগুপ্ত, প্রীতি চৌধুরী, মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের মিলন কান্তি চৌধুরী, সেন্ট ম্যারিস স্কুলের হোসনে আক্তার,জে এম সেন স্কুল এন্ড কলেজের রোকেয়া বেগম,জামান চৌধুরী,নাজনীন বেগম,রত্না দাস,দেবেশ চন্দ্র দাস, বান্ডেল বলিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আন্না চক্রবর্তী, দীপ্তি চক্রবর্তী ও আলকরণ সুলতান আহমেদ দেওয়ান বিদ্যালয়ের কবিতা রানী নাথ।

নিউজ ট্যাগ: চট্টগ্রাম

আরও খবর



সৌদিতে হজে গিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৯০০ ছাড়াল

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

সৌদি আরবে এবারের পবিত্র হজে গিয়ে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৯২২ জন হজযাত্রীর। তাদের বেশিরভাগেরই মৃত্যুর কারণ তাপপ্রবাহ ও অসহনীয় গরমে। তবে এখনো বহু সংখ্যক হজযাত্রীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

সৌদির সরকারি প্রশাসন, মক্কার বিভিন্ন হাসপাতাল এবং সৌদির বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের তথ্য সহায়তার ভিত্তিতে মৃত হজযাত্রীদের একটি সংখ্যাগত টালি করেছে বার্তাসংস্থা এএফপি। সেই টালির সর্বশেষ অবস্থা থেকে এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে।

চলতি বছর হজ শুরু হয়েছে গত ১৪ জুন থেকে। সৌদির আবহওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহ ধরে মক্কার তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। সোমবার মক্কার তাপমাত্রা ছিল ৫১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

মৃতদের অধিকাংশই মিসরের নাগরিক। মক্কার প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, হজের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৬০০ মিসরীয় হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গত বছর বিভিন্ন দেশের অন্তত ২৪০ হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। যাদের অধিকাংশই ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক।

প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ হজ করতে সৌদি আরব যান। চলতি বছর সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশ মিলিয়ে হজে অংশ নিয়েছেন মোট ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ১৬৪ জন।

এর মধ্যে বিদেশি রয়েছেন ১৬ লাখ ১১ হাজার ৩১০ জন এবং সৌদি নাগরিক ও দেশটিতে অবস্থানকারী প্রবাসী মিলিয়ে হজে অংশ নিয়েছেন ২ লাখ ২১ হাজার ৮৫৪ জন।

সৌদি আরবের সরকারি পরিসংখ্যান অফিস জেনারেল অথরিটি ফর স্ট্যাটিস্টিকস (জিএএসটিএটি) এ তথ্য প্রকাশ করেছে। সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাতে সৌদি গেজেট হজে অংশগ্রহণকারীদের এ তথ্য জানিয়েছে।

জিএএসটিএটি বলছে, স্থানীয় ও বিদেশি মিলিয়ে এবার ৯ লাখ ৫৮ হাজার ১৩৭ জন পুরুষ হজে অংশ নিয়েছেন; নারী রয়েছেন ৮ লাখ ৭৫ হাজার ২৭ জন।

মোট অংশগ্রহণকারীর মধ্যে আরব দেশগুলো থেকে গেছেন ২২ দশমিক ৩ শতাংশ। এশিয়ার ৬৩ দশমিক ৩ শতাংশ, আফ্রিকার ১১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের হজযাত্রী রয়েছেন ৩ দশমিক ২ শতাংশ।

এর মধ্যে সৌদি আরবে উড়োজাহাজে করে গেছেন ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৩৪৫ জন, স্থলপথে ৬০ হাজার ২৫১ জন এবং সমুদ্রবন্দর হয়ে হজে গেছেন ৪ হাজার ৭১৪ জন। এবার বাংলাদেশ থেকে হজ করতে সৌদি আরব গেছেন ৮৫ হাজারের বেশি মানুষ।


আরও খবর



স্ত্রী-কন্যাসহ বেনজীরের সম্পদের হিসাব চেয়েছে দুদক

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০২ জুলাই 2০২4 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০২ জুলাই 2০২4 | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী এবং দুই কন্যার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব জমা দিতে নোটিশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নোটিশে সম্পদের হিসাব জমা দিতে ২১ কর্মদিবস সময় দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় থেকে এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমিন।

নোটিশে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে দেখা দেছে, আপনারা (বেনজীর পরিবার) জ্ঞাত আয়বহির্ভূত স্বনামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ/সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। নিজ ও আপনাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তির নামে-বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী কমিশনে দাখিল করবেন।

এর আগে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে ২৩ ও ২৪ জুন হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে অভিযোগের লিখিত বক্তব্য জমা দেয় বেনজীর পরিবার। বেনজীরকে ৬ জুন ও তার স্ত্রী ও কন্যাকে ৯ জুন তলব করা হয়েছিল। কিন্তু তারা না এসে দুদকের কাছে সময় চেয়েছিলেন।

গত ৩১ মার্চ বেনজীরের ঘরে আলাদিনের চেরাগ এবং ৩ এপ্রিল বনের জমিতে বেনজীরের রিসোর্ট শিরোনামে একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

গত ২৩ মে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ৮৩টি দলিলের সম্পত্তি ও ৩৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেন আদালত। অন্যদিকে, গত ২৬ মে আদালত বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামের ১১৯টি জমির দলিল, ২৩টি কোম্পানির শেয়ার ও গুলশানের চারটি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেন। গত ২৩ মে তাদের নামীয় ৩৪৫ বিঘা (১১৪ একর) জমি, বিভিন্ন ব্যাংকের ৩৩টি হিসাব জব্দ ও অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ৬২৭ বিঘা জমি ক্রোক করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-সন্তানদের স্থাবর সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব জব্দের কার্যক্রম চলমান। এরই মধ্যে রিসিভার নিয়োগ করা হয়েছে।


আরও খবর