আজঃ সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

ঈদুল আজহার চার সুন্নত

প্রকাশিত:সোমবার ১৭ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৭ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ধর্ম ও জীবন

Image

ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা মুসলমানদের ধর্মীয় দুই প্রধান উৎসব। এই দুই দিনে রাসূল সা. আমাদের আনন্দ উৎসব পালন করতে বলেছেন। হাদিসে রাসূল সা. বলেছেন, প্রতিটি জাতির আনন্দ-উৎসব আছে। আর আমাদের আনন্দ-উৎসব হলো দুই ঈদ। (বুখারি, হাদিস : ৯৫২)

ঈদের দিনের আনন্দ-উৎসব মানে আল্লাহর বিধানের সামনে নিজেকে সমর্পন করে দেওয়া। কোনো অশ্লীল কাজে লিপ্ত না হওয়া। এখানে ঈদুল ফিতরের চারটি সুন্নত আমল তুলে ধরা হলো

১. পবিত্রতা অর্জন ও সুন্দর পোষাক পরা

ঈদের নামাজের জন্য গোসল করা ও মিসওয়াক করা সুন্নাত। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) ঈদুল ফিতর ও আজহার দিন গোসল করতেন। (বুখারি, হাদিস : ১/১৩০)

একইসঙ্গে ঈদুল আজহার দিন পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন সুন্দর ও সাধ্যের ভেতর সবচেয়ে উত্তম পোষাক পরিধান করা সুন্নত।

২. ঈদগাহে যাওয়ার আগে পানাহার না করা

ঈদুল আজহার দিন পানাহার ব্যতীত ঈদগাহে গমন করা ও নামাজের পর নিজের কোরবানির গোশত দিয়ে প্রথম খাবার গ্রহণ করা সুন্নত।

হাদিস শরিফে এসেছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন কোনো কিছু না খেয়ে ঈদগাহে যেতেন না। আর ঈদুল আজহার দিন নামাজ না পড়ে কিছু খেতেন না। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৫৪২)

৩. ঈদগাহে যাওয়ার সময় তাকবির বলা

ঈদগাহে যাওয়ার সময় ঈদুল আজহার দিন উচ্চস্বরে তাকবির পাঠ করা সুন্নত। তাকবির পাঠের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলাকে বেশি বেশি স্মরণ করা সুন্নত। পুরুষেরা এ তাকবির উঁচু আওয়াজে পাঠ করবে, মেয়েরা নীরবে। এ তাকবির জিলহজ মাসের ৯ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত পাঠ করবে। (ফাতহুল বারি : ২/৫৮৯)

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, যাতে তোমরা গণনা পূরণ করো এবং তোমাদের হেদায়াত দান করার দরুণ আল্লাহ তাআলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর। (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫)

৪. ঈদের নামাজের পর কোরবানি

ঈদুল আজহার দিন ঈদের নামাজের পর বাড়িতে এসে কোরবানি করা।

বারা ইবনে আজিব (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাদের উদ্দেশে খুতবা দিলেন। তাতে বললেন, আমাদের এই দিবসে প্রথম কাজ নামাজ আদায় করা, এরপর কোরবানি করা। সুতরাং যে এভাবে করবে তার কাজ আমাদের তরিকা মতো হবে। আর যে আগেই জবেহ করেছে (তার কাজ তরিকা মতো হয়নি অতএব) তা পরিবারের জন্য প্রস্তুতকৃত গোশত, (আল্লাহর জন্য উৎসর্গিত) কোরবানি নয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৯৬৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯৬১; সহিহ ইবনে হিব্বান : ৫৯০৭)


আরও খবর
দেশে ফিরলেন ৫৯ হাজার ৩৩০ হাজি

মঙ্গলবার ০৯ জুলাই ২০২৪




শাহবাগ মোড়ে ‘বাংলা ব্লকেড’, যান চলাচল বন্ধ

প্রকাশিত:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে সকাল-সন্ধ্যা বাংলা ব্লকেড কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। এতে প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

বুধবার (১০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে জড়ো হন। এরপর চারপাশে ব্যারিকেড দিলে এলিফ্যান্ট রোড, ফার্মগেট রোড, টিএসসি এবং মৎসভবন রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় যানজট।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই এ এলাকায় গাড়ি চলাচল কম ছিল। সড়ক বন্ধ করে দেয়ার পর নগরবাসী হেঁটে গন্তেব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।  নিরাপত্তার জন্য শাহবাগ এলাকায় পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য অবস্থান করছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি পূরণ না হলে সারা বাংলাদেশ অবরোধ করা হবে। আর যদি কোটা রাখতেই হয় তাহলে ৫ শতাংশের বেশি নয়।

নির্বাহী বিভাগ থেকে কমিশন গঠনের মাধ্যমে কোটা পদ্ধতির স্থায়ী ও যৌক্তিক সমাধান করতে হবে জানিয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ আহমেদ সময় সংবাদকে বলেন, কোর্টে অর্ডার স্থগিত হলেও আন্দোলন থেকে সরবে না শিক্ষার্থীরা। আমাদের আন্দোলনে জনসমর্থন থাকায় লোকজন কম বের হয়েছে।

এদিকে, কোটাবিরোধী আন্দোলনে এক দফা দাবিতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর সাইন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেন শত শত শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী। এতে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে একই দাবিতে টানা সপ্তম দিনের মতো ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে দেশের উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল (একাংশ) এর সাথে ঢাকার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলনে সকাল-সন্ধ্যা বাংলা ব্লকড কর্মসূচি ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সর্বাত্মক বাংলা ব্লকেড অনুযায়ী সারা দিন দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থান অবরোধ করা হবে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানের পাশাপাশি হাইওয়ে এবং রেলপথও এ কর্মসূচির আওতায় থাকবে।

তিনি বলেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আমাদের কর্মসূচি পালন করছি। এ আন্দোলনের ফলে জনসাধারণের যে ভোগান্তি হচ্ছে, তার প্রতি আমরা সংবেদনশীল। কিন্তু এর দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে। কারণ এতদিনের আন্দোলনের পরও তারা আমাদের সঙ্গে  যোগাযোগ কিংবা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেনি। আমরা চূড়ান্ত সমাধান চাই।

এদিকে, রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কটূক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, প্রজন্ম ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির সব সংগঠন।


আরও খবর



চীন সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন কাল

প্রকাশিত:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনে তার তিনদিনের দ্বিপক্ষীয় সরকারী সফর নিয়ে আগামীকাল রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন। এদিন বিকাল ৪টায় গণভবনে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস এ তথ্য জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। চার দিনের চীন সফর শেষে ১১ জুলাই দেশে ফেরার কথা থাকলেও সফর সংক্ষিপ্ত করে ১০ জুলাই তিনি ফিরে আসেন।

এ সময়ের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব থেকে ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশদারিত্বে উন্নীত হতে ২১টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি এবং ৭টি ঘোষণাপত্র সই করে বাংলাদেশ ও চীন। এর মধ্যে ২টি সমঝোতা স্মারক নবায়ন করা হয়।


আরও খবর



চট্টগ্রামে উল্টো রথের মধ্য দিয়ে রথযাত্রা উৎসব সম্পন্ন

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রাহুল সরকার, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Image

বন্দরনগরীতে উল্টো রথের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস জগন্নাথ দেব হলেন জগতের নাথ বা অধীশ্বর। জগত হচ্ছে বিশ্ব আর নাথ হচ্ছেন ঈশ্বর। তাই জগন্নাথ হচ্ছে জগতের ঈশ্বর। তার অনুগ্রহ পেলে মানুষের মুক্তিলাভ হয়। জীবরূপে তাকে আর জন্ম নিতে হয় না। এ বিশ্বাস থেকেই রথের ওপর জগন্নাথ দেবের প্রতিমা রেখে রথযাত্রা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন এবং মন্দির নানা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সকালে বিভিন্ন মাঙ্গলিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানমালা। এর মধ্যে ছিল হরিনাম সংকীর্তন, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, পদাবলী কীর্তন, আরতি কীর্তন, ভাগবত কথা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ।

সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর এতে লাখো ভক্তের সমাগম মধ্য দিয়ে টেনে নিয়ে যান জগন্নাথ দেবের রথ।

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) প্রর্বতক শ্রীকৃষ্ণ মন্দির ও নন্দনকানন শ্রীশ্রী রাধামাধব মন্দির ও শ্রীশ্রী গৌর নিতাই আশ্রমের উদ্যোগে নগরীর সিনেমা প্যালেস ও নন্দনকানন থেকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রী শ্রী জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রা মহারানীর উল্টো রথের শোভাযাত্রা শুরু হয়।  রথযাত্রা নন্দনকানন থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে মঙ্গলারতি, তুলসি আরতি, নৃসিংহ বন্দনা, গুরু পুজা, ভাগবত পাঠ, ভোগারাতি, ভজন কীর্তন, আলোচনা সভা, মহাপ্রসাদ বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

চট্টগ্রামের রথযাত্রা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক চসিক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের বদৌলতে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এই ভূখণ্ডে সাম্প্রদায়িকতার কবর রচিত হয়েছে। তাই স্বাধীন বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুমহান ঐতিহ্য আমাদেরকে যেকোনও মূল্যে সমুন্নত রাখতে হবে। আমরা যার যার নিজ ধর্ম পালনের পাশাপাশি অন্য ধর্মালম্বীদের সম্মান করব। তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকব। এটাই মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতির জনকের আদর্শ। 

উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে গতকাল সোমবার প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দির ও নন্দকানন ইসকন মন্দিরের উদ্যোগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

নন্দনকানন ইসকনের সভাপতি পণ্ডিত গদাধর দাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তারণ নিত্যানন্দ দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা পর্বে মহান আশীর্বাদক ছিলেন ভারতের উড়িষ্যার শ্রীমৎ ভক্তি নীলাচল স্বামী মহারাজ।  প্রধান আলোচক ছিলেন ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী প্রবীর সেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট চন্দন তালুকদার, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দেবাশীষ নাথ দেবু ও নগর যুবলীগের সহ-সভাপতি দেবাশীষ পাল দেবু, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সহসভাপতি অনুরূপ পাল, পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল ও সাবেক ছাত্র নেতা শিবু প্রসাদ চৌধুরী।

এছাড়া নন্দনকানন ইসকন রাধামাধব মন্দির ও গৌর নিতাই সেবাশ্রমের সহ সভাপতি অকিঞ্চন গৌর দাস ব্রহ্মচারী, যুগ্ম সম্পাদক মুকুন্দ ভক্তি দাস ব্রহ্মচারী, সদস্য অপূর্ব মনোহর দাস ব্রহ্মচারী ও সুবল সখা দাস ব্রহ্মচারীসহ টিএমসি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা পর্ব শেষে আমন্ত্রিত অতিথিরা মঙ্গল দ্বীপ প্রজ্জ্বালন ও বেলুন উড়িয়ে উল্টো রথযাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন।

আওয়ামী লীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর বলেন, রথযাত্রা বাঙালি হিন্দুদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত পথে থেকে সবাই মিলে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলব। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই মিলে এই চট্টগ্রামে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখেছি। এই রথযাত্রা আমরা একসঙ্গে সবাই মিলে করছি।  বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, যারা ধর্মে-ধর্মে মানুষে-মানুষের বিভাজন সৃষ্টি করে, যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ গড়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তাদেরকে বলতে চাই, আমরা আপনাদের প্রতিরোধ করব।

তিনি বলেন, 'জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে আমরা সবাই মিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সুখি, সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলব।'

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির কখনওই ঠাঁই হবে না। আজকের বাংলাদেশে ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। তাই ধর্মের আধ্যাত্মিক চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে আমাদের সকলকে জগতের কল্যাণ ও সম্প্রীতির চর্চা করতে হবে। শ্রী শ্রী জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামের আশীর্বাদে জীবন হয় সুন্দর। সমস্যায় ঘেরা জীবনে মুক্তি এনে দেন ত্রি-দেবতা।

 উল্টো রথযাত্রার উদ্বোধন শেষে ভক্ত-পূণ্যার্থীরা শ্রী শ্রী জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা মহারাণী অধিষ্ঠিত রথ টেনে নগর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। ভক্তরা বিভিন্ন ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, পৌরাণিক সাজ ও বাদ্যযন্ত্রসহকারে রথের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।

এ উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবছরও ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দির, তুলসীধাম ও নন্দনকান রাধামাধব মন্দিরে বিভিন্ন মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। প্রত্যেক মন্দির থেকে বিকেলে পৃথকভাবে বের করা হয়েছে বর্ণাঢ্য মহাশোভাযাত্রা।

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর অন্যান্য মন্দিরগুলো থেকে এইদিন রথযাত্রা উপলক্ষে বের করা হয়েছে বর্ণিল মহাশোভাযাত্রা।

অন্যদিকে, ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের  লীলারাজ গৌর দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাবেক চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, নগর মহিলা লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পেয়ারুল ইসলাম, নগর আওয়ামীলীগ নেত হেলার আকবর চৌধুরী বাবর, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস, চসিক কাউন্সিলর জহুরলাল হাজারী, নীলু নাগ, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট চন্দন তালুকদার, পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল ও সাবেক ছাত্র নেতা শিবু প্রসাদ চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।


আরও খবর



আওয়ামী লীগ থেকে চলে যাওয়ার পর তারা নিভে গেছে: শেখ হাসিনা

প্রকাশিত:রবিবার ২৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৩ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আকাশে মিটি মিটি তারা জ্বলে, সূর্যের  আলোকে আলোকিত হয়। যারা আওয়ামী লীগকে ছেড়ে গেছে তারা নিজেরাই নিভে গেছে। দলের আলোতে তারাই আলোকিত হয়েছিল। এরপরও কেউ কেউ ফিরে এসেছে তাদের আমরা নিয়েছি। কিন্তু এখনো কেউ কেউ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে, ক্ষমতা থেকে আওয়ামী লীগকে সরাতে চেষ্টা করছে।

আজ রোববার (২৩ জুন) বিকেলে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ জন্ম থেকে ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশ স্বাধীন করার পর মাত্র অল্প কিছুদিন সময় পেয়েছিল জাতির পিতা। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে হত্যা করে ফেলে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দেশের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি। দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। দেশে অতিদারিদ্র্য বলে কেউ থাকবে না। দেশে কারিগরিসহ শিক্ষার উন্নয়ন ও স্মার্ট জনগণ তৈরি, খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছি। 

আওয়ামী লীগের নেত্রী বলেন, দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করার জন্য আমরা সবকিছু করেছি। মাছ, মুরগি, ডিম উৎপাদন, মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি করে মানুষের চাহিদা মিটাতে সক্ষম হচ্ছে। 

এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশের মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সমাবেশ মঞ্চে উপস্থিত হয়ে দলীয় সভাপতি জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর জাতীয় সংগীত বাজানো হয়৷ জাতীয় সংগীত শেষে আওয়ামী প্রধান বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এবং আসন গ্রহণ করেন। এরপর আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের প্রতিটি অর্জনে আওয়ামী লীগের অবদান রয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। আমরা আগামী ১০০ বছরের জন্য ডেল্টা প্লান তৈরি করেছি। দেশ এগিয়ে যাবে। বারবার আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করে তারা ব্যর্থ হয়েছে।

সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, আমন্ত্রিত অতিথিসহ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



মতিউরের বিরুদ্ধে গাজীপুরে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ‘জবরদখলের’ অভিযোগ

প্রকাশিত:বুধবার ২৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৬ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
গাজীপুর প্রতিনিধি

Image

বাপ-দাদার জমি রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন গাজীপুরের শেখ মোক্তার হোসেন নামের এক নারী। কিন্তু জালিয়াতি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে পৈত্রিক সম্পত্তির ৬৭ শতাংশ দখল করে নিয়েছেন ছাগলকাণ্ডে আলোচিত মতিউর রহমান ও তার স্ত্রী লায়লা কানিজ। এমন অভিযোগ মোক্তার হোসেনের।

তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে আমার বাবা-মা মিলে জমিটি কিনেছিল। আমরা এত বছর ধরে খাচ্ছি, হঠাৎ করে তারা জাল দলিল ও জাল পর্চাও বানিয়ে ফেলে। আমার নামে ৪টা মামলাও দেয়। এর মধ্যে ৩টি জমি সংক্রান্ত হলেও একটি ছিল ডাকাতির মামলা। তবে সবগুলো মামলার রায় আমার তরফেই পেয়েছি। এডিসি আপিল করেছিল কিন্তু তাতেও রায় আমিই পেয়েছি। তবে রায় পেলেও তারা আমার জমি দিচ্ছে না।

এদিকে, মতিউরের ভূমি দখল নিয়ে মুখ খুলছেন স্থানীয় অনেকেই। তারা জানিয়েছেন, কম দামে জমি বিক্রি করতে রাজি না হলে জোর করে তা দখলে নেন সাবেক রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মতিউর। এভাবে দখল করা জমিতে গাজীপুরের খিলগাঁও এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে তোলেন আপন ভূবন রিসোর্ট অ্যান্ড পিকনিক স্পট

যদিও জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রিসোর্ট ম্যানেজার মো. রাজিব। তার দাবি, আমিতো দেড় বছর ধরে এখানে আছি, কখনো কেউ তো এমন কিছু বলেনি। দখল হলে বা কেউ অভিযোগ করলে তো পুলিশ আসতো, কিন্তু কখনো তো এমন কিছুই হয়নি।

পূবাইল ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, মতিউর রহমান, তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ের নামে সেখানে রয়েছে একশ ৩৯ শতাংশ জমি। এছাড়া টঙ্গীতে তার ভাইয়ের নামে রয়েছে, তৈরি পোশাক কারখানা।


আরও খবর