আজঃ বুধবার ২৪ জুলাই 20২৪
শিরোনাম

ধর্মীয় প্রভাব খাঁটিয়ে সরকারি স্থাপনা ও জায়গা দখল, বিপাকে প্রশাসন

প্রকাশিত:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

Image

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠি বাজারে এলজিইডির নিজস্ব এলএসডি ফুড গোডাউন এবং এর পার্শ্ববর্তী সরকারি জায়গা ধর্মীয় প্রভাব খাঁটিয়ে দখল করার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণ চন্দ্র মিস্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। নারায়ণ চন্দ্র মিস্ত্রি উপজেলার শ্রীরামকাঠি ইউনিয়নের হিন্দু ধর্মীয় নেতা ও আচার্য্য সংঘের প্রতিষ্ঠাতা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,উপজেলার শ্রীরামকাঠি বন্দরের দক্ষিণ পারে শ্রীরামকাঠি-পাচপাড়া আঞ্চলিক সড়কের পাশে এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত এলএসডি ফুড গোডাউন ও গোডাউন আঙ্গিনার অধিগ্রহনকৃত নিজস্ব ভুমি অবৈধ ভাবে দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে বসবাস করছে নারায়ণ চন্দ্র মিস্ত্রি ও তার পরিবার। সরকারি অর্থায়নে নির্মিত সম্পদ জনস্বার্থে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেন মিয়া  সরকারি জায়গা দখল মুক্ত করতে বারবার নোটিশ দিলেও কর্নপাত করছেন না অভিযুক্ত নারায়ন মিস্ত্রি। এক্ষেত্রে বিপাকে পরেছেন উপজেলা প্রশাসন।

সরেজমিনে গিয়ে গতকাল মঙ্গলবার (১১ জুন) দেখা যায়, শ্রীরামকাঠি বন্দরের দক্ষিণ পারে উপজেলা এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত এলএসডি ফুড গোডাউন, এর গার্ড রুম, বাথরুম, ইয়ার্ড এবং পার্শ্ববর্তী সরকারি জায়গা দখল করে একটি টিনের ঘর নির্মান করে স্বপরিবার নিয়ে বসবাস করছেন নারায়ণ চন্দ্র মিস্ত্রি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেন মিয়া বলেন, এলজিইডির প্রতিষ্ঠালগ্নে খাদ্যের বিনিময়ে কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, ব্রিজ-কালভার্ট ও গ্রোথ সেন্টার নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজ করা হয়েছিল। এজন্য সরকারি ভাবে বরাদ্দকৃত গম/চাল সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য প্রকল্প চলমান উপজেলা সমূহে এলজিইডি ফুডগোডাউন নির্মাণ করেন।এরই ধারাবাহিকতায়  আশির দশকের দিকে উপজেলার শ্রীরামকাঠি বন্দরের দক্ষিণ পারে একটি এলজিইডি কর্তৃক ফুড গোডাউন নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে এই কর্মসূচির পরিবর্তে দরপত্র প্রক্রিয়ায় সরকারি অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে উন্নয়ন মূলক কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে বিধায় এই গোডাউনটি পরিত্যক্ত ছিল। বিষয়টি সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সুনজরে আসলে উহার যথোপযুক্ত সৎব্যবহারের নিমিত্তে বিএডিসি কর্তৃপক্ষের নিকট লিজ হিসেবে হস্তান্তর করেন। তখন থেকে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ জনগণের সেবা প্রদানের জন্য তাদের সংগ্রহীত উন্নতমানের বীজ উপকরণ ও ঔষধপত্র এই গোডাউনে গুদামজাত ও রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে সমঝোতা স্মারক চুক্তি ও নির্দেশনা রয়েছে।

মোঃ জাকির হোসেন মিয়া বলেন, অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় এই  স্থাপনার চতুর্দিকে বাউন্ডারি স্থাপনা ও সীমানা পিলার থাকা সত্ত্বেও নারায়ন মিস্ত্রি নামক একজন ভূমিদস্যু স্থানীয় আরও কতিপয় ভূমিদস্যুদের যোগসাজশে এই সরকারি স্থাপনা ও এর জায়গা জমি অবৈধ ভাবে দখল করে বসবাস করছেন এবং সরকারি কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছেন। ইতিপূর্বে তাহাকে এই স্থাপনাস্থল থেকে একবার উচ্ছেদ করা হলেও তিনি পুনরায় অবকাঠামোটি দখল করেছেন। এমতাবস্থায় সরকারি স্বার্থ ও  জনগনের কাঙ্ক্ষিত সেবা পূনপ্রতিষ্ঠর লক্ষে উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডি নাজিরপুরের পক্ষ থেকে ভূমিদস্যু নারায়ণ মিস্ত্রিকে সরকারি স্থাপনা থেকে উচ্ছেদ নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। সেচ্ছায় সরকারি স্থাপনা ও জায়গা ছেড়ে না দিলে পরবর্তীতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে নারায়ণ চন্দ্র মিস্ত্রি বলেন, আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সত্য নয়, আমি একজন ধর্মীয় নেতা এবং আচার্য্য সংঘের প্রতিষ্ঠাতা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ জানান, দুই পক্ষই এ বিষয়ে আমাকে অবগত করেছে। সঠিক তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরও খবর



মূল সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলার কোনো সুযোগ নেই: ডিএমপি

প্রকাশিত:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রাজধানীর কোথায় কোথায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলবে তা নির্ধারণে কাজ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) এস এম মেহেদী হাসান অটোরিকশা সম্পর্কে ডিএমপির পরিকল্পনার কথা জানান।

তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মানবিক দিক বিবেচনা করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলে বাধা না দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু তারা ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে মূল সড়কেও চলে আসছেন। মূল সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলার কোনো সুযোগ নেই।

মেহেদী হাসান বলেন, মিরপুর রোডে, ভিআইপি সড়কে, প্রগতি সরণি সড়কে অটোরিকশা বা ব্যাটারিচালিত কোনো যানবাহন বা কম গতির যানবাহন চলবে না। এক্ষেত্রে সমন্বয় এ আইন প্রয়োগের কাজটি সমানতালে করে যাচ্ছি।

ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের অনেকাংশে ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করেছি। কিছু কিছু জায়গায় উঠিয়ে দেয়ার পরও বসছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগকে পর্যাপ্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ফুটপাত শুধু পথচারী জনসাধারণের চলাচল বা হাঁটার জন্য, অন্য কিছুর জন্য নয়। আমরা যখনই খবর পাচ্ছি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

মতিঝিলে সিটি করপোরেশন সড়ক ভাড়া দিয়েছে। এতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তো সিটি করপোরেশন করেই। যেসব সড়ক কম ব্যবহৃত হয় সেসব পার্কিংয়ের জন্য ভাড়া দেয় অফিস আওয়ারে।


আরও খবর



শিবচরে এক্সপ্রেসওয়েতে তিন ট্রাকের সংঘর্ষ, আহত ৪

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মাদারীপুর প্রতিনিধি

Image

মাদারীপুরের শিবচরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়কে ভাঙ্গাগামী লেনে মালবাহী তিনটি ট্রাকের পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গাগামী লেনে। দুর্ঘটনায় চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সকাল ৮ টার দিকে মহাসড়কের শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শিবচর হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সকালে ভাঙ্গাগামী লেনে একটি ট্রাকের পেছনে আরেকটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পর পর তিনটি ট্রাকের পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুমড়ে-মুচড়ে যায় ট্রাক। চালকসহ আহত হয় চারজন। তবে নিহত হওয়ার খবর এখনো পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর প্রায় দেড় ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে একটি লেনে।

শিবচর হাইওয়ে থানার এএসআই মিজানুর রহমান জানান, মহাসড়কের ভাঙ্গাগামী লেনে সকালে একটি ট্রাক বিকল হয়ে গেলে ট্রাকটি থামানো ছিল সড়কের পাশে। ওই ট্রাকের পেছনে এসে অপর আরেকটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এবং তার পেছনেই আরেকটি ট্রাকের সংঘর্ষ ঘটে। এতে দুই ট্রাক চালক ও সহকারীসহ চারজন আহত হয়েছেন।

শিবচর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাকিল আহমেদ বলেন, আহতদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। মহাসড়কে এখনো যানবাহন চলাচল ছিল। পুলিশ দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাকগুলো সড়ক থেকে সরিয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে।


আরও খবর



ফেনীতে আন্দোলনকারীদের মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ২০

প্রকাশিত:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রাজিব মাসুদ, ফেনী

Image

ফেনীতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের দোয়েল চত্বরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের দাবি, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের এ হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তবে আহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, কোটা সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা দোয়েল চত্বরে জড়ো হতে থাকে। এ সময় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তোফায়েল আহমেদ তপুর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান। পুলিশের উপস্থিতিতে তারা শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরাও শহরের বড় বাজারে অবস্থান নিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে রেজাউল হক নামে এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হন। তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন বলেন, কে কার ওপর কী কারণে হামলা করেছে আমরা এখনো স্পষ্ট নই। বিস্তারিত জানতে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

কোটা আন্দোলনের সমন্বয়ক তাজিম জানান, সকাল থেকে শহরে আসা সাধারণ শিক্ষার্থীদের শহীদ মিনারে নিয়ে ব্যাগ তল্লাশি করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তাদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয়। তারা জড়ো হলে পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করেন। এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫০ জনের অধিক সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হন। এক দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার্থীরা মাঠে থাকবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।

ফেনী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রহুল আমিন জানান, পুলিশের উপস্থিতিতে হামলার বিষয়টি সঠিক নয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়।


আরও খবর



পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে মহাসড়কে জাবি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

Image

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে সংসদে আইন পাসের এক দফা দাবিতে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি শুরুর সময় পুলিশের বাঁধার মুখে পড়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। এসময় পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর দুইটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রধান ফটকের সামনে এসে পুলিশের বাঁধার মুখোমুখি হলেও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছে তারা।

এসময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আরিফ সোহেল বলেন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আমাদের অবরোধ কর্মসূচি চলবে। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আমরা আমাদের কর্মসূচি চলমান রাখব। আশা করি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সহযোগিতা করবেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্ ও ট্রাফিক, উত্তর বিভাগ) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী বলেন, গত কয়েকদিনের টানা অবরোধে উত্তরবঙ্গগামী মানুষদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। যেহেতু আদালতের রায় শিক্ষার্থীদের পক্ষে এসেছে। আদালতের পক্ষ থেকে তাদের কাছে এক মাসের সময় চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা আশা করি আদালতের প্রতি সম্মান রেখে তারা তাদের অবরোধ কর্মসূচির মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকবেন। শিক্ষার্থীরা চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যেতে পারেন।


আরও খবর
আরও ৩ দিনের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




সংসদে অর্থ বিল উঠছে আজ, বাজেট পাস রোববার

প্রকাশিত:শনিবার ২৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৯ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

Image

নানান আলোচনা-সমালোচনার পরও কালো টাকা সাদা করার সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটছে না সরকার। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রেখেই রোববার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে পাস হচ্ছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট। নতুন এই বাজেট কার্যকর হবে ১ জুলাই থেকে।

বড় কোনো সংশোধনী ছাড়াই জাতীয় সংসদে অর্থ বিল উত্থাপন হচ্ছে আজ শনিবার (২৯ জুন)। এর আগে ৬ জুন দ্বাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে আসন্ন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। চলতি সংসদ অধিবেশনেই সংসদ সদস্যরা বিধানের তীব্র সমালোচনা করেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে ছোটখাটো দু-একটি বিষয় ছাড়া তেমন কোনো বড় সংশোধনীর সম্ভাবনা নেই।

এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা প্রত্যাহার নিয়েও ছিল আলোচনা-সমালোচনা। নানান জল্পনা কল্পনা শেষে এমপিদের গাড়ি আমদানিতে ৪০ শতাংশ কর বসানোর প্রস্তাব করা হয় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে।

এছাড়া কর অবকাশ সুবিধার পাশাপাশি শর্ত সাপেক্ষে ইকোনমিক জোন ও হাইটেক পার্কের বিনিয়োগকারীদের ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানিতে আগের মতোই জিরো ডিউটি সুবিধা বহাল থাকতে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেটে সংসদ সদস্যদের আমদানি করা গাড়ির ওপর শুল্ক আরোপের আহ্বান জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবু হাসান মাহমুদ আলী। তবে শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর নাও হতে পারে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংসদ সদস্যদের গাড়ি আমদানিতে বিদ্যমান আদেশ সংশোধনের কোনো উদ্যোগ এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। ফলে আগের মতো এবারও এমপিরা শুল্কমুক্ত কর সুবিধা ভোগ করতে পারেন।

এনবিআর সূত্র জানায়, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। পরে মঙ্গলবার (২৬ জুন) বাজেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যায়ক্রমে কর অব্যাহতি কমিয়ে কর জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল(আইএমএফ)। পাশাপাশি আর্থিক খাত সংস্কারের পরামর্শ ও দিয়েছে সংস্থাটি।

আন্তর্জাতিক এ সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, আইন প্রণেতাদের গাড়ি আমদানিতে থাকা কর অব্যাহতি তুলে নেওয়ার মাধ্যমে এ কার্যক্রম জোরদার করতে চেয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে সংসদ সদস্যদের এ সুবিধা পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার প্রস্তাবটি পাস না হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের আগে আইন প্রণেতাদের গাড়ি আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট বসানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল আইন মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, কর অবকাশ সুবিধার পাশাপাশি কিছু শর্ত সাপেক্ষে ইকোনমিক জোন ও হাই-টেক পার্কের বিনিয়োগকারীদের ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানিতে আগের মতই জিরো ডিউটি সুবিধা বহাল থাকতে পারে। এছাড়া শেয়ারবাজারে ক্যাপিটাল গেইনের উপর নতুন করে আরোপ করা ট্যাক্স অব্যাহত থাকতে পারে।

অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদের প্রবল সমালোচনার মুখেও কালো টাকা সাদা করার বিধান থেকে সরছে না সরকার। এ সুযোগ বহাল থাকলে আগামী ১ জুলাই থেকে ১৫ শতাংশ কর প্রদানের মাধ্যমে ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যাচাই-বাছাই ছাড়াই কালো টাকা সাদা করতে পারবেন। সরকারি কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্ন করতে পারবে না।

নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো করদাতা ফ্ল্যাট ও জমির মতো স্থাবর সম্পত্তির জন্য নির্ধারিত হারে কর প্রদান করলে এবং নগদ, সিকিউরিটিজ, ব্যাংক আমানত ও সঞ্চয় স্কিমসহ অন্যান্য সম্পদের ওপর ১৫ শতাংশ কর দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবে না।


আরও খবর